জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রভাবনা

জাতির জনক’ ( Father of Nation’s) হল কোন ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেওয়া একটি উপাধি যিনি কোন দেশ, রাষ্ট্র বা জাতি প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি ভূমিকা পালন করে থাকলে তাদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা জনক কথাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

“পাতের পাত্রিয়া” (জনপ্রিয়, পাত্রিস পাত্রিয়াই), আবার “প্যারেনস পাত্রিয়াইও” লেখা হয়, ছিল “জন্মভূমির জনক”-এর রোমান উপাধি। এটি প্রথমে সিনেট অফ হিরোস এবং পরবর্তীতে রোমান সম্রাট অনুমোদন দিয়েছিলেন।অনেক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাষ্ট্রে বিদ্যমান সকল বংশধরদের কাল্পনিক পূর্বপুরুষ হিসেবে মনে করা হয়। যেমন, পর্তুগাল-এর লুসাস, পোল্যান্ড, চেক ল্যান্ডন ও রাস-এর লেক, চেক এন্ড রাস।  ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান শেখ মুজিবুর রহমানকে “জাতির জনক” হিসেবে ঘোষণা করে। মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রতিবাদের মুখেও ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার এটি অপসারন করেছিল।

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ই মার্চ ১৯২০–১৫ই আগস্ট ১৯৭৫)ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে শুরু করে ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুজিবকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে কৃতিত্ব দেয়ার পাশাপাশি প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এসকল কারণে তাকে বাংলাদেশের “জাতির জনক” বা “জাতির পিতা” হিসেবে গণ্য করা হয়। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবেই অধিক পরিচিত ছিলেন।বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ। দুটি যমজ শব্দ। প্রায় এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত শব্দযুগল। কিন্তু বাংলাদেশ নামক দেশটার চিন্তা শেখ মুজিবুর রহমানের মাথায় এসেছিল নিজে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার দুই দশক আগেই। ব্রিটিশশাসিত ভারতবর্ষ স্বাধীন হলো ক্ষতি হয়ে। ভারতবর্ষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়েই জন্ম হলো পাকিস্তান আর ভারত নামক দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের। সাতচল্লিশে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের নাগরিক হলেন তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানও। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তরুণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমানের বুঝতে বাকি রইল না, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র একটা পতাকা পেয়েছে। তার একটা জাতীয় সংগীত আছে। আর আছে শরীরহীন পাখির মতো দুটো ডানা। মানুষের কাছে যার পরিচয় পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব পাকিস্তান।

পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই আঘাত হানল বাঙালির ভাষার ওপর। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী কবে তা নিয়ে চারদিকে আলোচনা শুরু হলো। সেটা গড়াল ‘সিএপি’ পর্যন্ত। ‘কনস্টিটিউশনাল অ্যাসেম্বলি অব পাকিস্তান’-এর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তাই নিয়ে বিতর্ক। উর্দু তো হতেই হবে, ইংরেজিও চলতে পারে। এ রকম একটা প্রস্তাব তোলা হলো। সেই প্রস্তাবে সংশোধনী এনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বললেন, বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে। করাচিতে মহম্মদ আলী জিন্নাহর সামনে অনেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব নিয়ে সরব হতে পারেননি। সেদিন অনেকে ভুলে গিয়েছিলেন; দেশ মানুষের। নেতার নয়। রাষ্ট্রের ভাষা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষাকে উপেক্ষা করে করা হয়, তা বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। সেই সময় পাকিস্তানের লোকসংখ্যা ছিল ছয় কোটি নব্বই লাখ। যার মধ্যে চার কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ কথা বলতেন বাংলায়। একটা রাষ্ট্রের ভাষা সেই ভাষা হওয়া উচিত, যে ভাষায় বেশি মানুষ কথা বলেন। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পাল্টা যুক্তি হিসেবে ভাষার সঙ্গে ধর্ম, জাতীয় ঐক্য জুড়ে দিলেন। বললেন, ‘উপমহাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের দাবিতে পাকিস্তানের জন্ম। এবং তাদের ভাষা উর্দু। সুতরাং বেশিরভাগ জনগণ যে ভাষায় কথা বলেন, তাকে প্রাধান্য দিলে ভুল হবে। “তিনি পাকিস্তানের গায়ে এঁটে দিতে চাইলেন ‘এক জাতি, এক দেশ, এক ভাষা’র তকমা। ১১ মার্চ গণপরিষদে ‘রাষ্ট্রভাষা উর্দু’ বিল পাসও হলো। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-তরুণরা কোনোভাবেই সেটা মেনে নিতে পারেনি। তরুণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমানও উপলব্ধি করলেন, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রে বাঙালিদের পায়ে আরেকবার পরাধীনতার শেকল পরানো হলো। সেখান থেকেই শুরু করলেন ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করার কাজ। সেটা জেলে থেকে কিংবা রাজপথে থেকেই। উর্দু-ই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ঢাকায় জিন্নাহর এই ঘোষণার প্রতিবাদ করলেন শেখ মুজিব। সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠল মাতৃভাষা আন্দোলনের ‘হৃদয়পুর’। সেখান থেকে বাংলা ভাষা আন্দোলন ধীরে ধীরে সাংগঠনিক রূপ নিতে শুরু করল। নেপথ্যে থেকে কাজটা শুরু করলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষার জন্য সেই আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ধর্ম ভেদাভেদ ভুলে আন্দোলনকে তীব্রতর করল। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আতঙ্ক-ভয় জয় করে বাঙালি মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করল প্রাণ দিয়ে।

পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিকে দাপিয়ে রাখতে অন্য সব ষড়যন্ত্রই করে চলল। ফলে বাঁকাপথে রাজনৈতিক কৌশল কাজে লাগাতে শুরু করল। অনেকেই দেশ ছেড়ে, মাটি ছেড়ে, সংস্কৃতি ছেড়ে, ঘর-সংসার-সম্পদ-জীবিকা ছেড়ে হিংসা-রিরংসার ঘনঘোর অনিশ্চিত অসহায় ভবিষ্যতের দিকে ছুটে গেছেন। বাঙালির মুক্তির কথাটা দারুণভাবে উপলব্ধি করতে শুরু করলেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ সেই সময়ের প্রগতিশীল-মুক্তিচিন্তার রাজনীতিবিদরা। সবাইকে এক প্লাটফর্মে আনার কাজটা শেষ পর্যন্ত করলেন যিনি; তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। মাঝখানে জীবন-যৌবনের দীর্ঘ সময় তাকে কাটাতে হলো জেলে। ছয় দফা দিয়ে তিনি বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের সোপান তৈরি করলেন। তার জন্য ছুটে বেড়ালেন বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। ষড়যন্ত্র শুরু হলো তার বিরুদ্ধে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হলো তাকে। কিন্তু ততদিনে শেখ মুজিবুর রহমান জেনে গিয়েছিলেন বাংলার মানুষ মুক্তির জন্য জেগে উঠেছে। এবং জেল থেকে তাকে মুক্ত করতে গোটা ছাত্র-জনতা একে হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। শেখ মুজিব মুক্ত হয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। শেখ মুজিব থেকে তিনি হয়ে যান ‘বঙ্গবন্ধু’। বাঙালির ম্যান্ডেট ছাড়া বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সেটা ভালো করেই জানতেন তিনি। তাই সত্তরের নির্বাচনে মওলানা ভাসানীসহ অনেকেই যখন নির্বাচন নয়, স্বাধীনতার সেøাগান দিলেন, বঙ্গবন্ধু হাঁটলেন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বাধীন এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে। নির্বাচনে অংশ নিলেন। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেল। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করল। সেই সঙ্গে বাঙালি নিধনের প্রস্তুতি নিলে। আর বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেন। ভেতরে নিজে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সব রূপরেখা চূড়ান্ত করলেন। সেই রাষ্ট্র হবে অসাম্প্রদায়িকতা আর সাম্যের ভিত্তিতে। ধর্মীয় বিভাজনের রাষ্ট্রের পরিণতি কী হতে পারে, বঙ্গবন্ধু সেটা ভালোভাবেই টের পেয়েছিলেন পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। তাই রাষ্ট্র ভাবনায় তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর সাম্যের অধিকারকে।যাতে বাংলা হবে সামগ্রিকভাবে বাঙালি সমাজের জন্য একটা স্বাধীন রাষ্ট্র।

বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার পূর্ণ মর্যাদা দিতে হলে স্বাধীন একটা দেশ ছাড়া সম্ভব নয়। সেটা তিনি বুঝেছিলেন। আর নির্বাচনে জিতে তিনি যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি তা পরিষ্কার করে হয়তো বলেছিলেন ৭ মার্চের ভাষণে। কিন্তু ঠিক চৌদ্দ দিন আগে ওই বছর শহীদ দিবসে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে পরিষ্কার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ’ নামক শব্দটাকে একটা রাষ্ট্রের রূপরেখা যে চূড়ান্ত সেটা স্পষ্ট বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুর একুশে ফেব্রুয়ারির সেই ভাষণে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আজ আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। আপনাদের কাছে আমি এইটুকু বলতে চাই, আমাদের বাংলাদেশের ভাইয়েরা-বোনেরা রক্ত দিয়ে দেখায়ে গেছে দরকার যদি হয় আমরা বাংলার মানুষেরা রক্ত দিতে জানি।

’পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বানাতে হলে যে রক্ত দিতে হবে তাও তিনি জানতেন। তাই ২১ ফেব্রুয়ারিতেই বলেছিলেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ করব। বাংলার ঘরে ঘরে যান। প্রস্তুত হয়ে যান বাংলাদেশের মানুষরা আর শহীদ নয়, গাজী হয়ে মায়ের কোলে ফিরে যেতে হবে।…’ এই যে বারদুয়েক বাংলাদেশ শব্দটা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন এক রাষ্ট্রের কথাই বলে দিয়েছিলেন পরোক্ষভাবে। তিনি জানতেন সাংবিধানিকভাবে বাঙালি তার অধিকার পাবে না। স্বাধিকারের কথা বলে তাই স্বাধীনতার কথাই তিনি বুঝিয়েছিলেন। তবে স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিতে হবে সেটাও জানতেন। সেটা জেনেশুনেই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের মধ্যে থেকেও ‘বাংলাদেশ’ শব্দ উচ্চারণ করেছেন।১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, “আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ”।ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান “বাংলাদেশ” নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।

এই নাম দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে “বাংলা”, এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেশ। এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে “বাংলাদেশ” নামকরণ করা হয়।একই সঙ্গে পাকিস্তানের শাসকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের বাঙালি আর ১৯৭১ সালের বাঙালির মধ্যে পার্থক্য আছে।’ সেই পার্থক্যটা কী? সেটা বুঝতে সেই সময় কোনো সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। ’৫২-তে বাঙালি রক্ত দিয়েছে রাষ্ট্রভাষার জন্য। ’৭১-এ বাঙালির দাবি একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের। সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। রাষ্ট্রটা দাঁড়াবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ওপর। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, সমাজতন্ত্র থাকবে। আর রাষ্ট্রের অন্যতম পিলার হবে ধর্মনিরপেক্ষতা। যার মধ্যে কোনোরকম কিন্তুটিন্তু থাকবে না। স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বারবার কথাটা বলেছেন।বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রভাবনায় ‘বাঙালি’ সব সময় বড় হয়ে ধরা পড়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সেই “বাংলাদেশ” এ বছর হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে যাচ্ছে। অনুন্নত দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশ এবং বর্তমান সময়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অবস্থান করছে বর্তমান সেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ । ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশের আকাশে বাতাসে যেন মিশে আছে এই মানুষটির দৃঢ় নেতৃত্ব ,কমল স্নেহভরা আদর্শ ,অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর এবং স্বপ্নপুরীর মতো একটি দেশের আশা।

সামিউল হক নিঝুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

1 thought on “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রভাবনা”

Leave a Comment