নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান

সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান



বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেকয়টি উপন্যাস রচিত হয়েছে  তা মধ্যে একটি নিষিদ্ধ লোবান। নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাসটি সৈয়দ শামসুল হকের লেখা। নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস ও সৈয়দ শামসুল হক একই সূত্রে বাধা।কারন সৈয়দ শামসুল হক রংপুরে কুড়িগ্রামে ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং এই উপন্যাসটিও রংপুরের একটি জলেশ্বরী অঞ্চলকে নিয়ে লেখা। এই উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একটি অঞ্চল অতিবাহিত করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে। এ উপন্যাসে প্রধান দুটি চরিত্র – বিলকিস আর প্রদীপ (যার ছদ্মনাম সিরাজ)। প্রদীপ যে ছিল হিন্দু। এবং তার ছদ্মনাম সিরাজ দেওয়াতে আমরা বুঝতে পারি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানিরা হিন্দুদের উপর কি ধরনের অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছিল।উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
এখন মূল কথায় আসা যাক-

বিলকিস যাবে জলেশ্বরীতে।ঢাকা থেকে তোরসা জংশনে এসেছে বেলা এগারোটায়

তারপর ৩টায় জলেশ্বরী গাড়ি পাওয়া যায়। সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যেত।কিন্তু এখন কোন কিছুই নিয়মিত পাওয়া যায় না।গাড়ি আসলেও জলেশ্বরীতে যাওয়ার কোনো মনোভাব নেই কারোর। তোরসা থেকে জলেশ্বরী দূরত্ব আরো পাঁচ মাইল। কোথায় কোনো যানও পাওয়া যাচ্ছে না।পায়ে হেটে হলেও বিলকিস যাবে জলেশ্বরীতে।কারন সেখানে তার মা,বোন,ভাই রয়েছে। তারপর সে পায়ে হেটেই জলেশ্বরীর দিকে রওনা দিল।এর মধ্যে সে অনেক কিছু ভাবতে থাকে যে মা,ভাই, বোনের মুখ আর কখনো দেখতে পাবে না। যেমন -তার স্বামী আলতাফ ২৫ শে মার্চ রাত থেকে নিখোঁজ আর কখনো ফিরে আসেনি।

স্টেশন থেকে নামার বিলকিস লক্ষ্য করতেছিল,১৭-১৮ বছর বয়সে একটি ছেলে তাঁকে অনুসরণ করতেছে

হাটার মধ্যেও মনে হচ্ছিল কেউ তার পিছু নিয়েছে এবং বিলকিস দেখতে পেল স্টেশনে যে ছেলেটি তাঁকে অনুসরণ করছিল সে ছেলেটি।যার নাম সিরাজ। তারপর বিলকিস ছেলেটিকে কতগুলো প্রশ্ন করে কিন্তু সে চুপ থাকে। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি বলে উঠল আপনি জলেশ্বরীতে যাবেন না।বিলকিস তার কথা পরোক্ষ করে হাটতে থাকে এবং বলে তাঁকে যেতেই হবে।


এর মধ্যেই বিলকিসের সাথে সিরাজের এমন একটা সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।যা বিলকিসের পথ চলার সহযোগী হয়ে যায়।এবং সিরাজ বিলকিসকে বড় বোনের আসনে আসিন করে।
তারা দুজনেই জলেশ্বরীর দিকে যায় এবং যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে মা,বোন,ভাই কাউকে না দেখে বিলকিস চিন্তিত হয়ে পড়ে। তারপর গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তারা নদীর ওপারে নিরাপদেই আছে।কিন্তু খোকাকে পাকিস্তানি সৈন্যরা মেরে ফেলে। সেই কথা সিরাজ বিলকিসকে জানায়নি। 


কিছুক্ষণ পর তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। অচিরেই তারা একটা পাড়ায় ঢুকে পড়ে(যায় নাম মোক্তার পাড়া)। তারা আলেফ মোক্তার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে যায়।যিনি এককালে মুসলিম লীগের স্থানীয় নেতা ছিলেন। সে এখন চোখে দেখতে পায় না।আলেফ মোক্তার কে পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারী ছেলেরা জুতার মালা গলায় বেধে পুরো গ্রাম ঘুরায়।

সেখান থেকে আমরা দুটি জিনিস দেখতে পায় –

১.বাঙালির জীবন ছিল পাকিস্তানের কাছে ছিল নিতান্ত হাস্যকর এবং মজা করার মতো একটি বিষয়।

২.বিহারীরা কিভাবে পাকিস্তানিরা যখন ক্ষমতায় আসে এবং যখন বাঙালিরা গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তখন বাঙালিদের উপর চরায় করে সেই দৃশ্যটা তুলে ধরে।

আলেফ মোক্তারের বাড়িতে আসার পর বিলকিস জানতে পারে তার ভাই আর নেই। তার ভাইসহ আরো অনেককে হত্যা করে বাজারের মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। বিলকিস পাকিস্তানিদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তার ভাই এর লাশ দাফন করবে।এবং পাকবাহিনীরা কিভাবে তাকে প্রতিরোধ করে সেটাই সে দেখতে চায়।
তারপর বিলকিস এবং সিরাজ মিলে লাশগুলো দাফনের ব্যবস্থা করে তখন লেখক একটি দৃশ্য তুলে ধরে যেখানে তারা একটি পাট গুদামের ভিতর লুকিয়ে থাকে।

এটা থেকা লেখক বুঝিয়েছে বাঙালিদের দীর্ঘ নয় মাসের দম বন্ধ করে থাকার কষ্টটা।


এই উপন্যাসে শেষটা হয় পাকিস্তানের একটি মেজরের মাধ্যমে যে মেজর বিলকিসকে দেখে ভোগ করতে চায়।বিলকিস এবং সিরাজকে সে আটক করে।এবং বিলকিসে দৈহিক সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে বিলকিসকে ভোগ করতে চায়।এখানে লেখক তুলে ধরেছে কীভাবে নারীদেরকে
সম্ভ্রমহানী করেছে, কি ঘৃণিত উপায়ে আমাদের মা-বোনদের উপর তারা অশ্লীলতা করেছে তা ফুটিয়ে তুলেছে এই উপন্যাসে।

উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে সিরাজের মৃত্যু হয়।এবং বিলকিস মেজরকে বলে আমি সিরাজের সৎকারের ব্যবস্থা করব।

তারপর বিলকিস সিরাজকে চিতার উপর রাখে সেসময় বিলকিস মেজরকে নিয়ে চিতার আগুনের উপর ঝাপ দেয়।সে নিজেও বাচঁবে না এবং যে দেশের উপর অন্যায় করেছে থাকেও বাচঁতে দিবে না।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে প্রত্যেক যুবতী মেয়ের যে মানসিকতা ছিল তা তুলে ধরেছে বিলকিসের মাধ্যমে।
এই উপন্যাসটি পড়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাঙালিরা যেভাবে দীর্ঘ নয় মাস অতিক্রম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি।

Hi, I am Mitu,  I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment