ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি: খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা।

আমরা সবাই কমবেশি ড্রাগন ফলের নাম শুনেছি। এই ফল দেখতে অনেক আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। ড্রাগন ফল এক ধরনের ফণীমনসা, এটাকে ক্যাক্টাস প্রজাতির ফল বলা হয়। এই ফলের পাতা থাকে না। এটই দেখতে ডিম্বাকার ও লাল রঙের। এর বাইরের খোসা দেখতে রূপকথার ড্রাগনের পিঠের মতোই। তাই একে ড্রাগন ফল বলা হয়। আজকে আপনাদের সাথে ড্রাগন ফল এর বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ড্রাগন ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus। এটি সেন্ট্রাল আমেরিকার একটি একটি ফল। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সেন্ট্রাল আমেরিকায় ফলটির চাষ শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে দক্ষিণ এশিয়ায় এটির চাষ শুরু হয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বৃহৎ আকারে এই ফলের প্রবর্তন করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে ভিয়েতনামে এ ফল সর্বাধিক চাষ করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন, মেক্সিকো, ইসরায়েল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বাংলাদেশেও এই ফল চাষ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কিছুটা দেরিতে এই ফল প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশে প্রথম ড্রাগনগাছ প্রবর্তন করা হয় ২০০৭ সালে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টার এটি প্রবর্তন করেন। এই ফলের জাত আনা হয় থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে। আস্তে আস্তে সেটি থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফল ছড়িয়ে পড়ে।

ড্রাগনগাছ দেখতে ক্যাক্টাসের মতো। অনেকে এই গাছ দেখে চিরসবুজ ক্যাক্টাস মনে করে। ডড়াগন ফলের খোসা নরম। ভেতরটা দেখতে লাল বা সাদা রঙের। ফলের মধ্যে কালিজিরার মতো ছোট ছোট নরম বীজ আছে। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত গোলাপি বর্ণের এই ফল স্বাদে হালকা মিষ্টি। গাছ ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার লম্বা হয়।

ড্রাগনগাছে রাতে ফুল ফোটে। এজন্য এই ফুলকে ‘রাতের রানি’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিং চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে।

জাত

ড্রাগন ফলের তিনটি জাত বা প্রজাতি রয়েছে। তবে এর দুই ধরনের স্বাদ হয়। একটি মিষ্টি অন্যটি টক স্বাদের। মিষ্টি স্বাদের ফলবিশিষ্ট ড্রাগন ফলের তিনটি প্রজাতি রয়েছে।

ড্রাগন ফল
ড্রাগন ফল ছবি-১

১, লাল ড্রাগন ফল। এদের আরেক নাম পিটাইয়া। এ প্রজাতির ফলের খোসার রঙ লাল, শাঁস সাদা। এ প্রজাতির ড্রাগন ফল বেশি চাষ করা হয়।

২,কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। এ ফলের খোসা ও শাঁসের রঙ লাল।

৩, হলুদ ড্রাগন ফল। এ ফলের খোসা হলুদ রঙের ও শাঁসের রঙ সাদা।

Stenocereus ড্রাগন ফল স্বাদে টক। এগুলো টক ড্রাগন ফল বা ‘সাওয়ার পিটাইয়া’ নামে পরিচিত। আমেরিকার ঊষর অঞ্চলে এগুলো পাওয়া যায়। খুব টক বলে মেক্সিকো ও আমেরিকার লোকরা ওই ড্রাগন ফলের রসকে বিভিন্ন শরবত তৈরিতে কাজে লাগায়, কাঁচা বা তাজা ফল খায় না।

আমাদের দেশে বানিজ্যিকভাবে বারি ড্রাগন ফল-১, বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ,বাউ ড্রাগন ফল-২ ( লাল ), বাউ ড্রাগন ফল-৩ চাষ করা হয়।

ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি

ড্রাগন ফল অনেক জনপ্রিয় হলেও, আমাদের দেশে তেমন এই ফলের চাষ হয় না। তবে দিন দিন এই ফল চাষের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকে চাষ করতে চাইলেও সঠিক পদ্ধতি না জানায় শুরু করতে পারেননি। আজ ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি জানাবো।

যে কোন ফসল বা ফল চাষের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

প্রথম ধাপ

ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতিতে প্রথমেই জমি নির্বাচনের দিকে নজর দিতে হবে। চাষের জন্য উপযুক্ত কিনা সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। জমির ক্ষেত্রে উর্বর-অনউর্বর কিংবা উচু-নিচু-সমতল বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মাটির ধরন ও খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- এঁটেল মাটি, দোআঁশ মাটি, বেলে মাটি এগুলোও বিবেচনা করতে হয়। কেননা সব মাটিতে সব ফসল ভাল হয়না। ড্রাগন ফল চাষের জন্য উচু ও মাঝারি উঁচু উর্বর মাটি নির্বাচন করতে হবে। জমিতে যেন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে। প্রথমে জমিতে অন্তত ৩ টি চাষ দিতে হবে। জমি চাষ করা হলে ভালোভাবে মই দিয়ে মাটি সমান করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ

এই ধাপে চারা সংগ্রহ করতে হবে। অনেকেই ড্রাগন ফলের চারা কোথায় পাওয়া যায়, এটি নিয়ে প্রশ্ন করেন। ড্রাগন ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদনের চেয়ে এর কালম কাটিং থেকে চাষ করা বেশি ভালো। এতে সময় কম লাগার পাশাপাশি মাতৃ গুনাগুন বজায় থাকে। এই কাটিং কৃষি অধিদপ্তরে পাওয়া যায়।

তৃতীয় ধাপ

এই ধাপে চারা বা কাটিং রোপণ করার জন্য গর্ত তৈরী করতে হবে।
মই দিয়ে সমান করা মাটিতে ১.৫ মিটার * ১.৫ প্রশস্ত * ১ মিটার আকারে গর্ত করে কয়েকদিন খোলা রাখতে হবে। খোলা রাখার পরে মাটি শুকিয়ে যেতে দিতে হবে। এর ১০-১৫ দিন পর প্রতিটি গর্তে ২৫-৩০ কেজি পচা গোবর, ২৫০ গ্রাম পরিমাণ টিএসপি ও এমওপি এবং ১৫ও গ্রাম জিপসাম ও ৫০ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট মাটির গর্তের মধ্যে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। জায়গা বেশি শুকিয়ে গেলে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

উপরে বর্ণিত কাজ শেষ হইয়ে গেলে ১২-১৫ দিন পর প্রতি গর্তে ৪ টি করে চারা (কাটিং/কলম) সোজা ভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। একটি গর্ত থেকে অন্য গর্তের মাঝে ৫০ সেমি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

নিয়মিত সেচ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোঁড়ায় অতিরিক্ত পানি জম্র পচন না ধরে। আবার পানি কমে গিয়ে যেন শুকনা না থাকে।

ড্রাগন ফলের চারা রোপণের ১ মাস হয়ে গেলে প্রতি তিন মাস পর পর ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস পর পর সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বেশি ফলন ফলে।

চতুর্থ ধাপ

ড্রাগন ফল গাছ লাগানোর পরে নিয়মিত পরিচর্চা করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্চা না করলে আশানুরুপ ফলাফল মিলবে না। ড্রাগন ফল গাছের জন্য আগাছা অনেক ভয়ংকর। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। গবাদি পশুর হাত থেকে গাছ রক্ষা করতে বাগানের চারপাশে দুই থকে আড়াই মিটার উচ্চতার শক্ত বেড়া দিতে হবে।

ড্রাগন গাছ লতানো হয়। তাই গাছ মাটিতে ছড়িয়ে পরে। তবে গাছ মাটিতে ছড়িয়ে পরলে সেখান থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায় না এবং ফলে পচন ধরে। তাই চারার মাঝখানের দিকে ৪ মিটার লম্বা ১ টি সিমেন্টের খুঁটি পুতে দিতে হবে। চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে নারিকেলের বা খড়ের রশি দিয়ে খুঁটির সাথে বেধে দিতে হবে।

খুঁটির মাথায় মোটর সাইকেলের চাকা বা এই জাতীয় মতে গোলাকার কিছু দিয়ে দিতে হবে। চাইলে মোটা তার দিয়েও এটা বানানো যায়। গাছ বড় হয়ে গেলে, গাছের মাথা বা ডগা টায়ারের ভিতরের দিক দিয়ে নিয়ে বাহিরের দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। ঝুলন্ত ডগায় বেশি ফলন ফলে।

পঞ্চম ধাপ

ড্রাগন ফল গাছে খুব বেশি রোগ বালাই হয় না। তবে গোঁড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে গেলে গাছের গোঁড়ায় পচন ধরে। এজন্য উঁচু জমিতে চাষ ও পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা রাখা উচিত।

অনেক সময় গাছে এফিড ও মিলি বাগের আক্রমন দেখা যায়। এফিড গাছের নরম ও কচি শাখা এবং পাতার রস চুষে খেয়ে ফেলে। যার ফলে শাখা আক্রান্ত হয়ে ফ্যাঁকাসে হয়ে যায়। পাশাপাশি গাছ দুর্বল হয়ে যায়। এই পোকা গাছের উপরে মলত্যাগ করলে গুটিমোল্ড নামক ছত্রাক দেখা যায়। এতে গাছের খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।

গাছে ছত্রাক বা গাছ ফ্যাঁকাসে হয়ে গেলে, প্রতি ১০ লিটার পরিমাণ পানিতে ২৫ মিলিলিটার ডেসিস বা ম্যালাথিয়ান কীটনাশক মিশিয়ে গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে।

ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করার এক থেকে দেড় বছর পরে ফল সংগ্রহ করা যায়। ফল সম্পূর্ণ লাল হলে, ফল সংগ্রহ করা উচিত। ফুল ফোটার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়। ১ বছরে ৫ থেকে ৬ বার ফল সংগ্রহ করা যায়।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ড্রাগন ফল স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল উপকারিতার জন্য সারাবিশ্বে সমাদৃত।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা
ড্রাগন ফল ছবি-২

১, ড্রাগন ফলে ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলক কম। এটি ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে যথেষ্ট পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে। এক কাপ ড্রাগন ফলে ক্যালোরি ১৩৬, প্রোটিন ৩ গ্রাম, ফ্যাট শূন্য, ফাইবার ৭ গ্রাম, আয়রন ৮ শতাংশ, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ শতাংশ, ভিটামিন-সি ৯ শতাংশ, ভিটামিন-ই ৪ শতাংশ।

২, ড্রাগন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড এবং বিটাসায়ানিন-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে রয়েছে। এই প্রাকৃতিক পদার্থগুলো মানুষের কোষগুলোকে ফ্রি ব়্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে।

৩, ড্রাগন ফল ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে শরীরে
শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪, এই ফল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি শরীরব ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

৫, ড্রাগন ফল হজমের জন্য বেশ উপকারী। এটি শরীরে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে, যার ফলে হজম ক্ষমতাও ভাল হয়। তাছাড়া এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায়, পরিপাকতন্ত্রকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।

৬, ড্রাগন ফলের ক্ষুদ্র কালো বীজগুলি, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এগুলি হার্টের জন্য খুবই ভাল এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এর ঝুঁকি কমায়। এটি হার্ট সুস্থ রাখে এবং রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

৭, ড্রাগন ফলে ১৮% ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। যা হাড়কে শক্তিশালী করে তোলে। পাশাপাশি হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। তাই জয়েন্টের ব্যথা, ফ্র্যাকচার কিংবা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়।

৮, ড্রাগন ফলে বিটা-ক্যারোটিন আছে। তাই, এই ফল চোখের জন্য উপকারি। চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ছানি পড়ে যাওয়া এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

৯, মানুষের শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণে কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে চুল পড়া কমতে পারে। এই ফল আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার অন্যান্য উপসর্গও প্রশমিত করতে পারে, যেমন – অত্যধিক ক্লান্তি, ত্বকের বিবর্ণতা, মনোনিবেশে সমস্যা, মাথাব্যথা ও হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভূতি।

গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা

অনেকেই হয়তো গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারগুলি জানেন না। এই ফল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অনেক বেশি উপকারি। নিচে এরুপকারগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ড্রাগন ফল
ড্রাগন ফল ছবি-৩

১, অন্যান্য ফলের চেয়ে ড্রাগন ফল বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ। তাই এটি গর্ভাবস্থায় মা এবং সন্তান দুজনের জন্যই পুষ্টির জোগান দেয়। যে বাড়তি পুষ্টি শরীরের জন্য অনেক উপকারি। এতে থাকা ভিটামিন বি-১ ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী, প্রোটিন শোষণকে উদ্দীপিত করে, এবং কার্বোহাইড্রেট পোড়াতে শক্তি তৈরিতে সহায়তা করে।

২, গর্ভাবস্থায় মহিলারা প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পাচনতন্ত্রের সমস্যাগুলির অভিযোগ করেন। এছাড়া হজমের সমস্যাতেও ভুগেন। এই সমস্যা দূর করতে সর্বদা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খাওয়া জরুরি। ড্রাগন ফলের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা গর্ভবতী মহিলাদের খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। ড্রাগনের ফলের একটি অংশে 0.3-0.9 গ্রাম ফাইবার থাকে বলে অনুমান করা হয়।

৩, কার্বোহাইড্রেট মায়ের স্বাস্থ্য রক্ষা, শিশুর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ড্রাগন ফলে থাকা কার্বোহাইড্রেট মা ও শিশু দুজনের জন্যই উপকারি।

৪, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের শরীরে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি, শরীরকে সচল রাখতেও সহায়তা করে। এই ফ্যাট পেটে বাচ্চার মস্তিষ্কের বৃদ্ধি সমর্থন করার জন্য কাজ করে।

৫, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান পূরণ করে ফলিক অ্যাসিড। ফলিক অ্যাসিড বা ফোলেট যা প্রায়শই ভিটামিন বি বলা হয় গর্ভাবস্থায় অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু বা নিউট্রাল টিউব ত্রুটি এবং অকাল জন্মের নিউরাল টিউব ত্রুটিগুলির ঝুঁকি রোধে কার্যকর

সুতরাং, নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে গর্ভবতী আপনার শরীরে ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা মেটাতে একটি ভাল খাদ্য উৎস হতে পারে।

ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম

ড্রাগন ফলের উপকারিতা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই ফল খাওয়ার নিয়ম অনেকেই জানে না। সঠিক নিয়ম মেনে না খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।তাই ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম মেনে খেতে হবে।

ড্রাগন ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নির্বাচনের দিকে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্যই পাকা ফল নির্বাচন করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ পাকা অবস্থায় খেলে সবচেয়ে ভালো স্বাদ হয়। ড্রাগন ফলের উপর আঙুলের চাপে, উপরের অংশে আঙুল ঢুকে গেলে বুঝতে হবে পেকে গেছে। তবে এটি খুব বেশি নরম হলে, এটি অতিরিক্ত পাকা, তাহলে এটা ততটা ভালো হবে না। ফলের বাইরের দিকে বেশি কঠিন হযলে, কয়েকদিন দেরি করে খেতে হবে। ফলের গায়ে কালো দাগ বা ক্ষত, বাদামী শুষ্ক দাগ বা শুকনো কাঁটা থাকলে সেই ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এগুলোর স্বাদ খারাপ হয়। ড্রাগন ফল অর্ধেক করে কেটে ফেলতে হবে। ভিতরে উজ্জ্বল সাদা মাংস দেখতে পাবেন যা ছোট কালো বীজে ভরা।

ড্রাগন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম

ফল কাটার পরে ভেতরের মাংস বের করার জন্য চামচ ব্যবহার করুন। ফল পাকা হলে, চামচ দিয়ে সহজেই খোসা থেকে মাংস আলাদা করা যাবে। এবার আলাদা করা মাংস খান। এটিকে সরাসরি চামচে তুলে মুখে নিয়ে খেয়ে ফেলুন। খেতে দারুন স্বাদ লাগবে।চাইলে আপেলের মতো কেটে নিয়ে খেতে পারেন। ড্রাগন ফলের স্বাদ ঠান্ডা হয়। এই ফল ফ্রিজে রেখে খেলে আরো বেশি স্বাদ পাবেন। ড্রাগন ফলের চামড়া বা উপরের খোসা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আপনারা চাইলে ড্রাগন ফলের কাবাব বানিয়ে খেতে পারেন। আমি আপনাদের রেসিপিটি জানিয়ে দিচ্ছি।

প্রথমে কাবাব বানানোর শিক নিন। শিক না থাকলে কাঠিও ব্যবহার করতে পারেন। কাঠি ব্যবহার করার পূর্বে ১০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। লোহার শিক ব্যবহার করলে ভেজানোর দরকার নেই। ড্রাগন ফল পানিতে ধুয়ে চৌক চৌক করে কেটে নিতে হবে।

কাবাবের জন্য ড্রাগন ফল কাটা হলে, এবার একটা একটা করে শিকে ভরতে হবে। শিকে ভরা হলে গ্যাসের চুলার উপর আগুনে ধরতে হবে। গ্যাসের চুলার বদলে কাঠ বা কয়লাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে আঁচ যেন অতিরিক্ত না হয়। আঁচ মিডিয়াম রাখুন। বারবার খেয়াল রাখুন, যেন পুড়ে না যায়।

এভাবে এক এক করে সবগুলো আগুনে ঝলসে নিন। এবারে উপরে চিনি ছিটিয়ে দিন। চাইলে গরম গরম খেয়ে নিতে পারেন, আবার ফ্রিজ্ব রেখে ঠাণ্ডা করেও খেতে পারেন।

ড্রাগন ফলের দাম

সাধারণত ড্রাগন ফলের দাম বিভিন্ন রকম হয়। সময় ভেদে এই দামের তারতম্য ঘটে। ড্রাগন ফলের দাম আকার ও আকৃতি ভেদে প্রতি কেজি ফল ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, ড্রাগন ফল একটি উপকারি ফল। চাষ করার জন্যও এটি বেশ লাভজনক। তাই আমাদের দেশে ড্রাগন ফল চাষ করে, পুষ্টি গুণাগুণ গ্রহণের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া যায়।

Jubaer Hasan Rabby

পাঠক, লেখক, ইতিবাচক চিন্তাবিদ, আশাবাদী, সংগঠক, দেশপ্রেমিক।

এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Comment