নোয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

নোয়াখলী জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

নোয়াখালী

বাংলাদেশে ৬৪ জেলার মাঝে একটি সুপরিচিত জেলার নাম নোয়াখালী।এটি প্রাচীন জেলা ও বটে।উপজেলার সংখ্যানুসারে নোয়াখালী বাংলাদেশের একটি এ শ্রেণীভুক্ত জেলা।নোয়াখালী চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত।এটি প্রাচীনকালে সমতট অঞ্চলে ছিলো,এর পুরান নাম ভুলুয়া,সুধারাম।নোয়াখালী জেলা পূর্বে ফেণী, লক্ষিপুর এবং নোয়াখালী জেলা নিয়ে একটি বৃহত্তর অঞ্চল ছিল। যা এখনও বৃহত্তর নোয়াখালী নামে পরিচিত। এটির আয়তন ৪,২০২.৭০ বর্গকিলোমিটার। নোয়াখালী জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২১ সালে।নোয়াখালীর অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর।নোয়াখালীর নারকেল ও সুপারি সারা দেশ জুড়ে বিখ্যাত। নোয়াখালী অনেক মানুষ প্রবাসে কর্মরত রয়েছে

বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স পাঠানো জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।

নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থান সমূহঃ

১.বজরা শাহী মসজিদ

২ নিঝুম দ্বীপ

৩ কমলা রানীর দিঘি

৪ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল

৫ শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম

৬ গান্ধি আশ্রম

৭ স্বর্ণ দ্বীপ

৮ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার

৯ নোয়াখালী জিলা স্কুল

১০ নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান

১১ কল্যান্দি জমিদার বাড়ি

১২.গ্রীন পার্ক

বজরা শাহী মসজিদঃ

বজরা শাহী মসজিদ নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানায় অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য।এটি নোয়াখালীর “সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা” গুলির একটি।মসজিদটির পূর্ব দিকে রয়েছে তিনটি দরজা প্রতিটি উপর অর্ধগম্বুজাকৃতির ভল্টের এবং মাঝে সরু মিনার রয়েছে।এটি মসজিদটি নোয়াখালী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী থানার বজরা নামক গ্রামে অবস্থিত।মসজিদের ভিতরে দুটি কক্ষ রয়েছে। বহুখাঁজবিশিষ্ট আড়াআড়ি খিলান দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। ছাদের উপর তিনটি গম্বুজ রয়েছে।মসজিদটির ভিতরে বাহিরে মোগল আমলের কারুকার্যে সজ্জিত।

নিঝুম দ্বীপঃ

নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সর্বদক্ষিণে নিঝুমদ্বীপের অবস্থান।এটি ১৯৪০ এর দশক থেকে বঙ্গোপসাগর হতে জেগে উঠা শুরু করে।মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুমদ্বীপ আবিস্কার করে। 

কথিত আছে যে কথিত আছে সর্দার ওসমান নামের একজন লোক ১০০ মহিষ নিয়ে প্রথম এ দ্বীপে আসে।তার নাম অনুসারে এ দ্বীপের সরকারি মৌঝার নাম করা হয় চর ওসমান।

নিঝুম দ্বীপে মানুষের বসবাস রয়েছে বাকি অংশে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল।নিঝুম দ্বীপে গেলে আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে হরিণের দেখা পেতে পারেন।নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য মানুষের মনকে মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ করে দেয়।

স্বর্ণ দ্বীপঃ

এ দ্বীপের স্থানীয় নাম জাহাইজ্জার চর।এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত। নব্বইের দশকে এই চরে একটি জাহাজ দূর্ঘটনায় কবলিত হয়ে এই দ্বীপে আটকে যায় আটকে যায়। সেই সময় থেকে এ চরটি জাহাইজ্জার চর নামে পরিচিত লাভ করে।

কমলা রাণীর দিঘীঃ

এই দিঘী নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।এই দিঘী নিয়ে অনেক প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। কথিত আছে রাণী কমলা এই দিঘিতে হারিয়ে যান।এসব প্রচলিত কাহিনির কারনে এই দিঘীটি নোয়াখালীর একটি বিখ্যাত দিঘী হিসেবে পরিচিত।

গান্ধী আশ্রমঃ

এটি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারের কাছে অবস্থিত।গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে  সারা দেশে সুনাম অর্জন করেছে।১৯৪৬ সালের ৭ ই নভেম্বর অহিংস আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধী চৌমুহনীর রেল স্টেশনে আসেন এবং ২৯ জানুয়ারি ১৯৪৭ এ তিনি জয়াগ গ্রামে এসে পৌছান।সেদিন নোয়াখালী জেলার প্রথম ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন।রম্য কাহিনি প্রচলিত রয়েছে যে নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরি করে খেয়েছিলো।

কল্যান্দি জমিদার বাড়িঃ

কল্যান্দি জমিদার বাড়ি নোয়াখালী জেলার নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলাধীন কল্যান্দি গ্রামে অবস্থিত।এটি রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। এই বাড়িটি ২০০ বছর পূর্বে রামেন্দ্র রায় চৌধুরী ও কাঙালী রায় চৌধুরী ২০ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।তাঁরা জনকল্যানে অনেক স্কুল মন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন।এটি নোয়াখালী জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান সমূহের মাঝে অন্যতম।

Hi,

I am Hossain Rakib. I have been writing on Jibhai for about 1 year. This is my site and I am a part of Jibhai.

Thanks

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *