বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একাল সেকাল

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একাল সেকাল

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একাল সেকাল

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বরাবরই সংগীত প্রেমী! আর এই সংগীতের জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ব্যান্ড মিউজিক। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩০টির অধিক ব্যান্ড দল সক্রিয়।

 বাংলা ব্যান্ড সংগীতের প্রবাদ পুরুষ বলা হয় মহান মুক্তিযোদ্ধা ‘মাহবুবুল হক আজম’ যাকে আমরা পপ সম্রাট আজম খান নামে চিনি।

আজম খান ১৯৭২ সালে ‘উচ্চারণ’ নামের ব্যান্ড দল গঠনের মাধ্যমে পপ জগতে যাত্রা শুরু করেন।এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড দল।

এরপর বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে যুক্ত হলো নতুন জনরা পপ রক। মাইলস, সোলস, ফিডব্যাক, রেনেসাঁ,নগরবাউল এই পাচটি ব্যান্ড দল সত্তরের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রা শুরু করে এবং সে সময় বাংলা মিউজিকের যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাদের গান গুলোর বিশেষত্ব ছিলো তারা তাদের বেসিক কম্পোজিশন ধরে রেখে সুর ও ভোকালে বেশি গুরুত্ব দেয়া। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যান্ড সংগীতকে এরাই পৌঁছে দিয়েছিলো। এরপর এলো ওয়েভস নামের একদল তরুণ যাদের ভুবন ভুলানো সব হেভী মেটাল গানকে বাঙালীরা অপসংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করলো। জেগে ঊঠার আগেই হারিয়ে যায় তারা।

 হার্ডরক/হেভীমেটাল দিয়ে জাতিকে নতুন ভাবে ভাবতে বাধ্য করেছিলো বাংলাদেশের স্বপ্নের চার ব্যান্ড “রকস্ট্রাটা, ইনঢাকা , এসেস, ওয়ারফেজ” । এদের মাঝে ছিলো মিউজিকাল এক্সচেঞ্জ। নামে চারটি ব্যান্ড হলেও এরা ছিলো একে অপরের কাছাকাছি। বিশাল একটা শক্তি। ওয়েভস এর দেখানো পথ ধরে বাংলাতেও যে হেভী মেটাল করা যায় তা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছে ব্যান্ডগুলো।

তারপর ডিফরেন্ট টাচ, নোভা , এলআরবি, আর্ক, পেন্টাগন, পেপার রাইম, লিজেন্ড, সুইট ভেনম,ইউনিং, অবস্কিউর ব্যান্ড সংগীতকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়৷

এদিকে বাপ্পা মজুমদার এবং সঞ্জীব চৌধুরি মিলে অন্য ধাচের ব্যান্ড ‘দলছুট’ তৈরি করেন৷

৭০-এর দশকের ফিডব্যাক ছেড়ে মাকসুদ উল হক তৈরি করেন তাঁর নিজস্ব ব্যান্ড ‘মাকসুদ ও ঢাকা’৷ আজকের ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’ , ‘ভাইকিংস’, ‘দ্য ট্র্যাপ’ একদিনে গড়ে ওঠেনি৷ বেসবাবা খ্যাত সুমন ‘ওয়ারফেজ’ ছেড়ে তৈরি করলেন এই সময়ের অন্যতম সফল ব্যান্ড ‘অর্থহীন’৷

১৯৯৯ সালে মিক্সড এলবাম ছাড়পত্র রিলিজের মাধ্যমে বাংলা ব্যান্ড সন্ধান পায় অমর কিছু রত্নের।

ছাড়পত্র এবং এর পরে রিলিজ পাওয়া অনুশীলন এলবামকে অনেক সংগীত বোদ্ধারা যুগান্তকারী এলবাম বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই ছাড়পত্র এলবাম দিয়ে আগমন ঘটে অনেক আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডের যাদের মধ্যে ব্ল্যাক,আর্টসেল , মেটাল মেজ, কপ্রোফিলিয়া , এবং নেমেসিস” অন্যতম। আর্টসেল, ব্ল্যাক, নেমেসিসের পরবর্তী খবর তো সবার ই জানা।

 এর পর স্টেনটোরিয়ান, আর্বোভাইরাস , ক্রাল , দ্যা ওয়াটসন ব্রাদার্স , রিবর্ন ,ক্রিপটিক ফেট এর মত ব্যান্ড গুলোও এগিয়ে যেতে লাগলো । শহরতলী নামে সম্পূর্ণ অন্যধারার গান শুরু করলো একদল ভিন্ন জগতের মানুষ । এর পর আসলো আরো একটি মেজর টার্ন । “ দ্যা রক স্টার ” শো এর মাধ্যমে “পাওয়ারসার্জ , রেডিও এক্টিভের, মেকনিক্স , দৃক ” এর মত ব্যান্ড মেইনস্ট্রিমে চলে এলো। এখনো তৈরি হচ্ছে ব্যান্ড । কনক্লুশন , বে অফ বেঙ্গল, আভাস, সহজিয়া, বাংলা ফাইভ, এডভার্ভ, সোনার বাংলা সার্কাস, ‘আরেকটা রক ব্যান্ড’ তৈরি করছে অসাধারণ ভুবনভুলানো সব গান।

লেখকঃ

বায়জিদ রাফি

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মজার বিজ্ঞান নিউজ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

আমাদের আরো লেখা পড়তে চাইলে ক্লিক করুন

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

Leave a Comment