গোয়েন্দা ভিত্তিক সিনেমা

গোয়েন্দা ভিত্তিক সিনেমা বাংলা

বাংলা গোয়েন্দা ভিত্তিক ৩টি সিনেমা

বাংলা সাহিত্যে ফেলুদা ব্যোমকেশ ছাড়াও যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচে গড়া একজন গোয়েন্দা আছে তা বেশিদিন আগে জানার সুযোগ হয়নি।

২০১৩ তে শীর্ষেন্দুর রহস্য সমগ্র বইটা কিনেছিলাম। আর তারপরই পরিচিত হয়েছিলাম শবর দাশগুপ্তর সাথে। অন্য সব গোয়েন্দাদের মতো ইনি প্রাইভেট গোয়েন্দা নন। ইনি লালবাজারের গোয়েন্দা, মানে সোজা কথায় সরকারি গোয়েন্দা, পুলিশের লোক।ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা পরিচালক অরিন্দম শীলকে। সে উদ্যোগ না নিলে হয়তো এতো চমৎকার একজন গোয়েন্দা চরিত্র সিনেমার পর্দায় আসতো না।শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়  অভিনয় নিয়ে বলার কিছুই নেই। ওনার জায়গায় “শবর ” চরিত্রে  অন্যকাউকে মানাবে না। বইয়ে চরিত্রটা এমনভাবে সাজানো হয়েছে, মনে হয়েছে বারবার এটা বাস্তব সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি।২০১৫ সালে “এবার শবর ” সিনেমা দিয়ে রূপালী পর্দায় যাত্রা শুরু বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় একটি গোয়েন্দা চরিত্র ‘শবর দাসগুপ্ত’।সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি সিনেমা নিয়ে এই শবর সিরিজ । নিচে সব গুলোর রিভিউ দেওয়া হলো :

১. এবার শবর (২০১৫)

মুভি রিভিউ  : “এবার শবর”(২০১৫)শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর গোয়েন্দা ভিত্তিক গল্প ‘ঋণ’ থেকে চলচিত্রায়ন করা হয়েছে “এবার শবর” সিনেমা টি । নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাশ্বত চ্যাটার্জি ।

কাহিনী

 “শবর দাশগুপ্ত” একজন নামকরা ডিটেকটিভ। মিতালি ঘোষ নামে একজন মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু কে নিয়েই মূলত ছবির মূল পটভূমি। একটি হত্যার রহস্য বের করতে গিয়ে বের হয়ে নানা অজানা তথ্য ।পরিচালক হিসেবে অরিন্দম শিল পূর্বের মতোই যথার্থ। শাশ্বত চ্যাটার্জির অভিনয় বরাবরের মত অসাধারণ । মিতালি ঘোষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বস্তিকা মুখার্জি । অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আবির চ্যাটার্জি, পায়েল সরকার,রাহুল ব্যানার্জি, জুন মালিয়া, হৃত্তিক চক্রবর্তী প্রমুখ ।আমার কাছে অনেক ভালো লাগেছে সিনেমাটি ।আগা গোড়া রহস্য দিয়ে ঘেরা ।

২. ঈগলের চোখ (২০১৬)

মুভি রিভিউ :” ঈগলের চোখ “(২০১৬)“ঈগলের চোখ” সিনেমা টি শবর সিরিজ এর ২য় সিনেমা ।২০১৬ সালে এটি মুক্তি পায় । শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর সৃষ্টি “শবর দাসগুপ্ত ” নামের গোয়েন্দা চরিত্রের গল্প থেকে এই সিনেমাটির প্লট নেওয়া হয়েছে ।আমি অবশ্য নিশ্চিত নই সিনেমার গল্পের সাথে মূল রচয়িতার গল্পের কতটুকু সামঞ্জস্য আছে। তবে গল্পকার তার গল্পের বর্ণনা করেছেন নিপুণভাবে। একত্রে কয়েকটি বিষয় তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। এ গল্পে আছে সামাজিক বাস্তবতা। কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার-স্যাপার। গল্পকার ঘরে-বাইরের অনেকের চরিত্র দেখাতে চেয়েছেন। পতিতা শুধু পতিতালয়ে নয়, সর্বত্রই থাকে। এমনটিও দেখিয়েছেন। মজার ব্যাপার হল গল্পকার তার গল্পে কিছু বিভ্রান্তি রেখেছেন। “ঈগলের চোখ”এই সিনেমা দেখে একটি ব্যাপার বুঝতে পারা যায় যে, “আমরা যা ভাবি, তা সর্বদা হয় না আবার আমরা যা ভাবি না, তা হতেই পারে।”

কাহিনী সংক্ষেপ

দু’জন মুখোশ পরা লোক এল। হত্যা করল নন্দিনীকে। শিভাঙ্গীর ঘরে গেল। কিন্তু শিভাঙ্গী হরর সিনেমার ডাইনীদের মত বড় বড় চোখে রহস্যময় ভাব এনে হঠাৎ গুলি ছুঁড়ল আততায়ীদের একজনের উপর। আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সে ব্যক্তি বলল, “দুঃসালা..”। কিন্তু অপরজন বুলেটের প্রত্যুত্তর দিয়ে দিল বুলেট দিয়ে।মাইক্রোবাস না যেন কিসের ভেতর এক ললনার ঘাড়ে মাথা দিয়ে ঘুমুচ্ছে  বিশান। তবে মহাশয়ের মুখভঙ্গী সুবিধের নয়। কেমন যেন বিরক্ত। বাড়ীর কাছে এসে ললনাকে তাড়িয়ে দিল। বিরক্ত ভঙ্গিতে বাড়ীতে ঢুকে দেখে গতরাতে ঘটে যাওয়া তান্ডবের নিদর্শন।পুরুষত্বের নিদর্শন ভুঁড়িবান পুলিস বাবু’র কাছে কিং খান’কে দেখার চেয়েও এসব ফালতু ডাকাতির ঘটনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই অতি সহজেই বিশান বাবুর বাড়ীতে ঘটে যাওয়া এই সাধারণ কেসের সমাধান তিনি প্রায় করেই ফেলেছেন। কিন্তু এস.আই সঞ্জীব বাবু একটু বেশিই কৌতুহলী। তার হয়তো মনে হয়েছে ইডেন গার্ডেন এর প্রতি আকর্ষণ বোধ হয় সকলেরই একটু বেশি (ঠিক…এর মত)। তাই হয়তো বড় বাবুরও এখান থেকে যাওয়ার জন্য মন এমন বায়না ধরেছে! অবশেষে আপাতত সাধারণ এ কেসের দায়িত্ব পড়ল আরও বড় এক কর্তাবাবু শবর দাসগুপ্তের উপর।শবর বাবুরও হয়েছে এক সমস্যা। তিনি সর্বদা অপরাধীদের দেখতে পান…। আচ্ছা কি দেখতে পান, কেন দেখতে পান, সে না হয় সিনেমা দেখলেই জানা যাবে।মূলত শবর বাবু একজন বুদ্ধিদীপ্ত কর্মকর্তা। তার তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু তিনি এমন কিছু পেলেন যা ছিল অ-সাধারণ। অর্থাৎ যা সচরাচর ঘটে না। আপাত দৃষ্টিতে এটিকে একটি ডাকাতির ঘটনা মনে হলেও আসলে এটি নয়। এরপর…।মানব সভ্যতার কিছু স্বাভাবিক ব্যাপার আছে, যেগুলো ঘটে আসছে যুগে যুগে। কিন্তু কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপারও আছে। যেগুলো আমাদের চোখে পড়ে না কিংবা সচরাচর ঘটে না বলে আমরা সেসব বুঝি না এবং মানতেও পারি না।আকর্ষণীয় এর দিক দিয়ে বিবেচনা করে প্রায় সকলেই পুরুষদের চেয়েও নারীদেরকে এগিয়ে রাখে। যেন নারীরাই আকর্ষণীয় হতে পারে, পুরুষেরা পারে না। অর্থাৎ, পুরুষেরা এতটা আকর্ষণীয় হতে পারে না, যাতে করে সবাই তাদের উপর হামলে পড়বে। কিন্তু আদতে কি তাই? শুধু সকল পুরুষেরাই নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়? নারীরা হয় না?তবে আমাদের বিশান বাবু এর বিপরীত। তিনি যেন আলো হয়ে আঁধার দূর করার মত এ ধারণাকেও দূর করে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি সকল নারীর প্রতি আকর্ষিত হন না কিংবা হতে চান না। বরং নারীরাই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। যেন তার ভেতর আছে এক মাংসের টুকরো, যা পাওয়ার জন্য মাতোয়ারা হয়ে আছে অনেকগুলো ক্ষুধার্ত সিংহ। কিন্তু তিনি এটিকে কিভাবে নেন কিংবা এই ব্যাপার কদ্দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে, তা নিয়েই এগিয়েছে অরিন্দম শীলের সিনেমা “ঈগলের চোখ” এর গল্প।এবার কথা আসে পরিচালক কিংবা অভিনেতারা তা কতটুকু ফুঁটিয়ে তুলতে পেরেছেন?অভিনয় নিয়ে কোন কথা বলার অবকাশ নেই। শ্বাশ্বত চট্টোপাধ্যায়,অনির্বান ভট্টাচার্য, জয়া আহসান’সহ সকলের অভিনয়ই ভালো ছিল। চরিত্রের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন তারা।

সমালোচনা:

কিন্তু কথা আসে দৃশ্যায়ন নিয়ে। কিছু দৃশ্যায়ন যেমন ছিল দূর্দান্ত, ঠিক তেমনি কিছু দৃশ্যায়ন ছিল অতিরঞ্জিত। পরিচালক কিছু দৃশ্যে ধীর গতি(স্লো মোশন) ব্যবহার করেছেন, যা করার প্রয়োজন ছিল না। আবার কিছু দৃশ্য টেনে বড় করেছেন, যা করার কোন প্রয়োজন ছিল না। তিনি বোধ হয় সিনেমার দৈর্ঘ্য বাড়াতে চেয়েছেন। কিন্তু এমন ধারণা নাকচ হয়ে গিয়েছে সিনেমার শেষাংশে গিয়ে। কারণ এ সিনেমার দৈর্ঘ্য মাত্র ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট। তাই প্রশ্ন জাগে পরিচালক এমনটা করেছেন কেন?কিন্তু আবহ সংগীত এর জন্য যাকে নির্বাচন করা হয়েছিল, তার কর্মে মুগ্ধ হয়েছি। বাদকের বাজানো দৃশ্যের সাথে মানানসই এবং একধরণের রহস্যময় সংগীত সিনেমার প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়তে সহায়ক হয়েছে।সিনেমাটি এক কথায় অসাধারণ ছিল। 

৩. আসছে আবার শবর (২০১৮)

 মুভি রিভিউ :  “আসছে আবার শবর”(২০১৮)  “আসছে আবার শবর” সিনেমা টি কাহিনী নেয়া হয়েছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের “প্রজাপতির মৃত্যু ও পূণর্জন্ম” বই থেকে।শবর সিরিজ এর ৩য় সিনেমা হলো “আসছে আবার শবর” ২০১৮ সালে মুক্তি পায় সিনেমা টি ।এটি  বর্তমানে ‘শবর সিরিজ’ এর শেষ সিনেমা।

কাহিনী সংক্ষেপ:

হঠাৎ করেই বেনিয়াপুকুরে খুন হয়ে গেল একটা মেয়ে। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, মাথাটা পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। রেপ করার পর শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। খুনের প্যাটার্নটা পরিচিত। কিন্তু যাকে সাসপেক্ট ভাবা হচ্ছে সে তো জেলে। তাহলে? এসব নিয়ে ভাবতেই ভাবতেই আরেকটা খুন! এবার চন্দননগরে। তারপর আরেকটা। সাস্পেক্ট পাওয়া যাচ্ছেনা! এই প্রথম কোনো কেসে শবর দাশগুপ্তকে বিচলিত মনে হয়……..’শবর সিরিজ ‘ এর তিনটি সিনেমা ছিল অনবদ্য এবং অসাধারণ ।যারা কোয়ারেন্টাইন বা লকডাউনের এই সময়ে একটু ভালো মানের ক্রাইম, থ্রিলার বাংলা সিনেমা দেখতে হলে দেখতে পারেন ।কোয়ারেন্টাইনের এই বোরিং সময়কে ইন্টারেস্টিং করতে দেখতে পারেন । ভালো লাগবে।

আরো মুভি রিভিউ

সুশান্ত সিং রাজপুত এর সেরা পাচটি সিনেমা-sushant singh rajput movies

Radhe: Your Most Wanted Bhai 2021

Cheeni Bangla movie 2020

সামিউল হক

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

About Sami UL Haque

Hi, I am Sami, I have been writing on Jibhai.com for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai.com.

View all posts by Sami UL Haque →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *