নখের যত্ন কিভাবে নিব

নখ ও নখের যত্ন

নখের যত্ন টিপস

হাতের নখের যত্ন

নখ

নখের যত্ন
নখের যত্ন

আমাদের শরীরের আর পাঁচটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো হাত-পায়ের নখও আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।মানুষ ছাড়াও সরীসৃপ, পাখি, প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণীরই নখ/নখর রয়েছে।হাত-পা কিংবা থাবার প্রান্তীদেশে নখের অবস্থান হওয়ায় কোনোকিছু আকরে ধরতে বেশ সুবিধা হয় এবং আঙ্গুলের নরম অংশকে বিভিন্নরকম আঘাত থেকেও রক্ষা করে নখ। নখ আমাদের হাত পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।  নখ সুন্দর, পরিষ্কার থাকলে হাত-পা আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।  শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহন যেমন প্রয়োজন তেমন দেহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও প্রয়োজন।আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে নখের সম্পর্ক আমাদের সবারই কম বেশি জানা আছে।কিন্তু তারপরও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে  নখের বিশেষ কিছু যত্ন সম্পর্কে আমাদের জানা থাকা দরকার।

নখের জৈবরাসায়নিক গঠন 

যদিও  আমাদের নখগুলো পরিণত অবস্থায় মৃতকোষে রূপান্তরিত হয় কিন্তু আমাদের নখ আলফা-কেরোটিন নামক বিশেষ কেরোটিনাস প্লেট। যেটি মূলত একপ্রকার শক্ত প্রোটিন পলিমার।নখের প্রায় ৭-১২%পানি।

নখের বিভিন্ন অংশ 

সাধারণত মানুষের নখের ৪টি প্রধান অংশ থাকে।

*নখের প্লেট(nail plate) -নখের উপরের অংশ 

*নখের খাজ(nail groove) -নখের চারপাশের খাঁজ 

*নখের চাঁদ (lunule)

*এপোনিচিয়াম(eponychium)

এছাড়াও আমাদের নখে প্রাচীর,ফ্রী মার্জিন, সিনাস,ম্যাট্রিক্স ইত্যাদি অংশ থাকে। 

 নখের প্রকারভেদ

নখের আকারের উপর ভিত্তি করে মোটামুটিভাবে নখের ৭টি প্রকার পাওয়া যায়। 

১.ডিম্বাকার(Oval)

২.উপবৃত্তাকার(Almond) 

৩.চারকোণা(Square)

৪.ঈষৎ চারকোণা(Squoval)

৫.Coffin

৬.Stiletto

৭.গোলাকার(Round) 

শরীরে আয়রনর ঘাটতি হলে নখের আকারের পরিবর্তন হতে পারে।

 নখের বৃদ্ধি

আমাদের শরীরের বর্ধনশীল অংশগুলোর মধ্যে নখ অন্যতম।নখের চামড়ার কাছের এপিডার্মিস কোষের বৃদ্ধির কারণে নখ বড় হয়।এই বৃদ্ধির হার নির্ভর করে আঙ্গুলের প্রান্তীয় হাড়ের বৃদ্ধির উপর। সাধারণত মানুষের হাতের নখ পায়ের নখের ৪গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়।একজন সুস্থ মানুষের প্রতি মাসে হাত ও পায়ের নখ বৃদ্ধি পায় যথাক্রমে ৩.৫সে.মি ও১.৬সে.মি।তবে নারী -পুরুষ,বয়স, খাদ্যাভ্যাস,বংশগতির ভিত্তিতে এর ব্যতিক্রম হতে পারে।

নখের কাজ


নখের যত্ন কিভাবে নিব ছবি
নখের যত্ন কিভাবে নিব

হাত-পায়ের নখ আঙ্গুলের  প্রান্ত,আগ্রভাগ,আশেপাশের নরম,নাজুক অংশগুলোকে বাইরের সব আঘাত থেকে রক্ষা করে,সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়, কোনোকিছু আকরে বা মুষ্ঠি করে ধরতে সাহায্য করে।প্রয়োজনে গা চুলকানো কিংবা আত্মরক্ষার জন্য আচরে দিতে,চিমটি/খামচি দিতেও নখের দরকার হয়।

নখের পরিচ্ছন্নতা 

নখের যত্ন ছবি
নখের যত্ন টিপস

আমরা হাত দিয়ে যখন কোনকিছু ধরি তখন সেই বস্তুর সাথে থাকা ময়লা,জীবাণু হাতের সাথে নখেও লেগে যায়। কিংবা দাদ,ফুসকুড়ি, ফাংগাল ইন্ফেকশন যুক্ত স্থানে চুলকালে জীবাণু নখের মাধ্যমে অন্য কারো শরীরে ছড়াতে পারে। তাই হাত-পায়ের নখ কাজ করার সাথে সাথে পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে নখ ধুয়ে  ফেলতে হবে। নিয়মিত নখ কাটতে হবে তবে অতিরিক্ত অংশ না কাটাই ভালো।দাত দিয়ে নখ কাটার বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে৷ ময়লা জমলে সাবান ও হালকা গরম পানিতে নখ ভিজিয়ে  নরম ব্রাশ দিয়ে হালকা মেজে পরিষ্কার করা ভালো। কাদামাটি নখে ডুকলে কাঠি দিয়ে  না খুঁচিয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

নখের যত্ন

নখের যত্ন যেভাবে নিতে হবে
নখের যত্ন

আমরা শরীরের অন্য অংশগুলোর যত যত্ন নেই নখের বেলায় ঠিক উল্টো।সেই ভাবে নখের যত্ন তো দূরে থাক তেমন খেয়ালও করি না নখের প্রতি।ফলাফল হিসেবে নখের বিভিন্ন রোগ,নখ ফাটা,ভেঙ্গে যাওয়া, মরে যাওয়া,নানারকম  ইনফেকমন ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তাই নখের যত্নের উপর জোর দিতে হবে।

নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহন করতে হবে।বেশি করে ভিটামিন বি,ক্যালসিয়াম,আয়োডিন, আয়রন,প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে।প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।  নখ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তবে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে নখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই অধিক সাবান বা ক্ষার জাতীয় পদার্থ এড়িয়ে চলতে হবে। নখের চারপাশের কোণা বা বাড়তি চামড়া টেনে না তুলাই ভালো বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা এই ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। 

নখ কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে নিলে ভালো। কাটার সময় সব নখ সমানভাবে কাটতে হবে নাহলে নখ ভেঙে যেতে পারে। 

নখে প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। যেনতেন ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ ব্যবহার করা ঠিক না।আর মাত্রাতিরিক্ত প্রসাধনী নখ কে ভঙ্গুর করে ফেলে, প্রাকৃতিক রং নষ্ট করে।নকল নখ লাগােল নখে ফাঙ্গাল ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। তবে কোনো ভাবেই এক সপ্তাহের বেশি সময় নখে নেইল পলিশ রাখা যাবে না।রিমুভার দিয়ে নেইল পলিশ উঠাতে হবে ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে না।রিমুভার ব্যবহারের পরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

নখের হলদে ভাব দূর করতে বিলিম্বি,লেবুর রস ব্যবহার করা যায় এতে নখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। তবে নখ পরিষ্কারের পর ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

এছাড়া হালকা গরম পানি, লেবুর রস,কম ক্ষারযুক্ত স্যাম্পু দিয়ে প্যাক বানিয়ে তাতে ১৫-২৫মিনিট হাত-পায়ের নখ ভিজিয়ে রেখে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করলে লক্ষ্যণী ফলাফল পাওয়া যায়। 

বাসার কাজ কিংবা রান্না বান্নার কাজে নারীদের বেশি পানি ধরতে হয়। ফলে নখের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়। তাই পানির কাজ শেষ করে এবং রাতে ঘুমানোর আগে নখে ময়েশ্চারাইজার বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হবে। 

নখ অধিক হলদেটে/নীলচে/সাদাটে হলে,পাতলা কিংবা ভঙ্গুর হলে, নখের উপরে দাগ বা রেখা,উচু-নীচু কোনো অংশ দেখতে পেলে, নখ থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হলে, নখে বড় কোনো আঘাত পেলে কিংবা এইরকম যেকোনো সমস্যা হলে  সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।মনে রাখতে হবে সামান্য অবহেলায় আপনার নখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

নখসহ আপনার শরীরের অন্য সব অঙ্গের যত্ন নিন,সুষম খাবার গ্রহন করুন,নিয়মিত ব্যয়াম করুন। নিয়মতান্ত্রিক জীবন গঠন করুন।কেন না সাস্থ্যই সকল সুখের মূল।

 তামান্না আক্তার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরো পড়ুন

চুলের যত্ন কিভাবে নিবেন?

খুসখুসে কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায়

মাথা ব্যথা সমাধান; ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেই দেখুন

পুনরায় গরম করে খেলে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

নবজাতকের যত্ন

Hi, I am Tamanna, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment