চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস হুমায়ূন আহমেদ

চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস

বইয়ের নাম: চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

ক্যাটগরি: উপন্যাস

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ ই নভেম্বর নেত্রকোণা জেলায়, মৃত্যু ১৯ জুলাই ২০১২ নিউইয়র্কে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

লেখক তার অদম্য লেখনীর দ্বারা প্রথম সারির লেখক দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস তার রোমান্টিক উপন্যাস।

উপন্যাসের মূল চরিত্র ফরহাদ, আসমানি চৈত্র মাসের দ্বিতীয় দিনে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল সেই কারণেই হয়তো তাদের দুজনের জীবন চৈত্রের খরাতাপের মতো । এছাড়াও আরো বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে যেমন, জোবেন আলি, রাহেলা বেগম, জাহানারা, কামরুল ইসলাম, আনিস, মঞ্জু, নান্টু ভাই,নিশা, রানি। উপন্যাসে ফুটে উঠেছে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন সংগ্রাম , ফরহাদ নামের মধ্যবিত্ত যুবকের প্রেমের চিত্র।

কোম্পানির বড় সাহেব এর গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফেরা ভয়াবহ কষ্ট সাধ্য ব্যাপার । দীর্ঘক্ষণ এই কষ্ট সহ্য করে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ফরহাদ বাড়ি পৌছালো। তার বাবা জোবেদ আলি বৃষ্টির মধ্যে ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন ছেলের সাথে খাবেন বলে। ফরহাদ এর সাথে জোবেদ আলির কথা বার্তা জমে ছোট ছেলে গম্ভীর টাইপের ভুরু কুচকে তাকায়।

খাওয়ার টেবিলে বসে বড় কাতল মাছের মাথা দেখে ফরহাদ অবাক সে জিজ্ঞাসা করলো এক বড় মাছ কে এনেছে তার বাবা বললো তার ছোট ভাই মঞ্জু এনেছে। রাহেলা বেগম যখন ফরহাদ কে মাছের মাথা দিতে যাচ্ছিলেন ফরহাদ খাবো না বলে উঠলো মাছের মাথা নাকি জীবন্ত তাই সে আর খাবে না।

তার শরীর ঘিন ঘিন করতে লাগলো শেষ পর্যন্ত তার আর খাওয়া হলো না। ফরহাদ রুমে গিয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করলো কোন চিঠি আছে কি না মা বললো আছে ড্রয়ারে রেখেছে , ফরহাদ রেগে গিয়ে তার মাকে বললো চিঠি আসলে টেবিলের উপর রেখে দিতো পারো না। ফরহাদ ঢাকার বাহিরে থেকে ফিরলে আসমানী তাকে একটা করে চিঠি দেই। ফরহাদ আসামানীর চিঠি নিয়ে পড়তে শুরু করলো। আসমানী খুব গুছিয়ে চিঠি লিখেছে, এই যে বাবু সাহেব, আপনি ঢাকায় ফিরেছেন? আপনার জন্য খুবই দুঃসংবাদ। জাপান থেকে আমার মামা এক সপ্তাহ আগেই চলে এসেছেন। এবং মাকে বলেছেন পাত্র যদি ঠিক থাকে তাহলে এই শুক্রবারেই আসমানীর বিয়ে দিয়ে দাও। হুলস্থূল করার কোন দরকার নেই, একজন কাজি ডেকে এনে বিয়ে। পরের দিন ভালো কোন রেস্টুরেন্টে রিসিপশন। রিসিপশনের খরচ আমি দিবো। মা মনে হয় রাজি, কাজেই এই শুক্রবার তোমার বিয়ে। বাবু সাহেব এখন তোমাকে জরুরি কথা বলছি তুমি চিঠিটা যখনই পাবে তখনই আমাদের বাসায় চলে আসবে।রাত তিনটায় আসলে রাত তিনটায় আসবে। কারণ তোমার মুখ দেখতে ইচ্ছে করছে।

আচ্ছা শোন তো আমার সোনার বাংলা পরের লাইন টা যেন কি?

ইতি তোমার

“আ”

কিন্তু ফরহাদের ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস শুক্রবারে বিয়ের দিন তার দাদা মারা গেলো, আসমানি ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়লো, তারা যেই দুর সম্পর্কের আত্নীয়র বাড়িতে ছিলো তাদের আশ্রয় স্থল ছেড়ে দিতো হলো। দুঃখ যখন আসে তখন একসাথেই আসে।

মানুষের জীবনটাই হয়তো এমন কখন যে কোন দিকে মোড় নেয় কেউ জানে না। বিশ্বের যিনি নিয়ন্ত্রক তিনি হয়তো মানুষের মনে স্বপ্ন ঢুকিয়ে দিয়েই দুরে সরে যান। কিংবা কে বলবে তিনি হয়তো দুরে যান না, খুব কাছেই থাকেন। স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রণায় মানুষ ছটফট করেন তিনিও করেন। কারণ এই স্বপ্ন তিনি নিজে তৈরি করেছেন । স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্ট অবশ্যই তাকেও সইতে হবে।

সালমা আক্তার রিমি

আরো বই রিভিউ পড়ুন

জ্যোৎস্না ছায়ায় ঘাসফুল আনোয়ার হোসেন মিল্টন

অভিনেতা উপন্যাস মুনীরা কায়ছান

বিভা ও বিভ্রম সাদাত হোসাইন

পন্ডিতমশাই উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; প্রধান চরিত্র কুসুম

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

Leave a Comment