efootball pes 2022 রিভিউ

efootball pes 2022 রিভিউ

লেখাটি মূলত যারা ফুটবল ভালোবাসেন এবং পেস খেলা ভালোবাসেন তাদের জন্য। তবে যারা এই দুইটা ভালোবাসেন না তারাও এই লেখা পড়ে দেখতে পারেন, হয়তো আপনারও ফুটবল এবং পেসের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে।

পেস গেইমটা আসলে কি?

পেস হলো মোবাইলের একটা অতি জনপ্রিয় ফুটবল গেইম। পেস গেইমের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম হলো কোনামি। এর পিসি ভার্সনও আছে তবে সেটা নিয়ে কোনো কথা লিখবো না। এই লেখাতে সব পেসের মোবাইলের কথা এবং এর প্রতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ করার চেষ্টা করবো।

অন্যান্য গেইম এবং পেস

পেস খেলাটা শুরু করার আগে অনেক অনলাইন গেইমে আসক্ত ছিলাম। কিন্তু দিনশেষে বিবেচনা করে দেখলাম এই গেমগুলোর কোনো কন্সট্রাকটিভ আউটপুট নেই। তারপর একদিন এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পেস গেইমটা নিলাম। মূলত ফুটবল দুনিয়া Explore করার জন্য গেইমটা শুরু করা। তার আগে বলে রাখা ভালো পেস গেইমটা খেলার আগে আমার ফুটবলের থেকে ক্রিকেটে বেশি ইন্টারেস্ট ছিলো। তো পেস খেলার মাধ্যমে শুরু হলো ফুটবল দুনিয়া সম্পর্কে ইন্টারেস্ট আনা।

পেস গেমের যতকিছু

efootball pes 2022

তো পেসের বাইরের দিকটার সাথে সাথে এবার পেসের ভেতরের দিকে প্রবেশ করা যায়। পেসে রিয়েল লাইফের মতোই খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব এবং ন্যাশনাল টিম আছে। একজন পেস গেইমার কে যদি পেসার হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় তাহলে একজন পেসার এর লক্ষ থাকে তার ড্রিম প্লেয়ারগুলো স্কোয়াডে রেখে খেলানোর। মূলত এই ড্রিম প্লেয়ারগুলো Lucky Draw এর মাধ্যমে পাওয়া এবং তা দিয়ে দল সাজানো প্রতিটা পেসারের আশা। ভাগ্য ভালো হলে কেউ দুই তিন মাসেই ভালো টিম গঠন করতে পারে। আবার ভাগ্য খারাপ হলে ৬ মাসেও ভালো টিম বানাতে পারে না।

কোচ বা ম্যানেজার

efootball pes 2022

এইটা ম্যানেজার বাছাই হলো রিয়েল লাইফের ফুটবলে ট্যাকটিক্স এর মতোই নিজেই গেইম প্লান বানানো। মানে গেইমে কি আপনি লিভারপুলের ম্যানেজার Klopp মতো স্ট্রং উইং এটাক খেলাতে চাচ্ছেন নাকি চেলসির ম্যানেজার Tuchel এর মতো ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলাতে চাচ্ছেন সেটা অনুসারে আপনার নিজের গেইমপ্লান সেট করতে পারবেন। দিনশেষে এই গেমের ম্যানেজারের ফরমেশন আর ট্যাকটিক্স এর সাথে রিয়েল লাইফ ফুটবলের মিল খুজে পাবেন তখন গেইম খেলার আগ্রহ দ্বিগুন বেড়ে যাবে।

প্লেয়ার পরিচিতি এবং গেইমের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট

efootball pes 2022

পেস গেইমটা খেলার আগে কিছু ফুটবল প্লেয়ার টুকটাক চিনতাম। তবে মূলত ফুটবল বিশ্বকাপ আসলেই প্লেয়ার চেনার ইচ্ছা জাগতো। পেস খেলার আগে ক্লাব ফুটবল নিয়ে তেমন ইন্টারেস্ট ছিলো না। তবে এখন পেসের কল্যাণে অনেক প্লেয়ার চিনি। সর্বপ্রথমে আসি পেসের বল সিস্টেম নিয়ে পেসে ব্লাকবল, গোল্ডবল, সিলভার বল, ব্রোঞ্জ বল এবং সবশেষে হোয়াইট বল এই কয়টা ক্যাটাগরি আছে। কোন প্লেয়ার কোন বল তা জানার আগ্রহ জন্মালে একটু কষ্ট করে গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। তবে আমি জনপ্রিয় কিছু প্লেয়ারের উদাহরণ দিচ্ছি সাথে তাদের বল ক্যাটাগরিটাও বলে দিচ্ছি। মেসি, রোনালদো, ম্যানুয়াল নয়ার আছে ব্লাকবল ক্যাটাগরিতে। আনসু ফাতি, কিম্পেম্বে হলো গোল্ডবল ক্যাটাগরিতে।সিলভার ক্যাটাগরিতে আছে জামাল মুসিয়ালা, চুপো মোতিং, জুলিয়ান ড্রাক্সলার ইত্যাদি।

তবে কিছু পুরাতন প্লেয়ারও পেসে আছে যেগুলো হলো পেসের মূল আকর্ষণ। পুরাতন প্লেয়ারদের ভেতর অন্যতম হলো ডেভিড বেকহাম, বেকেনবাওয়ার, লোথার ম্যাথিউস, রবার্তো কার্লোস, কাফু, জোহান ক্রুইফ, ক্যাসিয়াস, অলিভার কান, ফোরলান, পিটার চেক, ফারনান্দো টরেস, কার্ল হাইঞ্জ রুমিনিগে, ফ্লিপো ইঞ্জাগি। এসব প্লেয়ারদের আছে বিশেষ কিছু স্কিল যেমন:- ডেভিড বেকহামের এর কার্ল শট, রবার্তো কার্লোসের ব্যনানা কিক, জোহান ক্রুইফের মার্শাল টার্ন, বেকেনবাওয়ারে ক্লাসিক্যাল ডিফেন্সিভ ইন্টারসেপশন, ফোরলানের রইজিং শট, ফ্লিপো ইঞ্জাগির ফিনিশিং। যদি আপনি এই স্কিলগুলোর ডেমো দেখতে চান তাহলে ইউটিউবে সার্চ করতে পারেন। তবে আপনি নিজে স্কিলগুলো ট্রাই করতে হলে পেস গেইমটির স্বাদ একবার হলেও আপনাকে নিতে হবে।

সবশেষে গোলের কথা

ফুটবলের মজা যেমন গেলো করার মধ্যে, ঠিক বাস্তবের মতো গেইমেও আপনি গোল দেওয়ার মাধ্যমেই গেইমের মজা খুজে পাবেন। আপনি চাইলেই আপনার বন্ধুর সাথে সহজেই ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে পারবেন।দুই বন্ধুর মধ্যে কে কাকে কয়টা গোল দিলো তা নিয়ে বেশ ঠাট্টা, তামাশা করতে পারবেন। পেসে গোল দেওয়ার কয়েকটা আকর্ষনীয় দিক হলো বিভিন্ন স্পেশাল স্কিলের মাধ্যমে গোল করা। তার মধ্য কয়েটা হলো কার্ল শট দিয়ে গোল, ডিপিং শট দিয়ে গোল, রাইজিং শট দিয়ে গোল। যদি এই স্পেশাল স্কিল আছে এমন প্লেয়ার যদি আপনি ভাগ্যের জোরে পেয়ে যান তবে আপনি স্কিলগুলো দিয়ে গোল করতে পারবেন। আমার নিজের একটা প্রিয় স্কিলে গোল করা কথাই বলি, ডেভিড বেকহামকে দিয়ে দূর থেকে কার্ল দিয়ে গোল দেওয়াটা আসলেই দেখার মতো।

গেইমটা অন্য গেইম থেকে ভালো

আমরা অনেক গেমই খেলে থাকি যার কোনো Constructive Output আমরা বাস্তব লাইফে পাই না। কিন্তু এই গেমটাতে ফুটবল দুনিয়া প্রতি ইন্টারেস্ট আনতে অনেকটা সাহায্য করবে। লেখার শুরুর দিকেই বলেছি আমার এই গেইমটা খেলার আগ পর্যন্ত শুধু ক্রিকেটে বেশি ইন্টারেস্ট ছিলো। গেইমটা খেলে ফুটবলের প্রতি অনেকটা ইন্টারেস্ট আসছে। গেইমটার আরেকটা দিক হলো গেইমটা বেশি টাইম নষ্ট করে না। সপ্তাহে মাত্র ২ দিন সময় দিলেই গেইমটার বিভিন্ন অনলাইন, অফলাইন ইভেন্ট শেষ করা যায়। তবে কেউ যদি চায় তাহলে প্রতিদিন ১.৫-২ঘন্টা সময় দিলেও ইভেন্ট শেষ করতে পারবে। তবে কেউ পাগলা গেইমার হলে অতিরিক্ত অনেক অপশন আছে যা খেলে গেইমের রিসোর্স খুব তাড়াতাড়ি বাড়ানো যায়। সবশেষে বলতে গেলে গেইমের আসল মজা তখনই পাওয়া যায় যখন টিভির পর্দায় দেখা খেলোয়াড়টিকে আপনি নিজে কন্ট্রোল করে গোল করান। তো সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ তাই গেমটি খেলে দেখুন আর সাথে সাথে বাস্তবজীবনের ফুটবল খেলাও উপভোগ করুন।

sykat Biswas

Writing Interest: Content Review, Recent Incident, Science and Technology.

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Comment