৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য (মূল বিষয়বস্তু)

৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সেই ময়দান টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত)  অনুষ্ঠিত জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন এবং সেই ভাষনটি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন নামে পরিচিতি লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিটের মতো স্থায়ী হয় এবং তিনি এই ভাষণ ১০ লক্ষ মানুষের মাঝে উপস্থাপন করেন। 

৭ মার্চের ভাষণ

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম এ চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন এবং এই ভাষণেই তিনি আহ্বান জানান বাঙালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।  তিনি তার ভাষনেই ঘোষণা দেন, 

৭ মার্চের ভাষণের ছবি
৭ মার্চের ভাষণের ছবি

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামের 

এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

বঙ্গবন্ধু তার বিখ্যাত ৭ই মার্চ  ভাষণে বাঙালির গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনি আরও আলোকপাত করছেনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের যেকল রাজনীতিবিদ ছিলো তাদের কর্মকাণ্ড জনগনের সামনে তুলে ধরেছেন। তৎকালীন সময়ে সামরিক আইন প্রয়োগ করেছিলো পশ্চিম পাকিস্তান এবং শেখ মুজিবুর রহমান এই সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান ৭ ই মার্চের ভাষণে। তিনি বাঙালি জনগন কে সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে এবং অত্যাচার রোধের জন্য আহ্বান জানান এবং সমস্ত বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চ এর ভাষণ

৭ মার্চের ভাষণের ছবি
৭ মার্চের ভাষণের ছবি ২

আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সকলে জানেন এবং বোঝেন আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে ও আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যশনাল এসেমব্লি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরী করবো এবং এদেশের ইতিহাসকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলছি বাংলাদেশের করুণ ইতিহাস বাংলার মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।

১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খাঁ মার্শাল-ল জারী কর ১০ বছর আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৪ সালে ৬-দফা আন্দোলনের সময় আমাদের ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আয়ুব খাঁর পতনের পরে ইয়াহিয়া এলেন। ইয়াহিয়া খান সাহেব বললেন দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন—আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করেছিলাম ১৫ই ফেব্রুয়ারী তারিখে আমাদের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিতে। তিনি আমার কথা রাখলেন না, রাখলেন ভূট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহে সভা হবে। আমি বললাম ঠিক আছে, আমরা এসেমব্লিতে বসবো। আমি বললাম, এসেমব্লির মধ্যে আলোচনা করবো—এমনকি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশী হলেও একজনের মতেও যদি তা ন্যায্য কথা হয়, আমরা মেনে নেবো। ভূট্টো সাহেব এখানে ঢাকায় এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন আলোচনার দরজা বন্ধ নয়, আরো আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করলাম—আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরী করবো—সবাই আসুন বসুন। আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরী করবো। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বর যদি আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেমব্লি। তিনি বললেন, যে যে যাবে তাদের মেরে ফেলে দেওয়া হবে, যদি কেউ এসেমব্লিতে আসে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেমব্লি চলবে, এসেমব্লি চলবে। আর হঠাৎ ১ তারিখে এসেমব্লি বন্ধ করে দেওয়া হোল।

ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেমব্লি ডেকেছিলেন। আমি বললাম, আমি যাবো। ভূট্টো বললেন, যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে এলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হোল, দোষ দেওয়া হোল বাংলার মানুষের, দোষ দেওয়া হোল আমাকে। দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।

আমি বললাম, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করুন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো, সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোল। আমি বললাম, আমার জামা কেনার পয়সা দিয়ে অস্ত্র পেয়েছি বহিঃ শত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র আমার দেশের গরীব-দুঃখী মানুষের বিরুদ্ধে—তার বুকের উপর হচ্ছে গুলী। আমরা পাকিস্তানে সংখ্যাগুরু—আমরা বাঙালীরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।

 আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপর, আমার বাংলার মানুষের বুকের উপর গুলি করা হয়েছে। কিভাবে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কি করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, আপনি দেখুন। তিনি বললেন আমি ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকবো।

আমি বলেছি, কিসের এসেমব্লি বসবে; কার সঙ্গে কথা বলবো? আপনারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলবো? পাঁচ ঘন্টার গোপন বৈঠকে সমস্ত দোষ তারা আমাদের উপর, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন। দায়ী আমরা!

২৫ তারিখে এসেমব্লি ডেকেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। ১০ তারিখে বলেছি, রক্তে পাড়া দিয়ে, শহীদের উপর পাড়া দিয়ে, এসেমব্লি খোলা চলবে না। সামরিক আইন মার্শাল-ল withdraw করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকের ভিতর ঢুকতে হবে। যে ভাইদের হত্যা করা হয়েছে তাদের তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো আমরা এসেমব্লিতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেমব্লিতে আমরা বসতে পারি না।

 আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। দেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিস্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশের কোর্ট-কাচারী, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলি আছে, সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিক্সা, গরুরগাড়ী, রেল চলবে—শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি গভর্নমেন্ট দপ্তর, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেওয়া না হয়, এরপর যদি ১টি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়। তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবণের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। সৈন্যরা তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, তোমাদের কেউ কিছু কলবে না। কিন্তু আর তোমরা গুলি করবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না। আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য কিছু টাকা-পয়সা পৌছে দেবেন। আর ৭ দিন হরতালে শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেক শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌছে দেবেন। সরকারী কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হচ্ছে, ততদিন ওয়াপদা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হোল কেউ দেবে না। শুনুন, মনে রাখুন শত্রুপিছনে ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান যারা আছে আমাদের ভাই, বাঙালী, অ-বাঙালী তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের উপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন, কর্মচারীরা, রেডিও যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালী রেডিও ষ্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, তাহলে টেলিভিশনে যাবেন না। ২ ঘণ্টা ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মাইনেপত্র নিতে পারবে। পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বাংলাদেশের নিউজ বাইরে পাঠানো চলবে।

এই দেশের মানুষকে খতম করবার চেষ্টা চলছে-বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন। এবং আমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি আরো রক্ত দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে তুলবো ইনশাআল্লা। এবারেরা সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। 

৭ মার্চের ভাষণের মূল বিষয়বস্তু

শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনি আরও আলোকপাত করছেনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের যেকল রাজনীতিবিদ ছিলো তাদের কর্মকাণ্ড জনগনের সামনে তুলে ধরেছেন। তৎকালীন সময়ে সামরিক আইন প্রয়োগ করেছিলো পশ্চিম পাকিস্তান এবং শেখ মুজিবুর রহমান এই সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান ৭ ই মার্চের ভাষণে। তিনি বাঙালি জনগন কে সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে এবং অত্যাচার রোধের জন্য আহ্বান জানান এবং সমস্ত বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে।

সামরিক আইন  ও সামরিক আগ্রাসন প্রত্যাহার এবং  মোকাবিলার জন্য বাঙালিদের আহ্বান জানান তিনি। শেখ মুজিবুর রহমান আরও বলেন বাঙালিদের অধিকার আদায় না-হওয়া পর্যন্ত সমগ্র দেশে হরতাল চলবে।

৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চ ভাষণের সাথে সাথেই পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ  আক্রমণাত্মক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা এবং দেশব্যাপী ধর্মঘট পালনের আহ্বান দেয় এবং বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণের সার্বিক বিষয় ও উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে  এবং বাঙালির অধিকার নিয়ে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান যা বিশ্বাস করতেন সেই বিশ্বাস নিয়ে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতেন। তার সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ৭ ই মার্চের বক্তৃতা করেন।  কারণ তৎকালীন সময়ের আন্তর্জাতিক পটভূমিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা  সংগ্রাম একটি নতুন রূপ ধারন করে এবং তার এই আন্দোলন সম্পূর্ণ বিশ্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। শেখ মুজিবুর রহমান এর এই ৭ ই মার্চের আন্দোলন স্বাধীনতাকামী বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের রূপ হিসেবে  আত্মপ্রকাশ করে এবং এই স্বাধীনতা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করেছিলো ৭ মার্চের ভাষণের এবং বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনার ওপর। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে চারটি শর্ত আরোপ করেন। তিনি প্রস্তাব দেন পূর্ব পাকিস্তান থেকে মার্শাল ল’ প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনীকে তাদের নিজস্ব ব্যারাকে ফেরত নেয়া শুধুই তাই নয় তিনি আরও প্রস্তাব দেন  নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা। এই ভাষণের শেষেই তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবং এর পরেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেন।

তৎকালীন সময়ের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সময় পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ঢাকায় অবস্থান করেছিলো এবং তিনি তৎকালীন সময়ের সকল পরিস্থিতি অনুবাধন করে এবং তিনি আরও শেখ মুজিবুর এর ভাষণ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, শেখ মুজিবুর ৭ ই মার্চের ভাষণে যা বলছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে তিনি কি বলেননি। বঙ্গবন্ধু তিনি তার এই ৭ ই মার্চের ভাষণে সমগ্র বাঙালিকে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে  অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি।  স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সাময়িক অবস্থা উপেক্ষা করে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সামনেই ঢাকায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনের বজ্রকন্ঠে ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সেই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ ১৯৭১ জাতির পিতা ঘোষণা করেন বাঙালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতার ঘোষণা। শেখ মুজিবুর এর নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি আমাদের প্রিয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষণ। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তখন বন্ধুবন্ধু ৭ ই মার্চের ঘোষণা প্রদান করেন।ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। তাঁর অনন্যসাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে পায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পাতায়  মিশে আছে জাতির পিতার অসামান্য অবদান। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার স্বাধীন-সার্বভৌম আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন দেশ অর্জনের এই দীর্ঘ  পথে বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছেন তার অপরিসীম সাহস, তার নিজের দেশের জন্য  ত্যাগ-তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং হেটেছেন কণ্টকাকীর্ণ পথ এবং বাঙালি জনগন কে দেখিয়েছেন  সঠিক দিকনির্দেশনা। যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি এক স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার মাঝে বজ্রকণ্ঠে  ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি পায়। তিনি আরও ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, আর এই ভাষণটি ছিলো বাঙালির স্বাধীনতার ডাক। এবং এই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষিতে জাতির পিতা ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে এই ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এর ব্যাখ্যা করা অল্প কথায় সম্ভব না।

৭ ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড অর্থাৎ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেসি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এর গুরুত্ব অনন্য এবং অসাধারণ কারণ এই ভাষণ এর মাধ্যমে তিনি সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে একতাবদ্ধ করে এবং তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সোচ্চার এবং  একতাবদ্ধ করেছিল।

আরো পড়ুন বঙ্গবন্ধু ও বহির্বিশ্ব বই রিভিউ

কারাগারের রোজনামচা সারমর্ম। বঙ্গবন্ধু। বই রিভিউ

অসমাপ্ত আত্মজীবনী সারমর্ম। বঙ্গবন্ধু। বই রিভিউ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রভাবনা

আমার দেখা নয়াচীন; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Aritro Sarkar

As a student of english department it’s my duty to analysis the Poem, Novel, Play and others part of literature and spread it to others so that it can help them to understand it more efficiently. That’s why I analysis those things and share it with others through this site.

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Comment