বৃষ্টি বিলাস বই রিভিউ।। হুমায়ুন আহমেদ

বৃষ্টি বিলাস
হুমায়ুন আহমেদ

লেখক পরিচিতি

জন্ম: ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮,নেত্রকোণা জেলা,গ্রাম কুতুবপুর।
আত্মপ্রকাশ : নন্দিত নরকে (নিম্নবিত্ত এক পরিবারের যাপিত জীবনের আনন্দ-বেদনা,নিয়ে নির্মিত)
ভ্রমণকাহিনী,রুপকথা,শিশুতোষ, কল্পবিজ্ঞান, কলামসহ সাহিত্যের বহু শাখায় বিচরণ।
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক: জোছনা ও জননীর গল্প, ১৯৭১,আগুনের পরশমনি,শ্যামল ছায়া,নির্বাসন।
পেশা: লেখক,নাট্যকার,চলচ্চিত্রকার,শিক্ষক।
জনপ্রিয় চরিত্র হিমু এবং মিসির আলীর স্রষ্টা।
পুরস্কার: একুশে পদক,বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, শিশু একাডেমি পুরষ্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পুরষ্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক,অতীশ দীপংকর স্বর্ণপদক প্রভৃতি।
মৃত্যু :১৯ জুলাই ২০১২

পৃষ্ঠা সংখ্যা :১০৪
মূল্য মাত্র ২৮০ টাকা

এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে,
এসো করো স্নান নবধারা জলে!!
দাও আকুলিয়া ঘন কালো কেশ,
পরো দেহ ঘেরি মেঘ নীল বেশ
কাজল নয়নে,যূথি মালা গলে,
এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে!!
এভাবেই বইটির প্রচ্ছদ শুরু হয়।বইটির মোড়কে এক নারী মাথায় ছাতা ধরে দাড়িয়ে থাকতে দেখি।বইটির নামের সাথে নারীর ছবিটি মানানসই বেশ।

নামকরণ

“বৃষ্টিবিলাশ”নামটি শুনেই মনে হয় যে বৃষ্টি খুব ভালোবাসে এমন। বৃষ্টির দিনে একগুচ্ছ কদম হাতে প্রেমিকের সাথে ভিজতে কে চায় না বলুন।আমিও চাই।আবার মনে হতে পারে গল্পের নায়িকার নাম হয়তো বৃষ্টি। বৃষ্টি “বৃষ্টি” পছন্দ করে বলেই হয়তো লেখক বৃষ্টি বিলাস নামটি দিয়েছেন।তবে আসল কাহিনি ভিন্ন। এখানে মূলত গল্পের নায়িকা নয় গল্পের নায়ক এর বৃষ্টিভীতি নিয়ে কাহিনী।তাহলে লেখক কেনো বৃষ্টি বিলাস দিলেন।বৃষ্টি ভীতি ও তো দিতে পারতেন।সেটার ব্যাখ্যাও আছে আমার কাছে।ধরুন আপনার দুর্বল জায়গাটাকে আপনি আপনার শক্তি বানাতে চান।সেই শক্তিটা কার কাছ থেকে পাবেন বলে মনে হয়।অবশ্যই যখন আপনার প্রিয় মানুষটা আপনার পাশে থাকবেন।তাই তো লেখক গল্পের নায়কের বৃষ্টিভীতি দূর করতে গল্পের নায়িকাকে সৃষ্টি করেছেন যার হাত ধরে বৃষ্টিভীতি কাটিয়ে বৃষ্টিবিলাস করতে পারবেন “বৃষ্টি বিলাস”গল্পের নায়ক।

চরিত্র

শামা এশা দুই বোন এবং তাদের একমাত্র ভাই
শামা এশার বাবা-মা
শামার বাসার বাড়িওয়ালা চাচা
শামার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা আতাউর ও আশফাকুর
শামার বান্ধবীরা

এখানে শামা এবং এশা দুইবোনের মধ্যে এশা একটু গম্ভীর। তবে মজার বিষয় হচ্ছে পুরো গল্প জুড়ে এশা নতুন নতুন রান্না রাঁধে আর নিজেকে গৃহিণী হিসেবে পাকাপোক্ত করতে চায়।শামা এশার বাবা অল্পতেই বেশি চিন্তা করে অসুস্থ হয়ে যায়।আমাদের অনেকের বাবা মা এমন।বাবা মায়েরা এমনই হয়। এদিকে তাদের বাড়িওয়ালা চাচার সাথে শামার খুব ভালো সম্পর্ক।এশা শামা এবং বাড়িওয়ালা চাচার সম্পর্ককে একটু অন্য নজরে দেখে এবং তা জাহির করতে চায় যদিও শামাকে তিনি নিজ মেয়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।শামার সাথে যার প্রথমে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আতাউর তিনি ছিলেন একদম অবলা কিছু বুঝে না এমন ধরনের লোক।গল্পের মাঝে তাদের বিয়ে ভেঙে যায় কারণ আতাউর এর এক গোপন রোগ ছিল যা বৃষ্টির সাথে সম্পর্কৃত।রোগটি ছিল খুব বিরল।রোগটি কি ছিল জানতে গল্পটি আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে।অন্যদিকে গল্পের শেষে যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আশফাকুর তিনি ছিলেন খুব অর্থশালী।তবে শামা কাকে বিয়ে করেন সেটা আমরা পরিষ্কারভাবে জানতে পারি না।

কাহিনি পর্যালোচনা

‘বৃষ্টি বিলাস’ নামটি শুনেই মনে হয় বৃষ্টি নিয়ে কিছু না কিছু হবেই।কাহিনির সাথে বৃষ্টির এক যোগসূত্র রয়েছে।তবে কি সেই যোগসূত্র সেটা আমি বলবো না।পাঠক বৃষ্টি বিলাস বইটি পড়েই জানতে পারবেন। এখন যদি জিজ্ঞেস করেন কেনো পড়বেন ‘বৃষ্টি বিলাস’বইটি। আমরা মানুষ। আমাদের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যেটার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না। সেই কাহিনির রেশ কেউ ভুলতে পারে খুব সহজেই।আবার কেউ বয়ে নিয়ে বেড়ায় সারাজীবন। আতাউর এমনি এক চরিত্র যার বৃষ্টি নিয়ে এক ধরনের ফোবিয়া কাজ করে।বৃষ্টি সে একদমই সহ্য করতে পারে না।কেনো পারে না সেটা জানতে আপনাকে পুরো গল্পটা পড়তে হবে।গল্পের নায়িকা শামা মেয়েটি আতাউর এর বৃষ্টিভীতি দূর করবে এমন প্রত্যাশার ও আভাস দেয় গল্পের শেষে। তবে চূড়ান্ত কিছু বলে দেয় নি লেখক।সেটা লেখক পাঠকের কাছেই রেখে গিয়েছেন।পাঠকই ঠিক করবেন কি হবে আতাউর এর। আতাউর কি সারাজীবন বৃষ্টিভীতিতেই থাকবে নাকি বৃষ্টিভীতি কাটিয়ে শামার সাথে গা ভাসিয়ে বৃষ্টি বিলাস করতে পারেবে।

রহস্য

এখানে শামা এবং আতাউর এর বিয়ে ঠিক হলেও পরে তা ভেঙে যায়।শামাও সুন্দর করে বিষয়টার সাথে মানিয়ে নেয়।আশফাকুর নামে এক ভদ্রলোকের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়।শামাও এতে রাজি।আশফাকুর অর্থে বিত্তে একদম রাজপুত্র।শামা আতাউর নাকি আশফাকুর কাকে বেছে নেয় সেটাও গল্পে পরিষ্কার করে বলেনি।গল্পের শেষ লাইন টা ছিল এমন যে, কোন মস্ত বড় সিদ্ধান্ত সে নিয়েছে।মস্ত বড় কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে মেয়েদের চোখে সব সময় পানি আসে। এখন কি এই মস্ত বড় সিদ্ধান্ত? এক হতে পারে শামা আতাউর এর মোহ কাটিয়ে আশফাকুরকে বেছে নেয়।দুই হতে পারে শামা নিশ্চিত সুন্দর ভবিষ্যত উপেক্ষা করে আতাউর এর সাথে ঘর বাঁধবে। তিন হতে পারে যে শামা আতাউর আশফাকুর কাউকেই তার জীবনের সাথে জড়ায় নি। আবার এই তিনটার কোনটাও না হতে পারে।সবশেষে বড়ই রহস্য!!

অন্যান্য

হুমায়ুন আহমেদ বৃষ্টি বিলাস বইটি উৎসর্গ করেছেন তার তিন কন্যা
বিপাশা আহমেদ
শীলা আহমেদ
নোভা আহমেদ কে।মূলত তারা তিনজন বৃষ্টি পছন্দ করেন বলেই এই উৎসর্গ।

Leave a Comment