একবিংশ শতাব্দীর ফুটবল প্রেমিদের মেসি-রোনালদো

বর্তমান সময় ও ফুটবল

ফুটবল এর এই দ্বৈরথটা যখন শুরু হয়েছিল তখন স্মার্টফোনের রমরমা নেই, মাল্টিমিডিয়া মোবাইল বাজারে আসছে সদ্য সদ্য। নব্বই-এর প্রজন্ম স্কুলের মাঠে বিকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখনও। কেমিস্ট্রির ফর্মূলা, মেন্ডেলের সূত্র, পাঠসংকলন, ভাবার্থ। শীতের সন্ধ্যায় ভারী হয়ে আসা কুয়াশায় মফঃস্বল ডিঙিয়ে যাওয়া সাইকেল, হলদে আলোর নিচে কোচিং ক্লাস, সিম ক্ষয়ে যাওয়া স্টাম্পার, টিউবয়েলের জলের অদ্ভুত গন্ধ।– এমনই একদলা সময়ের ধুলো মেখে দুটো লোক তখন আসত। রাত জেগে একটা প্রজন্ম দেখছে আর তাঁর মননের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে ফুটবল, আদৌ কি ফুটবল? নাকি ফুটবলের আবেগ কোনো একটা অবয়বের মধ্যে দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে সময়ের ভেতর?

এই প্রজন্মের ফুটবলের দুই রাজা

কেউ ডানপায়ে স্টেপওভার করে ঢুকে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ বক্সের ভেতর, আগুনের মতো ফ্রি কিকে কেঁপে যাচ্ছে জাল। ম্যাঞ্চেস্টার থেকে হইচই ফেলে দিয়ে চলে আসছেন মাদ্রিদে, অন্যজন শান্ত, লম্বা চুলের ওপর ঢলঢলে জার্সি। বাঁ পায়ে ছোটো ছোটো টাচ খেলে ঢুকে পড়ছে বক্সের ভেতর। আর এই দুটো চ্যানেল বেয়েই যেন একটা প্রজন্ম টেস্টপেপার সলভ করতে করতে স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে এসে যাচ্ছে কলেজের গেটে। অথচ সেই মসৃণ সময়ের ভেতর ছেলেমানুষী ঝগড়াটাও যেন পরিণতি পাচ্ছে ক্রমশ।প্রথমত, স্কুলের হাতাহাতি লেগে যাওয়া মেসি-রণ ঝগড়া কত বুঝদার হয়ে গেল যেন । এই আশ্চর্য জার্ণিটা কোনোদিনই ফুটবলের চেয়ে বড় নয়, একথা সত্যি। কিন্তু ফুটবলের চিরবহমান গ্রাফে তাঁর সূচনা লগ্ন থেকে আজ অবধি অসংখ্য খেলোয়াড়ের আগমন হলেও এতদীর্ঘ, এত টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর আসেনি। দ্বিতীয়ত, সুস্পষ্টভাবে বললে দুজন মানুষের একে অপরকে ছাপিয়ে যাবার লড়াই স্রেফ একটা জেনারেশনকে হাত ধরে সাবালক করে দেওয়ার রূপকথাও আগে লেখা হয়নি।

ধারাবাহিকতার প্রশ্নে ফুটবল শিক্ষার্থীদের নোটবুক লেখা থাক, লেখা থাক কতজন এলো-গেলোর রঙ্গমঞ্চে। একটা ছত্রিশ আর একটা চৌঁত্রিশ বছরে পা দিতে চলা বুড়োকে মুখোমুখি একটাবার দেখার জন্য ফের অফিস সেরে টিভির সামনে বসে পড়বে একটা প্রজন্ম।বসে পড়বে সেই ১২ বছর আগের সবুজ মনগুলো- যে আলতো পরশ আমাদের যৌবনের ক্লান্তিকে মুছে ভেতর থেকে একফালি সবুজ বের করে আনে সেই পরশের মেয়াদ শেষ। আজই হয়ত শেষ, নইলে আর এক কিংবা দুবার- তারপর? ফুটবলের চেয়ে কোনোদিন কিছু বড় হতে পারে না । কিন্তু ফুটবলের শামিয়ানার নীচে বয়ে চলা সময়কে যদি দুটো মানুষ নিজেদের ভেতর ভরে পরিণত করে দিতে পারে। তবে তাকে ভালোবাসা তো অপরাধ নয়, ফুটবলের সবুজে সে না হয় ক্ষণিকের ফুল। পাতাঝরার মরশুমে সে একটা প্রজন্মের কৈশোর নিয়েই তো ঝরবে, তাই না? অতএব ,বলছিলাম সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলার মেসি আর রোনালদোর কথা।

কে আগে কে পিছিয়ে?

যাইহোক ,বিগত ১৫ বছরে ফুটবল বিশ্ব শাসন করার দুই একচ্ছত্র সেনাপতি। কি অর্জন করে নি তারা। মেসি যদি হয় সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশের সর্বোত্তম উদাহরণ। রোনালদো সেই প্রতিভাকে কঠোর পরিশ্রম দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। ৪-১ এ ব্যালন ডি’রে পিছিয়ে যাওয়ার পর ৫-৫ এ সমতা না, কিংবা রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসির সেই হেডে করা চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালের গোল। আজ মেসি ৪ গোল করলে কাল রোনালদোর ৪ গোল, হ্যাট্রিক করা যেন ছেলেখেলা কি ছিল না তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বীতায়। এত কথা আসার একটাই কারণ, গতকাল হয়ে গেল জ্যুভেন্টাস বনাম বার্সেলোনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল মেসি আর রোনালদো। হয়তো এটাই তাদের মুখোমুখি হওয়া শেষ ম্যাচ। আগের মত প্রতি সিজনেই এল ক্লাসিকো, কিংবা কোপা ডেল রে-এর ফাইনালের মতো প্রতি সীজনেই হয়তো আর এরা কখনও মুখোমুখি হবে না। হবে না রিয়ালের বিপক্ষে মেসি গোল করে জার্সি খুলে উদযাপনের প্রতিশোধ হিসেবে রোনালদোর বার্সার বিপক্ষে গোল করে জার্সি খুলে উদযাপন করা।

তাছাড়া ফুটবল বিশ্বে হয়তো অনেক প্রতিভা আসবে ।কিন্তু এতটা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়া তাও টপ লেভেলে সেটা হয়তো আর দেখা হবে না।ফুটবলের একটা চিরন্তন প্রবাদ হল-“Form is temporary, class is permanent.” । এবং এই প্রবাদকেও ভুল প্রমাণ করে বছরের পর বছর এই দুই মানব পারফর্ম করে প্রমাণ করে গেলেন, “Form and class both are permanent.”



মজার মজার বিজ্ঞান নিউজ পেতে ভিজিট করুণ এখানে

আরোও পড়তে

Nafi Ahmed

University of Chittagong

Nafi Ahmed

Hi, I am Nafi,  I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment