পদ্মা সেতু; যা ছিল স্বপ্ন তা এখন পদ্মার বুকে দৃশ্যমান

পদ্মা বহুমুখী সেতু

পদ্মা সেতু একটি বহুমূখী সড়ক ও রেল সেতু।এটি বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মান করা হচ্ছে।এই মাধয়মে লৌহজং ,মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পশ্চিম অংশের যোগাযোগ হবে খুব সহজে এই সেতুর মাধ্যমে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সব থেকে বড় নির্মান চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প।কারণ কোন বড় প্রতিষ্টান থেকে টাকা লোন নিয়ে এই সেতু করা হচ্ছে না।এই সেতুর সমস্ত অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ।যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের কাছে একটি বিরাট ব্যাপার।

সেতুর দৈর্ঘ ৬.১৫ কি.মি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।এখানে ১৫০ মিটার দৈর্ঘের ৪১ টি স্পান বসবে।এই বৃহৎ আকৃতি সেতুটিকে করে তুলেছে দেশের সব থেকে বড় সেতু।পদ্মা সেতুর নির্মানের জন্য কাজ করছে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্টান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক পদ্মা সেতু নির্মানের পূর্বের ইতিহাস

২০১৬-১৭ সাওলে প্রকল্পটি প্রস্তুওত করা হয়।প্রথমে ধারনা করা হচ্ছিল যে এটিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক।কিন্তু দূর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক নিজেকে সরিয়ে নায় অর্থায়ন থেকে এবং তাদের দেখাদেখি বিশ্বের অন্য সকল দাতা সংগঠনও সরে যায় এর অর্থায়ন থেকে।তখন মনে করা হয়ে ছিল যে পদ্মা সেতু আর হবে না কারণ সব দাতা সংগঠন নিজেদের সরিয়ে নিল কে দেবে অর্থের যোগার।কিন্তু তখন বাংলাদেশ সরকার একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিল এবং বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করে পদ্মা সেতু তৈরীর কাজ শুরু করল।যা বাঙ্গালী জাতির কাছে ছিল অত্যন্ত গর্ব ও সন্মানের ব্যাপার।

নির্মান ব্যায়

পদ্মা সেতু নির্মানে মোট ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩.৩৯ কোটি টাকা।সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ,সংযোগ সড়ক,ভূমি অধিগ্রহন,বেতন-ভাতা,নদী শাসন ইত্যাদি সকল ধরনের খরচ সংযুক্ত করা হয়ে এই অর্থের ভেতর।বাংলাদেশ অর্থ বিভাগের সাথে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুসাররে,নির্মানের সকল টাকা ঝৃণ দিয়েছে সরকার ,১ % সুদ হারে ৩৫ বছরে এটি পরিশোধ করবে সেতু কতৃপক্ষ।

স্প্যান বসানো কার্যক্রম

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর পিয়ারের উপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান।শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারের উপর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি।ভাসমান ক্রেনর সাহায্যে বসানো হয় প্রতিটি স্প্যান।প্রতিটি স্প্যানের ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৫০ টন।চার মাস পর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিয়ারের উপর বসানো হয় ২য় স্প্যানটি।এই ভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে জাজিরা প্রান্তের শেষের দিকে বসানো হয় ৬ নম্বর স্প্যানটি।এরপর মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারের উপর বসানো হয় সপ্তম স্প্যান।একে একে চলে আসে ৩২ নম্বর স্প্যান বসানোর সময় তখন দেখা দেয় বিপত্তি।পদ্মার তীব্র স্রোতের কারোনে প্রথম দিনে বসানো যায় না স্প্যানটি।প্রকৌশলীদের বিচক্ষনতায় দ্বিতীয় দিনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে বসানো হয় স্প্যানটি। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর বসানো হয় ৪০ তম স্প্যানটি যার মধ্য দিয়ে সেতুটির ছয় হাজার মিটার দৃশ্যমান হয়।ওর ঠিক ৬ দিন পর ১০ ডিসেম্বর বসানো হয় শেষ স্প্যানটি .১২ ও ১৩ তম পিয়ারের উপর ৪১ তম স্প্যানটি বসানো হয়।

অবশেষে স্বপ্ন দৃশ্যমান

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙ্গালি জাতি যেমন বিজয় পেয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে এ যেন তারই প্রতিফলন হল আবার। ৪১ তম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে  আবার বিজয় হল বাঙালি জাতির ,জিতে গেল আবার বাংলাদেশ।যেখানে পুরো বিশ্ব বলেছিল বাংলাদেশে মত দেশের পক্ষে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব না সেখানে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল যে বাঙালী বীরের জাতি,সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান।

পদ্মা সেতু ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

২০২২ সালে বিজয়ের মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরে চালু করা হবে পদ্মা সেতু।একটি সেতু বদলে দেবে একটি দেশ ।এটা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল নয় পুরো বাংলাদেশের যোগাযোগ বদলে দিবে।শুধু দেশের ভেতর নয় বর্হিরবিশ্বের সাথেও বাংলাদেশের যোগাযোগ ও বানিজ্য বদলে দিবে এই সেতু।সব মিলিইয়ে এটি হবে দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু।ধারনা করা হচ্ছে এটি দেশে জিডিপিতে একটা দূর্দান্ত প্রভাব ফেলবে। ২০৪০-৫০ সালে বাংলাদেশ যে পরিমাণ উন্নত হবে তাতে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।স্বপ্ন ঘেরা এই সেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে জাতির পিতার সেই সোনার বাংলাদেশ।

খেলার খবর পেতে ভিজিট করুন

Sourav Das

Hi, I am Sourav Das, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment