প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নতুন ২০২১

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

Contents hide

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

আমরা নিয়মিত খবরের কাগজে চোখ বুলালেই, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন চোখের সামনে ভেসে উঠে। সংবাদপত্র ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষায় বাংলায় প্রতিবেদন লিখতে হয়। এছাড়া চাকরি-বাকরি, সমাজের যে কোন সমস্যা নিয়েও প্রতিবেদন লিখতে হয়। আপনি যদি প্রতিবেদন লিখার পুরোপুরি নিয়ম জানেন, তাহলে নিজেও পত্রিকায় লিখতে পারবেন। পাশাপাশি সমাজ বা যে কোন প্রয়োজনে প্রতিবেদন লিখে ফেলতে পারবেন।

কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য সমৃদ্ধ বিবরণকেই প্রতিবেদন বলা হয়। যাকে ইংরেজিতে রিপোর্ট, বাংলায় প্রতিবেদন বলা হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী তথ্য সমৃদ্ধ সহজ সরল ভাষায় সংবাদ পরিবেশন করে প্রতিবেদন লেখা হয় ।

আজ আমরা প্রতিবেদন লিখার খুঁটিনাটি সম্পর্কে আলোচনা করবো। লিখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়লে প্রতিবেদন সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে পারবেন। নিজে নিজেই প্রতিবেদন লিখে ফেলতে পারবেন।

প্রতিবেদন কি ?

কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যানুসন্ধান করে কোন বিবরনীকেই প্রতিবেদন বলে। অর্থাৎ, কোন ঘটনা, তথ্য বা বক্তব্য সম্পকে সুচিন্তিত বক্তব্য প্রদানই প্রতিবেদন। প্রতিবেদন রচনাকারীকে বলা হয় প্রতিবেদক। প্রতিবেদকের কাজ হল কোন বিষয়ের তথ্য, সিদ্ধান্ত, ফলাফল ইত্যাদি খুঁটিনাটি অনুসন্ধানের পর বিবরণী তৈরি করে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোন কতৃপক্ষের বিবেচনার জন্য পেশ করা।

প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা

প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায়, ব্যবসা -বানিজ্য, আইন আদালতের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পূর্বে শুধুমাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত বিবরণীকেই আমরা প্রতিবেদন হিসেবে অভিহিত করতাম। কিন্তু বর্তমানে একজন পেশাগত সাংবাদিক বা প্রতিবেদক ছাড়াও সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। প্রতিবেদন তার লিখার মাধ্যমে নিজস্ব চিন্তাধারা তুলে ধরতে পারে। কোন বিষয় নিয়েও বিষদভাবে আলোচনা করতে পারে, মুক্তভাবে মতামত ও প্রকাশ করতে পারে। একজন মানুষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে কোন বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহন, সংগঠন, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ, ফলাফল নিরূপণ, সমন্বয় সাধন ইত্যাদি লাজে ব্যবহার করতে পারে।

প্রতিবেদনের প্রকারভেদ

সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রতবেদন লিখা হয়ে থাকে। প্রধানগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।

১. সংবাদ প্রতিবেদন

সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য এই প্রতিবেদন লিখা হয়। নিজস্ব প্রতিবেদক বা নিজস্ব সংবাদদাতা এই প্রতিবেদন লিখে থাকে।

২. প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন:

কোন ঘটনার পুরোপুরি তথ্য দিয়ে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। এই প্রতিবেদন আকারে বেশ বড় হয়।

৩. অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন

কোন অনুষ্ঠানের ঘোষণা, কোন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। এই প্রতিবেদন আকারে ছোট করে মূল তথ্য তুলে ধরা হয়।

৪. দাপ্তরিক প্রতিবেদন

প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিষয়ে যাচাই-বাচাই করে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। এখানে ক্ষেত্র বিশেষে করনীয় ব্যাপারগুলোও তুলে ধরা হয়।

৫. গবেষণামূলক প্রতিবেদন

কোন বিষয় বা কোন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। কোন ঘটনার কারণে পরবর্তীকালে কি কি সমস্যা হতে পারে এবং এর প্রতিকার সম্পর্কেও এই প্রতবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৬. নতুন প্রস্তাবের প্রতিবেদন

কোন সমস্যা সমাধানের জন্য, কাজের সুবিধার্থে পরিবর্তনের জন্য, মতামত প্রকাশ করে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। এখানে প্রতিবেদক নিজস্ব মতামত ও তুলে ধরতে পারেন।

৭. ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবেদন

কোন প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ, পণ্যের মূল্যমান সহ বিভিন্ন তথ্য সংকলের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

৮. নিয়মিত প্রতিবেদন

এই প্রতিবেদনে নিত্যদিন ঘটে যাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়।

৯. বিশেষ প্রতিবেদন

কোন নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে, বিশদভাবে খুঁটিনাটি তথ্য খুঁজে এই প্রতিবেদন লিখা হয়। এই প্রতিবেদন কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

এছাড়াও আরো অনেক ধরনের প্রতিবেদন লিখা হয়ে থাকে।

প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্য


প্রতিটা জিনিসের মতো প্রতিবেদনেরও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুসরণ না করলে, প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি।

১. নির্দিষ্ট কাঠামো

প্রতিবেদন লিখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করতে হবে। সঠিক কাঠামো ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন রচনা করা সম্ভব নয়। এতে শিরোনাম, প্রাপকের নাম-ঠিকানা, আলোচ্যবিষয়ের সূচিপত্র, বিষয়বস্তু, তথ্যপঞ্জি, স্বাক্ষর, তারিখ ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

২. সঠিক তথ্য

প্রতিবেদন মানেই একটি সত্য ঘটনাকে তুলে ধরা। তাই নির্ভুল, নিরপেক্ষ তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন রচনা করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ থেকে উল্লেখ করা পর্যন্ত ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. স্পষ্টতা

প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরতে হবে। যাতে বক্তব্য বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা লাভ সহজ হয়। এছাড়া বানানের দিকেও নজর রাখতে হবে।

৪. সংক্ষিপ্ততা:

প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে অল্প শব্দে বেশি তথ্য তুলে ধরতে হবে। অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা বক্তব্য এড়িয়ে যেতে হবে।

৫. সুন্দর উপস্থাপনা

সহজ এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে সহজ সরল ভাষা অনুসরণ করাই উত্তম। যাতে পাঠক সহজেই বুঝতে পারে।

৬. সুপারিশ

প্রতিবেদনের উপসংহারে সুপারিশ সংযোজন করতে হবে। যাতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সমস্যা সম্পর্কে সিদ্ধন্ত গ্রহন করতে পারে এবং যথাযথ সমাধান দিতে পারে। 

প্রতিবেদন সফল করতে করনীয়

প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেও মাঝেমাঝে জনপ্রিয়তা বা সফলতা পায় না। সঠিক কাঠামো অনুসরণ না করলে সফল হওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে উদ্দেশ্য করে রচিত প্রতিবেদন, তার মন জয় করতে না পারলে, তাকে সফল প্রতিবেদন বলা যায় না। এছাড়া কাঠামোগত ভুলের কারনেও অনেকসময় প্রতিবেদনকে ব্যার্থ হিসেবে ধরা হয়। সফল প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। সেগুলো হলো:

১. আকর্ষণীয় শিরোনাম

প্রতিবেদন সফল করতে প্রথম বিষয় হলো শিরোনাম। শিরোনাম আকর্ষণীয় নাহলে পাঠক আগ্রহ খুঁজে পাবে না। অন্যদিকে আকর্ষণীয় শিরোনাম হলে, সহজেই পাঠক আগ্রহ নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে শুরু করবে।

২. সহজ ভাষা প্রয়োগ

প্রতিবেদনে সহজ ভাষা ব্যবহার করতে হবে। যাতে পাঠক সহজেই শব্দগুলো বুঝতে পারে। অতিরিক্ত বা অকেজো শব্দ দিয়ে প্রতিবেদনের সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবে না।

৩. যথাসম্ভব বাক্য সংক্ষেপণ

প্রতিবেদনে সংক্ষেপে কোন বাক্য প্রকাশ করা গেলে, অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে বাক্যের আকার বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। এতে পাঠকের আগ্রহ কমে যেতে পারে। যথাসম্ভব বাক্য সংক্ষেপণের মাধ্যমে প্রতিবেদন রচনা করতে হবে।

৪. অনুমান করে না লিখা

অনুমানের ভিত্তিতে কোন তথ্য উল্লেখ করা যাবে না। উপসংহারও শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে লিখা যাবে না। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই এগুলো লিখতে হবে।

৫. প্রতিটা তথ্যের জন্য আলাদা প্যারাগ্রাফ ব্যবহার

যথাসম্ভব আলাদা আলাদা প্যারাগ্রাফের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এতে পাঠক তথ্যগুলো সহজেই বুঝতে পারবে।

৬. নির্দিষ্ট বিষয়ের বর্ণনা

নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য উপস্থাপন ব্যাতিত অকেজো তথ্য বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে পাঠকের আগ্রহ কমানো যাবে না।

৭. নিরপেক্ষ তথ্য প্রদান

প্রতিবেদনের প্রতিটা তথ্য হবে নিরপেক্ষ। কোন পক্ষপাতিত্ব তথ্য প্রদান করা যাবে না।

প্রতিবেদনের গঠন

প্রতিবেদনের সঠিক গঠনরীতিগুলো আলোচনা করা হলো

১. শিরোনাম

প্রতিবেদনের উপরে শিরোনাম উল্লেখ করতে হবে। শিরোনাম হবে অল্প শব্দের। যথাসম্ভব ছোট বাক্যে আকর্ষণীয় শিরোনাম লিখতে হবে।

২. সারাংশ

শিরোনাম লিখার পরে একটি ছোট অংশে সারাংশ লিখতে হবে। সারাংশ পড়েই পাঠক প্রতিবেদন সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারাংশ না লিখলেও চলবে।

৩. ভূমিকা

ভূমিকা দিয়ে মূল প্রতিবেদন শুরু করতে হবে। এখানে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

৪. বিষয়বস্তু

এখানে প্রতিবেদনের সকল তথ্য, বিষয়বস্তু আলোচনা করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে এই বিষয়বস্তু রচিত হবে।

৫. প্রতিবেদকের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য বিষয়

এখানে প্রতিবেদকের সকল তথ্য, ছবি সংযুক্ত করতে হবে। যে স্থান থেকে প্রতিবেদনটি লিখা হবে, সেই স্থানের নাম অথবা ঘটনা স্থলের নাম ও সময় উল্লেখ করতে হবে।

সংবাদপত্রের জন্য লিখা প্রতিবেদনে, প্রথমেই এগুলো উল্লেখ করতে হবে।

এই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে আপনারা সহজেই প্রতিবেদন লিখে ফেলতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে নিচে ছবি আকারে কিছু প্রতিবেদনের নমুনা দেওয়া রয়েছে।

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম স্যাম্পল বা নমুনা

প্রতিবেদন লেখার  নিয়ম ছবি
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম এবং প্রতিবেদন ছবি
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম ও প্রতিবেদন ছবি
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম এবং প্রতিবেদন ছবি
মাদক না বলুন প্রতিবেধন নিয়ম ও ছবি
প্রতিবেদন লেখার সহজ নিয়ম ছবি – ১
প্রতিবেদন লেখার সহজ নিয়ম ছবি
প্রতিবেদন লেখার সহজ নিয়ম ছবি – ২

ছবির লেখা স্পষ্ট বুঝতে, প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নমুনা pdf

আরো পড়ুন বেতন মওকুফের জন্য আবেদন

Jubaer Hasan Rabby

পাঠক, লেখক, ইতিবাচক চিন্তাবিদ, আশাবাদী, সংগঠক, দেশপ্রেমিক।

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *