মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও নির্বাচন

মিয়ানমার সেনাবাহিনী, মিয়ানমার নির্বাচন, সু চি গ্রেফতার, সামরিক শাসন

মিয়ানমার সেনাবাহিনী

নির্বাচন পরিস্থিতি ঘিরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থানঃ

দেশটির ক্ষমতা বর্তমানে সেনাবাহিনীর অধীনে, দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এর পরিস্থিতি থমথমে, শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ সবি হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। এদিকে  বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মিয়ানমারের অধিকাংশ শহরে মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পরেছে। দেখা যাচ্ছে মানুষ এটিএম বুথের কাছে যাচ্ছে টাকা উত্তোলন করতে কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তারা টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের সেরা ফাইটার

অং সান সু চি গ্রেফতার পক্ষান্তরে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলঃ

নির্বাচন ঘিরে ভোট কারচুপির জের ধরেই বেসামরিক সরকার এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ত্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে অংসান সু চি এবং তার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। মিলিটারি টিভি নিশ্চিত করেছে এটা যে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

সুচি গ্রেফাতারের পর দেশটিতে এক বছরের জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।

উল্ল্যেখ্য যেঃ গত বছর নির্বাচনে অংসান সুচির দল এনএলডি জয় লাভ করে। পক্ষান্তরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্বাচন ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।

সংক্ষেপে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সমন্ধে কিছু  তথ্যঃ

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন আং লেইন।

সেনাবাহিনীর মোট সংখ্যা হল ৪ লাখ ৬ হাজার।

মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাজেট হল ২৪০ কোটি ডলার।

সেনাবাহিনীর বড় কমিউনিটির প্রভাবে ক্ষমতা দখল? নাকি আসলেই নির্বাচন কারচুপি হয়েছে?

আসলে মিয়ানমার অনেক বছর যাবত তাদের নিজস্ব নির্বাচনী সমস্যায় ভূগছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন অনেকে ছোট ছোট গোষ্ঠী আছে যারা স্বাধীনতাকামী জনগোষ্টী। দীর্ঘদিন যাবত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব দেখা যাচ্ছে সতন্ত্র, কোনো সরকার নির্বাচিত হলেও সে সরকার মুখে ফোটে উঠে এক জিম্মি অবস্থা। এ সব সেনাবাহিনীর প্রভাব। আমরা এর আগেও দেখেছি যে সামরিক শাসন এর পথন ঘটেছে, কিন্তু সামরিক শক্তিকে বেসামরিক শক্তি তাদের আইনের নির্দেশিকায় পরিচালনা করতে পারেনি, বরং তাদের নিয়ে অনুমতির অপেক্ষায় থাকে। যদি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যার কথা বলি, সু চি ঠিকই জানতো যে রোহিঙ্গা গণ হত্যা চলছে এবং সেটা তার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হচ্ছে। তার দায়ীত্ববোধ থেকে তার সরাসরি একশন নেওয়া উচিত ছিল। যেটা আমরা অতিতে লক্ষ্য করেছি, তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যা থামাতে পারেনি , বরং তার কথা-বার্তা তাল বাহানায় মনে হয়েছে তার একক কথার উপর তেমন কোনো প্রভাব নেই সেনাবাহিনীর উপর।

মাঝেমধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা-বার্তায় সু চি তার সামনের নির্বাচন নিয়েও চিন্তাভাবনা করেছেন, দেখা গেছে সেনাবাহিনী অন্যায় করছে , সু চি তা জেনেও প্রশ্রয় দিচ্ছে। এর কারণ ছিল সামনে তার নির্বাচন, তার দরকার একপাক্ষিক দেশীয় ভালবাসা, দরকার বড় কমিউনিটির ছায়া। দেখা গিয়েছে রোহিঙ্গা নিয়ে তিনিও সেনাবাহিনীর পক্ষেয় রয়েছিলেন।

আজ সেই সেনা বাহিনীর সেই নীতি বিরুদ্ধ আচরণ হয়তবা তার ঘারেও পৌছিয়েছে। হতে পারতো রোহিঙ্গা নির্যাতনে গণহত্যার যা অভিযোগ ছিল তার সত্যতা খুজে বাহির করে , মিয়ানমার সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে, বাহিনীকে নতুন ভাবে গড়ে তুলা।

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

About Admin 1

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

View all posts by Admin 1 →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *