গুলাবো সিতাবো সিনেমা রিভিউ

গুলাবো সিতাবো

গুলাবো সিতাবো

মুভি‌ রিভিউ : “গুলাবো সিতাবো”

 ক্যাটাগরি – কমেডি ,ড্রামা

পরিচালক – সুজিত সরকার

রিলিজ – ২০২০

 যখন করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের জীবনজীবিকা যখন ব্যাহত তখন সেই প্রভাব কিন্তু বলিউড, হলিউড কিংবা আমাদের ঢালিউড সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে। 

যে সিনেমার কাজ শেষ তা এখন মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না, আবার যে সিনেমার কাজ বাকি আছে তাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা যাচ্ছে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এসময় ডিজিটাল প্লাটফর্মে একমাত্র ভরসা।

এর’ই মধ্যে ডিজিটাল প্লাটফর্ম “অ্যামাজন প্রাইমে” মুক্তি দেয়া হয়েছে সুজিত সরকার পরিচালিত “গুলাবো সিতাবো” সিনেমাটি। যেখানে প্রথমবারের মতো বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন এর সাথে ,গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে দিন দিন ছাপিয়ে যাওয়া আয়ুস্মান খুরানা কে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

সুজিত সরকার সবসময়ই গতানুগতিক বলিউড সিনেমার চেয়ে যে একটু ব্যতিক্রম ধাঁচের সিনেমা বানান। ওনার আরো কিছু মুভি যেমন-পিকু, অক্টোবর , ভিকি ডোনার। এই সিনেমাতেও তিনি  তার মতো করেই কিছু নিয়ে এসেছেন । 

সিনেমার প্লটের দিকে তাকালে – 

সিনেমার মূল কেন্দ্র হচ্ছে একটি বাড়ি যার নাম “ফাতিমা মহল”,

যেটা ‘মির্জা’ চরিত্রে অভিনয় করা অমিতাভ বচ্চনের চেয়ে ১৫ বছর বড় স্ত্রীর মালিকানায়। আর দীর্ঘ অনেক বছর ধরে এই বিশাল বাড়িতে বাস করা ভাড়াটিয়ারা যখন চাচ্ছে এখানেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে, তখন ৭৮ বছর বয়সী মির্জা অপেক্ষা করছে কখন তার স্ত্রী মারা যাবে এবং তিনি এই বাড়ির মালিকানা হাতে পাবেন। এর মধ্যে আবার এই বিশাল বাড়ি যে বিশাল জায়গার উপর নির্মিত, তার উপর নজর পড়েছে আরকেওলজি ডিপার্টমেন্টের এবং স্থানীয় ডেভেলপারদের।

আয়ুস্মান খুরানা এখানে একজন ভাড়াটিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যাকে সবসময় রাগী এবং মির্জার সাথে হরহামেশা ঝগড়া করতে দেখা যায়। তো স্ত্রী’র মৃত্যুর পর মির্জা কি বাড়ির মালিক হন? নাকি আরকেওলজি অথবা ডেভেলপার কোম্পানি বাড়িটির কব্জা করে নেয়? বাড়ির ভাড়াটিয়াদের কি বাড়িটি ছেড়ে দিতে হয় নাকি বাড়িতে থাকতে পারে? এসব প্রশ্নের উপর ভিত্তি করেই “গুলাবো সিতাবো” সিনেমা নির্মিত।

এই সিনেমার গল্পটা বেশ ভালোই আর যেভাবে সুজিত সরকার একটি পুরনো ভাঙ্গাচুরা বাড়ির বর্তমান অস্তিত্ব আর আগে রাজপ্রাসাদের মতো ছিলো এমন একটি ব্যাপারের সাথে সাথে মির্জার জোয়ানকাল আর বুড়োকালের যে বৈসাদৃশ্য দেখিয়েছেন তাতে এটা খুব সুন্দর করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ।আবার একটা জায়গায় অনেকদিন ধরে বাস করা মানুষের সেই জায়গার প্রতি যে ভালবাসা তৈরি হয় সেটাও তিনি দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।

 স্ক্রীন প্লে অবশ্য এই সিনেমার অনেক স্লো, ফলে অনেকেই পুরো সিনেমা দেখার ধৈর্য হারিয়ে ফেললেও ফেলতে পারেন। আর যারা এন্টারটেইনমেন্টকেই মূল উদ্দেশ্য করে সিনেমা দেখেন তাদের জন্য হয়তো “গুলাবো সিতাবো” সিনেমাটি খুব একটা সুখকর নাও হতে পারে।

অভিনয়ের কথা বললে অমিতাভ বচ্চন যা আলো সব নিজের দিকেই নিয়ে নিয়েছেন। একজন ৭৮ বছর বয়সী ব্যক্তির চরিত্রে হাঁটু ভাজ করে হেঁটে চলা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি বিষয়কে খুব সুন্দর  করে অভিনয়ের মাধ্যমে দেখিয়েছেন বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অভিনেতা। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে আয়ুস্মান খুরানাও সবসময়ের মতো নিজের জায়গায় ঠিকঠাক কাজ করেছেন। তারা দুজন ছাড়াও এই সিনেমাতে অভিনয়ে ছিলেন আন্ডাররেটেড অভিনেতা ভিজয় রাজ।

“গুলাবো সিতাবো’ সিনেমায় সত্যি বলতে তেমন কিছু নেই তবে একটা অসাধারণ শেষ আছে”

যা এই সিনেমার  সুন্দর একটা ম্যাসেজ আমাদের হৃদয়ে পৌছে দিয়েছে। একটা কথা আছে “কৃপণের ধন পিঁপড়ায় খায়”। অর্থাৎ, কৃপণরা কখনোই তাদের সম্পদ ঠিকমতো ভোগ করতেই পারেনা। আর এখানেও মির্জা চরিত্রের মাধ্যমে সুজিত সরকার খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন যে কৃপণতা আর অজ্ঞতা কতটা বিপজ্জনক মানুষের জীবনে।

“গুলাবো সিতাবো” সিনেমাটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৪০ কোটি রুপি এবং অ্যামাজন প্রাইম এটি কিনেছে ৬০ কোটি রুপিতে। এই সিনেমার প্রডিউসার ছিলেন রনি লাহিড়ী এবং শিল কুমার। মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি নিয়ে মানুষের মিক্সড  রিভিউ এবং স্লো স্ক্রীন প্লে’ই হচ্ছে এই সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এখন পর্যন্ত আইএমডিবিতে ১০ এর মধ্যে ৬.৭ পেয়েছে “গুলাবো সিতাবো”। আর গুগল ইউজারদের মধ্যে ৮৬  শতাংশ দর্শক সিনেমাটিকে পছন্দ করেছে এবং অডিয়েন্স রেটিং ৫ এর মধ্যে ৩.৬। 

ডাউনলোড করুন এবং দেখুন এই অসাধারণ সিনেমা টি।

রিভিউ লেখক : সামিউল হক নিঝুম 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মজার বিজ্ঞান নিউজ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

আমাদের আরো লেখা পড়তে চাইলে ক্লিক করুন

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

Leave a Comment