সত্যান্বেষী বোমকেশ সিনেমা রিভিউ

সত্যান্বেষী বোমকেশ

সত্যান্বেষী বোমকেশ

মুভি রিভিউ: “সত্যান্বেষী বোমকেশ”

ক্যাটাগরি : গোয়েন্দা, থ্রিলার,ক্রাইম ,ড্রামা

রিলিজ :২০১৯

বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা বলতেই চোখে আসে ,”ফেলুদা”,”বোমকেশ“,”কিরীটী রায়”

সিনেমা জগতে “ফেলুদা “একটা সময় রাজ করলেও এখন আর তেমন একটা দাপট নেই সিরিজ টির ।”কিরীটী রায়”একবার রুপালি পর্দায় আসলেও দর্শক এর মনে জায়গা করে নিতে পারে নি। বর্তমানে যে গোয়েন্দা টি বাংলা সিনেমার রুপালি পর্দায় বিভিন্ন তদন্ত করে বেড়াচ্ছে সেটা হলো “বোমকেশ “।ধুতি – পাঞ্জাবি পড়া এই ছা-পোষা বাঙালি গোয়েন্দা তার সিরিজের একটার পর একটা সিনেমা দিয়ে দর্শকের মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

বোমকেশ সিরিজের আরেকটি সিনেমা অর্থাৎ সর্বশেষ রিলিজ হ‌ওয়া সিনেমা হলো “সত্যান্বেষী বোমকেশ”যার পরিচালনায় ছিলেন শায়ন্তাল ঘোষাল এবং নাম ভূমিকায় অর্থাৎ’ বোমকেশ বক্সী’ চরিত্রে প্রথমবারের মতো  অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।এ ছাড়া অজিত এর চরিত্রে অভিনয়  করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ।

“সত্যান্বেষী বোমকেশ” যথেষ্ট উপভোগ্য একটি সিনেমা।সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো উপস্থাপিত কাহিনী সাধারন গোয়েন্দা কাহিনী নয়।আর গল্পে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দর ভাবে।বেশ কয়েকটি ক্রাইম একে অপরের সাথে জড়িত,যা শেষ পর্যন্ত দর্শক কে স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখা।

কাহিনী :

১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে কোলকাতায় এক দিকে নকশাল আন্দোলন আর অন্য দিকে নির্বাচন। তাছাড়া সে সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমবঙ্গ চিন্তিত।এর মধ্যে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় সেখানে আশ্রিতা পূর্ববঙ্গ এর এক রিফিউজি মেয়ে।

সাদা চোখে এক্সিডেন্ট মনে হওয়া ঘটনাটি একটা সময় খুন হিসাবে সন্দেহ হতে থাকে সবার।যদিও পুলিশ এটাকে সাধারণ আত্নহত্যার কেস হিসেবে ফাইল বন্ধ করতে চায়। কিন্তু  ঘটনা চক্রে বোমকেশ জড়িয়ে পড়ায় এ তদন্তে নতুন নতুন তথ্য বের হয়ে আসে।

সিনেমার শেষটা অনেকের মতে “বোমকেশ সিরিজ”এর গতানুগতিক ধারার হলেও একজন বোমকেশ ভক্ত হিসেবে আমার কাছে সেরা লেগেছে।

ছবিটা আপনাকে একটু  পরপরই ভাবনাই ফেলে দিবে ।খুনি কে?এই ভাবনা নয়,বরং অন্য নানা প্রশ্ন আপনার ভেতরে সৃষ্টি করবে,আর এটিই এই ছবির সেরা দিক বলে আমি মনে করি। “বোমকেশ সিরিজ”এর মুভি গুলো যেমন হয়ে থাকে ঠিক তেমনি।

অভিনয়ের কথা বলতে গেলে পরমব্রত, রুদ্রনীল, অঞ্জন দত্ত এবং মন্ত্রী ও তার বড় ছেলের অভিনয় স্টানডার্ড ছিলো।কিন্তু অন্তত আরো দুটি গুরুত্বপূর্ন চরিত্রের অভিনয়,ডায়লগ ডেলিভারি ইত্যাদি সবই ছিলো দূর্বল ও কিছুটা যান্ত্রিক।

তাছাড়া ছবিটির বাজেট কম হওয়া কারিগরি দিক,সিনেমাটোগ্রাফি ইত্যাদি সবই ছিলো মোটামুটি  লেভেলের।

তবুও সবকিছু মিলিয়ে বিনোদনদায়ী একটি ছবি।যেটি দেখলে ১ ঘন্টা ৪২ মিনিট ভালোই কাটবে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে “বোমকেশ” গল্প , উপন্যাস কিংবা মুভির চরম ভক্ত। আমি এই সিনেমাটি সহ “বোমকেশ সিরিজ” এর সিনেমা গুলো দুই-তিন বার করে দেখেছি। অসাধারণ লাগে সিনেমা গুলো।

তাই লকডাউনের এই সময়ে মনের সত্যান্বেষী কে জাগিয়ে তুলতে দেখতে পারেন “সত্যান্বেষী বোমকেশ”

ইউটিউব এ সার্চ করলেই সিনেমা টি পেয়ে যাবেন।

তাছাড়া টোরেন্ট এ এই সিনেমা রয়েছে।

মনে রাখবেন “সত্যান্বেষী “নাম দিয়ে ২০১৩ সালে বোমকেশের একটি সিনেমা বেরিয়ে ছিল।ঐটা আর এই “সত্যান্বেষী বোমকেশ”সিনেমা টি মিলিয়ে ফেলবেন না । দুটো বিভিন্ন গল্পে রচিত।

সত্যান্বেষী বোমকেশ

রিভিউ লেখক :

সামিউল হক নিঝুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মজার বিজ্ঞান নিউজ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

আমাদের আরো লেখা পড়তে চাইলে ক্লিক করুন

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

Leave a Comment