চর্যাপদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: বই এর বিষয় বস্তু।।

চর্যাপদ

বুক রিভিউ : চর্যাপদ

সংগ্রহ : হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

অনুবাদ :অতীন্দ্র মজুমদার

সম্পাদনা : আনিসুল হক

পৃষ্ঠা:১২০

বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি নিদর্শন হলো চর্যাপদ

চর্যাপদ এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে যাত্রা শুরু ।

প্রাচীন যুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো এই চর্যাপদ।

কথায় আছে ,”যেখানে দেখিবে ছাই,উড়াইয়া দেখো তাই;পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন!”

আমার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। দৈনন্দিন জীবন আর লকডাউনের এই সময়টাকে কাজে লাগাতে ব‌ই সংগ্রহ করতে গেছিলাম নীলক্ষেত ব‌ই মার্কেটে। পুরাতন ব‌ই ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ সামনে একটা ব‌ই আসলো । আমি জানতাম “চর্যাপদ ” কে এখনও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা যায় নি। কিন্তু আমি দেখে তো অবাক!আমার হাতে তখন এই “চর্যাপদ” এর একটা রূপান্তর করা বই। নিজেকে মনে মনে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল নেপালের রাজদরবার থেকে এখন বইটি উদ্ধার করলাম।

এই “চর্যাপদ”নিয়ে যারা বিভিন্ন বই লিখেছেন তাদের সব গুলো মোটামুটি গবেষণা গ্রন্থ ধরনের ।তাই কখনো আনন্দ নিয়ে এই বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা জাগে নাই । কিন্তু রূপান্তর করা বই টা দেখে মনে হলো ,”এই বিষয়ে আসলেই পড়া উচিত ।”যেই ভাবা সেই কাজ ! কিনে নিলাম এই “চর্যাপদ ” এর রূপান্তর করা বই টি।

চর্যাপদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

“চর্যাপদ” বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন তথা সাহিত্য নিদর্শন। নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতর রচনা এটি। খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলো রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীত শাখাটির সূত্রপাতও হয়েছিলো এই “চর্যাপদ” থেকেই। সে বিবেচনায় এটি একটি ধর্মগ্রন্থজাতীয় রচনা। একই সঙ্গে সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্রাবলি এই পদগুলোতে উজ্জ্বল। এর সাহিত্যগুণ এখনও চিত্তাকর্ষক।১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকার্য যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন। চর্যাপদের প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ প্র মুখ।

বাসায় ফিরে যখন বইটি পড়ছিলাম তখন আমার মনে হচ্ছিল বারবার ,”কতো টা সমৃদ্ধ আমাদের এই বাংলা ভাষা সাহিত্য!”

ব‌ইটার কয়েকটি জিনিস খুব ভালো লাগছে আমার।ব‌ইটাতে সব গুলো পদের ব্যাখা ,টীকা , শব্দের অর্থ ইত্যাদি বর্তমান সময়ে আমাদের চলিত ভাষায় লেখা আছে ।যা থেকে আমার মোটেও বুঝতে কষ্ট হয় নাই এই পদ গুলোতে কি নিয়ে কথা বলা হয়েছে । তাছাড়া একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার জন্য এবং আমার মতো আর যারা সাধারণ পাঠক রয়েছেন তাদের কাছে ব‌ইটি সহজলভ্য এবং সহজে বোধগম্য হবে বলে আমি মনে করি ।আর ব‌ইটির শেষ দিকে কিছু সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দেওয়া আছে ।যা থেকে এই “চর্যাপদ ” এর সময়ের বাংলাদেশের সাহিত্য এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ কেমন ছিল এর ধারণা পাওয়া যাবে।

তবে ব‌ইয়ের শুরুতে যদি “চর্যাপদ” কি এবিষয়ে ও কিছু কথা বলা হতো তবে নতুন পাঠকদের সুবিধা হতো।

তবে লকডাউনে নিজের সাহিত্য সম্পর্কে জানতে ব‌ইটি সবার পড়া উচিত ।

ব‌ইটি আপনারা আমাদের দেশের বিখ্যাত অনলাইন বুকশপ “রকমারি ডট কম” থেকে নিতে পারেন ৫৪৳ দাম রাখবে ওরা।আর নিজে যদি নীলক্ষেত কিংবা আপনার পরিচিত ব‌ইয়ের দোকান থেকে নেন তবে ২০/৩০৳ পেয়ে যাবেন ।

চর্যাপদে মোট কতটি পদ আছে?

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মোট ৪৬টি পূর্ণাঙ্গ ও একটি খণ্ডিত পদ পেয়েছিলেন

নতুন চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?

সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন কি?

চর্যাপদ

চর্যা শব্দের অর্থ কি?

আচরণ

চর্যাপদের পদসংখ্যা কয়টি?

সুকুমার সেনের মতে ৫১ টি এবং শহীদুল্লাহর মতে ৫০ টি

সর্বপ্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন কে?

বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে

চর্যাপদের তিব্বতীয় অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?

প্রবোধচন্দ্র বাকচি

চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন কে?

শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬

চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেন কে?

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬

চর্যাপদের প্রথম পদটি কি?

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল/চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল

চর্যাপদের বাঙালি কবি কে কে?

জয়ানন্দ, শবর পা, লুইপা, ভুসুকু পা

চর্যাপদ রচিত হয় কত সনে?

শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ খ্রীঃ এবং সুনীতিকুমারের মতে ৯৫০-১২০০ খ্রীঃ

আরো পড়ুন

গন উইদ দ্য উইন্ড

দ্য কর্সিকান ব্রাদার্স

মধ্যাহ্ন উপন্যাস হুমায়ুন আহমেদ

আদর্শ হিন্দু হোটেল

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

Leave a Comment