টরেন্ট কি ? টরেন্ট কিভাবে কাজ করে

টরেন্ট বিষয়টি সমন্ধে পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে

টরেন্ট কি? What is torrent?

কিভাবে কাজ করে? How it is works?

কিভাবে মুভি বা সিনেমা ডাউনলোড করব?

বৈধ নাকি অবৈধ?

  • টরেন্ট কি
  • পীরস কি
  • সীডস কি
  • কিভাবে কাজ করে
  • ফাইল
  • সাইট
  • টরেন্ট অ্যাপ বা সফটওয়ার
  • কিভাবে সহজেই মুভি বা সিনেমা ডাউনলোড করা যায়।
  • সতর্কতা

টরেন্ট কি?

টরেন্ট হলো একটি ডাটা ট্রান্সফার পদ্ধতি যেখানে একজন ক্লাইন্ট তার নির্দিষ্ট উদ্দ্যেশ্যমূলক ডাটা ডাউনলোডে একক সার্ভারের উপর নির্ভর করতে হয়না।

কিভাবে কাজ করে?

বিষয়টা একটু বর্ণণা দেওয়া যাক, মনে করুন আপনি একজন সাধারন ইউজার আপনার মনে হল আজকে আপনি কিছু একটা ডাউনলোড করবেন সেটা হতে পারে  মুভি , গেমস, অডিও, ভিডিও এনিথিং সামথিং লাইক দেট।

এখন আপনার ডাউনলোড প্রসেস হবে,

প্রথমে আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে সিগ্নাল পাঠাবেন , তা কোনো সার্ভারে যাবে এবং ঐ নির্দিষ্ট সার্ভার থেকে ওয়েবপেজটি আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে। অর্থাৎ ঐ নির্দিষ্ট সার্ভার থেকেই আপনি আপনার নির্দিষ্ট ফাইলটি ডাউনলোড করছেন।

সাধারন ডাউনলোড প্রসেস,

ক্লাইন্ট সিগ্নাল>নির্দিষ্ট সার্ভার>নির্দিষ্ট ওয়েবপেজ>ক্লাইন্ট ডাউনলোড।

এবার দেখেন টরেন্ট ডাউনলোড এর ক্ষেত্রে যা ঘটে,

টরেন্ট এর ক্ষেত্রে কোনো একক সার্ভারের উপর নির্ভর করতে হয়না। অর্থাৎ এমন কোনো নির্দিষ্ট সার্ভার থাকেনা যেখান থেকে ক্লাইন্ট তার নির্দিষ্টর ফাইল ডাউনলোড করে।

টরেন্ট সাইটে যারা ডাউনলোড করতে যায় তাদের প্রত্যেকটা কম্পিউটারেই একেকটা সার্ভার। মনে করেন আপনি কোনো এই সাইটে গেলেন মুভি ডাউনলোড করবেন , তাহলে আপনার কম্পিউটারো একটি সার্ভার হিসেবে যোগ হবে।

অর্থাৎ আপনি কিছু ডাউনলোড করার বিনিময়ে আপনি অন্যকেও সুযোগ দিচ্ছেন সেই ফাইলটি আপনার কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করার জন্য। আর এভাবে যতজন আসবে ডাউনলোড করতে ততবেশি ডাউনলোড স্পীড বাড়তে থাকবে। কারন যে আসবে ডাউনলোড করতে তার কম্পিউটার সার্ভার হবে। এভাবে ১০০০ জন আসলে ১০০০টা কম্পিউটার নিয়ে সার্ভার হবে। তখন একজনের জন্য ৯৯৯টি কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করবে , প্রত্যকেই এই শেয়ারিং প্রসেস এ যুক্ত হয়ে নিজের প্রয়োজনীয় ফাইলটি ডাউলোড করে নেয়।

দুটি বিষয় যার উপর নির্ভর করে ডাউনলোড স্পীড

  • পীরস (Peers) এটাকে আবার লিচার্স ও বলা হয়।
  • সীডস (Seeds)

পীরস বা লীচারস হল যারা একিসময়ে ডাউনলোড ও আপলোড করছে। এবং সীডস বা সীডার্স হল যারা শুধু আপলোড করছে। অর্থাৎ যাদের ডাউনলোড করা শেষ কিন্তু এখনো ইন্টার্নেট কানেশন রেখে ফাইলটি টরেন্ট এ কানেক্ট রেখেছে।

এখন কিভাবে ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজনীয় ফাইলটি ডাউনলোড করতে পারি  তা শিখবো। চলুন শিখে নেয় সহজেই টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড করার পদ্ধতি।

টরেন্ট দ্বারা ডাউনলোডের চিত্র
যেভাবে টরেন্ট-ডাউনলোড হয় সিনেমা ,গেমস, অডিও

টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড;

ডাউনলোডের ক্ষেত্রে যে জিনিসগুলা বাধ্যতামূলক, আপনি মোবাইল বা পিসি যা দিয়েই ডাউনলোড করেন তিনটি জিনিসের সংযোগ ঘটাতে হবে।

টরেন্টদিয়ে গেমস , ওডিও ,ভিডিও যাই ডাউনলোড করেন আপনাকে তিনটি ভার্চুয়াল জিনিসের সংযোগ ঘটাতে হবে

  1. টরেন্ট অ্যাপ বা সফটওয়্যার
  2. সাইট
  3. ফাইল
টরেন্ট এপ্স এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য।
টরেন্টঅ্যাপ

টরেন্ট অ্যাপ

আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে প্লেস্টোর থেকে টরেন্ট অ্যাপ বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিতে পারেন। তবে প্রত্যেকটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার এর পিসি এর আলাদা ভার্শন আছে। তাই আপনি কম্পিউটার ব্যবহারকারী হলে ইতিমধ্যে জেনে থাকবেনা কিভাবে সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হয়। ঐ সাধারন নিয়মেই আপনি সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিবেন। আমি কিছু অ্যাপ বা সফটওয়্যারের নাম বলে দিচ্ছি যেগুলো মোবাইল বা পিসি দুক্ষেত্রেই পপুলার। যেমন; qBittorent , Vuze , Deluge , Bitorrent , uTorrent এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের স্পাসালি uTorrent সাজেস্ট করব।

টরেন্টের জনপ্রিয় সাইট সমূহ
টরেন্টসাইট

সাইট

আপনাকে টরেন্ট ফাইলটি ডাউনলোড করা জন্য একটি টরেন্ট ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। এর জন্য স্পেশালি আমি সাজেস্ট করব  Yts , RARBG , 1337x , Torrentz2 , The Pirate Bay এখান থেকে মুভির জন্য বেস্ট সাইট 1337x এবং বাকি গুলো গেমস পাইরেটেড সফটওয়ার বা অন্যকোনো ফাইল এর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে মুভিও পাওয়া যায় কম বেশি। এগুলো খুবি পপুলার সাইট।সাইটের ইন্টার্নাল কিছু প্রব্লেম কারণে প্রায়ই ডোমেইন এক্সটেনশন গুলা চেইঞ্জ করে থাকে। তবে মূল নাম গুলো ঠিক থাকে।

ফাইল

টরেন্ট সাইটে ঢুকে টরেন্ট এর একটা ফাইল ১০০ থেকে ২০০ kb হয়ে থাকে। ডাউনলোড হতে ১ থেকে দু সেকেন্ড সময় লাগে (এটা দিয়ে আপনার মূল ফাইলটি ডাউনলোড শুরু করবেন)। আপনি যা ডাউনলোড করতে চান যেমন মুভি ,অডিও, ভিডিও, গেমস তার জন্য এই ছোট ফাইলটি সাইট থেকে নিয়ে নিবেন।

এবার আপনার ফাইনাল ডাউনলোড প্রসেস স্টার্ট করবেনঃ

তিনটি ভার্চুয়াল জিনিসের সমন্বয় ঘটাবেন,

টরেন্ট সাইটে যাবেন> নির্দিষ্টি ছোট কানেক্টর ফাইলটি ডাউনলোড করবেন>সেটি অ্যাপ বা সফটওয়্যারে কানেক্ট করবেন।

ডাউনলোড শুরু ……… ডাউনলোড স্পিড নির্ভর করবে আপনার আপনার নির্দিষ্ট ফাইলটির সীডার্স এবং লীচার্স এর উপর। তাই সীডার্স রবং লীচার্স বেশি দেখে ডাউনলোড করুন।

এবার আপনাদের জন্য ভিডিওটি দিলাম, আপনাদের প্রয়োজনীয়তা বিষয়টা স্পষ্ট বুজানোর জন্য নিচের ইউটিউব ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখেন, আশাকরি আর সমস্যা থাকবেনা

ভিডিও লিংক এখানে ক্লিক করুন

উল্লেখ্যঃ আপনি চাইলে সরাসরি অ্যাপ বা সফটওয়্যার থেকেও সার্চ দিয়ে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করে কানেক্ট করে নিতে পারবেন, কিন্তু আমি যে পদ্ধতি বলছি সেটি উত্তম বলে মনে করি। তবে একভাবে করলে অন্যভাবে অটোমেটিক শিখ যাবেন এ নিয়ে কোনো প্যারা নাই

টরেন্ট সতর্কতা , টরেন্ট বৈধ নাকি অবৈধ, বিষয়টা বুঝানো হয়েছে
টরেন্ট ব্যবহারে সতর্কতা

সতর্কতা

অনেক অননুমদিত ফাইল থাকে অর্থাৎ পাইরেটেড সফটওয়ার , অডিও , ভিডিও থাকে যা বৈধ নয়। সেক্ষেত্র আপনি যখন সেটা ডাউনলোড করতে যাবেন তখন আপনার কম্পিউটার থেকেও সেটা শেয়ার হবে। তাই কোনো পলিসিতে পরে আপনার বিপদ হতে পারে। কারন আপনার শেয়ার করা রাইট থাকেনা। তাই টরেন্ট ব্যবহার করা ক্ষেত্রে আপনাকে ভিপিএন ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আপনার আসল আইপি ট্র্যাক করা সম্ভব হবেনা। সবসমইয় যে পাইরেটেড সব থাকে এমন না, অনেক বৈধ ফাইল থাকে যা আপনি ডাউনলোড করতে পারেন। তাই আশাকরি এর ইতিবাচক দিক ব্যবহার করবেন।

আমাদের আরো লিখা পড়ুন

আজকে এপর্যন্তই , সবাই ভাল থাকবেন।

এ বিষয়ে আরো কোনো প্রশ্ন থাকলে জানান। আমরা সদা প্রস্তুত আপনাদের সেবা দিতে।

ধন্যবাদ।

 লেখাঃ

আরমান খান

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

About Admin 1

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

View all posts by Admin 1 →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *