পথশিশু কবিতা ও পথশিশুদের নিয়ে কিছু কথা

কবিতা – পথশিশু 

কবি – সাখাওয়াত হোসেন

আমরা পথশিশু জন্মপরিচয় নাই

জীবনভর হই পদপিষ্ট, কেউ বলে টোকাই

বুকে যন্ত্রনা নিয়ে চলি জীবনের অলিগলি 

ভালবাসার ফুলকলি ছিঁড়ে নিভি আর জ্বলি

মনের কথা কলি কেউ শুনে না আমরা পথের ধুলি

কে বাবা, কে মা জানিনাতো কিছু

পথে হাঁটতে হাঁটতে হলাম পথশিশু 

পথশিশুদের নিয়ে কিছু কথা

পথশিশু বলতে মূলত (বস্তি, রাস্তা বা রেললাইনের আশেপাশে)  অর্থাৎ অস্থায়ী বাসস্তানে বেড়ে উঠা শিশুদের বোঝায়। তাদের স্থায়ী বাসস্তানের কোন ব্যাবস্থা নেই, নেই জীবিকা নির্বাহের কোন সঠিক উৎস। আমাদের ভাবতেই হয়ত অবাক লাগতে পারে, শিশুদের আবার জীবিকা নির্বাহের উৎস সন্ধান করতে হয়। স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা শিশুদের সাথে পথশিশুদের অনেক ব্যাবধান। পথশিশুরা জীবিকা নির্বাহের জন্য রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে, 

প্লাষ্টিক-বোতল সংগ্রহ করে, ফুল বিক্রি করে তাছাড়া অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজে নিজেদের নিয়জিত করে। এমন কি অনেক অপরাধমূলক কাজ করে বা করতে বাধ্য হচ্ছে পথ শিশুরা। 

২রা অক্টোবর জাতীয় পথশিশু দিবস পালিত হয়। যার লক্ষ্য থাকে পথশিশুদের পুনঃনির্বাসন তথা তাদের জীবনমান উন্নত করার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। অথচ আমাদের দেশে প্রায় ৩২ লক্ষ পথশিশু আছে। যাদের আশ্র‍য় ফুটপাত, বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনা, মাজার, মন্দির, টার্মিনাল,রেলষ্টেশন। যাদের অধিকাংশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে  বেড়ে উঠেছে।

অপরাধীদের সহজ টার্গেট ছিন্নমূল বা পথশিশু। পেশাদার অপরাধীরা পথশিশুদের অপরাধমূলক কাজে নিয়জিত করে। মাদক ব্যাবসা চুরি ছিনতাই ইত্যাদি কাজে জড়িয়ে পড়ছে এমনকি নিজেরাও মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পেশাদার অপরাধীতে পরিনত হচ্ছে। নিজের জীবন পরিবর্তন করার জন্য যেই পরিবেশ দরকার আর যেই সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তা তারা পাচ্ছে না। এছাড়াও অনেক শিশু বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে৷ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিষ্টিটিউটের তথ্য মতে ঢাকার মাদকাসক্ত শিশুদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ছেলে আর ১৭ শতাংশ মেয়ে। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে মেয়েরা মানসিক ও শারীরিক ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এই শিশুদের বেশির ভাগ পথশিশু।

পথশিশুদের অপরাধ প্রবনতা কমাতে আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। অপরাধের পথ থেকে ফেরাতে তাদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে তবে শিক্ষার আগে থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তা করতে হবে। আর এই ধরনের উদ্যোগ আমাদেরকেই নিতে হবে। পথশিশুদের নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসনের একার পক্ষে কখনই সমাজের সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। পথ শিশুদের থাকা খাওয়া ব্যাবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানদের সুনজর প্রয়োজন এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। 

পথশিশুরা খুব সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে কারন পুষ্টিহীনতা। প্রয়োজনীয় খাদ্যতো পায়ই না তার উপর কঠোর পরিশ্রম করতে হয় পথশিশুদের। নেই কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা। পথশিশুরা এমন পরিবেশে বসবাস করে যেখানে রয়েছে চরম স্বাস্থ ঝুঁকি। অন্যের ফেলে দেওয়া খাবারেই তাদের খুধা নিবারন হয়। এমনকি ডাষ্টবিন থেকেও তারা খাবার কুড়িয়ে খায় অসুস্থ হওয়ার জন্য যা যথেষ্ট। 

অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্দোগে পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। তাছাড়া অনেকে ব্যাক্তিগত উদ্দোগেও পথশিশুদের পাশে দাঁড়ায়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে অন্যতম “ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন “। পথশিশুদের পাশে এসে দাঁড়ানো সংগঠনের সংখ্যা বাড়াতে হবে যারা পথশিশুদের সুন্দর জীবন গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পথশিশুদের সুন্দর জীবন নিশ্চয়তা দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পথশিশুদের অধিকার আছে সুন্দর-স্বাভাবিক জীবন যাপন করার।

লেখক:  Shanjeda akther

Zoology department 

University of Chittagong 

আরো কবিতা পড়ুন

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Comment

Don`t copy text!