কভিড-১৯ এর ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরী।

সময়টা এখন অতিশয় অস্থির ও নড়বড়ে অবস্থা। চারদিকে স্থবিরতা। সমাজের সকল শ্রেনির চিন্তার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো করোনা অর্থাৎ COVID-19। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেসে উঠছে এই মহামারির ধ্বংসলীলা, ভেসে উঠেনি ধ্বংসলীলার অপর পৃষ্ঠা। বর্তমান প্রজন্মের ‘প্রজন্ম-জেড’ অংশের বয়সী তরুণদের বেশি প্রভাবিত করছে।যাদের বয়সসীমা ১০-৩০ এর মধ্যে। এই বয়সে কেউবা বিদ্যালয়ে, কেউবা মহাবিদ্যালয়ে, কেউবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী। যাদের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিয়ে কেটেছে। কেউবা সদ্য পড়াশোনা শেষ করে, কর্মজীবন শুরু করেছে।

কিছুদিন পর তারাই বিশ্বকে ও নিজের জাতিকে নেতৃত্ব দিবে

তবে দুঃখ্জনক হলো, বর্তমানে তারা নিস্তব্ধ হয়ে ঘরে সময় কাটাতে  হচ্ছে। যদি পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ীও এই পদক্ষেপ নেওয়া হতো, প্রকৃতিকে তার প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তবুও মনে হয় না তরুণসমাজ তা সহজভাবে মেনে নিত। যাহোক, বর্তমানে আমাদের দেশে এই মহামারির ছোবল তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় লোকবলের মধ্যেও হারাচ্ছেন তাদের প্রাণ। তবে কি চতুঃপার্শ্বে হাহাকারের নিস্তব্ধতাই শোনা যাচ্ছে নাকি তার পিছনে বয়ে নিয়ে আসছে শুভবার্তা? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। কার্বন নির্গমনের দিক থেকে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ওয়েবসাইটে কার্বন ব্রিফিংয়ের এক প্রতিবেদনে বলেছে,

সম্প্রতি চিনে প্রায় ২৫ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমেছে। প্রায় একই চিত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রেও। আমাদের দেশেও কল-কারখানা বন্ধ থাকায় জলবায়ু অনেকটা ভালোর দিকে। বাংলাদেশ এয়ার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট থেকে পাওয়া তথ্য মতে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লক্ষ যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের বিরাট একটি অংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে হয়ত বর্তমান পৃথিবীর পরিস্থিতি এমন ছিল না। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রজন্ম সেই সুস্থ পৃথিবীর সাথে পরিচিত না। তবে অসুস্থ ও সুস্থ দুটোই দেখার সুভাগ্য হয়েছে এই প্রজন্মের। পরবর্তীতে পৃথিবী  কোনদিকে এগোবে তা বর্তমান প্রজন্মের হাতে। 

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে চাকরিতে নিয়োজিত তরুণ সমাজ চাকরিচ্যুত হবার ভয়ানক থাবায় পরতে যাচ্ছে।

তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে এই প্রজন্মকে মনযোগ দিতে হবে কারিগরি শিক্ষায়। দেশের অনেক বহুজাতিক কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দখলে আছে অন্য দেশের জনবলের হাতে। এই মহামারিতে শিক্ষারও নিয়ে আসছে আমূল পরিবর্তন, শিক্ষার মধ্যে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। যেমন- ব্রডকাস্টিংয়ের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পাঠ ও অনলাইন ক্লাসের গুরুত্বের সূত্রপাত। 

চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে,

আমাদের দেশের বিত্তবান ও বিশিষ্ট  ব্যক্তিবর্গ তাদের চিকিৎসার জন্য অল্পতেই চলে যেতেন অন্যদেশে।  এদেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থায় গুরুত্ব না দেওয়ায় বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ভেন্টিলেটরের অভাবে হারাতে হচ্ছে সেসকল বিত্তবান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণ এই করোনার মহামারিতে। নেই সুযোগ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার। এ থেকে বর্তমান প্রজন্ম সরজমিনে শিখছে নিজ দেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থায় উন্নয়ন কতটুকু অত্যাবশ্যক। বর্তমানে সারা বিশ্বে তৈরি হচ্ছে বৈশ্বিক দূরত্ব ও সরাসরি যোগাযোগ,  আছে ভার্চুয়াল জগৎ। নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে প্রযুক্তি।

আউটসোর্সিং এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে।

কিন্তু আমাদের দেশের তরুণসমাজ এই প্রযুক্তিতে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারনে অন্যান্য উন্নত দেশের তরুণসমাজ থেকে পিছিয়ে আছে। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ সামাজিক-বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের থাকে না বর্তমান প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত  ধারনা। বর্তমান পরিস্থিতি তরুণদেরকে কড়া নেরেছে। এই অসুস্থ পৃথিবী বর্তমান প্রজন্মকে কি করতে হবে তা শিখিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যাতে পরবর্তী পৃথিবী হয়ে উঠে হাস্য-উজ্জ্বল ও কর্মঠ তরুণসমাজ। তাই ধরে নেওয়া যায় এই মহামারির ধ্বংলীলার অন্তরালে আছে কিছু শুভবার্তা।

আরো জানুন

 

নাম; মো ফয়সাল মিয়া

শিক্ষার্থী ; রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Aatish Faysal

Hi, I am Aatish,  I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

1 thought on “কভিড-১৯ এর ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরী।”

  1. অনেক ভালো লিখেছো বন্ধু,ভালো লাগলো,চিন্তাধারা আরেকটু সামঞ্জস্যপূর্ণ করবা আরো ভালো হবে।এগিয়ে যাও ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।বেস্ট অফ লাক❤

    Reply

Leave a Comment