পুতুলনাচের ইতিকথা :বুক রিভিউ বাংলা উপন্যাস

পুতুলনাচের ইতিকথা

লেখক পরিচিতি

বুক রিভিউ : পুতুলনাচের ইতিকথা

ক্যাটাগরি : উপন্যাস 

লেখক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ( ১৯০৮-১৯৫৬ ) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একজন লেখক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবােধ ও অস্তিত্বের যে চরম সংকট দেখা দিয়েছিল , সে সংকটকালে কথাসাহিত্যের ধারায় যাঁরা বিপ্লব এনেছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম । মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবনের শুরু হয় যখন বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার আধার। যখন পরাধীন দেশের শৃঙ্খলিত মানুষগুলাে মুক্তির সাধনায় চরমবিপ্লব ও অহিংস আন্দোলনের দ্বন্দ্বে দিশেহারা , তীব্র অর্থসঙ্কট ও মূল্যবােধের রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন , এরই সমান্তরালে দেশান্তরে ঘটে যাওয়া মহাসমর , অর্থনৈতিক মন্দা , বিপন্ন ঔপনিবেশবাদের অন্তিম দংশন , গৃহযুদ্ধ , সমাজতন্ত্র , ফ্যাসিবাদের উত্থান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে অসহায় ক্লিষ্ট মানবজাতির জীবনজিজ্ঞাসা এক ভিন্ন মাত্রা পেল ।

এ অস্থির রাজনৈতিক প্রতিবেশে ও অনিশ্চিত আর্থ – সামাজিক প্রেক্ষিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনি শুরু । লেখালেখির কারণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পারিবারিক সুযােগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয় । দৈন্যতার মধ্যে থেকেই তিনি তার সাহিত্যচর্চা করে গেছেন । মাত্র আটাশ বছরের শিল্পজীবনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম সংখ্যায় বিপুল । উপন্যাস উনচল্লিশটি , গল্প দুশ তেইশটি , একটি নাটক , কিছু কবিতা ও প্রবন্ধ । তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ দিবারাত্রির কাব্য ‘ ( ১৯২৫ ) । প্রকাশের দিক থেকে এটি দ্বিতীয় । প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘ জননী ‘ । সর্বশেষ প্রকাশি উপন্যাস ‘ মুশল ‘ ( ১৯৫৬ ) । 

যে সকল উপন্যাস পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে , তার মধ্যে অন্যতম উপন্যাস হচ্ছে আজকের আলোচিত রিভিউ উপন্যাস “পুতুলনাচের ইতিকথা” । আধুনিকতার সুনিশ্চিত পরিচয় বহন করেছে , পুতুলনাচের ইতিকথা ( ১৯৩৬ ) । 

পুতুলনাচের ইতিকথা : কাহিনি সংক্ষেপ


পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট মুখ্যত গ্রামজীবনের । নায়ক শশী গ্রামেরই ছেলে , শহর থেকে ডাক্তারি ডিগ্রি নিয়ে গ্রামে ফিরে এসেছে । এই গ্রামীণ পটভূমিতে বহু বিচিত্র নরনারীর জীবন – অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে নায়ক শশী । কিন্তু এই উপন্যাসে স্বভাববাদী ঔপন্যাসিকের মতাে গ্রামজীবনের অনুপুঙ্খ পরিচয়দানের মধ্য দিয়ে মানিক আধুনিকতার কোনাে মাত্রা যােগ করতে চাননি । নায়কের মননধর্মী জীবন – অন্বেষণ তথা আত্মসম্মানেই এর আধুনিকতার লক্ষণ পরিস্ফুট ।

এই অন্বেষণ তাকে নিয়ে গেছে জীবন সম্পর্কে এক গভীর নিস্ফলতার উপলব্ধিতে । চিকিৎসক হয়েও যখন সে সর্বদা রােগীকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি , যখন সে নিজের বােন বিন্দুকে প্রচণ্ড মদের নেশা ও অস্বাভাবিক জীবনের প্রতি আসক্তি থেকে সরিয়ে আনতে পারেনি , বরং আবার সেই জীবনের দিকেই ঠেলে দিতে বাধ্য হয়েছে । সর্বোপরি যখন সে কুসুমের সঙ্গে নিজের গােপন দুর্মর প্রণয়সম্পর্কের বিপর্যস্ত রােধ করতে পারেনি , তখন তার দ্বন্দ্ব – ক্ষুব্ধ আলােচিত স্বত্তায় নিরর্থক অস্তিত্বের যে গূঢ় সংকট , যে বিচ্ছিন্নতার বােধ তার মধ্যেই আভাসিত হয়েছে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ।

আশা করি , নিরর্থক সময় নষ্ট না করে পড়ে দেখতে পারেন ।পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসটি আপনাদের ভাল লাগবে এবং মন ছুঁয়ে যাবে ।

রিভিউ লেখিকা:ইসরাত জাহান বর্ণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আট কুঠুরি নয় দরজা বই রিভিউ; সমরেশ মজুমদার

দ্বিতীয় সত্তার সন্ধানে । বুক রিভিউ :শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেঘেদের দিন । বুক রিভিউ: সাদাত হোসাইন

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

About Sami UL Haque

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

View all posts by Sami UL Haque →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *