রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭

রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭ কি পারবে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারের সকল গুন অর্জন করে বিশ্বের সেরা ফাইটার হতে!

রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭

সু ৫৭ হলো মাল্টিরোল ফাইটার অর্থাৎ একই সাথে এয়ার সুপিয়োর, গ্রাউন্ড এটাক ও মেরিটাইম স্ট্রাইক করতে সক্ষম।
সু ৫৭ এ আছে ব্যান্ডেড উইং বডি, ইম্প্রুভ ফ্লাইট কন্ট্রল সিস্টেম,আধুনিক ডেটা লিংক, এয়ার ব্রেক, ভেল্কা রাডার সিস্টেম,অত্যাধুনিক হিমালয়াস ইলেক্ট্রনিক্স ওয়েফার সিস্টেম উন্নত থ্রাস্ট ভেক্টর থ্রিডি নজেল ইন্জিন। এর সার্ভিস লাইফ ধরা হয়েছে ৩৫ বছর।


সুখোই এসইউ-৫৭ এর স্পেসিফিকেশন

  • পাইলট :১জন
  • দৈর্ঘ: ১৯.৮ মিটার
  • প্রস্থ: ১৩.৯৫ মিটার
  • উচ্চতা :৪.৭৪ মিটার 
  • সর্বচ্চ_টেক_অফ_ওজন: ৩৫০০০ কেজি
  • সর্বোচ্চ_গতি:২.৩ ম্যাক
  • অপারেশনাল রেন্জ :৩৫০০ কিমি
  • সার্ভিস সেলিং :৬৫,০০০ ফুট


স্টিলথ ফিচারঃ

সু ৫৭ এ স্টিল্থনেস বারানোর  চেয়ে স্টিল্থ ডিটেক্ট করার উপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে তাই এটি আমেরিকান এফ-২২ এর তুলনা কম স্টেল্থী হলেও অন্যান্য ফাইটারের তুলনায় দূর থেকে স্টিল্থ ফাইটার ডিটেক্ট করে খেয়ে দিতে পারবে। সু ৫৭ এর রাডার ক্রস সেকশন ০.১ স্কয়ার মিটার। এর স্টিল্থ ফিচারের জন্য এর অস্ত্র গুলো বডির ভিতর দুইটি ইন্টারনাল ওয়েপেন্স বো তে রাখা হয়।


ম্যানুভারিটিঃ

সু ৫৭ বিশ্বের সেরা ম্যানুয়েভার ফাইটার। আগের সু ২৭,সু ৩৫ থেকে ও এটি অনেক কম জায়গায় ভয়ংকর সব টার্ন নিতে পারে। এটি সু ৩৫ থেকে ও স্মুথভাবে কোবরা ও কুলবিট ম্যানুভার দিতে পারে। এক কথায় ম্যানুভারিটিতে এর ধারেকাছে কোনো বিমান নেই। এতে ৩০ সেকেন্ডের জন্য ৯জি ম্যানুভার হজম করতে পাইলটের জন্য লাইফ সাপোর্টের ব্যাবস্থা আছে।


ইন্জিনঃ

সু ৫৭ এর প্রোটোটাইপ গুলোতে সু ৩৫ এর Saturn izdeliye 117 ইন্জিন ব্যাবহার করা হলেও বর্তমানে ৫ম প্রজন্মের NPO Saturn 117s(AL-41F1S) থ্রাস্ট ভেক্টরিং টার্বোফ্যান ইন্জিন ব্যাবহার করা হয় যা একে ম্যাক ২.৩(২৪৫০কিমি/ঘন্টা) পর্যন্ত গতি দিতে সক্ষম। ইঞ্জিনটা 3D নজেল বিশিষ্ট যা চারদিকে ঘুরতে পারবে যা সু-৫৭ কে অধিক ম্যনুভারিটি। এর সাহায্য আফটারবার্নারের সাহায্য ছাড়াই বিমানটি সুপারসনিক(প্রায় ১৭০০ কিমি) গতিতে ছুটতে পারে।


সুখোই এসইউ-৫৭ রাডার সিস্টেমঃ

সু ৫৭ তে এক্স -ব্যান্ডের মোট ৪টি রাডার আছে এর মধ্যে 1552 T/R Modules এর AESA মেইন রাডার যা বিমানের সামনে থাকে।  দুইটি ছোট রাডার বিমানের নোজ এর দুই পাশে ও একটি পিছনের দুই ইন্জিনের মাঝ খানে থাকেএছারা ও দুইটি এল-ব্রান্ডের রাডার দুইডানার ভিতর থাকে। সব মিলিয়ে ৬টি রাডার সু ৫৭ কে ৩৫০ কিলোমিটার  রেঞ্জ এ ৩৬০° কভারেজ দেয়। এর সাহায্যে একসাথে ১২টা টার্গেট লক ও ৪টা টার্গেট শুট করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া শক্তিশালী রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি মেমোরি জ্যামার থাকায় প্রতিপক্ষের রাডার, বিমান, মিসাইল কে লক বা জ্যাম করে দিতে পারে। ম্যাগনেটিক সেন্সরের দ্বারা অনেক দূরের বিমান ডিটেক্ট করে বিভিয়ার দিয়ে লুডু খেলতে পারে।

এছাড়া ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ এর এক্টুভ ইনফ্রায়েড রাডার ও আছে

১০১ কেএস এন এডভান্স নেভিগেশন এন্ড ট্রেকিং সিস্টেম। এটি গ্রাউন্ডের বিভিন্ন টার্গেট যেমন ট্যাংক, এপিসি,জাহাজ,শত্রু পক্ষের সৈন্য ডিটেক্ট ও অাক্রমনের জন্য এই সেন্সর ব্যাবহার করা হয়। এটি ৪০ কিলোমিটার এর মধ্যে দেওয়ালের অপর পাশের টার্গেট ও ডিটেক্ট করতে পারে। 


র্যাপ্টরের মতো স্টিল্থ টার্গেট কে তার বিভিআর মিসাইল এর রেন্জ থেকে বহু আগেই ডিটেক্ট করতে সু ৫৭ এ ব্যাবহার করা হবে রেডিও অপ্টিক্যাল ফেসড এয়ার রাডার (ROFAR)। র‍্যাপ্টরের বডি রাডার ওয়েভ বিরোধি কোটিং রেডিও ওয়েভ শোষন করে নেয় তাই সাধারন রাডারে এফ ২২ র্যাপ্টর কে ডিটেক্ট করা যায় না। কিন্তু ROFAR শুধুমাত্র রেডিও ওয়েভ নয় ফোটন কণাও ছড়ায় । এ ফোটন কণাগুলো রিফ্লেক্ট হয়ে ব্যাক করবে এবং সু ৫৭ এর পাইলট র্যাপ্টরকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে স্পস্ট ভাবে ডিটেক্ট করতে পারবে।


এর আরেকটা এডভান্টেজ হল এ রাডার টিভির মত টার্গেটের ছবি প্রদান করে। ক্যামেরা যেমন লাইট ফ্ল্যাশ করে ফোটন কণা ছড়িয়ে দেয় এবং তার রিফ্লেকশনের উপর ভিত্তি করে ছবি ডেভেলপ করা হয় সেভাবে কাজ করে। এই রাডার ৪০০ কিমি দূর হতে একটা হিউম্যান ফেস সরাসরি ডিটেক্ট ও আইডেন্টিফাই এবং মনিটরে ছবি প্রদর্শন করতে পারে। এই রাডারটি এখন ও ডেভলোপ স্টেজে আছে

 
ফুল গ্লাস ককপিটঃ

এই বিমানের ককপিটে দুইটি এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে।সম্পূর্ন গ্লাস ককপিট। পাইলটের জন্য রয়েছে হেলমেট মাউন্টেড ডিসপ্লে। যার সাহায্য পাইলট যেদিকে তাকাবে টার্গেটিং কম্পিউটার মিসাইলকে সেদিকে লক করাবে।ক্যানোপেতে বিশেষ আবরন ব্যবহার করা হয়েছে স্টিলথ বাড়ানোর জন্য।রয়েছ ইজেক্টশন সিট।পাইলটের জন্য রয়েছে অক্সিজেন জেনারেশন সিস্টেম এবং লাইফ সার্পোট সিস্টেম।অক্সিজেন জেনারেশন সিস্টেম পাইলটকে অফুরন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।আর লাইফ সার্পোট ব্যবস্থা পাইলটকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য ৯জি পর্যন্ত ম্যানুভার করতে সক্ষম করে।


সুখোই এসইউ-৫৭ এর ইউনিক ফিচার হলো কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

এর মাধ্যমে কো-পাইলট এর কাজ করা যায়। কোন প্রতিযোগিতামূলক সিচুয়েশনে পাইলট তার এনিমির দিকে ফোকাস করে ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কাজ এই সিস্টেমের উপর ছেড়ে দিতে পারে। কোন পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের এই বৈশিষ্ট্য নেই বলে একে ৫+ জেন এর বৈশিষ্ট্য ধরা হয়। 
|অস্ত্র:এসইউ-৫৭ এর ৬টি হার্ড পয়েন্ট এ একসাথে Kh-31, R-77, R-73 মিসাইল বহন করতে পারে। এছাড়াও আছে-
একটা 30 mm (1.181 in) 9A1-4071K (GSh-301)হেভি ক্যানন। 


বিভিআরঃ


••দুই পিস K-74M2 শর্ট রেন্জে হিট সিংক মিসাইল যার রেঞ্জ 
••••চার পিস K-77M মিডিয়াম রেঞ্জের অত্যাধুনিক বিভিয়ার মিসাইল এতে ব্যাবহার করা হয়েছে উন্নত AESA রাডার সিকার। এটি আমেরিকান AIM 120 থেকে উন্নত ও বেশি কার্যকর।এর রেন্জ প্রায় ২০০ কিলোমিটার যেখানে আমেরিকার AIM 120 এর রেঞ্জ ১৮০ কিলোমিটার। 
•লং রেন্জে R37M বিভিআর মিসাইল এর রেন্জ প্রায় ১৮৬-২৪৮ মেইল(নট কিলোমিটার) এবং গতি ম্যাক-৬(৪৫০০ এমপিএইচ)
এয়ার টু গ্রাউন্ডঃ••••৪টি Kh-38M••••৪টি Kh-58UShK••••••••৮টি KAB-500 লেজার গাইডেড বোম্ব
মেরিটাইম স্ট্রাইক এর জন্য  ৪টি Kh-35 ২টি K-74M2.
কিছু ত্রুটি থাকলেও সু ৫৭ যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাইটার এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই।

এমন সব খবর পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন

জ্বিভাইডটকম


Soyeb Atik

Dept. of Anthropology

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

এই পোস্ট শেয়ার করুন

1 thought on “রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭”

Leave a Comment