নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

ল জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থান

নড়াইল

১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ মাসে যশোরের একটি মহকুমা হতে জেলা হিসেবে  মর্যাদা লাভ করে  নড়াইল। নড়াইল জেলার  দক্ষিণে খুলনা জেলার তেরখাদা,  উত্তরে মাগুরা ও মহম্মদপুর থানা, বাঘারপাড়া ও কোতয়ালী থানা , দীঘলিয়া ও মোল্লার হাট, পূর্বে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমে যশোর জেলার অভয়নগর, । এই জেলার আয়তন ৯৭৬ বর্গ কিলোমিটার। নড়াইল জেলার উপর দিয়ে মধুমতি, চিত্রা, কাজলা, নলিয়া, নড়াগাতি, নবগঙ্গা, কালিগঙ্গা ও আঠারবাঁকি নদী বয়ে গেছে।

নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ:

  • স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ, নড়াইল
  • সুলতান কমপ্লেক্স,নড়াইল সদর
  • বাধাঘাট, নড়াইল সদর
  • চিত্রা রিসোর্ট, সীমাখালী
  • বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স, নুর মোহাম্মদনগর
  • কথা সাহিত্যিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক নিবাস, ইতনা
  • নিরিবিলি পিকনিক স্পট, লোহাগড়া
  • স্বপ্নবিথী পিকনিক স্পট, লোহাগাড়া
  • অরুনিমা কান্ট্রি সাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট, পানিপাড়া, কালিয়া

এবার নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাকঃ-

সুলতান কমপ্লেক্স

চিত্রা নদীর পাড়ে নড়াইল শহরে এটি অবস্থিত। এটি গড়ে উঠেছে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতি বিজড়িত সংগ্রহশালাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ২৭ একর জমি জুড়ে গড়ে উঠা কমপ্লেক্সে দুর্লভ নানা প্রজাতির গাছের সমারহ। নদীর পানির কলকল ও সবুজের মাঝে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানকে সমাহিত করে রাখা হয়েছে । সমাধি সৌধের সামনেই রয়েছে সুলতানের আদি বাসস্থানের খানিক অংশ । দ্বিতল আধুনিক ফটোগ্যালারিতে সুলতানের চিত্রকর্ম ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলি সংরক্ষণ করে রাখা আছে। সুলতানের দুর্লভ সব চিত্র কর্মগুলি দেখার জন্য প্রতিদিনই গ্যালারি খোলা থাকে সকাল ৯ টা হলে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। সুলতান শিশুদের ছবি আঁকানো শিখানোর জন্য নদীতে তৈরী করেছিলেন বজরা ‘‘শিশু স্বর্গ” ।

কথা সাহিত্যিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক নিবাস

ডা: নীহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক নিবাস নড়াইলের লোহাগড়ার উপজেলার ইতনা গ্রামে। তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বজন পরিচিত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র কাহিনীকার। প্রায় ৭৫ শতক জমির ওপর নীহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক বাড়িটি অবস্থিত। বাড়িতে এখনোও একটি দুইতলা বাড়ি, পুকুরসহ অসংখ গাছপালা রয়েছে।তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। তার বাড়িতে গড়ে তোলা হয় শিশু স স্বর্গ-২ যা উদ্ভোদন করেন নড়াইলের আরেক কৃতিসন্তান প্রখাত চিএ শীল্পী এস. এম. সুলতান।

প্রায় দুইশত গ্রন্থ তিনি রচনা করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো –  কালোভ্রমর, উল্কা, কালনাগ মৃত্যুবাণ, হাসপাতাল,  উত্তরফাল্গুনী, অপারেশন।

বাধাঘাট

এক সময় নড়াইলে অনেক জমিদারদের বসবাস ছিল। তাদের নিত্য দিনের প্রযোজনের পানি তারা নদী থেকে সংগ্রহ করতেন, তাই কাজের সুবিধার্তে তারা নদীর কূলে বিশাল ঘাট বাধায় করতেন। ঠিক সেই সময়দের জমিদারদের বাধায় করা একটি ঘাট হল বাধাঘাট, যা ভিক্টোরিয়া কলেজ সংলগ্ন চিত্রা নদীর পাড়ে অবস্থিত।

নিরিবিলি পিকনিক স্পট

নিরিবিলি পিকনিক স্পট এর মধ্যে একটি চিড়িয়াখানা আছে, পুকুর আচগে, একটি শিশু পার্ক সহ আরো অনেক চোখ ধাধানো উপকরণ রয়েছে এখানে। প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি হল নিরিবিলি পিকনিক স্পট। প্রকৃতি যেন নিজের দুই হাত বাড়িয়ে মানুষকে কাছে টেনে নেয় এখান থেকে। এটি মূলত একটি পিকনিক স্পট, তাই সাধারণত প্রতিদিনই এখানে মানুষের আনোগোনা দেখা যায়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বনভোজনের জন্য এখানে আসে। এছাড়াও অনেকে আসে পরিবার নিয়ে , আবার অনেকে আসে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা হলে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

অরুনিমা কান্ট্রি সাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট

২০০৯ সালের ১৪ মে অরুনিমা কান্ট্রি সাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট যাত্রা শুরু হয়। মোট ভূমির পরিমান ৫০ একর। প্রায় ২১টি পুকুর আছে এখানে। একটি বড় লেক আছে। এই পুকুর ও লেকে অনেক মাছ আছে। এখানে মাছ ধরার ব্যাবস্থা ও আছে। একজন ১০০ টাকার একটি টিকিটের মাধ্যমে মাছ শিকার করতে পারবেন। এখানে একটি গ্লফ ক্লাব আছে, যেখানে একজন ভ্রমনকারী গলফ খেলতে পারবে । এছাড়াও এখানে দাবা, লুডু, টেনিস,টেবিল টেনিস, ভলিবল, বাস্কেটবল প্রভৃত খেলাধুলার সুযোগ রয়েছে। এখানে অনেক কটেজ আছে যেখানে রাত্রিযাপনের সুব্যাবস্থা রয়েছে। এখানে প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা কিন্তু যারা বনভোজনের উদ্দেশ্যে আসে তাদের প্রবেশ মূল্যে ৫০% কমিশন। অরুনিমা কান্ট্রি সাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট এর সব থেকে সুন্দর সময় হল শীতের পরন্ত বিকাল। অগনিত লাখ লাখ অতিতী পাখি এখানে উড়ে আসে আর পাখির কোলাহলে মুখরিত হয় সমস্ত এলাকা।

Sourav Das

Hi,

I am Sourav Das. I have been writing on Jibhai for about 1 year. This is my site and I am a part of Jibhai.

Thanks

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *