ব্যোমকেশ সমগ্র

ব্যোমকেশ সমগ্র

বইয়ের নামঃ ব্যোমকেশ সমগ্র

লেখকঃ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় 

প্রকাশকালঃ ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

প্রকাশকঃ আনন্দ পাবলিশার্স 

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১০০৭

মূল্যঃ ৪০০ রূপি 

“ডিটেকটিভ কথা শুনতে ভালো নয়, গোয়েন্দা শব্দটা আরও খারাপ, তাই নিজের খেতাব দিয়েছি সত্যান্বেষী। “

এই অবিস্মরণীয় ও আগাগোড়া বাঙালিয়ানায় মোড়া উক্তিটির বক্তা সত্যান্বেষী চরিত্রের সাথে বাংলা গোয়েন্দা বা রহস্য সাহিত্যপাঠক মাত্রেই পরিচিত । শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকৃত্রিম সৃষ্টি ব্যোমকেশ বক্সী । 

সদ্য কিশোর সাহিত্য পড়ার উত্তেজনা থেকে বৈঠকী ঢং এ তরিয়ে তরিয়ে সাহিত্যের রস নিতে নিতে মগজে শান দেওয়ার মধ্যে যে রেমান্টিজিম বাঙালী পাঠকদের শিখিয়েছেন শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়। ক্রিমিনাল সাইকলজির সাথে প্রয়োজনীয় শব্দের সঠিক ব্যবহার, উপমা, পরিবেশ এবং গল্পের বুনট সব কিছুই একেবারে যথোপযুক্ত। কিন্তু এই সব আলোচনার জন্য আজকে ব্যোমকেশকে নিয়ে টানাটানি শুরু করিনি,সত্যবতীর হাতের দুপুরের খাবার খেয়ে এই ভরাশ্রাবণে কপোত কপোতী শয়নগৃহে ব্যাসকূটে মেতেছে,আর খোকা অজিতের  কাছে দেশ বিদেশের কাহিনী শুনছে।পুঁটিরামও একটু ফাঁকতালে গড়িয়ে নিচ্ছে।এমন শান্তির পরিবেশে ব্যোমকেশ কে ব্যতিব্যস্ত করার মানে হয় না। চলুন আমরা বরং একটু ব্যোমকেশ কে নিয়ে চর্চা করি। নবীন পাঠকের আগ্রহের সলতেটাকে একটু উস্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরকি । 

ব্যোমকেশ বক্সীর আবির্ভাব হয় সত্যান্বেষী গল্পে

১৩৩১ বঙ্গাব্দে কলকাতার চীনাবাজার অঞ্চলে পরপর কয়েকটি খুনের ঘটনার কিনারা করতে ‘বে-সরকারী ডিটেকটিভ’ ব্যোমকেশ বক্সী পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নিয়ে অতুলচন্দ্র মিত্র ছদ্মনামে এই অঞ্চলে এক মেসে বসবাস শুরু করেছিলেন। এই মেসে তার ঘরের অন্য ভাড়াটিয়া অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশের অধিকাংশ গোয়েন্দা গল্পগুলি লিখিয়েছিলেন। সত্যান্বেষী গল্পে ব্যোমকেশের বিবরণ দিতে গিয়ে অজিত বলেছেন, “তাহার বয়স বোধকরি তেইশ-চব্বিশ হইবে, দেখিলে শিক্ষিত ভদ্রলোক বলিয়া মনে হয়। গায়ের রঙ ফরসা, বেশ সুশ্রী সুগঠিত চেহারা-মুখে চোখে বুদ্ধির একটা ছাপ আছে।  ” আর সঙ্গী অজিতের বয়স তার জবানিতেই “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলি শেষ করিয়া সবেমাত্র বাহির ” হয়েছে৷ 

এই গল্পের শেষে জানা যায়, হ্যারিসন রোডের একটি বাড়ীর তিনতলা ভাড়া নিয়ে ব্যোমকেশ বসবাস করেন

এই বাড়িতে ব্যোমকেশ ছাড়া দ্বিতীয় ব্যক্তি তার পরিচারক পুঁটিরাম। ব্যোমকেশের অনুরোধে অজিত এই বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। পেতলের ফলকে লেখা ছিল শ্রীব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী। সত্যান্বেষীর অর্থ জিজ্ঞাসা করায় অজিতকে ব্যোমকেশ বলেন,  “ওটা আমার পরিচয়। ডিটেকটিভ কথা শুনতে ভালো নয়, গোয়েন্দা শব্দটা আরও খারাপ, তাই নিজের খেতাব দিয়েছি সত্যান্বেষী।”

[ সত্যান্বেষী, ব্যোমকেশের ডায়েরী, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম প্রকাশ-১৩৪০ বঙ্গাব্দ, প্রকাশক পি সি সরকার অ্যান্ড কোং ]

পরের গল্পগুলিতে ব্যোমকেশ নিজেকে সত্যান্বেষী বলেই পরিচয় দিয়েছেন।

অর্থমনর্থম্‌ গল্পে ব্যোমকেশের সঙ্গে একটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সুকুমারবাবুর বোন সত্যবতীর পরিচয় হয়, যার সাথে পরে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। আদিম রিপু গল্পে ব্যোমকেশের বাল্যকাল সম্বন্ধে কিছু তথ্য জানা যায় । ব্যোমকেশের নিজের জবানিতেও বলা আছে বাবা ছিলেন স্কুলমাস্টার,স্কুলে অংক শেখাতেন আর বাড়ীতে সাংখ্য পড়তেন।মা ছিলেন বৈষ্ণব বংশের মেয়ে,নন্দগোপাল নিয়েই থাকতেন। দুজনেই ব্যোমকেশের সত্যান্বেষী রূপে আত্মপ্রকাশের আগেই গত হয়েছেন।সর্বক্ষণের বন্ধু অজিতের সাথে দেখা কোকেন কেলেঙ্কারির রহস্য উদ্ঘাটনে এক মেসে বাড়িতে গিয়ে থাকা কালে।আর সত্যবতীর ব্যোমকেশের জীবনে আগমন এক খুনের কিনারা করতে গিয়ে অর্থম্ অনর্থম্ গল্পে।অজিতেরও আগে পুটিরাম ব্যোমকেশের কাছে থাকে,খুবই করিৎকর্মা সে।

একটি চমকপ্রদ ঘটনা বলা যাক

শরদিন্দু বাবু অর্থম্ অনর্থম্ গল্পেটি লেখার পরে প্রায় ষোল বছর আর ব্যোমকেশ লেখেন নি।তারপরে পুনা থেকে একবার কোলকাতায় এসে বন্ধু বান্ধব এবং পাঠকদের  চাপে আবার লিখতে শুরু করেন ব্যোমকেশ।এক সাক্ষাৎকারে লেখককে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে উনি নির্দ্বিধায় উত্তর দেন, ” ব্যোমকেশের দশম গল্পে  সত্যবতীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।আমি ভাবলাম বিয়ে হলে বাঙালীর ছেলের আর পদার্থ থাকে না,তাই ব্যোমকেশকে তখনই রিটায়ার করিয়ে দিয়েছিলাম।” 

শরদিন্দু বাবুকে যখন প্রশ্ন করা হয়, “ব্যোমকেশকে বিয়ে দিলেন কেন? ওর মতো ক্যারেকটারের লোকের তো ঠিক সংসারী হওয়া সাজে না।”

লেখক পুরো বাপী বাড়ি যা স্টাইলে উত্তর দিয়েছিলেন, “কী আর করবে-বেচারা প্রেমে পড়ে গেল যে।”

আগে ফিরে যাই,  ব্যোমকেশ জলপানির সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরেও অজিত ও সপরিবারে ব্যোমকেশ হ্যারিসন রোডের বাড়িতে বসবাস করেন। পরে তারা দক্ষিণ কলকাতার কেয়াতলায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি বানিয়ে চলে যাবেন বলে মনস্থির করেন। 

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের গল্পগুলিতে লেখক হিসেবে ব্যোমকেশের বন্ধু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপস্থাপিত করেছেন। ব্যোমকেশের প্রতিটি রহস্যভেদের সঙ্গী অজিতের লেখনীতে ব্যোমকেশের অধিকাংশ গল্পগুলি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু রুম নম্বর দুই, শজারুর কাঁটা, বেণীসংহার, লোহার বিস্কুট, বিশুপাল বধ এই গল্পগুলিতে অজিতকে গল্পলেখক হিসেবে উপস্থিত করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে শরদিন্দু বলেছেন, “অজিতকে দিয়ে ব্যোমকেশের গল্প লেখানো আর চলছে না।

একে তো ভাষা সেকেলে হয়ে গেছে, এখনো চলতি ভাষা আয়ত্ত করতে পারেনি

এই আধুনিক যুগেও ‘করিতেছি’, ‘খাইতেছি’ লেখে। উপরন্তু তাঁর সময়ও নেই। পুস্তক প্রকাশের কাজে যে লেখকেরা মাথা গলিয়েছেন তাঁরা জানেন, একবার মা-লক্ষ্মীর প্রসাদ পেলে মা-সরস্বতীর দিকে আর নজর থাকে না। তাছাড়া সম্প্রতি অজিত আর ব্যোমকেশ মিলে দক্ষিণ কলকাতায় জমি কিনেছে, নতুন বাড়ি তৈরী হচ্ছে; শীগ্‌গিরই তারা পুরনো বাসা ছেড়ে কেয়াতলায় চলে যাবে। অজিত একদিকে বইয়ের দোকান চালাচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ি তদারক করছে; গল্প লেখার সময় কোথায়? …… দেখেশুনে অজিতকে নিস্কৃতি দিলাম, এখন থেকে আমিই যা পারি লিখব।  ” [ বেণীসংহার, [ভূমিকা], শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম সংস্করণ, ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯৬৮, প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড

রচনাকাল অনুসারে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প পথের কাঁটা (৭ই আষাঢ়, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) এবং দ্বিতীয় গল্প সীমন্ত-হীরা (৩রা অগ্রহায়ণ, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ)।

এই দুইটি গল্প লেখার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্র নিয়ে সিরিজ লেখার কথা চিন্তা করে ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ২৪শে মাঘ সত্যান্বেষী গল্প রচনা শেষ করে ব্যোমকেশ চরিত্রকে পাঠকের সামনে উপস্থিত করেন। সেই কারণে সত্যান্বেষী গল্পটিকে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ১৩৩৯ থেকে ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত দশটি গল্প লেখার পর পাঠকদের ভালো লাগবে না ভেবে পনেরো বছর ব্যোমকেশকে নিয়ে আর কোন গল্প লেখেননি। এরপর কলকাতার পরিমল গোস্বামীর বাড়ির ছেলেমেয়েদের অনুরোধে ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ৮ই পৌষ চিত্রচোর গল্পটি লেখেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ চরিত্র নিয়ে তেত্রিশটি কাহিনী রচনা করেছেন। এর মাঝে বিশুপাল বধ গল্পটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি [ ১৯৭০ সালে ] । আরেক পরবর্তীতে এই গল্প সম্পূর্ণ করেন সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল। ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্র নিয়ে রচিত কাহিনীগুলি হলঃ

  • সত্যান্বেষী
  • পথের কাঁটা
  • সীমন্ত-হীরা
  • মাকড়সার রস
  • অর্থমনর্থম্‌
  • চোরাবালি
  • অগ্নিবাণ
  • উপসংহার
  • রক্তমুখী নীলা
  • ব্যোমকেশ ও বরদা
  • চিত্রচোর
  • দুর্গরহস্য
  • চিড়িয়াখানা
  • আদিম রিপু
  • বহ্নি-পতঙ্গ
  • রক্তের দাগ
  • মণিমণ্ডন
  • অমৃতের মৃত্যু
  • শৈলরহস্য
  • অচিন পাখি
  • কহেন কবি কালিদাস
  • অদৃশ্য ত্রিকোণ
  • খুঁজি খুঁজি নারি
  • অদ্বিতীয়
  • মগ্নমৈনাক
  • দুষ্টচক্র
  • হেঁয়ালির ছন্দ
  • রুম নম্বর দুই
  • ছলনার ছন্দ
  • শজারুর কাঁটা
  • বেণীসংহার
  • লোহার বিস্কুট
  • বিশুপাল বধ (অসমাপ্ত) 

এরমধ্যে ১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে শুরু করে ২০১৮ সালে অরিন্দম শীল পর্যন্ত বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে সর্বমোট ১৮টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে । 

বাংলা ভাষায় নবীন ধারায় ডিটেকটিভ গল্প-কাহিনী সৃষ্টিকর্তা শ্রীযুক্ত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কোনান ডয়েল অনুসরণে একটিমাত্র ডিটেকটিভ ভূমিকার অবতারণা করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের গল্পমালার নায়করূপে। ব্যোমকেশ পুলিশের চাকরি করেন না, ডিটেটিভগিরি তাঁর জীবিকাৰ্থে নয়, সখের, খেয়ালের। সত্য ও তথ্যের অনুসন্ধানে তাঁর স্বভাবসঙ্গত নিঃস্বার্থ জিজ্ঞাসাবৃত্তি ছিল (লর্ড পিটার উইমসি মতাে), তা-ই তাঁকে হােমসের মতাে দুঃসাহসিক করেছিল। হোমসের সঙ্গে ব্যোমকেশের মিলনামের মধ্যে অনুপ্রাসের ঝঙ্কারটুকু কানে না তুললেই পর্যন্তই। ব্যোমকেশ উৎকেন্দ্রিক প্রকৃতির নয়, বিজ্ঞান দক্ষ নয়, গুণী বেহালাদার নয়, নেশাখােরও নয়, সে বর্তমান শতাব্দীর তৃতীয় দশকের বাঙালী যুবক,শিক্ষিত, মেধাবী, তীক্ষ্ষদৃষ্টি, সংযতবাক্, সহৃদয়।

তাঁর চারিত্র্যে মনস্বিতা ও গাম্ভীর্য ছাড়া এমন কিছু নেই যাতে তাঁকে সমান স্তরের সমান বয়সের বাঙালী ছেলের থেকে স্বতন্ত্র মনে করতে হয়।

সুতরাং সখের ডিটেকটিভ বাঙালী ছেলে রূপে ব্যোমকেশ বক্সী সম্পূর্ণ সুসঙ্গত ও সার্থক সৃষ্টি। তাঁর চরিত্রের মতাে নামটিও বেশ খাপ খেয়েছে। “ব্যোমকেশ” নামের ধ্বনিগুচ্ছে ধোঁয়া, বুঁদ হয়ে থাকা, ধ্যানমগ্ন মহাদেব, ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক শব্দের ইশারা আছে। হয়ত রবীন্দ্রনাথের পঞ্চভূত-পঞ্চায়েতের প্রধান ও চরিত্রাভাস আছে। ডয়েলের ডিটেকটিভের নামের প্রতিধ্বনির কথা আগে বলেছি। ব্যোমকেশের পদবীর সমান সার্থক। ব্যোমকেশ পুলিসের মতাে চাকরি করেন না, উকিলের মতো ফি-ও নেন  না । তবে বকশিশের প্রশংসা, যশ, আত্মতৃপ্তি ইত্যাদি ফাঁকা দক্ষিণার প্রত্যাশা অবশ্যই করেন। তাই ব্যোমকেশের পদবী স-বর্জিত বক্সী।

ডিটেকটিভের সহচর সহকারী নয়, সুহৃদের ভূমিকার সৃষ্টি করেছিলেন কোনান ডয়েল

শার্লক হোমসের বন্ধু ডাক্তার ওয়াটসনও তাঁর সঙ্গে ইংরেজী সাহিত্যে অমরতাপ্রাপ্ত। অজিত কিন্তু ওয়াটসনের বাংলা সংস্করণ নয়। হােমস ও ওয়াটসনের মধ্যে বয়সের বেশ তফাত ছিল, মানসিক বৃত্তিতেও অসমতা ছিল। অজিত ব্যোমকেশের প্রায় সমান বয়সী এবং তাহাদের মনোবৃত্তি সমান ভূমির। অজিতকে সমসাময়িক ভদ্র বাঙালী যুবকের টাইপ বলা যায়। ব্যোমকেশ-অজিতের সহযােগিতায় শরদিন্দু বাবুর গল্প কাহিনী তরতর করে বিয়ে যায়। হােমস ওয়াটসনের সহযােগিতা ওদের মতাে অত ঘনিষ্ঠ ছিল না। সেই জন্যেই হয়ত তাতে অন্য রসের আমদানি সহজ হয়েছে। পৌরাণিক উপমা টেনে এনে বলা যায় হােম্স আর ওয়াটসন যেন কৃষ্ণ আর উদ্ধব, ব্যোমকেশ আর অজিত যেন কৃষ্ণ আর সুবল।

ব্যোমকেশ এর চারিত্রিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যেন শার্লক আর এরকুল পইরোর মিশ্রণ, শার্লকের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর এনার্জি আর poirot এর মনস্তত্ব বিশ্লেষণ, দুটোই ব্যোমকেশের আছে।  অচিন পাখি আর বহ্নি পতঙ্গে যে মনস্তত্ব বিশ্লেষণ ব্যোমকেশ করে, সে যেন একেবারে poirot । 

আবার বেণীসংহার, দূর্গ রহস্য, চিড়িয়াখানা তে পাই ব্যোমকেশ এর পর্যবেক্ষণ তথা হাই ড্রাইভ এনার্জি নিয়ে অপরাধীর পিছে লেগে থাকা ।  গোয়েন্দা বা সত্যাণ্বেষী হিসেবে ব্যোমকেশকে অনেকেরই এভাবে পরিপূর্ণ মস্তিষ্কের বিকা মনে হয় । ফেলুদার ক্ষেত্রে কিশোরমূলক হলেও ব্যোমকেশ অনেকটাই পরিপূর্ণ পরিণত বয়সের ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল কাহিনীই নারী সম্পর্কিত । চিড়িয়াখানা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ  । সেই আলোচনা নাহয় আরেকদিন হবে  । 

পাঠককে বাঙালির অতি কাছের ব্যোমকেশের সত্যান্বেষণের সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ রইলো  । 

উপন্যাসটি নিকটস্থ ব‌ইয়ের মার্কেট অথবা আমাদের দেশের বিখ্যাত অনলাইন বুকশপ “রকমারি ডট কম” থেকে সংগ্রহ করতে পারেন ।

সাধারণত দাম পড়বে :ওরিজিনাল কপি ১৫০০ টাকা,কপি বুক ২০০-২৫০ টাকা ।
“রকমারি ডট কম” থেকে দাম পড়বে:ওরিজিনাল কপি ১৮০০ টাকা ,কপি বুক ৩৮০ টাকা

” বইয়ের জন্য পাঠক, পাঠকের জন্য বই । আসুন বই পড়ি । “

রিভিউ লেখকঃ 

দীপংকর সিংহ দীপ 

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় । 

Leave a Comment