দারিদ্র বিমোচনে সুপারিশ: দারিদ্র বিমোচনের জন্য তুমি কি সুপারিশ করবে?

দারিদ্র বিমোচনে সুপারিশ

দারিদ্র বিমোচনেরর জন্য তুমি কি সুপারিশ করবে? এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়শই বিভিন্ন পরিক্ষায় এসে থাকে। ১০ টি সুপারিশ যা দারিদ্র বিমোচনের জন্য করা যেতে পারে নিম্নে উল্লেখ করা হল।

১। দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন

দারিদ্র বিমোচনে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। এটি বলার অপেক্ষা রাখেনা অর্থনৈতিক উন্নয়ন দারিদ্র বিমোচনের সহায়ক। প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বর্তমান অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো দারিদ্র বিমচনে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে সামগ্রীক উন্নয়ন করতে হলে প্রবৃদ্ধি অর্জন দ্রুততার সাথে জরুরী।

২। প্রবৃদ্ধি সহায়ক কর্মসূচী

দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক খাত সমূহের মধ্যে বাজেট বরাদ্ধ রাখতে হবে যেন তা প্রবৃদ্ধি সহায়ক কর্মসূচী এর আওতায় পরে। যেমন উচ্চফলনশীল বীজ বিতরণ কর্মসূচী বিগত দিনে কৃষিতে ভাল ইতিবাচক উন্নতি ঘটেছে।

৩। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

বাংলাদেশে দারিদ্র হার অনেক বেশি। সারাবছর প্রায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। গ্রামীন পরিবেশ , উপকূল অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা, খড়া, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি অহরহ ঘটে যাতে দারিদ্র জনগন প্রায় অরক্ষিত থাকে। তাদের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরে। এক্ষেত্রে দারিদ্র বিমোচনে জননিরাপত্তা বিষয়ক চিন্তা জরুরী।

৪। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি

বাংলাদেশের অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ খাত হল কৃষি। দারিদ্র জনগন বেশিরভাগ গ্রামে অবস্থান করেন যাদের কৃষির সাথে সম্পৃক্ততা অনেক বেশি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করলে গামীণ মানুষের উন্নয়নে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পরবে যা দারিদ্র বিমোচনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাই দারিদ্র বিমোচনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন।

৫। দ্রুত শিল্পায়ন

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প কারখানা স্থাপন করলে নতুন কর্মসংস্থান যেমন সৃষ্টি হবে তেমনি গ্রামীণ জনগনের কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে যা সামগ্রীকভাবে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। এভাবে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব।

৬। ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী কর্মসূচী

উপযুক্ত বাসস্থান , স্যানেটারি ব্যবস্থা, হাসপাতাল  ইত্যাদি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করে সেই সাথে ঐ এলার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা লোকজনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং লোকজনকে আরো বেশি কর্মক্ষম করে তুলে যা দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

৭। প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার।

প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার মোট জাতীয় উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। অপচয় কমিয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা। উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে যথাযথ ব্যবহার। এভাবে সামগ্রীক উন্নতি নিশ্চিত করে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব।

৮। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

দারিদ্র বিমোচন করতে হলে বাংলদেশের মত জনবহুল রাষ্ট্রে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ধরা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি, এঅবস্থায় দারিদ্র বিমোচনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

৯। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা

দারদ্র বিমোচনে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করলে লোকজন বেশি কাজ করার সুযোগ পাবে, ফলে বেকারত্ব কমবে যা দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক হবে,। একটি দেশের দারিদ্র হার কমানোর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অতীব জরুরী।

১০। জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন

একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ যা দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। 

Leave a Comment