কমলা রকেট সিনেমার যত ভিন্ন কথা

Komola Rocket

কমলা রকেট

Movie review: “Komola Rocket”

কমলা রকেট

ক্যাটাগরি:ড্রামা 

অভিনয়ে : তৌকির আহমেদ, মোশাররফ করিম       ডমিনিক গোমেজ ,আবু রায়হান  রাসেল,সেওতি,জয় রাজ,সামিয়া সাঈদ ।

দেশ :বাংলাদেশ 

পরিচালক:নূর ইমরান মিঠু

আমি সত্যিই বুঝতে পারি না “Komola Rocket” (কমলা রকেট) এর মতো সিনেমা নিয়ে আলোচনা এত কম। বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলো বেশির ভাগ সময়েই সিনেমা হল গুলোতে  আসে না বলে ক্ষোভ বেশ পুরনো। কিন্তু পত্রিকায় পড়লাম নেটফ্লিক্সে রয়েছে সিনেমাটি। তাহলে তার পড়ও দেখা নিয়ে সমস্যা কোথায়? আমার নেটফ্লিক্স নেই, আমাকেও চোরাই করে দেখতে হয়েছে।এমনতো নয় যে আমরা নেটফ্লিক্স এ রিলিজ দেওয়া সিনেমা দেখতে পারি না!বা দেখি না?

“Extraction ” এর মতো সস্তা গল্পের সিনেমা তো আমরা ঠিকই চোরাইভাবে দেখি !কই “Komola Rocket” (কমলা রকেট) এর মতো সিনেমা  সেভাবেও তো দেখার ইচ্ছা জাগে না অনেকের? কিন্তু সিনেমা নিয়ে হতাশা ঠিকই থাকে। মাঝেমধ্যে মনে হয় আমাদের আসলে ভালো সিনেমার স্বীকৃতি দিতেই সমস্যা। “Extraction ” এর মত একটা গড়পড়তা সিনেমা নিয়ে আমাদের হাইপের শেষ থাকে না। কিন্তু দেশের এত ভালো এবং মৌলিক এবং গভীর গল্পের একটি সিনেমাকে আমরা এড়িয়ে যাই। বাঙালি আসলেই আজব জাতি !

কাহিনী সংক্ষেপ :

কমলা রঙের একটি লঞ্চ। উপর তলার প্রথম শ্রেণিতে থাকছে পয়সা ওয়ালারা, নিচ তলায় থাকছে সাধারণ মানুষেরা। বাস্তবের মতই যেন দারুণ ভাবে শ্রেণি বিভাজন তৈরি করে দিলেন পরিচালক নূর ইমরান মিঠু, যাকে অসম্ভব ভালো লেগেছিল “পিঁপড়াবিদ্যা”-র নায়ক হিসেবে। উপর তলায় কেবিন ভাড়া করে পালিয়ে যাচ্ছেন আগুনে ভস্ম হয়ে যাওয়া গার্মেন্ট কারখানার মালিক আতিক সাহেব (তৌকীর আহমেদ)। ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস যে একই লঞ্চে করে যাচ্ছে সেই আগুনে দগ্ধ হওয়া এক স্ত্রীর মৃতদেহ, সঙ্গী তার স্বামী মনসুর (জয় রাজ)। আর দুই চরিত্রের মধ্যে সেতু হয়ে আছে মফিজুর (মোশাররফ করিম)। 

লঞ্চের যাত্রা যতই এগিয়ে চলে ততই দুই শ্রেণির মানুষগুলোর পরিচয় বের হয়ে আসতে থাকে। নিচতলায় থাকা সার্কাসের সাথে সাথে যেন জীবন নিয়েও অদ্ভুত এক সার্কাস ফুটে ওঠে। চাটুকার গাড়ির ব্যবসায়ী মতিনের চরিত্রে যেমন ফুটে ওঠে একদম স্বাভাবিক এক বাঙালি, তেমনি তার স্ত্রীও একদম সাধারণ এক উচ্চবিত্ত নারী। কী অদ্ভুত! যে যখন জোগানের কোনো শেষ নেই তখন আতিক সাহেবকে তারা ডিনারের আমন্ত্রণ জানায় কিন্তু যখন খাবারের খোঁজে সবাই দিশেহারা তখন ঠিকই ক্ষুধার্ত আতিকের সামনে সে দরজাটি লাগিয়ে দেয়। এটাই কি মানব চরিত্র না? বিসিএস, যৌনতা, কুসংস্কার, সংস্কৃতি – কী নেই কমলা রঙের এই লঞ্চে?

মাত্র ৯২ মিনিটের সিনেমাতে মাঝের দিকে বেশ একঘেয়ে লেগে যাচ্ছিল।

অসাধারণ কালার গ্রেডিং আর পরিচ্ছন্ন ফিল্মমেকিং থাকলেও কেমন জানি ঝুলে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটের পরিচালক দুর্দান্ত এক মোড়ে টেনে নিয়ে গেলেন। খুব ধীর  শুরু করেছেন সাসপেন্স। আঁচ করতে পারছিলাম কিছু একটা হবে। কিন্তু ধীর গতির এত সুন্দর এক চমক তৈরি করলেন যে আমি হাততালি না দিয়ে পারলাম না। ভাগ্যের অদ্ভুত জোকগুলোর মূখ্যলাইনর উপস্থাপন ছিল একদম জায়গামত। আর একদম উপযুক্ত মুহূর্তে সাসপেন্সের রাবারটি ছিঁড়ে ফেললেন। উপরতলা আর নিচতলার মধ্যে থাকা দেয়ালটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেল। খুব কমন একটা প্রভাবক দিয়ে দুই শ্রেণিকে নামিয়ে আনলেন এক কাতারে (আক্ষরিক অর্থেই) এবং যেভাবে গল্পের যবনিকা টানা হলো তাতেও মুগ্ধতার রেশ থেকে গেল। সাধারণ সিনেমার মত গল্পের শেষ করেন নি তিনি। বরং রেখে দিয়েছেন একদম চূড়ান্ত মুহূর্তে। এর পর থেকে দায়িত্ব পুরোটাই দর্শকের ওপর। চাইলে নিজের মত করে পরিণতি ভেবে নিতে পারেন। 

সাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের দুটি ছোট গল্প “সাইপ্রাস” আর “মৌলিক” থেকে চিত্রনাট্য অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে।

পুরো কাস্টের অভিনয়ই দুর্দান্ত লেগেছে। যদিও গল্পে একটা প্লটহোল থেকে গেছে তবে সেটাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া তেমন কঠিন কোনো কাজ না। বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে হয়তো কিন্তু খুব অদ্ভুত ভাবে প্যারাসাইটের সাথে কমলা রকেটের থিমের বেশ সুন্দর একটা মিল খুঁজে পেলাম। খুব করে দেখার জন্য অনুরোধ করব। 

আপনারা চাইলে আগে ইউটিউব থেকে ট্রেলার দেখতে পারেন  ।নিচে ট্রেলারের লিংক দেওয়া হলো:https://youtu.be/RlzVMOfM7H4

রিভিউ লেখক :

সামিউল হক নিঝুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

Leave a Comment