গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা ও যত্ন

গর্ভবতী মা

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

মা হওয়া প্রতিটি মেয়ের জীবনে অন্যরকম অনুভূতি। গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের খাবার ও যত্নের উপর নির্ভর করে শিশুর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন

গর্ভধারণের সময় হতে সন্তান ভূমিষ্ঠ পযর্ন্ত সময়কালের যত্নকে গর্ভকালীন যত্ন বা Antinatal care বলে।প্রত্যেকটি গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ প্রসব এবং প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্যের সেবা নিশ্চিত করা।কোনো জটিলতা দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারন মায়ের সুস্থতার উপর নির্ভর করে বাচ্চার সুস্থতা। তাই মা ও শিশুর সুস্থতা কথা চিন্তা করে গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকে মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।

গর্ভবতী মায়ের যত্ন; বিশেষ করে যে বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে

(১) গর্ভধারণের নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অর্থ্যাৎ গর্ভবতীকে ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিমাসে একবার, ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত পনেরো দিনে একবার এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একবার।


(২) গর্ভকালীন সময়ে প্রথম তিনমাস ও শেষ তিনমাস ভ্রমণে না যাওয়া ভালো। কারন যানবাহনের ভ্রমণ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।


(৩) শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির মধ্যে থাকতে হবে,এতে শিশু স্বভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।


(৪) পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এবং প্রচুর পানি খেতে হবে।অর্থ্যাৎ গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমানে খাবার খাওয়া উচিত।

(৫) ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম,চিকেন পক্স ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা।


(৬) কষ্টকর ও ভারীকাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।


(৭) ৫থেকে ৮ মাসের মধ্যে ২টি টিটি টিকা দিতে হবে।

(৮) সবসময় পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন থাকা। পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন থাকলে মনও ভালো থাকে।


(৯) বিশ্রাম নিতে হবে। দিনে ২ঘন্টা এবং রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।


(১০) গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের দাঁতগুলো নরম হয়ে যায়।তাই দাঁত ও মাড়িয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়ার দরকার।


(১১) স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ক্লিনিকে ডেলিভারি করা নিরাপদ। তা সম্ভব না হলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী দ্বারা ডেলিভারি করানো।

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গর্ভকালীন চেকআপের সময়সূচি


(১)১মঃ৪র্থ মাসে (১৬ সপ্তাহ)
(২)২য়ঃ ৬ষ্ঠ মাসে (২৪সপ্তাহ)
(৩)৩য়ঃ ৮ম মাসে (৩২সপ্তাহ)
(৪)৪র্থঃ৯ম মাসে (৩৬সপ্তাহ)


কথায় আছে “সুস্থ মা,সুস্থ সন্তান “। অর্থ্যাৎ মা সুস্থ থাকলে সন্তানও সুস্থ থাকবে।এজন্য মায়ের যত্ন সবার আগে। পরিবারের প্রত্যেকের উচিত গর্ভবতী মায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা
গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভাবস্থায় একটি মহিলার শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি দরকার হয়।কারন এসময় মায়ের কোষ,ফিটাস,প্লাসেন্টা গঠিত হয়।তাই সাধারণ খাবারের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত খাবার খেতে হয়।যে সকল মায়ের ওজন সঠিক থাকে তাদেরকে গর্ভবতী হওয়ার পর ১১ কেজি ওজন বাড়াতে হয়।আর যাদের ওজন বেশি থাকে বা BMI ২৬-২৯ তাদেরকে ৬-৭ কেজি ওজন বাড়াতে হবে।

গর্ভাবস্থায় খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত তা ট্রাইমিস্টার ভাগ করে

ট্রইমিস্টার কি?


গর্ভাবস্থায় সাধারণত নয় মাসের বেশি হয়ে থাকে। আর এই নয় মাসকে ট্রাইমিস্টার বলে।


ট্রাইমিস্টার তিন ভাগে ভাগ করা হয়

(১) ফার্স্ট ট্রাইমিস্টার(প্রথম তিন মাসকে);

গর্ভাবস্থায় প্রথম দিকে মহিলারা অনেক চিন্তিত থাকে। তারা ভাবে অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে,আর খাবার খেয়ে প্রচুর ওজন বাড়িয়ে ফেলে। এজন্য মা ও বাচ্চা ক্ষতি হতে পারে। এসময় দৈনন্দিন খাবারে সাথে একগ্লাস দুধ ও ১টি ডিম খেতে পারেন। এছাড়া শাকসবজি ও ফলমূল খাবেন।এবং প্রচুর পানি খেতে হবে ৮-১০গ্লাস।আর ফ্লরিক এসিড আছে এমন শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে যেমন-বাদাম,করলা,কিচমিচ, পুদিনা, ক্যাপসিকাম,মিথি ইত্যাদি। কারন এসময় বাচ্চার মাথা ও মেরুদণ্ড গঠন শুরু হয়।


(২) সেকেন্ড ট্রাইমিস্টার (চার মাস থেকে ছয় মাস);

এসময় ২০০-৩০০ ক্যালরি খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বা মহিলা ২২০০ ক্যালরি খাওয়ার প্রয়োজন। আর গর্ভবতী হলে ২৫০০ খাওয়া প্রয়োজন। এসময় ভিটামিন ডি ও মেগা তিন ফেটিক এসিড খেতে হয়। কারন এসময় বাচ্চার ব্রেন বা মস্তিষ্ক ও চোখের গঠন হয়।আর এগঠন সঠিকভাবে হওয়ার জন্য এই পুষ্টিগুলো খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় যেমন-মাছের তেল,সৌযের আলো, দুধ,দই ও গম ইত্যাদি। প্রচুর মাছ খেতে হবে এবং আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।এছাড়া ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান প্রচুর পরিমানে। কারন তখন বাচ্চার হাড় ও মাংস তৈরিতে সাহায্য করে।


(৩) থার্ড ট্রাইমিস্টার (ছয় মাস থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত);

এসময় প্রচুর পানি খেতে হবে। কারন তখন বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আদা চা অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।এসময় আশাঁযুক্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া উচিত। খুবঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন

এছাড়াও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে। যেমন -আমলকী, পেয়ারা, লেবু ইত্যাদি।
এবং প্রতিদিন ৩০০ মি.গ্রা ভিটামিন-এ খাওয়া প্রয়োজন। তারলজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।এর পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুৃম ও বিশ্রাম নেওয়া। কারন মায়ের খাওয়ার উপর নির্ভর করে বাচ্চার /শিশুর শারীরিক গঠন।

মিতু আক্তার

আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

Hi, I am Mitu,  I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment