লেবুর উপকারিতা (২৪টি) যেভাবে ব্যবহার করে ফলাফল পাবেন।

লেবু

লেবুর উপকারিতা: বাংলাদেশে লেবু একটি পরিচিত ফল। সবাই কম-বেশি লেবুর উপকারীতা সম্পর্কে জানি। কিন্তু এমন কিছু গুণাগুণ আছে, যেটা আমাদের অজানা। লেবুর উপকারিতা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন। আজ আপনাদের সাথে লেবুর উপকারিতা ওবং অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো।

সূচিপত্র hide
লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবু

লেবুর রস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। আমরা জানি ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এ ছাড়া লেবুতে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম খনিজ দ্রব্য রয়েছে। যা দেহের স্নায়ুর চালিকাশক্তি বৃদ্ধি করে। এতে আরও কিছু এসেনসিয়াল অয়েল রয়েছে। এই তিন ধরনের রাসায়নিক যৌগসমূহ এন্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্লাভিনয়েডস, ফেনল, কুমারিনস, ট্যানিন, অ্যালকালয়েড, লাইকোপেন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ইত্যাদি যৌগগুলোর সাথে মিলে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

লেবুর উপকারিতা ছবি

এসব উপাদানগুলোর কারণে কাগজিলেবু এন্টিসেপটিক, কৃমিনাশক, ছত্রাক জীবাণুনাশক, ব্যাকটেরিয়া জীবাণুনাশক, ভাইরাস জীবাণুনাশক, এন্টিক্যানসার হিসেবে ও আন্ত্রিক সমস্যা সমাধানে কাজ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা সবসময় প্রাকৃতিক ভিটামিন সি গ্রহণের পরামর্শ দেন। লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।

২. সর্দি-কাশির জন্য লেবু

লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা: ঠান্ডা-সর্দি-কাশি দূর করতে লেবু পানির তুলনা নেই। লেবুর সাথে মধু মিশিয়ে সিরাপ বানিয়ে খেলে কার্যকর ভাবে সর্দি এবং কাশি নিরাময় হয়।
এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চা চামচ মধু ও এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে সর্দি-কাশি দূর হবে।

৩. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে লেবু

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের শুরুটা এক গ্লাস লেবু পানি দিয়ে শুরু করলে তা গোটা শরীরের জন্য উপকারী। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া পটাশিয়াম এবং লেবু সাইট্রাস পরিবারভুক্ত। এতে আরো কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে যা শরীরের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে লেবু খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। লেবুর উপকারিতা লেবু খুব দ্রুত ব্লাড প্রেশার নামিয়ে আনতে সক্ষম। রোগীর ব্লাড প্রেশার হঠাৎ করে বেড়ে গেলে লেবুর শরবত বা ভাতে লেবু খাওয়া যেতে পারে। লেবুর উপকারিতা হল রক্তনালী নরম এবং নমনীয় করে তোলে, রক্তচাপ কমায়।

৪. ওজন কমাতে লেবু

অনেকেই অতিরিক্ত ওজনের কারনে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগেন। ওজন কমাতে লেবুর উপকারিতা অপরিসীম।

প্রতিদিন লেবুর সাথে মধু মিশিয়ে খেলে এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত সকালে কুসুম কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে এটি শরীরের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ পানিতে অর্ধেক পরিমাণ লেবু মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

নিয়মিত লেবুপানি খেলে, শরীরকে হাইড্রেট থাকতে সহায়তা করে। আমরা জানি হাইড্রেশন শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া লেবুপানি শরীরে বিপাকক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীরের ওজন কমতে পারে। এছাড়া লেবুপানি ক্ষুধা কমাতে সহায়তা করে। খাবার খাওয়ার আগে লেবুপানি খেলে, কম খাবার খাওয়া যায়।

লেবুপানির উপকারিতা

ওজন কমাতে লেবু চা কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ভেষজ লেবু চা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তবে চাইলে এটি ঘরোয়া ভাবে তৈরী করেও খেতে পারেন। ঘরে বানানোর জন্য চায়ের পানি গরম করার সময়,গরম পানিতে গ্রিন টি, আদাএবং লেবুর রস মেশাতে হবে। এভাবে ভে|ষজ চা তৈরী করে, দিনে দুইবার খেলে ওজন কমাতে ভাল ফল দিবে।

ওজন কমাতে লেবুর জুস বা শরবত কাজে দিতে পারে। ভেষজ লেবুর চায়ের পাশাপাশি এটি খাওয়া যেতে পারে। লেবুর জুস বানাতে একটি পাতি লেবুর রসের সাথে ১-২ চা-চামচ পুদিনা পাতার রস অথবা ৬-৮ টি পুদিনাপাতা দিয়ে ব্লেন্ডার করতে হবে।
ব্লেন্ডার হয়ে গেলে, এক গ্লাস পানিতে সামান্য বরফ যোগ করে খেতে হবে।

৫. রক্তশুন্যতা প্রতিরোধ করতে লেবু

আমাদের দৈনন্দিন খাবারে খাবার লোহা বা আয়রন থাকে, যা শোষণের জন্য ভিটামিন সি এর প্রয়োজন। আমরা জানি লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। তাই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের সাথে লেবু খেলে তা দ্রুত খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে এবং শরীরে রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া প্রতিরোধ করে থাকে।

৬. ক্যান্সার প্রতিরধে লেবু

বিশ্বে প্রতিদিনই ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে লেবু বেশ ভাল ভূমিকা রাখে। লেবুর মাধ্যমে ক্যান্সার নিরাময় করা না গেলেও, প্রতিরোধ গড়ে তুলে এর থেকে দূরে থাকা যায়।

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে ক্যান্সারের ক্ষতিকারক কোষ ধ্বংস করে যা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

লেবুর খোসার উপকারিতা

এছাড়াও ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় লেবুর খোসা ব্যবহার করা হয়। লেবুর খোসায় রয়েছে স্যালেভেস্ট্রল কিউ৪০ এবং লিমোনেন। যা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করে।

এক গবেষণা থেকে জানা যায়, চা এর সাথে লেবুর খোসা দিয়ে পান করলে তা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া অ্যাসিড সমৃদ্ধ দেহে ক্যান্সার দ্রুত বাড়ে। আর লেবুর খোসা ক্ষারজাতীয় হওয়ায় তা আমাদের দেহের এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের রাখতে সহায়তা করে।

৭. পাকস্থলী সুস্থ রাখতে লেবু

যারা পেটের বদ হজম বা গোলযোগে ভুগছেন তাদের জন্য লেবু অনেক উপকারী। পেটের গোলযোগের মধ্যে ডায়রিয়া, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে, এক গ্লাস পানি, লেবু+লবন মেশাতে হবে। এর সাথে এক চামচ মধু মেশাতে পারলে আরো ভাল হয়। কয়েকদিন এভাবে খেলে, ভাল ফল পাওয়া যাবে।

৮. শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ঠিক রাখতে লেবু

লেবু চা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

কমলা লেবুতে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ রয়েছে। পাশাপাশি এতে চিনি বা শর্করার মাত্রা কম। তাই এটি ডায়াবেটিক বা স্থূল রোগীরাও খেতে পারবেন। মাঝারি আকারের একটি কমলা লেবুতে প্রায় ৬২ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং ফ্লেবোনয়েড রয়েছে। যা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৯. স্ট্রোকের ঝুকি কমাতে লেবু

২০১২ সালের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, সাইট্রাস ফলের ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি মহিলাদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। আমরা জানি লেবু সাইট্রাস ফলের অন্তর্ভুক্ত।

স্ট্রোকের ঝুকি কমাতে লেবু উপকারী
স্ট্রোকের ঝুকি কমাতে লেবু উপকারী

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা সবথেকে বেশি সাইট্রাস ফল খেয়েছেন, তাদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ কম ছিল। ইস্কেমিক স্ট্রোক সবচেয়ে সাধারণ ধরণের স্ট্রোক।

তাই নিয়মিত লেবু খেলে স্ট্রোকের ঝুকি কমে।

আরো জানুন নিমপাতার জাদুকরী উপকারিতা সমূহ

১০. হাঁপানি রোগীদের জন্য লেবু

হাঁপানি রোগিদের জন্য লেবু একটি কার্যকরী ফল। কারন হাঁপানি থেকে দূরে থাকতে বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সেবন করতে হয়। শ্বাসকষ্টে অথবা হাইপারসেনসিটিভিটিতে ভুগা মানুষগুলোর জন্য ভিটামিন সি একটি কার্যকরী পুষ্টি উপাদান।

১১. রক্তচাপ কমাতে লেবু

বিশেষজ্ঞরা ২০১৪ সালে একটি গবেষণা চালান। সেই গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করার পাশাপাশি প্রতিদিন লেবু পানি পান করেন তাদের রক্তচাপ কম ছিল। তবে রক্তচাপ কমাতে লেবুর ভূমিকা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

১২. হাড় মজবুত করতে লেবু

লেবুর খোসা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি রয়েছে। যা হাড়ের সুরক্ষায় কাজ করে। লেবুর খোসা হাড় সম্পর্কিত নানা রোগ যেমন-আর্থাইটিস, রিমেটিক প্রতিরোধে সাহায্য করে।

লেবুর খোসার উপকারিতা

লেবুর খোসায় উচ্চ পরিমানে সাইট্রাস বায়ো ফ্লানয়েড রয়েছে। যা শরীরের নানা ধরনের চাপ কমাতে সাহায্য করে।

১৩. মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবু

আমাদের মধ্যে অনেকেরই মুখে দুর্গন্ধ রয়েছে। যে দুর্গন্ধের কারণে মানুষের সামনে কথা বলতে লজ্জা বা অস্বস্তিতে পরতে হয়।

কিন্তু লেবুর রস আপনার এই সমস্যা দূর করতে পারে। গবেষণা থেকে জানা যায়, লেবুর অন্দরে থাকা অ্যাসিডিক কনট্যান্ট, মুখ গহ্বরে বাসা বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

লেবুর রসের উপকারিতা

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে, এক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ও দুই চা চামচ মধু নিতে হবে। সব উপাদান একটি পাত্রে ঢেলে, এতে সামান্য পানি মেশাতে হবে। এবারে সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এই মিশ্রণ দিয়ে মুখ কুলকুচি বা গার্গল করতে হবে। এভাবে কয়েক মিনিট করার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখের সম্পূর্ণ দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে অন্তত দুবার কুলকুচি করতে হবে।

১৪. ক্ষত স্থান সারাতে লেবু

যে কোন ক্ষত শুকাতে ভিটামিন সি এর ভূমিকা অপরিসীম। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি। ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বকের সঠিক ভিত্তির জন্য কোলাজেন হলো প্রধান প্রোটিন যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতা ও ব্যবহারবিধি পড়ুন

১৫. হাতের নখ শক্ত ও লম্বা করতে লেবু

সুন্দর নখ কে না চায়! হাতের নখ শক্ত, লম্বা ও সুন্দর করতে লেবু অনেক উপকারি। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং অন্যান্য উপাদান হাতের নখ শক্ত ও লম্বা করে।

ব্যবহার পদ্ধতি

একটি পরিষ্কার বাটি বা পাত্রে আধা কাপ পানি নিতে হবে। সেই পানিতে ৪-৫ টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে, ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এরপর লেবুর রস মেশানো পানিতে হাতের আঙ্গুল ডুবিয়ে রাখতে হবে। ডুবিয়ে রাখা হলে আঙ্গুল তুলে নিয়ে নখের ওপর আলতো ভাবে ঘষে নিন। ১০ মিনিট পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে নখ ধুয়ে ফেলুন।

বিঃদ্রঃ লেবুর রস নখে ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া করলে নখে লোশন অথবা নারিকেল তেল লাগিয়ে নিতে পারেন।

আরেকটি পদ্ধতি

এক চা চামচ অলিভ অয়েলের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নখের উপর মালিশ করতে হবে। কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে, সারারাত পাতলা ‘ম্যানিকিউর গ্লাভস’ পরে ঘুমাতে হবে। সকালে উঠেই সুন্দর নখ দেখতে পাবেন।

এছাড়াও লেবু-বেসনের পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। একটি পাত্রে কিছুটা লেবুর রস ও তার সঙ্গে বেসন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ওই পেস্টটি কিছুক্ষন নখের উপর লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। তারপর একটি ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। আশাকরি ভাল ফল পাবেন।

১৬. দাগ দূর করতে লেবু

আমাদের মধ্যে অনেকেই ত্বকের দাগ নিয়ে চিন্তিত। ঘামে ভেজা শরীর বা বিভিন্ন কারণে শরীরে কালচে ভাব বা দাগ হয়।

ত্বকের দাগ বা কালচে ভাব দূর করতে, লেবু খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি ত্বকের বিবর্ণভাব কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড, ব্লিচিং প্রপার্টি।

ব্যবহার পদ্ধতি

টাটকা লেবু নিতে হবে। লেবুর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন চামড়া টান টান থাকে।
প্রথমে লেবু কেটে ,এটিকে চিপে রস বের করে নিতে হবে। এরপর পরিষ্কার তুলা নিতে হবে। তুলা লেবুর রসে ভিজিয়ে দাগাক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। যদি এলার্জি থাকে বা সেন্সিটিভ স্কিন হয়, তাহলে পানি মিশিয়ে নিতে হবে। পানির বদলে মধুও মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

লেবুর রস ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এটি নিয়মিত ১৫ দিন ব্যবহার করলে, পার্থ্যক্য বুঝা যাবে।

১৭. চেহারায় বয়সের ছাপ দূর করতে লেবু

অনেকেই অল্প বয়সেই দেখতে বয়স্ক লাগে। চামড়ায় বয়সের ছাপ পরে যায়। কিন্তু লেবু এই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। লেবু শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই এটি বয়সের দাগছোপ ও অন্যান্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ব্যবহার পদ্ধতি –

এক টেবিল-চামচ লেবুর রসের সঙ্গে আধা চা-চামচ মাখন ও এক টেবিল-চামচ ডিমের সাদা অংশ নিতে হবে। এই মিশ্রনটিকে ভাল ভাবে মিশাতে হবে। এরপরে এটি ত্বকে বা মুখে মাখুন।

মাখার ১৫ মিনিট পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তবে যাদের এলার্জি বা স্কিন জনিত সমস্যা আছে, তারা অবশ্যই পানি বা মধু মিশিয়ে নিবেন। অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

১৮. চুলের যত্নে লেবু

চুলের সমস্যায় সবাই কমবেশি ভুগেন। অনেকে বাজারে থাকা দামী শ্যাম্পু, কন্ডিশনার সহ বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এত টাকা খরচ না করে ঘরোয়া ভাবে লেবুর মাধ্যমে চুলের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব। লেবুর রস খুশকি, চুল পড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, চুলকে ঝলমলে করতে সহায়তা করে।

ব্যবহার পদ্ধতি –

ক. একটি কাপে লেবুর রস নিন। লেবুর রস চুলের গোড়ায় ভাল ভাবে ম্যাসাজ করুন। খেয়াল রাখতে হবে, যেন প্রতিটি চুলের গোড়ায় এই রস পৌঁছায়।

লেবুর রস ম্যাসাজ করা হলে, ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপরে ভেষজ শ্যাম্পু ও কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্রতি সপ্তাহে একবার করে এটি ব্যবহার করলে, চুল পড়া কমবে। তবে এলার্জি সমস্যা থাকলে, এটি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

খ. অ্যালোভেরা জেলের সাথে ব্যবহার –

একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস নিতে হবে। এর সাথে ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মেশাতে হবে। এবারে মিশ্রনটি ভালো ভাবে মেশাতে হবে। মেশানো হয়ে গেলে মিশ্রনটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

২০ মিনিট হয়ে গেলে, কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এবারে পরিষ্কার গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে ফেলুন। এটি প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই ব্যবহার করুন। এটি ব্যবহারের ফলে চুল পড়া কমবে।

গ. লেবুর সাথে পেয়াজের রস –

একটি পাত্রে ২ চামচ লেবুর রস নিন। এর সাথে ১ চামচ পেঁয়াজের রিস মিশাতে হবে। এর সাথে যুক্ত করুন দুই কাপ পরিষ্কার পানি। এবারে এটি ভালো ভাবে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হবে।

মাথার ত্বকে লাগানোর দশ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার এটি ব্যবহার করতে হবে।

ঘ. ডিমের সাথে লেবুর রস –

একটি ডিম ভেঙে সাবধানে হলুদ কুসুম আলাদা করে নিতে হবে। ২-৩ কাপ লেবুর রসের সাথে ডিমের সাদা অংশ মেশাতে হবে। এবারে মিশ্রণটি ভাল ভাবে নেড়ে চুলের আগা-গোড়া লাগান।

এবারে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। ১ ঘন্টা পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে এবং শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করুন।

ঙ. অলিভ অয়েলের সাথে লেবুর রস –

২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল ও কয়েক ফোঁটা লেমন এসেনশিয়াল অয়েল ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণতি সামান্য গরম করে চুলে লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

চ. রসুন ও নারকেল তেলের সাথে লেবুর রস –

এক কোয়া রসুন বেটে বা ব্লেন্ড করে রস বের করে নিতে হবে। এর সাথে ৩ চা চামচ নারকেল তেল এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। মিশ্রণটি ভাল করে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগাতে হবে। এবারে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে, ধুয়ে ফেলতে হবে। মিশ্রণটি মাসে অন্তত একবার ব্যবহার করলে বিস্ময়কর ফল পাবেন।

ছ. হেনার সাথে লেবুর রস –
প্রথমে একটি হেনা হেয়ার প্যাক তৈরি করতে হবে। এরপর তাতে ২-৩ টেবিল চামচ লেবুর রসে মেশাতে হবে। এবারে এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি এবং হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে।

জ. দইয়ের সাথে লেবুর রস –

একটি বাটিতে ২ চা চামচ লেবুর রস নিতে হবে। এরপর তাতে ১ টেবিল চামচ দই মেশাতে হবে। এবারে মিশ্রণটি মাথার ত্বকের লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে, শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ঝ. আমলকির সাথে লেবুর রস –

৩ চা চামচ আমলকির তেলের সাথে ২ চা চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে।

ঞ. নারকেলের তেলের সাথে লেবুর রস –
৩ চা চামচ নারকেলের তেলের সাথে ২ চা চামচ লেবুর মিশাতে হবে। শ্যাম্পু করার পর চুলে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। ৫মিনিট পর পুনরায় কুসুম গরম পানিতে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার মিশ্রণটি ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হবে।

১৯. ব্রণের সমস্যায় লেবু

আমরা সবাই কম বেশি ব্রণের সমস্যায় ভুগি। ব্রণ মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। সাধারণত কিশোর বয়সেই ব্রণ বেশি হয়। এ ছাড়া যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদেরও ব্রণের সমস্যা হয়। আর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলেও ব্রণ হতে পারে।

লেবুর রসের সাহায্যে এই ব্রণের সমস্যা দূর করা যায়। এর সাথে প্রকৃতিক উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে, ব্রণ দূর হওয়ার পাশাপাশি ব্রণের দাগ ও কালচে ভাবও দূর করা সম্ভব।

ব্যবহারবিধি –

ক. লেবুর রস –

লেবুর রসের উপকারিতা
লেবুর রস

লেবুর রসে রয়েছে এসিড উপাদান। যা ব্রণ দূর করতে কার্যকর। সামান্য পরিমাণ লেবুর রস নিয়ে, ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। তবে পুরো মুখে লাগালে আরো ভাল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে, পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

খ. মধুর সাথে লেবুর রস –

লেবু চিপে একটি পরিষ্কার পাত্রে রস রাখুন। এতে সামান্য পরিমাণে মধু মেশান। এবারে ভালভাবে মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের ব্রণ দূর করার পাশাপাশি ব্রণের দাগও দূর করতে সক্ষম।

গ. লেবুর রসের সাথে কমলার রস –

সামান্য পরিমাণ কমলার রস ও লেবুর রস মেশান। এবারে মিশ্রণটি মুখে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ব্রণ দূর করার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল করবে।

ঘ. দুধের সাথে লেবুর রস –

দুধের সাথে সামান্য পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। তবে বেশি লেবুর রস লাগানো যাবে না। এতে দুধ নষ্ট হয়ে যাবে। এবারে মিশ্রণটি মুখে লাগান। বিশেষ করে যেসব জায়গায় ব্রণ আছে সেই জায়গায় বেশি করে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ব্রণ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের কালচে ভাব দূর করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

ঙ. লেবুর রসের সাথে শসার রস

সমান পরিমাণ শসার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাক ব্রণের দাগ দূর করে। এ ছাড়া ত্বক নরম ও মসৃণ করে।

২০. ঠোঁটের যত্নে লেবু –

ক, লেবুর রস

লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান হিসেবে বহুল পরিচিত। এটি ঠোঁটের কালচেভাব দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এক টুকরা লেবু ঠোঁটে ঘষলে উপকার পাওয়া যাবে। প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে লেবুর রস মেখে ঘুমালেও বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

খ, লেবু ও চিনির স্ক্রাব

একটি পাত্রে এক চামচ লেবুর রস, সামান্য নারিকেল তেল ও দুই চামচ চিনি নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে।এই স্ক্রাব পুরো ঠোঁটে মালিশ করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে লিপ বাম লাগিয়ে নিন।

গ, পাতি লেবু ও চিনি

পাতি লেবুর টুকরোর ওপরে খানিকটা চিনি ছড়িয়ে রোজ ঠোঁটে মালিশ করতে হবে। চিনি ঠোঁটের মরা চামড়াগুলোকে ঘষে তুলে দিতে সাহায্য করে আর লেবু ঠোঁটের কালো হয়ে যাওয়া চামড়াকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

ঘ, পাতি লেবুর রস আর গ্লিসারিন

পাতি লেবুর রসের সঙ্গে খানিকটা গ্লিসারিন মিশিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুবার করে ঠোঁটে মাখুন। দিন দশেকের মধ্যেই ফারাক চোখে পড়বে।

২১. কাপড়ের দাগ এবং পরিষ্কার করতে লেবু

আমরা কাপড় ধোয়ার কাজে সবাই কমবেশি ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করি। এটি কাপড়ের দাগ দূর করে উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু এটি কখনো কখনো বিপদের কারন হতে পারে। ব্লিচ অন্যান্য পদার্থের সঙ্গে মিশে টক্সিক ফিউম বা বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে। যা শিশু সহ অন্যদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঘরে ব্লিচ রাখার কারণে শিশুদের মধ্যে অসুস্থতার হার বৃদ্ধি পায় যেমন- টনসিলাইটিস বা টনসিলের প্রদাহ, ফ্লু এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা। এছাড়া কাপড় থেকে ব্লিচ ধুয়ে ফেলার পর তা পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়। যা দীর্ঘদিন ক্ষতি করে।

জেনে অবাক হবেন, ব্লিচ ছাড়াও কাপড় পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল করে তোলা সম্ভব। এটি করতে পারে লেবু। লেবুর রস প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব। যেটি ব্যবহার করলে আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। চামড়ার জিনিস পরিষ্কার করতেও লেবুর রস চমৎকার কাজে দেয়।

লেবুর রসে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সাইট্রিক অ্যাসিড যা আপনার কাপড়কে প্রাকৃতিকভাবে ঢিলা করতে ও দাগ দূর করতে দাগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এবং কাপড়কে ঝকঝকে সাদা করে তোলে।

ব্যবহারবিধি –

দুই কাপ লেবুর রসের সাথে এককাপ লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। যে কাপড়টিকে পরিষ্কার করতে হবে, সেই কাপড়টি এই দ্রবণে ভিজিয়ে নিতে হবে। ভেজানো হয়ে গেলে, ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকাতে দিন। দেখবেন আপনার কাপড় সাদা এবং ঝকঝকে হয়ে গিয়েছে।

ওয়াশিংমেশিনের ক্ষেত্রে –

আপনার ডিটারজেন্টের সাথে এককাপ লেবুর রস যোগ করে নিতে হবে। এবং সচরাচরের মতো ওয়াশ করুন।

কোন কাপড়ে দাগ লেগে গেলে, সেখানে একটি লেবু কেটে ঘষা দিন। দেখবেন আপনার কাপড়ের অনেক কঠিন দাগ ও উঠে যাবে।

২২. রান্নাবান্নার কাজে লেবু

অনেকেই লেবুর এই গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত না’ও থাকতে পারেন। রান্নাবান্নার কাজেও লেবু অনেক সহায়তা করে। এই ব্যবহারগুলো অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে।

ক, ঝরঝরে ভাতের জন্য –
আমাদের দেশের প্রধান খাদ্য ভাত। প্রতিটি ঘরেই ভাত রান্না করা হয়। অনেকেই ঝরঝরা ভাত পছন্দ করেন। কিন্তু রান্না করার সময় আশানুরূপ ঝরঝরা ভাত পান না।

কয়েক ফোটা লেবু আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে। ভাত রান্নার সময় হাড়িতে বা পাত্রে কয়েক ফোটা লেবুর রস দিয়ে দিলেই, ভাত ঝরঝরা হয়ে যাবে। একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকবে না।

খ, চিনি নরম রাখবে –
লেবুর রসের পাশাপাশি, লেবুর খোসাও অনেক কাজে দিতে পারে। আপনাদের ঘরে রেখে দেওয়া চিনি প্রায়ই দলা পেকে যায়।

লেবুর খোসাগুলো না ফেলে সেগুলো থেকে লেবুর শাস ছাড়িয়ে চিনির কৌটায় কয়েক ফালি দিয়ে রাখলে, চিনি দলা পাকিয়ে যাবে না।

গ, ফল-সবজি সতেজ রাখে –
আমরা অনেক সময় ফল কেটে অর্ধেক খাই, বাকি অর্ধেক রেখে দিই। কিন্তু রেখে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ফল কালো হয়ে যায়। যেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে যায়।

লেবু আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে। এক্ষেত্রে কেটে রাখা ফলে কয়েক ফোটা লেবুর রস দিলে, আর কালো হয়ে যাবে না। লেবু অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে তা ফলের অক্সিডেশনের পদ্ধতি আটকে দেয় এবং কাটা ফলকেও অনেক্ষণ সতেজ রাখে।

ঘ, ডিম সিদ্ধে সমাধান করে –

আমরা ডিম সিদ্ধ করতে গেলে, প্রায়ই এর খোসা ফেটে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে, ডিম সিদ্ধ করার আগেই এতে কয়েক ফোটা লেবুর রস দিতে হবে।

ঙ, লবণের বিকল্প হিসেবে কাজ করে –

অতিরিক্ত লবন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকা লোকদের ডাক্তার বেশি লবন খেতে নিষেধ করে।

তাই লবনের পরিবর্তে লেবু ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ক্ষতি থেকে দূরে রেখে, লবনের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

২৩. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজে লেবু

ক, কাচ পরিষ্কার করতে –

কাচের গায়ে অনেকদিন ধরে পানির দাগ বা বিভিন্ন দাগ লেগে থাকার ফলে, এটি একসময় পরিষ্কার করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এই দাগ সহজেই তুলতে ব্যবহার করুন লেবু। একটি পাত্রে লেবু চিপে, তাতে পানি বা ওয়াশিং পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করুন। দেখবেন দাগ উঠে যাবে।

খ, আসবাবের দাগ দূর করতে

আসবাবে দাগ পড়লে দেখে খুব বাজে লাগে। নতুন আসবাবে দাগের ফলে পুরাতন এবং বাজে দেখতে লাগে। লেবুর রসের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা যায়। সালাদের তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে দাগের অংশে ঘষুন। আসবাবের দাগ উঠে নতুনের মতো হয়ে যাবে।

গ, শক্ত রংতুলি ঠিক করতে

রঙের কাজে তুলি ব্যবহারের পরে রেখে দিলে এটি শক্ত হয়ে যায়। শক্ত হয়ে যাওয়া তুলি বা ব্রাশ ঠিক করা কষ্টসাধ্য ব্যপার। তবে লেবুর রস ব্যবহার করে সহজেই এটি ঠিক করা যায়। ফুটন্ত লেবুর রসে আঁচ কমিয়ে ব্রাশটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। ভালো মতো ভিজে গেলে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই, ব্রাশ আগের মতো হয়ে যাবে।

ঘ, তৈলাক্ত ময়লা পরিষ্কার করতে

হাঁড়ি পাতিল সহ রান্নার বিভিন্ন পাত্রে অনেকদিন ধরে তেল ময়লা লেগে গেলে তা সহজে উঠতে চায় না। বাজারের ক্লিনার ব্যবহারের পূর্বে লেবুর খোসা দিয়ে ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা করলেই এসব তৈলাক্ত ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়।

২৪. দুর্গন্ধ দূর করতে লেবু –

ক, ময়লার দুর্গন্ধ দূর করতে

অনেকদিন ধরে ময়লা জমে থাকলে সেখান থেকে একসময় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে লেবু খুব ভালো কাজে দেয়। একটি লেবু কেটে তা ময়লার থলেতে রেখে দিলে, এটা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। আপনার রান্না ঘরের দুর্গন্ধ দূর হয়।

খ, এয়ার ফ্রেশনার

বাজার থেকে কেনা “এয়ার ফ্রেশনার” এ অনেকের অস্বস্তি হয়। তাই এটি ব্যবহার না করে লেবু ব্যবহার করেও ঘরে দুর্গন্ধ দূর করতে পারেন। এক টুকরা লেবু কেটে পানিতে ডুবিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। লেবুর তাজা সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে যাবে। এটি এয়ারফ্রেশনারের চেয়ে ভাল কাজে দিবে।

গ, জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে

অনেকেই জুতার গন্ধে বিরক্ত হয়ে ওঠেন। গন্ধে টিকতে না পেরে জুতা রুমের বাইরে রেখে দেন। লেবুর খোসা জুতার ভেতরে রেখে দিলে,এক রাতেই গন্ধ দূর হবে।

তাহলে আমরা লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম। ক্ষুদ্র একটি ফল হলেও , এর উপকারিতার জন্য আমাদের নিয়মিত এটি গ্রহণ করা উচিত।

“বনসাই” শব্দটির সাথে পরিচিত? পড়ুন বনসাই কি? বানানোর পদ্ধতি ও এর উপকারিতা

Jubaer Hasan Rabby

পাঠক, লেখক, ইতিবাচক চিন্তাবিদ, আশাবাদী, সংগঠক, দেশপ্রেমিক।

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Comment