নাপিত্তাছড়া ট্রেইল সম্পূর্ণ গাইডলাইন

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

 চট্টগ্রামের মিরস্বরাইয়ের কয়েকটা ট্রেইলের মধ্যে নাপিত্তাছড়া অন্যতম।যদি আপনি ট্রেইল পছন্দ করেন এবং কম সময়ে রোমাঞ্চকর সময় পার করতে চান কম খরচে এবং কাছাকাছি কোথাও যেতে চান,তাহলে জ্বি ভাই, এই লিখাটি আপনার জন্য।বলে রাখি আমি চট্টগ্রাম থেকে নাপিত্তেছড়া ট্রেইলে ছিলাম। তাই আমার লিখার প্রথম অংশটা চট্টগ্রাম থেকে তবে সম্পূর্ণ লিখায় দেশের যেকেউ পরিপূর্ন গাইড পাবে।


যা থাকছে লিখায়ঃ

  • নাপিত্তেছড়া ট্রেইল এর অভিজ্ঞতা।
  • তিনটি ঝর্ণার বর্ণনা।
  • পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ঝর্ণায় যেতে সময়।
  • ঝুকিপূর্ণতা।
  • থাকার ব্যবস্থা।
  • ঢাকা থেকে যাওয়ার রাস্তা।
  • চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার রাস্তা।

শুরু করা যাক , নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এর মনোরম স্মৃতিঃ


সকাল ৭.৩০ এর মধ্যে তাওহীদরে দেখা করতে বললাম পকেটে নিলাম আমি ৩০০ টাকা তারেও ২০০ নিতে বললাম। বরাবরের মত আমি একটু বেশিই টাকা নিয়ে থাকি, কারণ টুরের প্লানটা যেহেতু আমার থেকেই বের হয় সেইহিসেবে আমাকে একটু জরিমানা গুনতে হয়। যায়হোক ১০০ টাকা ব্যাপার না, তবে কমও না।


 দেওয়ানহাট  থেকে অলংকার। অলংকার থেকে (মিরসরাই) নাদুয়ার বাজার অনেকেই নয়দুয়ারির বাজার বলে।বাজারে হাল্কা নাস্তা করে হাটা দিলাম ট্রেইলের উদ্দেশ্যে।


এবার শুরু করলাম নাপিত্তাছটা ট্রেইল। সৌন্দর্য নিয়া কিছু বলার নাই।প্রথমে লোকালয়ে হাটা , ধিরে ধিরে গহীন অরণ্যের দিকে যাচ্ছি, এবার দুপাশ পাহাড় আবার পাহাড় খাদ দিয়ে হাটা , উচুনিচু পথ অর্থাৎ পাহাড়ের পথ যেরকম হয়ে থাকে। নাপিত্তাছড়া কি পাহাড় দেখতে আসসি? মোটেও না । তাহলে ? লক্ষ্য ঝর্ণা। তবে প্রকৃতিতে পাহাড় ছাড়া ঝর্ণা পূর্ণতা পায়না , ঝর্ণা দেখতে আসছি কিন্তু এর বর্ণ্নায় পাহাড়ের শব্দের বারংবার ব্যবহার হয়। আর এভাবেই ঝর্ণা তার পূর্ণতা ফিরে পায়। যথারীতি পাহাড় দিয়ে চলছি,ঝর্ণার খুজে। যে ঝর্ণার অস্থিত্ব পাহাড়েই। তাইত আশা নিয়ে কৌতুহলি হাটা।


৪৫ মিনিট হাটার পরই প্রথম ঝর্ণার দেখা, জ্বি ভাই প্রথম ঝর্ণাটির নাম কুপিকাটাকুম।বেশ অল্প সময়েই কুপিকাটাকুম ঝর্ণা দেখা মিলল, হাটার সময় আমাদের সাধারন হাটার গতিবেগই ছিল। তাই আশা করা যায় যে কেউ ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এ কুপিকাটাকুম ঝর্ণার দেখা পাবে। ঝর্ণার দেখা পাওয়ার পর বেশ উচ্ছাসিত হয়ে ফালাফালির অন্তহীন , যেখানে এত আবেগ আসে এত ফালাফালি অন্তর থেকে আসে , এই জায়গার সৌন্দর্য আলাদা ভাবে বলার দরকার আছে? এখানেই নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এর আনন্দটা আরো একধাপ পূর্ণতা পেল। জ্বি ভাই! কুপিকাটাকুম আসলেই অনেক সুন্দর ঝর্ণা । আপনি গেলে ঠকবেন না, ঝর্ণার স্বাদ অনুভবে হাল্কা হলেও মাতাল হবেন। এবার সেই সৌন্দর্যের বোনাস পয়েন্ট নিতে সামনে যেতে থাকবেন।


জ্বি ভাই! আপনি  দ্বিতীয় ঝর্ণার অভিমুখে যাবেন, তবে দ্বিতীয় ঝর্ণায় যেতে হলে আপনাকে একটু প্রফেশনাল টুরিস্ট হতে হবে, হ্যা একটু খারা পাহাড়ে ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে হবে তবে সামান্য রিস্কি, সাথে যেহেতু গাইড থাকবে আশাকরি যে কেউ সমস্যা নির্ভয়ে কাটিয়ে উঠে ২০ মিনিটের মধ্য দ্বিতীয় ঝর্ণায় হাজির হবে। দ্বিতীয় ঝর্ণাটির নাম মিঠাছড়ি। মিঠাছড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য এর ভাজে ভাজে।পাহাড়ের ভিষণ উচ্চতায় পানি  নিচে পরার আগেই পানি ভাজ হয়ে যায়। তাই বুঝতেই পারছেন প্রথম ঝর্ণার পর ভোনাস ঝর্ণার আনন্দ এক কথায় বাউন্ডলেস, আহ! এটাই ঝর্ণা। এবার আরো বোনাস ঝর্ণা আই মিন তৃতীয় ঝর্ণাতে যাবেন, যার নাম বান্দরকুম অনেকেই বান্দরিছড়া বলে, যাইহোক আপনার হাটা এখন প্রকৃতিকে ঘিরে। আপনি তৃতীয় ঝর্ণায় যাওয়ার আগেই আপনি যদি প্রকৃত টুরিস্ট হয়ে থাকেন , আপনার জন্য বোনাস তৃতীয় ঝর্ণায় যাবার রাস্তাটা। জ্বি ভাই! রাস্তাটা আসলেই অধিক সুন্দর , যেতে ভাল সুন্দর্যের পরশ গায়ে মেখে যাবেন,কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই অর্থাৎ পাহাড়ে চড়ার রিস্কহীন ঝিরি পথ দিয়ে হেটে যাবেন। এভার ৪০ মিনিট হেটেছেন ত তৃতীয় ঝর্ণার আপনার সামনে। জ্বি ভাই এটাই বান্দরকুম বা বান্দরছড়া ঝর্ণা।

নাপিত্তেছড়া কিভাবে যাবেন?


আপনি যদি চট্টগ্রামের বাহিরের হন তাহলের আপনার জন্য প্রযোজ্যঃ


আপনি যেভাবেই হোক চট্টগ্রামগামী বাসে উঠুন, এবার আপনাকে যেভাবে বাস নিয়ে আসবে,
কুমিল্লা> ফেনী>মিরসরাই> সীতাকুণ্ড>চট্টগ্রাম>
আপনি জানেন যে আপনার গন্তব্য তথা নাপিত্তেছড়া যেহেতু মিরসরাই এর একটি স্থান, তাই আপনাকে মিরসরাই নামতে হবে। অতঃপর , ফেনী আসার পর সতর্ক থাকুন  ফেনীর  পরই মিরসরাই এবং বাস হেল্পার কে বলুন মিরসরাই নয়দুয়ারী বাজার আপনি নামবেন। আপনি পৌছে গিয়েছেন।
আর যদি ট্রেনে আসেন তাহলে আপনাকে আবার ,
চট্টগ্রাম>শীতাকুন্ড>মিরসরাই
  আই মিন ২ ঘন্টা সময় আবার যাবে। তাই এবার আপনাকেই চয়েস করতে হবে হুইচ ইজ বেটার ট্রেন নাকি বাস।

আপনি যদি চট্টগ্রামেরি হোন, এবং আপনি নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এ কম খরচে যাওয়া আসা খাওয়া এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলঃ


ফিরে এসে ৯০ টাকা দিয়ে ভাত খেয়ে বাসায় ফিরলাম।খাবার রেট দিলে ৮/১০ দেওয়াই যায়।পুরাই ঘোরোয়া খাবার। ট্রেইলে যাওয়ার আগে অবশ্যই অর্ডার দিতে হবে।ট্রেইল শুরু করি ১১ টায় ফেরৎ আসি ২:৩০ এ।যেহেতু দুজনই খুব কম ছবি তুলি যা তুলি তা নিয়ে তেমন মাতামাতি নেই।তাই কম সময়ে হয়ে গেছে। খরচ:কাটগড় টু দেওয়ানহাট ১০ টু অলংকার ১০ টু নাদুয়ার বাজাড় ৫৫ বিকাল ৩ টায় খাবার ৯০ হালকা নাস্তা ২৫। অন্যান্য ২৫। মোট: ((১০+১০+৫৫)*২) +৯০+২৫+২৫=২৯০ এভাবেই পুরো নাপিত্তাছড়া ট্রেইল সম্পন্ন।ট্রেইলে যান, মজা করুন, শুধু ময়লা করবেন না।কারন সেখানে আজকে আপনি গেছেন কাল আপনার ছেলে মেয়ে যাবে। ছেলে -মেয়ের সুখের কথা ভেবে হলেও ময়লা করবেন না।আর খুব সাবধান। অসাবধানতার কারণে আমি কয়েকবার মুখ থোবরাইয়া পরছি। আর একবার পাহাড় থেকেই হয়ৎ পরে যাইতাম। তাই নিজের পাশাপাশি আসে পাশের মানুষেরও খেয়াল রাখুন।কিছু হলে বাকি সব পরের কথা।তাদের কিন্তু আল্গাইয়া আপনারেই নিয়ে যাইতে হইব।নিজেই ক্লান্ত সেখানে আরেকজনরে টানবেন কি করে।আল্লাহর রহমত আমার কিছু হয় নাই।সবাই আমার মত লাকি হবে তার নিশ্চয়তা নাই।আর বোকামি করে ব্যাকপেকের ওজন বাড়াবেন না।

বিদ্রঃ নতুন হলে হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা আছে।তাই অভিজ্ঞ গাইড রাখাই ভালো।

থাকার ব্যবস্থাঃ

আসলে নাপিত্তেছড়া আসেপাশে কোনো থাকার মত আবাসিক হোটেল নাই। এক্ষেত্রে আপনি ডে টুর দিতে পারেন অর্থাৎ একদিনেই টুর শেষ করেতে পারেন। যদি একান্তই থাকতে ইচ্ছে হয় তাহলে শীতাকূন্ড বাজার চলে আসুন এখানে নিম্নমানের হোটেল আছে , ৪০০ টাকায় একরুমে যেকয়জন থাকতে পারেন।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এর ছবি গ্যালারি এখানে ক্লিক করুন

রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

Leave a Comment