মেমসাহেব বই রিভিউ: নিমাই ভট্টাচার্য

মেমসাহেব

নিমাই ভট্টাচার্য

“যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক,

তারা তো পারে না জানিতে

তাহাদের চেয়ে তুমি কাছে আছ

আমার হৃদয়খানিতে”

মেমসাহেব বই রিভিউ

উপন্যাসটির শুরু হয় উপর্যুক্ত কয়েকটি লাইন দিয়ে। মূলত “মেমসাহেব” উপন্যাসটি কতগুলো চিঠির সমাহার। বাচ্চু নামক একজন রিপোর্টারের চিঠি তার দোলাবৌদির কাছে। সব গুলো চিঠি জুড়ে বাচ্চুর প্রেম আর ভালোবাসার খুনসুটির গল্প। সব কথার কেন্দ্রবিন্দু একজন। সে হলো “মেমসাহেব”।  সে বব কাট চুল আর ঠোঁটে লাল টুকটুকে লিপস্টিক দেয়া কোন ইংরেজ মেম নয়, রীতিমত শাড়ি পরা সে এক বাঙালি মেমসাহেব । যে মেমসাহেবের কাজল কালো চোখের মাঝে ছন্নছাড়া বাচ্চু তার জীবনটা কে বিলীন করে দিয়েছিলো। ট্রেনের কামরায় তাদের চারচোখ এক হয় । সেখান থেকেই তাদের মনে কড়া নাড়ে একে অপরের প্রতি এক নতুন অনুভূতি । 

মেমসাহেব মেমসাহেব বই কাহিনী সংক্ষেপঃ

তার জীবনে কারোর ভালোবাসা, আদর, মমতার পরশ ছিলো না। সামান্য এক রিপোর্টারের কাজ করে নিজের দুবেলার আহারের ব্যবস্থা করতে করতেই নিজের জীবন কাটাচ্ছিলো সে। বাচ্চুর এই অগোছালো ভালোবাসাহীন জীবনে এক প্রশান্তির উষ্ণ ভালোবাসা নিয়ে আগমন ঘটে মেমসাহেবের। মেমসাহেব একজন অধ্যাপিকা। তাই বলে তার অহংবোধ ছিলো না কোনোদিনই। বাচ্চুকে পরম ভালোবাসায় আপন করে নিয়ে মেমসাহেব তাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। কি করে স্বপ্নের চূড়ায় পৌছুতে হয় সে পথ দেখায় মেমসাহেব। দুজনে মিলে সেই স্বপ্ন পূরণ করে। একদিন রিপোর্টার বাচ্চু হয়ে ওঠে মস্ত বড় একজন জার্নালিস্ট। 

ক্যারিয়ারের স্বপ্ন তো পূরণ হলো

এবারে মেমসাহেব আর বাচ্চুর সংসারের স্বপ্ন পূরণ করার পালা। মেমসাহেব এর মেজদিদির সহোযোগিতায় পরিবারের সসকলের সম্মতি নিয়ে তারা নিজেদের অদূর ভবিষ্যতের জন্য সংসার সাজাতে শুরু করে। ফাল্গুনে বিয়ে করে মেমসাহেবকে ঘরে তোলার কথা। আগে থেকেই এ জন্যে কত পরিকল্পনা, গ্রীন পার্ক নামক স্থানে নতুন বাসা ঠিক করে যাবতীয় সব কিছু তৈরী করে রাখা। মেমসাহেবের শখের রকিং চেয়ার, অর্গান, হেয়ার-ড্রায়ার, বাগান সব কিছু ঠিক করে রাখা হয়। 

কিন্তু মেমসাহেব কি ফিরেছিলো তার গ্রীন পার্কের ঠিকানায় ? মেমসাহেবের সিথী কি রঙিন হয়েছিলো বাচ্চুর দেওয়া রক্তিম সিঁদুরে ? তাদের অপার অকৃত্রিম ভালোবাসা পরিণতি পেয়েছিলো কি ? 

সেটা জানতে হলে পড়তে হবে নিমাই ভট্টাচার্যের এই “মেমসাহেব” বইটি। ২৭০ পৃষ্ঠার এই বইটির সব গুলো চিঠিই মূলত বাচ্চু আর মেমসাহেব এর ভালোবাসাময় জীবনের ছোটখাটো স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। অনেকের কাছে এটা নিছক একটা প্রেমের গল্প মনে হলেও আমার কাছে এটা সততা আর ধৈর্যের গল্প। সামান্য পঞ্চাশ টাকা বেতন ধারী রিপোর্টার থেকে বড় জার্নালিস্ট হয়ে ওঠার পথে বাচ্চুর সততা আর একাগ্রতা এবং তাদের প্রণয়কে পরিণতি দেবার ক্ষেত্রে যে ধৈর্য্যের উদাহরণ এখানে বর্ণিত আছে নিঃসন্দেহে তা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষামূলক ।

মেম সাহেব বই সমন্ধে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

মুনিয়া ইসলাম 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ।

Leave a Comment