দাবা খেলার নিয়ম এবং পেছনের ইতিহাস

দাবা খেলার নিয়ম

দাবা খেলার ইতিহাস

দাবাখেলার ইতিহাস
দাবা খেলার ইতিহাস

দাবা একটি জনপ্রিয় খেল। দাবা খেলা  বোর্ড বা ফলকের উপর খেলা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে দাবা খেলার সর্বপ্রথম সূচনা হয় ভারতবর্ষে এবং ভারতবর্ষ থেকেই সর্বস্থানে এই দাবা খেলা ছড়িয়ে পরে এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দাবা খেলায় যিনি দাবা খেলেন তাকে দাবাড়ু বলা হয় এবং এই  দাবায় দু’জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। দাবা খেলায়  জিততে হলে বোর্ডের ওপর সকল ঘুঁটি সরিয়ে এবং সুন্দর বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে  চাল দিয়ে বিপক্ষের রাজাকে চক্রবূহের মতো  কোণঠাসা করে এমন আবস্থানে  আনতে হয় যেখান থেকে রাজা আর অন্য কোন স্থানে স্থানান্তরিত হতে পারে না এবং পরাজিত হয়। দাবার ভাষায় এই পরাজিত হওয়াকে কিস্তিমাত বলে এবং ইংরেজি পরিভাষায়  (ইংরেজি: checkmate) ও বলা হয়।

দাবা খেলার নিয়ম ছবি
দাবা খেলা ছবি-২

অধিকাংশ ঐতিহাসকগণ মনে করেন যে প্রাচীণ ভারতবর্ষেই অর্থাৎ আর্য ভারতেই দাবা খেলার জন্ম হয়। কিন্তু ঠিক কোথায় এবং কখন  সর্বপ্রথম দাবা খেলার উৎপত্তি, সেই বিষয়  নিয়ে অনেক  বিতর্ক আছে। প্রাচীন আমলের কিছু  হরফে দাবা খেলার উৎপত্তি  কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং সেই সাথে  এই দাবা  খেলার কিছু গুটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় যার থেকে এই জনপ্রিয়  দাবা  খেলার আদি অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এই অস্তিত্ব নিয়ে অনেক মতামত এবং মতবিরোধ রয়েছে। কিছু  ইতিহাসবিদের ধারণা ভারত, পারস্য অথবা চীনেই দাবার জন্মস্থল। কিন্তু এই জনপ্রিয় খেলা  দাবা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৩৫০ বছর আগে পারস্যের যেমন নিয়মানুযায়ী দাবা খেলা হতো ঠিক তেমনই  রূপের অনুপ্রবেশ দেখা যায়   ইউরোপের দাবা খেলার নিয়মে। এমনকি মুসলিম বিশ্বে এই খেলাটি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।

দাবা খেলার রোলস বা নিয়ম
দাবা খেলা ছবি-৩

বিভিন্ন জাতির এবং বিভিন্ন ইতিহাসবিদদের নানা রকম মত থাকলেও বহু গবেষণার পর গবেষক গন একমত হয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে এই আর্য ভারত অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশই দাবা খেলার উৎপত্তি স্থান।খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে মিশরে দাবা খেলার সন্ধান পাওয়া যায় এবং এই দাবা খেলাটি শতরঞ্জ নামে পরিচিত ছিলো। কিন্তু ভারতবর্ষে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় অর্থাৎ আনুমানিক ষষ্ঠ শতাব্দীর আগেই দাবা খেলার প্রচলন ছিলো এবং তখন এই দাবা খেলাটি চতুরঙ্গ নামে পরিচিত ছিলো। তখন এই দাবা খেলাটিতে হাতি, ঘোড়া, রথ  এবং সৈন্য এই চারটি অংশ ছিল এবং সেজন্যই তখন দাবা খেলাকে চতুরঙ্গ বলা হতো। কালক্রমে এই চতুরঙ্গ খেলাটি বর্তমানে দাবা খেলা নামে পরিচিয় লাভ করে।

দাবা কিভাবে খেলবেন এর নিয়ম
দাবা খেলা ছবি-৪

প্রাচীন ভারতবর্ষের মাধ্যমে এই দাবা খেলাটি পারস্যে পরিচিত লাভ করে কারন তখন পারস্যের সাথে ভারতবর্ষের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেক ভালো ছিলো। তখনকার পারস্যের বনিকদের সাথে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ছিলো।তখনকার পারস্যের বণিকেরা খেলাটি দেখেন, এবং অনেক বেশি পছন্দ করে ফেলেন। অতিদ্রুত তারা দাবা খেলার সব নিয়মকানুন শিখে ফেলেন।কালক্রমে পারস্যে এই খেলার উন্নয়ন সাধিত হয়, এবং ভারতবর্ষে দাবা খেলার  চতুরঙ্গ নামটা পরিবর্তিত হয়ে‘শতরঞ্জ’ হয়ে যায়।

কালক্রমে দাবা খেলাটি সুদূর চীনে পাড়ি দেয় এভং জনপ্রিয়তা লাভ করে। চীনে এই খেলাটির নাম পরিবর্তন হয় এবং নতুন নামকরন হয় জিয়ানকি বা শিয়াংচি নামে। কিন্তু চীন গবেষকরা  দাবি করে, জিয়ানকি তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত খেলা।

দাবা খেলার নিয়ম

দাবা খেলার নিয়ম
দাবা খেলার নিয়ম

বিশ্ব দাবা ফেডারেশন বা ফিদে দাবা খেলার জন্য কিছু নিয়ম নীতির উল্লেখ করেছে এবং দাবা খেলায় সেই সকল নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। সকল  দাবা প্রতিযোগিতাগুলো দাবা ফেডারেশন বা ফিদের তৈরিকৃত  নিয়মে পরিচালিত হয়। সকল দাবা টুর্নামেন্টে একই রকম  নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় আমরা বন্ধুদের সাথে বাসায় বা অনলাইনে খেলার ক্ষেত্রে অনেক নিয়মগুলো  মানা হয়না।

স্পর্শ-চাল

স্পর্শ চালে যদি কোন খেলোয়াড় তার নিজের যেকোনো একটি গুটি ধরেন তাহলে  ঐ গুটি চালানোর জন্য সে বাধ্য থাকবে। যদি একজন খেলোয়াড় তার প্রতিপক্ষের কোনো গুটি ধরেন তাহলে তাকে ঐ গুটি খেতে হবে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় যদি বোর্ডে সমন্বয় করার জন্য গুটি ধরতে চান, তাহলে তখন তার গুটি ধরার আগে সমন্বয় বলতে হবে এবং তার ইচ্ছার কথাও বলতে হবে।

সময় নির্ধারণ

অধিকাংশ টুর্নামেন্টে ঘড়ি ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়।এই নিয়মানুযায়ী  প্রত্যেক খেলোয়াড়কে সম্পূর্ণ খেলা শেষ করার জন্য সমান সময় বরাদ্দ করা হয়ে থাকে এবং এই সময় খেলোয়াড় তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে পারে।উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী  একজন খেলোয়াড় নিজের চাল দেবার পর একটি বোতাম টিপে বা একটি হাতলে চাপ দিয়ে প্রতিপক্ষের ঘড়ি সচল করে দেয়। এক্ষেত্রে যদি কোনো খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায় এবং তার প্রতিপক্ষ সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাহলে যার সময় শেষ হয়ে গেছে তিনি পরাজিত বলে গন্য হবে।

গুটি স্থাপনা

দাবা খেলা বর্গাকৃতি আকৃতির এবং এই খেলায়  ৮টি রো ও ৮টি কলাম থাকে যেখানে  মোট ৬৪টি ঘরের মাধ্যেমে  বোর্ড তৈরী হয়ে থাকে। রো-গুলোর সারি হিসেবে ১ থেকে ৮ সংখ্যার মধ্যে হয়ে থাকে এবং এই দাবা খেলার বোর্ড কাগজের, কাঠের, প্লাস্টিকের মাধ্যেমে তৈরী করা হয়।

দাবা খেলায় যে ৬৪টি বর্গ আকারের  ঘরগুলো রয়েছে, এই ঘরগুলো সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি সাদা এবং অন্যটি কালো। 

গুটি পরিচালনা

দাবা খেলার নিয়ম ছবি
দাবা গুটি পরিচালনা

দাবা খেলার নিয়মানুযায়ী এবং পাশ্চাত্য নিয়ম অনুযায়ী দাবা খেলায়  সাদা গুটিকে  প্রথমে চালানো হয় এবং এই সাদা গুটি চালানোর পর  থেকেই একটি গুটির পর অন্য দলের গুটি চালানো হয়। আবার  ব্যতিক্রম হিসেবে ক্যাসলিঙের সময় দুইটি গুটি পরিচালিত হয়। দাবা খেলার বোর্ডের খালি স্থানে এই  গুটি চালাতে হয়।  প্রতিপক্ষের রাজা আক্রান্ত হয়ে কোন ঘরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে কিস্তিমাত বা চেকমেটের সাহায্যে খেলা শেষ করা হয়।

প্রতিটি দাবার গুটির নিজস্ব চলাচলের শর্ত রয়েছে

১। দাবা খেলায় রাজা শুধু তার ঘরের সাথে যুক্ত যে কোন একটি ঘরে যেতে পারবে। তাছাড়াও ক্যাসলিং এর সাহায্যে রাজা নৌকার সাথে ঘর পরিবর্তন করতে পারেব। 

২। নৌকা অন্য সকল গুটির ন্যায় নয় বরং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য একটি  গুটিকে অতিক্রম না করে সোজাসুজি ভাবে যে কোন ঘরে যেতে পারে। কিন্তু ক্যাসলিং এর সাহায্যে নৌকা রাজার সাথে তাদের স্থান পরিবর্তন করতে পারবে। 

৩। দাবা খেলায় গজ আড়াআড়ি ভাবে যেকোনো  গুটিকে অতিক্রম না করে ঘরে যেতে পারে।

৪। দাবা খেলায় মন্ত্রীর ক্ষমতা সর্বোচ্চ। এই মন্ত্রী, নৌকা এবং হাতির(গজ) এর শক্তি হিসেবে অন্য গুটিকে অতিক্রম না করে সোজাসুজি এবং  আড়াআড়ি যে কোন ঘরে যেতে পারে।

৫। ঘোড়া দুই ঘর যেয়ে ডানে অথবা বামের একটি  ঘরে যেতে পারে।  ঘোড়াই একমাত্র গুটি যেটি অন্য সকল গুটিকে অতিক্রম করে অন্য ঘরে যেতে পারে।

৬। দাবা খেলার নিয়ম অনুসারে বোড়ে মাত্র নিজের এক ঘর করে অতিক্রম করতে পারবে। কিন্তু  ব্যতিক্রম হিসেবে বোড়ে নিজের ঘর থেকে ইচ্ছে করলে দুইবঘর সামনে যেতে পারে তবে এক্ষেত্রে বোড়ের সামনের ঘরগুলো খালি থাকতে হবে। তবে সেই বোড়ের সামনে যদি   প্রতিপক্ষের কোনো  বোড়ে থাকে তবে আর সেউ বোড়ে দুই ঘর অতিক্রম করতে পারবে না। 

বোড়ের পদোন্নতি

দাবা খেলার নিয়ন অনুসারে যখন একটি বোড়ে সকল বাধা অতিক্রম করে ৮ম রাঙ্কে পৌছে যায়, তখন সেউ  খেলোয়াড় ইচ্ছে করলে তার মত অনুসারে বোড়ের  এর পরিবর্তে নিজ দলের মন্ত্রী, নৌকা, হাতি কিংবা ঘোড়ার গুটি বোর্ডে আনতে পারে।

ক্যাসলিং

ক্যাসলিং রাজা এবং নৌকার মধ্যে হয়ে থাকে।সাধারণত রাজা শুধু তার ঘরের সাথে যুক্ত যে কোন একটি ঘরে যেতে পারে। কিন্তু দাবা খেলার নিয়ম অনুসারে  রাজা একটি বিশেষ শর্তে একটি বারের জন্য ক্যাসলিং কিরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। এই ক্যাসলিং করার জন্য রাজা একবারের মতো সুযোগ পায়। ক্যাসলিং এর সময় প্রথম সারিতে থাকা রাজা এবং নৌকার স্থান পরিবর্তন হবে এবং রাজা নৌকার দিকে দুইঘর যেতে পারবে। 

তবে, ক্যাসলিং তখনই সম্ভব যখন নিম্নলিখিত শর্তগুলি বজায় থাকে,,,

★ দাবা খেলায়, খেলা চলাকালীন সময়ে যদি  রাজা এবং নৌকা নিজের স্থান থেকে  নড়াচড়া করলে আর ক্যাসলিং হবে না।

★অন্য কোন গুটি রাজা এবং নৌকার মাঝে অবস্থান করতে পারবে না অর্থাৎ থাকতে পারবে না।

★রাজা কোন গুটির মাধ্যমে আক্রান্ত থাকতে পারবে না শুধু এই বয় রাজা কোন অবস্থানে কিস্তিপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতে পারবে না এবং যে ঘরে গেলে সে কিস্তিপ্রাপ্ত হয় সেই ঘরে সে যেতে পারবে না।

Disclaimer: Image source Pixabay free photos

Call of Duty – কল অফ ডিউটি

An Ancient Epic – এনসিয়েন্ট এপিক Game Review 2021

প্রিন্স অফ পার্সিয়া স্যান্ডস অফ টাইম ২০০৩

Prince of Persia trilogy game Review in Bengali.

Need for Speed Series (1994-Present)

Sourav Das

Hi,

I am Sourav Das. I have been writing on Jibhai for about 1 year. This is my site and I am a part of Jibhai.

Thanks

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *