প্রিন্স অফ পার্সিয়া স্যান্ডস অফ টাইম ২০০৩

প্রিন্স অফ পার্সিয়া গেমস রিভিউ

প্রিন্স অফ পার্সিয়া

Game – Prince of Persia Sands of Time (2003)

Prince of Perisa জর্ডান ম্যাক্রোনের তৈরি করা প্ল্যাটফর্ম যা সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে মুক্তিপায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে তৈরি হয় Prince of Persia Sands of Time.

গেমসটিতে রয়েছে অনবদ্য কাহিনী,নিখুত ক্যারেক্টার বিল্ড আপ আর দারুণ গেমপ্লে। ২০০৩ সালের গ্রাফিক্স হিসেবে গ্রাফিক্সটাও ছিল সে সময়ের অন্যতম সেরা।এর মাধ্যমে গেমাররা নতুন মেকানিক্স আর এডভেঞ্চারের সাথে পরিচিত হয়,যা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা গেমারদের জন্য।

প্রিন্স অফ পার্সিয়া গেমসের পটভূমি

কাহিনীর দিকে আলোকপাত করলে দেখা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ৯ খ্রিষ্টাব্দে,ইরানে অর্থাৎ তৎকালীন পার্সিয়াতে।স্টোরি আরম্ভ হয় প্রিন্সের কন্ঠ দিয়ে।প্রিন্সের বাবা শারামানের আর্মি আজাদের সুলতানের কাছে যাচ্ছিলেন।পথে তৎকালীন লোকাল রাজা উজি, তাকে বলেন রাজ্যে প্রচুর ধন সম্পদ আছে এবং পার্সিয়ান আর্মিদের রাজ্যে ঢুকতে সাহায্য করেন।

কিন্তু এর ফলস্বরূপ রাজার কাছে যা চাইবে,সেটাই দিতে হবে এমন শর্ত দেয়।

সেখানে প্রিন্স একটি ছুড়ি পায়, “Dragger of Time” যেখানে একটি বোতাম আছে,যার সাহায্যে সময় কিছু সময়ের জন্য রিওয়াইন্ড করা যায় বা সময় একটু পেছনে চলে যায়। রাজা শারামান রাজ্য থেকে প্রাপ্ত হাওয়ার গ্লাস,ধন সম্পদ আর প্রিন্সেস ফারাহকে আজাদের নিকট উপঢৌকন হিসেবে দেয়ার কথা ভাবছিলেন।কিন্তু উজি হাওয়ার গ্লাস আর ড্যাগার অফ টাইম চাইলে রাজা শারামান এটা ব্যতীত অন্যকিছু নিতে বলে।কিন্তু আজাদে পৌছালে উজি ভুল বুঝিয়ে প্রিন্সকে দিয়ে হাওয়ার গ্লাস থেকে স্যান্ডস মুক্ত করিয়ে দেয়।যার প্রভাবে সবাই স্যান্ডস মন্সটার হয়ে যায়।বেচে যায় তিনজন। উজি যার কাছে ছিল জাদুর লাঠি,প্রিন্স যার কাছে ছিল ড্যাগার অফ টাইম আর প্রিন্সেস ফারাহ যার কাছে ছিল স্যান্ডসদের ম্যাটালিয়ান ছিল।উজির প্রিন্স থেকে ড্যাগার ছিনিয়ে নিতে চাইলে প্রিন্স আর ফারাহ সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এরপর প্রিন্স আর ফারাহ এর মধ্যে বন্ধুত্ব হয়

ফারাহ বলে এই স্যান্ডস বন্ধ না করলে পৃথিবীর সবাই স্যান্ডস মন্সটারে পরিণত হবে।তাই তারা এটা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা উজিকে অনুসরণ করে প্যালেসের উচ্চকক্ষে যায় যেখানে হাওয়ার গ্লাস নিয়ে যাওয়া হয়।কিন্তু শেষ মূহুর্তে প্রিন্স এটা বন্ধ করতে আপত্তি জানায়,সন্দেহ করে ফারাহকে, কেননা এই প্রিন্সের বাবাই ফারাহ আর তার বাবার উপর আক্রমণ করে আর রাজ্য দখল নেয়।তবুও কেন সাহায্য করছে ফারাহ প্রিন্সকে। সেই মূহুর্তে উজি আসলে তারা আবার পালিয়ে যায়,প্রিন্সের থেকে ড্যাগার অফ টাইম ছিনিয়ে নিতে চাইলেও তা প্রিন্স নিজের কাছে রাখতে সক্ষম হয়।

এরপর আবার তাদের বন্ধুত্ব হয়, কিন্তু ফারাহ প্রিন্সের থেকে ড্যাগার অফ টাইম নিয়ে পালিয়ে যায়,নিজেই স্যান্ডস বন্ধ করার জন্য

আর প্রিন্সকে বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য একটা শব্দ বলে,”ক্যাকালুকিয়া” যা ফারাহ আর কাউকে বলে নি কখনও।আর সাথে স্যান্ডস মেটাল রেখে যায়।

এরপর প্রিন্স ফারাহকে খুজতে খুজতে টাওয়ারে পৌছায়।সেখানে ফারাহ স্যান্ডস মন্সটারের সাথে লড়াই করতে করতে পড়ে গেলে ড্যাগার অফ টাইম দিয়ে প্রিন্স ধরতে সক্ষম হয়।কিন্তু প্রিন্সের হাত কেটে যাওয়া দেখে ফারাহ সেটা ছেড়ে দেয় এবং পড়ে যায়।ড্যাগারে কোন স্যান্ডস না থাকায় প্রিন্স টাইম রিওয়াইন্ড করতে যেয়েও ব্যর্থ হয়।

প্রিন্সকে অমরত্বের লোভ দেখালেও প্রিন্স মানে না এবং উজি ও প্রিন্সের মধ্যে ফাইট হয়। পড়ে প্রিন্স হাওয়ার গ্লাস বন্ধ করে এবং টাইম রিওয়াইন্ড করে সময়ের অনেক আগে চলে যায় যেখানে শারামান রাজার প্রাসাদে আক্রমণ করার চিন্তা করছিল।কিন্তু প্রিন্সের সব মনে আছে এবং ড্যাগার প্রিন্সের হাতে।সে দ্রুত ফারাহ এর কক্ষে যায় খুলে বলতে সব। কিন্তু উজির সাথে দেখা হলে সে উজিকে মেরে ফেলে।এবং ড্যাগার ফারাহকে দিয়ে দেয়।কিন্তু ফারাহ প্রিন্সকে চিনতে পারে না।তখন বুঝা যায় কাহিনীর শুরুতে প্রিন্সের যে কন্ঠ শুনা যাচ্ছিল,সেই ঘটনাগুলা প্রিন্স ফারাহকে বলছিল।ফারাহ এসব বিশ্বাস করে না এবং প্রিন্সকে পাগল বলে।যাওয়ার সময় ফারাহ প্রিন্সের নাম জিগাস করলে প্রিন্স তারই গোপন শব্দ বলে, যে আমাকে ক্যাকালুকিয়া বলে ডাকতে পার।আর এভাবেই কাহিনীর সমাপ্তি হয়।

বিঃদ্রঃ-১, স্যান্ডস হচ্ছে ড্যাগার অফ টাইমের একটি উপাদান যা না থাকলে ড্যাগার অফ টাইম দিয়ে টাইম রিওয়াইন্ড করা যায় না।

বিঃদ্রঃ-২, হাওয়ার গ্লাস স্যান্ডস তৈরি করার একটি যন্ত্র।এর সাহাযে স্যান্ডস তৈরি হয়

বিঃদ্রঃ-৩, স্যান্ডস যত বেশি থাকবে,ড্যাগার অফ টাইমের সাহায্যে তত বেশি সময় টাইম রিওয়াইন্ড করা যাবে।

Minimum requirement –

উইন্ডোজ এক্সপি/সেভেন

র‍্যাম ২জিবি

এক্সাটার্নাল গ্রাফিক্স কার্ড লাগবে না।

ফ্রি স্পেস- প্রায় ৮জিবি ফ্রি স্পেস লাগবে ইন্সটল করতে।

কোনো প্রশ্ন থাকলে জানাবেন, উত্তর দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ধন্যবাদ

নাফি আহমেদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Comment