লম্বা হওয়ার উপায় খাবারে অভ্যাসে সহজ ব্যায়ামে ১ মাসেই

লম্বা হওয়ার উপায়

লম্বা হওয়ার উপায়

লম্বা হওয়ার উপায়: নারী হোক না পুরুষ, সবারই ইচ্ছা থাকে লম্বা হওয়ার। লম্বা আর ছিপছিপে গড়ন থাকায় অনেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে। এখনকার দিনে লম্বা মানুষের কদর বেশি। মুরব্বিরা লম্বা পুত্রবধূ কিংবা লম্বা জামাই আশা করেই থাকে। বিয়ের বিজ্ঞাপন অথবা বিমান বালা কিংবা বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক বাহিনিতে চাকরির জন্য লম্বা মানুষের চাহিদা সবার উপরে।

মানুষের উচ্চতা খানিকটা বংশগত। এছাড়াও জিনের প্রভাবের কারনেও উচ্চতার তারতম্য দেখা যায়।
অনেকে দীর্ঘদদীর্ঘদিন স্কিপিং, দৌড় এসবের পরেও উচ্চতা বাড়ে না। অথবা মা-বাবা লম্বা হলেও সন্তান তেমন লম্বা হয়না। কখনো কখনো এর উল্টোটাও হয়। অভিভাবকদের থেকে সন্তানরা লম্বা হয়ে যায়। বেঁটে হলে আমাদের সমাজে নানা রকম খোঁটা শুনতে হয়।
বেঁটে, আর একটু লম্বা হলে ভালো হত, বেঁটের জন্য দেখতে খারাপ লাগছে, মোটা হয়ে গেলে আরও বেশি খারাপ লাগবে- মোটামুটি এই রকম মন্তব্য অনেকেই শুনে এসেছেন।

লম্বা হওয়ার উপায় ছবি ১

যাঁদের উচ্চতা কম তাঁরা এই নিয়ে কষ্টে ভোগেন। উচ্চতার জন্য পুষ্টি, ব্যায়াম সবকিছুরই প্রয়েজন।
বেশিরভাগ মানুষ এক বছর বয়সে এবং বয়সন্ধিকাল এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ২ ইঞ্চি লম্বা হয়। তবে এক্ষেত্রে সবার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা গতি দেখা যায়। এই বেড়ে ওঠা মেয়েরা সাধারণত কিশোরী বয়সের শুরুতে অনুভব করতে পারে। ছেলেদের ক্ষেত্রে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া শিশুর বয়স শেষ হওয়ার পর অনুভব করতে পারে।

সাধারণ ভাবে আমাদের ধারণা ১৮ বছর বয়সের পর আর উচ্চতা বাড়ে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ভাবেই ১৮ বছরের পরও রয়েছে লম্বা হওয়ার সুযোগ। প্রাকৃতিক উপায় কাজে লাগিয়ে চাইলেই লম্বা হওয়া যায়। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে যে কেউ চাইলে লম্বা হতে পারে। তবে একদিনেই এগুলো কাজ করবে না। ধৈর্য ধরে অনেক দিন মেনে চললে তবেই মিলবে সুফল।

যেসব উপায়ে লম্বা হওয়া যায়

লম্বা হওয়ার জন্য কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে।

প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে লম্বা হওয়া যেতে পারে

লম্বা হওয়ার একটি উপায় প্রাকৃতিক খাবার ছবি
লম্বা হওয়ার একটি উপায় প্রাকৃতিক খাবার

প্রাকৃতিকভাবে নিজের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে হলে, একটি হেলদি লাইফস্টাইল মেইনটিন করতে হবে।

লম্বা হওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে চর্বিযুক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। মটরশুটি, সয়া এবং বাদামের মতো চর্বিযুক্ত প্রোটিনগুলি পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে। পাতলা সবুজ শাকসবজি, যেমন পালংশাক, লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড, চা ও কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন, প্রাণীজ প্রোটিন, ব্রোকলি, ঢেরস, কাঠ বাদাম, শজনে পাতা, পুদিনা পাতা, সরিষাশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ সহ বিভিন্ন খাবার খেতে হবে। আপনি চাইলে এখান থেকে সহজলভ্য খাবারগুলোও খেতে পারেন।

জিঙ্কের অভাবেও দেহের বৃদ্ধি সহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই দেহের বৃদ্ধির জন্য বা লম্বা হওয়ার জন্য জিঙ্কের অভাব পূরন করতে হবে। গরু এবং ভেড়ার মাংস, আটা ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত সকল খাদ্য, শীম জাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সমূদ্রের মাঝ, গরু এবং খাসির কলিজায় জিঙ্ক থাকে।

ভিটামিন ডি হাড় এবং পেশী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।  ভিটামিন ডি এর সিংহভাগই সূর্যের আলো থেকে আসে। তাই দিনে ১৫ মিনিট রোদে বের হওয়া (গড়ে) নিশ্চিত করতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। খুব সকালে, এবং সন্ধ্যা রোদ পোহানো যেতে পারে। সকলে এবং বিকালে রোদে প্রচুর ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে লম্বা হওয়া যায়

শারীরিক ব্যায়ামের উপায়ে লম্বা হওয়া

আপনার উচ্চতা বাড়াতে প্রতিদিন ১ ঘন্টা ব্যায়াম করুন। যেমন : সাতাঁর কাটুন, দড়ি লাফান, সাইকেল চালান, ইত্যাদি ব্যায়াম করতে পারেন। জিমে জয়েন করলে আরও ভাল হয়। জিমে জয়েন করতে না পারলে নিজে নিজেই নিচের ৬ টি ব্যায়াম চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে জিমে ভার উত্তোলন করা যাবেনা, ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম করতে হবে। জিম ট্রেইনার যে তাকে বুঝিয়ে বলুন আপনি আপাতত লম্বা হতে চাচ্ছেন বডি বিল্ডার হতে চাচ্ছেন না, আপনাকে সহয়তা করবে।

প্রথম ব্যায়াম

দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়াতে হবে। এভাবে দাড়িয়ে নিজেকে দেয়ালের সমান্তরালে সোজা রাখবার চেষ্টা করতে হবে। সেই সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে, শরীরের পেছন দিকটির পায়ের গোড়ালি থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত যেন দেয়াল স্পর্শ করতে পারে। এভাবে দেয়াল স্পর্শ করে সোজা হয়ে স্ট্রেচ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই ব্যায়ামটি নিয়মিত আট থেকে দশবার করতে হবে।

দ্বিতীয় ব্যায়াম

প্রথম ব্যায়াম শেষ হলে, রিং বা বারের সাহায্যে হাতের ভরে ঝুলে থাকতে হবে। শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে পা দুটিকে দুলতে দিতে হবে। অনুভব করুন মধ্যাকর্ষণ শক্তি নিজের উপরে। এভাবে দশ সেকেন্ড পর্যন্ত ঝুলে থেকে নিজেকে ছেড়ে দিন ।এটি আট থেকে দশবার করতে হবে।

তৃতীয় ব্যায়াম

আবার রিং ধরুন। তবে এবার ঝুলে না থেকে বরং রিং ধরে নিজেকে উপরে উঠানোর চেষ্টা করুন। এভাবে একবার উপরে উঠতে পারলে তারপর নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দিন। ছেড়ে দিয়ে প্রায় তিন মিনিট পর্যন্ত ঝুলে থাকুন। এভাবে এই ব্যায়ামটি ছয় সেটে শেষ করুন। মনে রাখবেন শুরুতেই তিন মিনিট ধরে ঝুলবেন না। আপনার শরীর যে পরিমাণ নিতে পারবে সে পরিমাণ করবেন। ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে তিন মিনিট করে ফেলুন। 

চতুর্থ ব্যায়াম

এই পর্যায়ের ব্যায়ামটি একটু কঠিন মনে হতে পারে। এবার আপনাকে রিঙে উল্টা হয়ে পায়ের হাঁটুর ভাজের সাহায্যে ঝুলতে হবে। উল্টা হয়ে ঝুলে নিজের শরীর ছেড়ে দিন। হাত দুটিকে ঝুলতে দিন। এভাবে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। গোনা শেষ হলে নেমে পড়ুন। এই পর্যায়টি সম্পন্ন করতে কারো সাহায্য নিন। ধীরে ধীরে করার চেষ্টা করুন। একবারে না পারলে জোর না খাটিয়ে, ধীরে ধীরে শেখার চেষ্টা করুন। তারপরও নিজের আয়ত্তে আনতে না পারলে এই ব্যায়ামটির সব থেকে কাছাকাছি যতটুকু করতে পারবেন তাই করবেন।

পঞ্চম ব্যায়াম

আপনি যদি এই পর্যায়ে এসে পড়েন, তবে সব থেকে কঠিন পর্যায় পার করে এসেছেন। এরপরে যা করতে হবে তা হল আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে আপনার বাম দিকে দীর্ঘ একটি লাফ দিতে হবে। সেই সঙ্গে চেষ্টা করুন ডান পায়ের ভরে অবতরন করতে। অর্থাৎ লাফ দিয়ে নামার সময় ডান পা আগে মাটি স্পর্শ করবে। লাফ দেওয়ার সময় চেষ্টা করবেন যত দীর্ঘ সম্ভব তত দীর্ঘ লাফ দিতে।

ষষ্ঠ ব্যায়াম

এই পর্যায়ে আপনি আপনার পেটের ভরে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। আপনার শরীর এবং পা থাকবে সোজা এবং টানটান। হাতদুটোকে তুলে দিন আপনার পেছন দিকে এবং টানটান অবস্থায় রাখুন। এবার এই অবস্থায় থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব বাঁকা করে তুলে ধরতে চেষ্টা করুন। আপনার মাথা এবং ঘাড় থাকবে সামনের দিকে সোজা অবস্থায়। এভাবে আট থেকে দশবার চেষ্টা করুন। 

লম্বা হওয়ার উপায় কিছু অভ্যাস তৈরী

লম্বা হওয়ার জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যে অভ্যাসগুলো লম্বা হওয়ার জন্য অনেক জরুরী।

পরিমিত মাত্রায় ঘুম

আপনাকে নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। ঘুম আপনার মনকে শান্ত করবে। সেই সাথে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করবে।

পানি পান

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পানি খাওয়ার ফলে আপনার শরীর এবং মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। যা আপনার শারীরিক উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চিন্তামুক্ত থাকা

চিন্তা মুক্ত থাকা লম্বা হতে সহায়ক

মানসিক চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। প্রতিদিনের বিরাজমান কাজের চাপ বেশ চিন্তিত করে তুলে। যা  মানসিক চিন্তা বাড়াতে সাহায্য করে। মানসিক চিন্তা সরাসরি হরমোন নিঃসরণে বাধা প্রদান করে। তাই সবসময় মানসিক চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। যা আপনার কাজের ক্ষেত্রে গতিশীলতা প্রদান করবে।

ইয়োগা করা

লম্বা হওয়ার উপায় ছবি
লম্বা হওয়ার উপায় ছবি

নিয়মিত ইয়োগা করার অভ্যাস গড়তে হবে। ইয়োগা শরীর ও মনকে শান্ত রাখে, সুস্থ ও কর্মচঞ্চল করে তুলে।

শারীরিক পরিশ্রম

সবসময় কাজ করার চেষ্টা করুন। যাতে পরিশ্রম হয়,সেই দিকে খেয়াল রাখুন। এতে আপনার শক্তি ক্ষয় হবে এবং সেই সাথে তা উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ধূমপান ও নেশা থেকে দুরত্ব

সিগারেট মদ ইত্যাদি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব নেশা শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়।সুস্থ থাকতে হলে কখনোই এসব নেশায় নিজেকে জড়ানো যাবে না।

একটানা বসে কাজ না করা: সব সময় বসে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। একটানা বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের হার বাকা হয়ে যেতে পারে।

আশাকরি এই লেখা পড়ে উপায় গুলো অনুসরণ করে সহজেই লম্বা হতে পারবেন।

Jubaer Hasan Rabby

পাঠক, লেখক, ইতিবাচক চিন্তাবিদ, আশাবাদী, সংগঠক, দেশপ্রেমিক।

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *