মোহাম্মদ মিঠুন আমার লিখায়

মোহাম্মদ মিঠুন

মোহাম্মদ মিঠুন কে কেউ লেখে না ;খুব সম্ভবত  আমি ই একমাত্র মানুষ যে মোহাম্মদ মিঠুন কে নিয়ে লিখছি।


মোহাম্মদ মিঠুনের জাতীয় টিমে অভিষেক হয় ১৩-১৪ মৌসুমের দিকে,  শুরুতে টি ২০ দিয়ে অভিষেক হয়।  এমনকি ১৬ বিশ্বকাপেও খেলেন। কিন্তু শুরুর দিকে খুব বেশি সুযোগ দেওয়া হয় নি। প্রথম ম্যাচে খারাপ খেললেই দল থেকে ছিটকে পড়েন।

১৬ বিশ্বকাপে ওপেন ও করেন, এক ম্যাচে ৪১ বলে ৪৭ রান করেন এবং আবার দল থেকে বাদ পড়েন। তারপর সুযোগ পান ১৮ তে এশিয়া কাপে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিমের ইঞ্জুরি আর টপ অর্ডার কলাপ্সে ২০ রানেই ৩ উইকেট পড়েন, তখন মুশফিকের সাথে একটা ১০০+ রানের জুটি গড়েন। এই ম্যাচে ৬৩ রান করেন, মোহাম্মদ মিঠুন কখনোই আর ১০ টা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের মত ধারাবাহিক ছিলো না, পরের ম্যাচে খারাপ করে,  তারপর পাকিস্তানের সাথে ম্যাচে সেই টপ অর্ডার কলাপ্স, সেই মুশফিকের সাথে ১০০ + রানের জুটি গড়ে তোলেন, এবং ৬৩ রানেই সেম বলে উইকেট থ্রো করে আসেন।

তারপর ১৯ এর শুরুর দিকে নিউজিল্যান্ডে ট্যুরে পুরো দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দাঁড়িয়ে ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি করে।  বিশ্বকাপে খুব বেশি একটা সুযোগ পান নি। ইন্ডিয়ার সাথে পিংক বল টেস্টে যখন উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মা আগুন ঝড়াচ্ছিলো তখন দলের চার নাম্বার পজিশনে মুশফিক খেলতে রাজি হয় নি। রাসেল ডোমিংগো তখন মিঠুনের কাছে এসে বলেছিলেন মিঠুন তুমি নাম্বার ৪ এ ব্যাট করছো আর এ ব্যাপারে আমি তোমার কাছে থেকে না শুনতে চাই না মোহাম্মদ মিঠুন রাজি হলেন।

২০ সালের শুরু তে পাকিস্তান টেস্টে যখন পুরো দল নাসিম শাহ, ইয়াসির শাহ এর কাছে খাবি খাচ্ছিলো তখন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তার ৬১ রান দলের  সম্মান বাচায়। মার্চে জিম্বাবুয়ের সাথে  দলের প্রয়োজনে কুইক ৪১ বলে ৫২ইনিংস খেলেন। মিঠুনের ইনিংস গুলো দেখুন, ওডিয়াই তে ৫ টা ফিফটি,  এশিয়া কাপ এ কলাপ্সে দাঁড়িয়ে ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি,  নিউজিল্যান্ডে কলাপ্সে দাঁড়িয়ে ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি, জিম্বাবুয়ে সিরিজে ৪১ বলে ৫২,  টেস্টে ২ টা ফিফটি তার একটা পাকিস্তানের সাথে দলের প্রয়োজনের সময়ে। 

মিঠুনের ব্যাটিং হয়তো আপনার ভালো লাগে না,  লিটনের মত সৌন্দর্য নেই, শট রেঞ্জ সীমিত।  কিন্তু পিউর ক্রাইসিস ম্যান। ইভেন শেষ বংগবন্ধু বিপিএল এ ও চট্রগ্রামের ক্যাপ্টেন ছিলো। পুরো টুর্নামেন্টে খারাপ করলেও নক আউট ম্যাচে দলের বিপর্যয় এ ফিফটি হাকিয়ে ম্যাচ জেতান। স্টিভ রোডস তাকে পছন্দ করতো, রাসেল তাকে পছন্দ করেন, হাবিবুল বাশার, মাশরাফি,মুশফিক, সাকিব, তামিম ও তাকে পছন্দ করেন, তাকে নিয়ে কোন অভিযোগ নেই কারন পিওর টিমম্যান, কারো সাথে কোন ঝামেলা নেই, চরিত্র নিয়ে কোন কেলেংকারি নেই,  দলের বিপর্যয় এ যেকোনো পজিশন এ তাকে নামানো যায়, আমি মিঠুন কে দলে নেওয়ার বিপক্ষে,  খারাপ করলে নিয়েন না, কিন্তু তাকে নিয়ে যত ট্রল হয় তারও পক্ষে না।

তানিম মুশফিক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Tanim mushfiq

Hi, I am Mushfiq, I have been writing on Jibhai for about 1 Year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment