শীতে ত্বকের যত্ন নিলাম শুষ্কতাকে বিদায় জানালাম

শীতে ত্বকের যত্ন এর ঘরোয়া সমাধান

দিন দিন শীতের প্রকোপ যেনো বেড়েই চলেছে কিন্তু আপনি কি আপনার ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতন হয়েছেন?

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততার কারণে যদি ত্বকের যত্ন নিয়ে অবহেলা করে থাকেন তাহলে ত্বক উজ্জ্বলতা হারাবে এবং বিভিন্ন সমস্যা ।

যেমনঃ বয়সের আগেই ত্বকে ভাজ পড়া, বলিরেখা, কুঁচকে যাওয়া,চুলকানি, ত্বকে লালচে ভাব ,জ্বালাভাব ইত্যাদি হতে পাড়ে। 

আবার শীতের দাপটে প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলে আমাদের ত্বক।

তাই শীতে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়ার পাশাপাশি সামান্য একটু সচেতন হলেই আমরা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। 

ঘরোয়া পদ্ধতিতে কেন শীতে ত্বকের যত্ন নিবো? 

শীতের হাওয়া বইতে শুরু করলেই আমাদের সবার শরীর রুক্ষ রুক্ষ মনে হতে থাকে।

তাই দেরি না করে অনেকেই বাজার থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের প্রসাধনী কিনে ব্যবহার করা শুরু করে দেই ।

কিন্তু তাতে দেখা যায় তেমন একটা কাজ হয় না বরং কেমিক্যালের কারণে কারও কারও ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়।

তবে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য ঘরোয়া কিছু উপাদানেই পেতে পারেন ভালো ফলাফল।

আর তাছাড়া এই উপাদানগুলো হাতের কাছে খুব সহজেই পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক উপায়ে চটজলদি নেওয়া যায় ত্বকের যত্ন।

১/ দুধ বা দইঃ 

(ক)

শীতের সময় ত্বকে অনেকেরই চুলকানি বা জ্বালাভাবের সমস্যা দেখা দেয়। এরকম সমস্যা থাকলে আপনি ১ লিটার ঠান্ডা দুধ বা দইয়ে তুলো বা নরম কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে  পুরো শরীরে ৫ মিনিট সময় নিয়ে প্রলেপটি লাগিয়ে নিন। দুধ বা দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক এসিড যা আপনার ত্বকের জ্বালাভাব দূর করবে ও ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে। 

অন্তত মিনিট ৫ এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন। দুধ বা দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এর প্রভাবে ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার ত্বক এবং ত্বকের জ্বালাভাব ও দূর হবে। 

(খ) 

এছাড়াও  গোসলের পূর্বে কাঁচা দুধ বা দইয়ের সঙ্গে  মধু মিশিয়ে ও সর্বাঙ্গে লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে গোসল করে নিন। 

২/ মধু ও পাকা কলাঃ 

(ক) 

মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। ১ চামচ মধুর সঙ্গে ২ চামচ মিল্ক পাউডার ও ১ চিমটে হলুদ ভালো করে মিশিয়ে মুখে দিন। ১৫ মিনিট পরে তা ধুয়ে ফেলুন। 

(খ)

আবার ১ টি পাকা কলার সাথে পরিমাণ মতো মধু দিয়ে একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। মুখে লাগান প্রলেপের মতো করে। তারপর ২০-২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন ও ময়েশ্চারাইজার লাগান।প্রতিদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বক প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পাবে পাশাপাশি নরম এবং কোমল হবে। 

(গ) 

পাকা কলা, মধু ও সরের প্রলেপ ও শুষ্ক ত্বকের খুব ভালো দাওয়াই হতে পারে। 

(ঘ)

 নারকেল তেলের সঙ্গে কলা মিশিয়ে তৈরি করুন ফেসপ্যাক। মিনিট ২০ মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে ২ বার এমন প্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। 

৩/ অ্যালোভেরাঃ 

একটি অ্যালোভেরা পাতা নিয়ে তার ভিতরের শাঁস বা জেল বের করে নিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। এতে করে ত্বকের জ্বালাভাব, লালচেভাব ও চুলকানি মুহূর্তে কমে যাবে। সেরে যাবে ছোটখাটো ইনফেকশন ও।

আপনার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে এবং অ্যালোভেরার জেলের পরত সুরক্ষার আবরণ তৈরি করবে যা ত্বককে দূষণমুক্ত রাখবে। 

৪/ গ্লিসারিনঃ 
 শীতে ত্বকের যত্ন নিলাম শুষ্কতাকে বিদায় জানালাম
গ্লিসারিন

গ্লিসারিন ন্যাচারাল প্রোডাক্ট, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য গ্লিসারিন সেরা দাওয়াই বলতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে গ্লিসারিন ব্যবহারের ফলে ত্বক খুব তাড়াতাড়ি কোমল হয়ে যায়। 

৫/ অলিভ অয়েলঃ 

(ক) 

ফ্যাটি অ্যাসিড অ্যান্টিঅক্সিডান্ট উপস্থিত রয়েছে অলিভ অয়েলে। যা মুখের পাশাপাশি আপনার সারা শরীরের ত্বকের যত্ন নিবে। গোসলের ৩০ মিনিট আগে মুখসহ সারা শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিবেন। এরপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। 

(খ)

মধু, ব্রাউন সুগার এবং অলিভ অয়েল একসাথে এমন ভাবে মিশাবেন যাতে সেটা ঘন ক্রিমের মতো হয়। এরপর হালকা ভাবে পুরো শরীরে মেখে নিবেন এবং আস্তে আস্তে চাপ প্রয়োগ করে গোল গোল করে মালিশ করবেন। এমনটা করলে শরীরের সব মৃত কোষগুলো উঠে যাবে। এরপর গোসল করে ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। 

৬/ কমলালেবুঃ 

কমলালেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা ঠেকিয়ে রাখে বলিরেখা। কমলালেবুর খোসা, সরবটা, ময়দা বা বেসনের প্রলেপের ব্যবহার রূপটান হিসেবে বহুদিন ধরে প্রচলিত।

কমলালেবুর খোসা না ফেলে রোদে শুকনো করে রেখে দিন। পরবর্তীতে গুড়ো করে ব্যবহার করতে পারেন। 

৭/ নারকেল তেলঃ 
Food, Coconut, Fruit, Healthy
নারকেল তেল

শীতকালে শুধু মুখ নয় পাশাপাশি গোড়ালি, কনুই ও হাঁটু এসবের ও যত্ন নিতে হবে। তাই আপনাকে প্রথমে উক্ত অংশগুলোর ত্বক পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর যখন দেখবেন ত্বক কুঁচকে যাচ্ছে, এর মানে ত্বক আর্দ্রতা পেয়েছে। নারকেল তেল সাধারণত শীত কালে জমে যায়। জমা তেলের মোটা পরত লাগিয়ে নিন আর্দ্র ত্বকে। তারপর মোজা বা লম্বা হাতা টপ বা পাজামা পরে ঘুমোতে যান। টনা বেশ কিছুদিন করলে নিজেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। 

৮/ অ্যাভোকাডোঃ 
Avocado, Vegetable, Food, Healthy
অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোটে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং তা নরম ও কোমল হয়ে ওঠে। পাকা অ্যাভোকাডো থেতলে মুখে লাগান এবং ১০-১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করবে। 

ত্বকের যত্ন

৯/ চকোলেটঃ 
Coffee, Chocolate, Cinnamon, Anise
চকোলেট

চকোলেটে উপস্থিত ক্যাফেইন থেকে ত্বকে আসে উজ্জ্বলতা। সেই সঙ্গে চকোলেটের ফ্যাটও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভালোই কাজ করে। ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিন মাইক্রোওয়েভ আভেনে। হালকা গরম থাকতে থাকতে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করে তা গলায়, মুখে, ঘাড়ে, হাতে লাগিয়ে মিনিট ১৫ অপেক্ষা করবেন। আর নজর রাখবেন যাতে করে চোখের নিচ এবং ঠোঁটের আশেপাশে না লাগে সেই প্যাক। এরপর হাত দিয়ে সার্কুলার মোশনে  হাত ঘুরিয়ে ম্যাসাজ নিন মুখে এবং সামান্য গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। 

১০/ আমন্ড তেলঃ 
Almond, Almond Oil, Dry, Eat, Food
আমন্ড তেল

ভিটামিন ই রয়েছে আমন্ড তেলে যা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়  ও মসৃণ করে তোলে। ত্বক এই তেলের সংস্পর্শে আসলে তা সহজেই শুষে নিতে পারে। এবং চটচটানি অনুভূতির সৃষ্টি করে না।  মধু, কয়েক ফোঁটা আমন্ড তেল ও অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

১১/ ওটমিলঃ 
Muesli, Food, Eat, Fruits, Breakfast
ওটমিল

(ক) 

ওটমিলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট  যা বজায় রাখে ত্বকের উজ্জ্বলতা। সবচেয়ে ভালো কাজে দিবে ইনস্ট্যান্ট ওট, সেটাকে ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রথমে পাউডারের মতো গুঁড়ো করে নিন। এরপরে গোসলের বাথটবে পানি ভরে, ১ কাপ এই পাউডার দিয়ে ভালো করে ছড়িয়ে দিন হাত দিয়ে। দেখে নিবেন যাতে নিচের দিকে দলা পাকিয়ে না থাকে। তারপর এই পানিতে ১৫- ২০ মিনিট শুয়ে থাকুন। ওটমিল ত্বক পরিস্কার করে, আর্দ্রতা জোগায়। 

(খ) 

এছাড়াও ৩ চামচ ওটমিল, ১ চামচ মধু ও আধ কাপেরও কম দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে মাখুন। মিনিট ১০ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

ত্বকের যত্ন

১২/ ঘিঃ 

ঘি তে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকার ফলে প্রতিদিন রাতে হাতে- পায়ে, মুখে মাখলে আপনার ত্বক নরম থাকবে। 

১৩/ নিমপাতাঃ

Indian, Neem Leaf, Nature, Tree, Organic
 নিমপাতা

 নিমপাতা একটি উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান। নিমপাতা পাউডারের সঙ্গে মধু ও হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মেখে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর ধুয়ে ফেলুন। 

এছাড়াও, শুষ্ক ত্বকের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। কারণ শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের উপর। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। ডাবের পানি, ফলের রস ও পান করতে পারেন। 

ত্বকের যত্ন

ধন্যবাদ। 

সুমাইয়া আক্তার মারিয়াম 

চট্টগ্রাম কলেজ

Hi, I am Sumaia, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment