ক্যালকুলেটর আবিষ্কার, রেডিও মিস্ত্রি কিভাবে ক্যালকুলেটর উদ্ভাবক!

Jerry Merryman

আচ্ছা ধরুন আপনার বয়স এখন ২৫,এবার কল্পনা করুন ১১ বছর বয়সে আপনি কি কি করতে পারতেন ?১১ বছর বয়সে আপনি কি কোন ধরনের যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করতে পারতেন? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার নিজেরই অজানা ,কারণ তখনের অধিকাংশ স্মৃতিই আপনার এখন মনে নেই।

কিন্তু আজ আমরা এমন একজন ব্যাক্তি সম্পর্কে জানব যে কিনা মাএ ১১ বছর বয়সেই হয়ে উঠে শহরের নামকরা রেডিও মেরামত মিস্ত্রি।

তার জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহীত হয়েছে গনিত চর্চা করে।গনিতের যেকোন বিষয়ে সমস্যা সমাধানই ছিল তার আগ্রহের প্রধান বিষয়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন জিনিসের সহায়তা নিয়ে থাকি তার মধ্যে ক্যালকুলেটর অন্যতম।বিভিন্ন জিনিদের মূল্য হিসাব বা গানিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য ক্যালকুলেটর বেশি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।বর্তমান আমরা ক্যালকুলেটরের বেশি ব্যাবহার দেখি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।

ছোট বড় থেকে শুরু করে সব ধরনের হিসাব-নিকাশে ব্যাবহার করা হয় ক্যালকুলেটর।আর এমন একজন মানুষ আবিষ্কার করে এই ক্যালকুলেটর যার কিনা গনিতের প্রতি অগাধ আগ্রহ,আর এই রকম হিসাবী মানুষ হিসাবী যন্ত্র আবিষ্কার করবে না তো কে করবে।

হ্যাঁ আমরা আজ লিখব জেরি মেরিম্যানের কথা।

তিনি পকেট ক্যালকুলেটরের উদ্ভাবক। আধুনিকতম গণকযন্ত্র আবিষ্কারের একজন.জেরি মেরিমান ১৯৩২ সালে ১৭ জুন সেন্ট্রাল টেক্সাসের হার্নে শহরে জন্মগ্রহন করেন।তিনি ছিলেন একজন ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্ভাভক।

তিনি টেক্সাস ইন্সুট্রমেন্টস দলের সদস্য ছিলেন এবং তাদের এই দলই পকেট ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করে ১৯৬৫ সালে। হৃদযন্ত্র ও কিডনি বিকল হয়ে ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মারা যায় জেরি মেরিম্যান

আমরা যদি একটু মহৎ ব্যাক্তিদের জীবন নিয়ে ঘাটাঘাটি করি তাহলে আমরা দেখতে পাই তারা প্রধানত চার দেওয়ালে বন্ধী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাচর্চায় ভরসা রাখে না।

যেমন বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ,বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ আরো অনেকে। এই নিরিখে জেরি মেরিম্যান তাদের অনুসারী। তথাকথিত উচ্চশিক্ষা বা ডিগ্রিধারী সমাজের কাছে খানিকটা অবহেলিত ছিলেন তিনি। জেরি লেখাপড়ায় এতটাই উদাসীন ছিল যে তার বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ পর্যন্ত শেষ করতে পারে নাই।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালইয়ে ভর্তি হয়েছিলেন জেরি,তবে পাঠ সম্পূর্ণ করতে পারে নাই।পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ওশেনোগ্রাফি এবং মিটিয়রোলজি বিভাগে চাকরি করেছিলেন.১৯৬৩ সালে ৩০ বছর বয়স থেকে তিনি যুক্ত হন টেক্সাস ইন্সট্রমেন্টাল সংস্থায় ।গনিতে তার ছিল তীক্ষ্ণ মেধা।

টেক্সাস ইন্সট্যুমেন্টস নামক মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত তিন সহকর্মী জ্যাক কিলবি ,জেমস ভ্যান ট্যাসেল এবং জেরি মেরিম্যান গনকযন্ত্রের প্রাথমিক পেটেন্ট তৈরি করেন ১৯৬৭ সালে এবং চূড়ান্ত পেটেন্ট জমা করেন ১৯৭৪ সালে।

২০১৩ সালে জেরি মেরিম্যান “এনপিআর” কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে ছিলেন ,১৯৬৫ সালের শেষের দিকে আমাদের বস জ্যাক কিলবি হাতে রাখা যায় এমন একটি ক্যালকুলেটর উদ্ভবনের কথা ভাবলেন।আমাদের কয়েকজনকে তিনি ডেকে বললেন ,আমরা একটি ক্যালকুলেটর  আবিষ্কার করব যা দেখতে হবে বইয়ের মত ছোট,ভর হবে খুবই হালকা এবং যা হাতে রাখতে অসুবিধা হবে না।

এখন ভাবতে অবাক লাগে যে,প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সামান্য একটি ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করছি ,প্রকৃতপক্ষে যা ছিল বৈদুতিক মাধ্যমের উল্লেখযোগ্য একটি বিপ্লব।

এই ক্যালকুলেটর আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছিল জ্যাক কিলবি।

তিনি ১৯২৩ সালের ৮ নভেম্বর জন্মগ্রহন করে এবং ২০০৫ সালের ২০ জুন মৃত্যু বরণ করেন।তিনি ২০০০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল লাভ করেন।তার বিষয়ে আরো একটা উল্লেখযোগ্যা তথ্য এখানে দেওয়া দরকার তা হল তিনি তৈরি করেছিলেন ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট যা ভবিষ্যতে কম্পিউটারের অধুনিকীকরনে সহায়ক হয়েছিল।

তার জীবনের দীর্ঘ পথ চলার সঙ্গী হলো তার স্ত্রী ফিলিপ মেরিম্যান।

জেরি মেরিম্যানের প্রসঙ্গে তার স্ত্রী ফিলিপ মেরিম্যান তাদের অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন যে,আমরা দুজন দুপুর ও সন্ধায় খাওয়াদাওয়া শেষে সিনেমা হলে যেতাম সিনেমা দেখতে।অধিকাংশ দিন পুলিশ হলে গিয়ে খুঁজে নিয়ে আসত কারন তাদের রেডিও মেরামত করতে হত জেরিকে।তিনি সর্বদা বলতেন বিখ্যাত হওয়ার কোন লালসা নাই তার।যদি তার বন্ধুরা বলত দারুন কাজ করেছ,তাতেই তিনি খুশি হতেন।

পরিবারের আরেক সদস্য মেলিশা ম্যারিম্যান বলেন,নিজের সম্বন্ধে কখনও দম্ভ এবং আস্ফলন করতে দেখি নাই।সৃজনশীল মানুষের চিন্তা ভাবনা অবারিত,মন উদার ,তাতে আর অবাক হওয়ার কি আছে ।

আত্মীয়-পরিজন এবং বন্ধুরা বলেছেন ,জেরি সর্ব্দা নতুন কিছু করতে চাইত।নতুন কিছু উদ্ভবন ছিল তার কাছে নেশার মত।

জেরির টি আই সহকর্মী এবং বন্ধু ভার্নন পোর্টের বলেছেন ,মেটিরিয়াল সায়েন্স বিষয়ে গবেষণাসূত্রে বহু বিজ্ঞানী,অধ্যাপক,নোবেল পুরষ্কার প্রাপকের সাথে সঙ্গে মেশার সৌভাগ্য হয়েছে।তাদের মধ্যে জেরি মেরিম্যান আমার দেখা অন্যতম সেরা বুদ্ধিমান ব্যাক্তি ছিলেন।তার স্মৃতি শক্তি ছিল আসাধারন।সূর,জটিল তত্ত্ব এমনকি সম্পূর্ণ বিষয় মনে রাখতে সক্ষম ছিলেন তিনি।

তার অন্য এক সহকর্মী এড মিলিস বলেছিলেন,মাএ তিন দিনে সার্কিটের নকশা তৈরী করেছিলেন জেরি।আজ যদিও বেঁচে থাকত তাহলেও বলত ভুলিনি আমি সে রাতগুলা।সামুদ্রিক হারিকেনে হাওয়ার গতিবেগ পরিমান সংক্রান্ত গবেষণাও করেছিলেন তিনি।

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

About Admin 1

I am the Admin Of Jibhai.com and also part of jibhai.com

View all posts by Admin 1 →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *