ট্যাটুর ক্ষতিকর প্রভাব

ট্যাটুর ক্ষতিকর প্রভাব

আমরা যদি ট্যাটু বা উল্করি ইতিহাসের উৎস খোঁজ করি তাহলে দেখতে পাই বিভিন্ন আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল আমাদের এই ট্যাটু। অনুপ কুমার দত্তের লেখা “Tottoos-atribal heritage” বইটা পড়লে জানা যায় কিভাবে বিভিন্ন আদিবাসী জাতির মধ্যে উল্কির ব্যাবহার ও প্রচলন হয়েছিল।

ট্যাটু বা উল্কি হচ্ছে এক ধরনরে র্আট। যা কোনো এক ধরনরে অমোচনীয় রং শরীররে ত্বকের রং পরর্বিতন করার জন্য বা ত্বকরে রং পরর্বিতন করতে ব্যাবহার করা হয়।

উল্কি বহু পুরাতন একটি রূপস্বজ্জা। এই উল্কি পদ্ধতি অনেক জাতির মধ্যেই দেখা যায়। এক সময় ক্রীতদাস ও কয়েদিদের শরীরে উল্কি করে দওয়া হত, যা সহজে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়, সারাজীবন বহন করাতে হত। কিন্তু এখন যে কেউ শরীরে উল্কি করতে পার। ইচ্ছা মত রং দায়ে সাজাতে পারে নিজেকে। কিন্তু তারা তাদরে স্বাস্থের ঝুকি নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত নয়। উল্কির রং এর ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে তারা মোটেই চিন্তিত নয়।

রঙ-বেরঙের ট্যাটু বা উল্কি মানুষরে শরীররে জন্য ক্ষতিকর নাকি এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজ্ঞানিরা

এই প্রশ্নটা কি ভয় পাইয়ে দেওয়ার মত না ? এই প্রশ্নটা শুনে যাদের শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আছে তাদের কি ভয় হচ্ছে না যে এর ফল কতটা সুদূরপ্রসারী?

ট্যাটু বা উল্কি প্রায় এক দশক ধরে মানুষরে অন্যতম একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়য়িছে। ছাএছাত্রী থকেে শুরু করে সাধারন মানুষরে দেহে উল্কি দেখা যায়। বিশেষকরে হিরো-হিরোইন এবং খেলোয়ারদের মধ্যে এর প্রচলন বেশি। জার্মানির একটি জরিপ থেকে জানা যায়, ৩৫ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের ১০০ জনের ভেতর ২০ জনের শরীরেই ট্যাটু বা উল্কা রয়েছে।

র্কালসরুয়তে ’হেল ইয়াহ’ নামে একটি ট্যাটু স্টুডিও রয়েছে। এখানকার মালিকের নাম ভিক্টও। তিনি একজন কাস্টমার নিয়ে খুবই ব্যাস্ত। কাস্টমারটি তার হাতের কনুইয়ে একটি কুকুরের উল্কি আঁকিয়ে নিচ্ছিলেন।

উল্কি আঁকার এই রং বা কালি কিভাবে তৈরি হয় ?

ভিক্টও জানালো, যে রং ব্যাবহার করা হোক না কেন তা যেন নিখুত ভাবে চামড়ায় বসে এবং রংটি ভাল নাকি খারাপ তা বোঝার একমাএ উপায় হল রংটি ব্যাবহারের পর যখন শুকিয়ে যাবে। আপনি যত দিন বেঁচে থাকবেন তত দিন এই ট্যাটু বা উল্কি আপনার শরীরেও থাকবে।

সরাসরি বিদ্যুৎ চালিত একটি মেশিনের সাহায্যে ট্যাটু বা উল্ক আঁকা হয়।এটা দেখতে অনেকটা ডেনটিস্টেদের ড্রিল মেশিনের মত, আবার এটাকে মিনি ড্রিল মেশিনও বলা যায়। এই মেশিন গুলার মাথায় থাকে একটি ধারাল ও অতি সূক্ষ্ম সুঁই। এই সুঁই এর মাথায় রঙ লাগানো থাকে।

প্রতিবার সুঁই যখন চামড়ার ভেতর প্রবেশ করে সেই সঙ্গে সঙ্গে রং ও চামড়ার ভেতর প্রবেশ করে।

রং এর পরিমান এক মিলিলিটারের কাছাকাছি। চামড়ার ডের্মিস নামক স্থানে রংটি লাগানো হয়। এটি এমন একটি স্থান যেখানে একবার যে কোন রং প্রবেশ করলে তা আজীবন থেকে যাবে। ভিক্টর আরো বলেন, এটি এমন একটি বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে রং সারাজীবন থেকে যায়।আপনি যত দিন বাঁচবেন এই ট্যাটু বা উল্কি ততদিন আপনার শরীরে থেকে যাবে।

অনেকেই জানে না কিভাবে তৈরি করা হয় এই রং, কি কি প্রয়োগ করে তৈরি করা হয় এই রং।ট্যাটু করতে যে রং ব্যাবহার করা হয় তার সঙ্গে মেশানো হয় ভংকর এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ।

এই রাসায়নিক পদার্থ ধীরে ধীরে চামড়ার ভেতর থেকে শরীরের ভেতরেও প্রবেশ করে। যেহেতু উল্কি সারাজীবন দেহে থেকে যায় সেহেতু এই রাসায়নিক পদার্থও সারাজীবন শরীরে থেকে যাবে। যার ফলে নানান দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয় এমনকি ক্যান্সারের মত জটিল রোগও হতে পারে।

২০১০ সালে একটি গবেষণা করা হয়। এই গবেষণায় প্রায় ৪০ ধরনের রং সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে লাল, হলুদ ও কালো রং বেশি ছিল। এই রং গুলো পরিক্ষা করে যা পাওয়া যায় তা সত্যিকার অর্থে অত্যন্ত ভয়ংকর। পরিক্ষা থেকে পাওয়া যায় একটি পদার্থ, যার নাম এজোডাই। এটি এমনই একটি রাসায়নিক পদার্থ যা মানুষের উপর ব্যাবহার সম্পূর্ন নিষেধ। এই রংটি কোন কিছুর সংস্পর্শে না আসলে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু যখন এটি ট্যাটু বা উল্কি করার মাধ্যমে শরীরে প্রবশে করবে তখন তা মারাত্মক রকমরে ক্ষতিসাধন করতে পার।

আপনি ইচ্ছা করলেই আপনার শরীর থকেে ট্যাটু বা উল্কি মুছে ফলেতে পারবনে না।

কিভাবে শরীর থেকে ট্যাটু বা উল্কি মুছে ফেলা যায়

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি ট্যাটু অনেক দিন ব্যাবহারের ফলে বিরক্তি চলে আসে তাই সে চায় এই ট্যাটু বা উল্কি তুলে ফলেতে। তাই তাকে এবার লেজার রশ্মির সাহায্য নিতে  হয়। এক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

এক্ষত্রে রয়ছেে একটি বিরাট বিপদের হাতছানি। লেজাররশ্মি ব্যাবহাররে ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনরে প্রভাব পড়তে পারে। লেজার রশ্মি ব্যাবহাররে ফলে ক্যান্সার হওয়ার সমূহ সম্ভবনা থাকে।

আসুন এবার দেখা যাক ট্যাটু বা উল্করি ক্ষতি জানার পরওে কোন দেশে কি ব্যাবস্থা গ্রহন করল

রং ব্যাবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপ মহাদেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল শুধুমাএ জার্মানি ছাড়া অন্য কোন দেশে রং এর ব্যাবহারের উপর কোন বিধি-নিষেধ নাই। র্জামানিতে ২০০৯ সাল থেকে ট্যাটু সংক্রান্ত  জাতীয় একটি বিধি-বিধান চালু হয়। র্জামান সংসদর উচ্চকক্ষ বুন্ডসেরাট এ, এই বিষয় সম্পর্কে একটি দিক নির্দেশিনা দেওয়া হয়।এতে বলা হয় রং তৈরিকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে, ট্যাটুতে ব্যাবহার করা পদার্থ স্বাস্থের জন্য ঝুকিপূর্ণ নয়।তাছাড়া এমন সব পদার্থের একটা তালিকা তৈরি করতে হব, যেগুলো ক্ষতিকর নয়।

জার্মান ছাড়া পৃথীবীর অন্য কোন দেশে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নাই ,যা খুবই হতাশাজনক।

Sourav Das

Hi, I am Sourav Das, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment