চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

চিলেকোঠার সেপাই

বইঃ চিলেকোঠার সেপাই

লেখকঃ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩০৪

প্রথম প্রকাশঃ ১৯৮৬

বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস, চিলেকোঠার সেপাই।এটিই তার প্রথম উপন্যাস।উপন্যাসটি লেখার ধরণে ভিন্নতা উপন্যাসটিকে ভিন্ন রূপ দিয়েছে।

১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুথানের প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত।তখনকার গণআন্দোলনের সাথে কৃষক শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের একাত্নতা প্রকাশ পায় উপন্যাসটিতে।

ঊনসত্তর সালের প্রবল গণঅভ্যুত্থানের যারা প্রধান শক্তি ছিল, সেই শ্রমজীবী জনসাধারণ কীভাবে আন্দোলন-পরবর্তী সময়টিতে প্রতারিত এবং বঞ্চিত হলো, বামপন্থীদের দোদুল্যমানতা আর ভাঙনের ফলে, জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে ধারণ করতে না পারার ফলে অজস্র রক্তপাতের পরও রাজনীতির ময়দান থেকে তাদের পশ্চাদপসরণ ঘটলো, আওয়ামী লীগ প্রধান শক্তি হয়ে উঠলো, উপন্যাসটির উপজীব্য সেই ঐতিহাসিক সময়টুকুই।

মকবুল হোসেনের ছেলে,আবু তালেবের মিছিলে গিয়ে গুলিতে মারা যাওয়া দিয়ে উপন্যাসটির কাহিনি এগিয়ে চলে।ওসমান এ উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান চরিত্র।যে একটি চোটখাট চাকরি করে।

অন্যদিকে এ উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাড্ডি খিজির।যে ওসমানের বাড়িওয়ালা রহমউল্লাহর ভাগ্নে আলাউদ্দিন মিয়ার গয়ারেজে দেখাশোনা করে। আনোয়ার একজন বামপন্হী কর্মী।

রহমতউল্লাহ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের শোষণের মাধ্যমে নিজের অবস্হা ধরে রাখে।ওসমান,হাড্ডি খিজির আনোয়ার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে,নানা বাধা বিপত্তির মধ্যেও।মিলিটারির প্রতিরোধে,গুলিতে প্রাণ দেয় অনেক সাধারণ মানুষ।এমনকি শেষ পর্যায়ে হাড্ডি খিজিরকেও প্রাণ দিতে হয়।

এদিকে আনোয়ারের একবার তার গ্রামে যাওয়ার সুযোগ হয়।এবং সেখানে সে লক্ষ্য করে গ্রাম্য জোতধার খয়বার গাজীর শোষণ এবং অত্যাচার আর এ নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের টালমাটাল সময়ে খয়বার গাজীর প্রতি গ্রামের মানুষের অসন্তোষ।হোসেন আলির এবং তার অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে খয়বার গাজী সাধারণ কৃষকের গরু চুরি করিয়ে ডাকাত মারা চরে গরুর বাথান করে।সেখান থেকে নিজের চুরি যাওয়া গরু ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে প্রাণ যায় পঁচার বাপের।এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসে চেংটু নামক এক যুবক,সাথে করমালি ও আরও কয়েকজন।যে কিনা শোষণ ও অত্যাচারের শিকার সাধারণ কৃষক-শ্রমজীবী মানুষকে একত্রিত করে এবং আলিবক্সের মাধ্যমে হোসেন মিয়াকে খতম করতে পারলেও,নিজের শেষ রক্ষা হয়নি।প্রাণ দিতে হয় চেংটুকে।গণ আদালতে খয়বার গাজীর ফাসির রায় হলেও,কৌশলে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।এবং তাদের আধিপত্য পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে।

এইদিকে রহমতউল্লা পক্ষপাতে পতিত হলে,তার ভাগ্নের সাথে তার মেয়ে সিতারার বিয়ে দেয়।এবং রহমউল্লাহর বিষয়াদি দেখার ভার পরে আলাউদ্দিন মিয়ার উপর। গণঅভ্যুথানের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা ও সাধারণ মানুষের একাত্নতাবোধ উপন্যাসটিকে বিশেষত্ব দেয়।

Jubayer Hossain

University Of Chittagong

আরো পড়ুন

স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাস এইচ এম শামসুর রহমান

সূর্য দীঘল বাড়ি আবু ইসহাক

আমার মুক্তিসংগ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুল হক

জ্যোৎস্না ছায়ায় ঘাসফুল আনোয়ার হোসেন মিল্টন

জুদাইজম লেখক মাসরুর ইশরাক

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

Leave a Comment