শীতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর যে কাজগুলো করবেন না

আপনি কি শীতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর কাজগুলো করে থাকেন? 

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে আমাদের অনেকেরই শীতকাল পছন্দের ঋতু। পছন্দের ঋতু হলেও এই সময়ে আমরা নিজেদের শরীরের প্রতি খুব কমই যত্ন নেই আলসেমির কারণে । যার ফলে ক্ষতিটা কিন্তু আমাদের ত্বকেরই হয়। আবার দেখা যায় পরে আফসোসও করি এইজন্য। 

শুধু ত্বকেরই বিভিন্নরকম সমস্যা নয়, এছাড়া শারীরিক বিভিন্ন সমস্যাগুলোও শীতে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তাই অবশ্যই শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সকলকেই নিতে হবে বাড়তি যত্ন। যেসব কাজ শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা বর্জন করতে হবে। 

১. অপর্যাপ্ত পানি পান করাঃ 

গরমকালের তুলনায় শীতকালে আমাদের পানি পান করা কম হয়। এর ফলে শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র হয় না। আর আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়ে ত্বকের ওপর। তাই ত্বক আরো শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। এছাড়াও ডিহাইড্রেশনের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, হজমের সমস্যা প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। তাই পানির পিপাসা না পেলেও কুসুম গরম পানি পান করুন কিছু সময় অন্তর অন্তর। 

২. খাওয়া দাওয়ায় অনিয়মঃ 

খাবার অনেক তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় শীতকালে। আর তাই দেখা যায় যে অনেক মশলাদার খাবার আমরা অনেক সময় বেশি খেয়ে ফেলি। সেজন্য আমাদের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার এমনটা হয় যে শীতকালে তেমন একটা ব্যায়ামও আমরা করি না। তাই শরীরের ওজন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। অবশেষে দেখা দেয়,শারীরিক সমস্যা। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী খাবার খেতে হবে এবং একটা ডায়েট বানিয়ে নিলে আরো সুফল পাবেন। 

৩. মাত্রাধিক ক্রিম লাগানোঃ 

শীতকালে যেহেতু ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায় তাই আমরা অনেকেই বার বার ক্রিম মাখি। যা আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এর ফলে ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাই মুখে ব্রণ ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। 

৪. ঘুমের অনিয়মঃ

শীতের সকালে ঘুম থেকে একদমই উঠতে ইচ্ছে করে না। আবার অনেকে সকালে দেরি করে উঠেও আবার দুপুরে না ঘুমালে চলে না। এরূপ অনিয়ম থাকলে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলেই যত বিপত্তি। তাই নির্দিষ্ট  নিয়ম করে ঘুমাতে যান ও ঘুম থেকে উঠুন। 

৫. নিয়মানুযায়ী গরম পোশাক না পড়াঃ 

শীতের সময় শীত থেকে বাচঁতে আমরা সবাই গরম জামা পরিধান করি। কিন্তু এই গরম জামা আমরা অনেকেই প্রয়োজন নেই তবুও দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকি। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের শরীরের ভিতর ঘাম হয়ে যায়। এই ঘাম শরীর আবার শুষে নিলে সর্দি কাশি এসব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যতক্ষণ আপনার শীত করবে ততক্ষণ গরম পোশাক পড়ুন। 

৬. সানস্ক্রিন না মাখাঃ

শীতকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এই সময় আমাদের ত্বক আরে বেশি কালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ শীতকালে আমাদের অনেকটা নিকটে চলে আসে সূর্য। 

৭. হাত ও পা মোজা ব্যবহারে অনিয়মঃ

আমাদের শরীর নতুন আবহাওয়ার সাথে অভিযোজিত হয় মূলত হাতের চেটো ও পায়ের পাতা দিয়ে। তাই হাত ও পায়ের পাতা কখনই ঢেকে রাখা উচিত নয়। কারণ এরকমটা করলে আপনার শরীর কখনোই নতুন আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে যেতে পারবে না। 

আবার অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় পা মোজা পড়ে ঘুমান, কিন্তু এতে করে শরীরের রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না। বাসায় হাতের চেটো ও পায়ের পাতা খুলে রাখুন। 

৮. বাহিরে কম বের হওয়াঃ 

শীতকালে কর্মজীবী মানুষ ছাড়া প্রায় অনেকেই বাসায় বসে থাকে। কিন্তু বাহিরের আবহাওয়ার সঙ্গে আপনার শরীরকে খাপ খাওয়ানো দরকার। তাই কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বাহিরে ঘুরে আসুন। তবে হ্যাঁ,খুব বেশি ঠান্ডা পড়লে বাহিরে বের না হওয়াই ভালো। 

৯. জামাকাপড় বাসায় শুকোতে দেওয়াঃ

শীত এলে যেহেতু জামা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়, তাই অনেকেই বাসায় জামাকাপড় শুকোতে দেয়। কিন্তু এতে করে চুলকানি, বাচ্চাদের ইনফেকশন হতে পারে।কারণ জামা কাচার পর রোদই পারে জামাকাপড়ের জীবাণু বিনাশ করতে  ও ইনফেকশন দূর করতে। 

১০. অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারে অসতর্কতাঃ

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গরম পানি মুখ ও মাথায় কখনোই দিবেন না। কারণ মুখের ত্বকের ফলিকলগুলোকে অতিরিক্ত গরম পানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আপনার ত্বকের আর্দ্রতা কেড়ে নিবে। 

১১. খুব কড়া সাবান ব্যবহার করাঃ

ত্বকের আর্দ্রতা কেড়ে নিবে অতিরিক্ত কড়া সাবান।এছাড়াও অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যে কোনও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রোডাক্ট ও মিনারেল অয়েল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 

১২. অতিরিক্ত ঔষধ সেবন করাঃ 

অল্প ঠান্ডা লাগার পরেই ঔষধ না খেয়ে বরং ঘরোয়া টোটকা মেনে ঠান্ডাকে কাবু করার চেষ্টা করুন। এভাবে অল্প কিছু হলেই বার বার ঔষধ খেয়ে আপনার ইমিউনিটি ক্ষমতা খারাপ করবেন না। রোগ প্রতিরোধী শরীর গড়ে তুলুন। 

১৩. ময়েশ্চারাইজার ঠিকমতো ব্যবহার না করাঃ

গোসল করার পূর্বে অয়েল মাসাজ করলেও গোসল করার পর অবশ্যই আপনাকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে ত্বক শুষ্ক ই থেকে যাবে। ত্বক যখন অল্প ভিজা থাকবে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিবেন।

১৪. ত্বকের যত্নে লেবু ও চালের গুঁড়ো ব্যবহারঃ

লেবুতে রয়েছে অ্যাসিড ও চালের গুঁড়োয় রয়েছে স্টার্চ।লেবু ও চালের গুঁড়ো দুটোই শীতকালে ত্বককে আরো শুষ্ক করে তোলে। তাই শীতকালে এগুলো না ব্যবহার করাই ভালো।

এছাড়াও,সকাল নয়টার পরে অহেতুক কেউ রোদ লাগাবেন না ত্বকে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে বেশিক্ষন ধরে গোসল করবেন না। খাদ্যতালিকায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন সি, মাছ,তিসি,ফল,শাকসবজি রাখুন এবং মশলাদার খাবার কম খান। আর কেউ যদি শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সিওপিডি রোগী হন তাহলে ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নিজের যত্ন নিন অন্তত এই শীতে।

শীতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর

ধন্যবাদ।

লেখক

সুমাইয়া আক্তার মারিয়াম। 

চট্টগ্রাম কলেজ। 

Leave a Comment