কোষ বিভাজন কাকে বলে? এক পোস্ট পড়ে সব জানুন

By Tarin Khan

কোষ

কোষ বিভাজন কাকে বলে তা জানবো তবে ভাল করে জানার জন্য প্রথমে কোষ থেকে শুরু করি। প্রতিটি জীব দেহ কোষ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি জীবনের জীবন শুরু হয় একটি মাত্র কোষ হতে। জীবদেহের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হল বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির কার্যক্রম করা। এককোষী জীব থেকে শুরু করে বহুকোষী জীব পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে নানা ধরনের কোষ বিভাজন দেখা যায়। এককোষী জীব বলতে সাধারণত বোঝায় যে জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। আবার অনেক জীব একাদিক কোষ দিয়ে গঠিত, যাদের বলা হয় বহুকোষী জীব।

কোষের আবিষ্কার

বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম ১৬৬৫ সালে কোষ নামটি ব্যবহার করে ছিলেন। রবার্ট হোক তার প্রকাশিত একটি গ্রন্থে ১৬৬৫ সালে কোষের কথা উল্লখ করেন যেই গ্রন্থটির নাম হল মাইক্রোগ্রাফিয়া(Micrographia) । কোষটি একটি কর্ক কোষ ছিল। এটি মূলত একটি মৃত কোষ ছিল। রবার্ট হুক একটি গাছের কাঠের অংশকে পাতলা করে কেটে পরিক্ষা করার সময় দেখতে পেলেন, এই কাঠের অংশটির মধ্যে অসংখ্য ছোট ছোট কুঠুরি বা প্রকোষ্ঠ যা দেখতে মৌমাছির চাকের ন্যায় ছিল। আর এই কারণেই তিনি এটিকে নাম দেন সেল বা প্রকোষ্ঠ। পরবর্তিতে ১৬৭৮ সালে অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক জীবীত কোষ পর্যবেক্ষণ করেন। এরো কিছু সময় পর চূরান্ত কোষ তত্ত্ব আবিষ্কার হওয়ার পূর্বে চেক বিজ্ঞানী Jan Evangelista Purkyne অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে উদ্ভীত কোষ পর্যবেক্ষণ করেন ১৮৩৭ সালে। এসময় তিনি খুবই ছোট ছোট কিছু দানা লক্ষ করেন। বিজ্ঞানী Matthias Jakob Schleiden এবং Theodor Schwann ১৮৩৯ সালে কোষ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রধান করেন।

Contents hide

কোষের আবিষ্কারক কে?

এখানে যেহেতু রবার্ট হুক কোষের অস্তিত্ব সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষণ করেন, তাই রবার্ট হুককে কোষের আবিষ্কারক বলা হয়।

কোষ কাকে বলে?

কোষ হল জীবদেহ গঠনের একক। প্রত্যেকটি কোষই পৃথকভাবে জীবত থাকে। কোষ হল মূলত জীবের নির্মাণ একক, যা অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত, প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নির্মিত এবং নিজেই নিজের প্রজনন ঘটাতে সক্ষম। সুতরাং অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আবৃত, প্রোটোপ্লাজম দিয়ে নির্মিত, এবং জীব দেহের সকল বিপাকীয় কার্যকলাপ ও বংশগতিমূলক তথ্য বহনকারী একককে কোষ বলে।

মানব দেহে প্রায় ৩৭ লক্ষ কোটি কোষ রয়েছে। একটি কোষের ভর হচ্ছে ১ ন্যানোগ্রাম এবং একটি পরিণত কোষের আকার হচ্ছে ১০ মাইক্রোমিটার। এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম কোষ হিসেবে উটপাখির ডিম ই পরিচিত।

এবার আমরা জানবো কোষ বিভাজন কাকে বলে বিস্তারিত।

কোষ বিভাজন কাকে বলে?

কোষ বিভাজন কাকে বলে
কোষ বিভাজন

কোষ বিভাজন সাধারণত বৃহত্তর কোষ চক্রের একটি অংশ। যে প্রক্রিয়া জীব কোষ বিভাজিত হয়ে একটি থেকে দুটি বা চারটি কোষের সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলে। অন্যভাবেও বলা যায়, যে প্রক্রিয়ায় একটি প্যারেন্ট সেল দুই বা ততদিক কন্যা কোষে বিভক্ত হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।

অপত্য কোষ কাকে বলে?

কোষ বিভাজনের ফলে নতুন যে কোষটির সৃষ্টি হয় তাকে অপত্য কোষ ( Daughter Cell) বলে। 

মাতৃকোষ কোষ কাকে বলে?

যে কোষটি বিভাজিত হয়ে অন্য একটি কোষ সৃষ্টি করে তাকে মাতৃকোষ (Mother Cell) বলে।

কোষ বিভাজন কি? 

যে মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবে দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধি ঘটে সেটিই মূলত কোষ বিভাজন।

বিজ্ঞানীরে সামদ্রিক সালামান্ডার (Triturus Maculosa) কোষে ১৮৮২ সালে সর্বপ্রথম বিভাজন লক্ষ করে।

কোষ বিভাজন কত প্রকার ?

কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ
কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ

কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ

কোষ বিভাজন ৩ প্রকার। যথা:

  • মাইটোসিস কোষ বিভাজন
  • মিয়োসিস কোষ বিভাজন
  • অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন

মাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে ?

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি কোষ বিভাজন কাকে বলে ও কত প্রকার। এবার আমরা জানবো মাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন
মাইটোসিস কোষ বিভাজন

যে প্রক্রিয়া মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষ থেকে সৃষ্ট অপত্য কোষে ত্রমোজোম সংখ্যা ও সাইটোপ্লাজমের সংখ্যা একই থাকে, তাই মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমবিভাজন (ইকুয়েশনাল) বা সদৃশ বিভাজন বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে প্রাণী এবং উদ্ভিদ এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৃদ্ধি পায়। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা উদ্ভিদ-এর ভাজক টিস্যুর কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। সাধারণত উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদ এর দেহকোষ বিভাজিত হয় মাইটোসিস প্রক্রিয়ায়।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট

  • মাইটোসিস কোষ বিভাজন একধরণের কোষ বিভাজন পদ্ধতি।
  • মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি মাত্র একবার বিভাজিত হয়।
  • মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
  • মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি ভাবে দুভাগে বিভক্ত হয় ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রমোজোম এর সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান হয়ে থাকে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের স্থান

মাইটোসিস কোষ বিভাজন কোথায় ঘটে?

উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যুর যেমন কান্ড, মূলের অগ্রভাগ, ভ্রনমুকুল ও ভ্রুনমূল, বর্দনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস কোষ বিভাজন হয়। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবের দেহ কোষে ঘটে। প্রানী দেহের দেহ কোষে, ভ্রুণের পরিবর্ধনের সময়, নিম্নশ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের অযৌন জননের সময় এ ধরনের বিভাজন হয়।

কোন কোন কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটেনা?

প্রাণীর স্নায়ু টিস্যুর স্নায়ু কোষে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা ও অনুচক্রিকা এবং উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটেনা।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতি

মাইটোসিস কোষ বিভাজন দুটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়

  1. ক্যারিওকাইনেসিস
  2. সাইটোকাইনেসিস

মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই বিভাজনের প্রথমে ক্যারিওকাইনোসিস এর বিভাজন ঘটে এবং পরবর্তিকালে সাইটোকাইনেসিস এর বিভাজন ঘটে।

ইন্টারফেজ পর্যায় কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্যারিওকাইনোসিসের বিভাজনের আগে কোষের নিউক্লিয়াসের কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয় এই অবস্থাকেই ইন্টারফেজ পর্যায় বলে।

১। ক্যারিওকাইনোসিস কাকে বলে?

কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনোসিস বলে।

বর্ণণার সুবিধার্থে মাইটোসিস কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে আবার ৫টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। পর্যায়গুলো হল:

  1. প্রোফেজ
  2. প্রো-মেটাফেজ
  3. মেটাফেজ
  4. অ্যানাফেজ
  5. টেলোফেজ

প্রোফেজ কাকে বলে ?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ক্যারিওকাইনোসিস এর সময় প্রথম ধাপকে প্রোফেজ বলে।

প্রোফেজ ধাপে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হতে থাকে এবং ক্রোমোজোম থেকে পানি হ্রাস পেতে থাকে, এই পানি হ্রাস পাওয়ার ফলে ক্রোমোজোম গুলো ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে মোটা এবং খাটো হতে শুরু করে। যৌগিক অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে এই ধাপের কার্যকলাপ দেখা সম্ভব হয়। প্রোফেজ পর্যায়ে প্রত্যেকটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি দুভাগে বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড উৎপন্ন করে। এই ধাপে ক্রোমোজোম গুলোর সংখ্যা গণণা করা যায়না। কারণ ক্রোমোজোমগুলো কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকে।

প্রো-মেটাফেজ কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে একেবারে প্রথম দিকে উদ্ভিদ কোষে কতগুলো তন্তুময় প্রোটিন এর সমন্বয়ে দুই মেরু বিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয় এবং সেন্ট্রিওল এবং এস্টার-রে এর উপস্থিত লক্ষ করা যায় তাকে প্রো-মেটাফেজ বলে।

স্পিন্ডল যন্ত্রের দুমেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে ইকুয়েটর বা বিষুবীয় অঞ্চল বলা হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের তন্তুগুলো কোষ কঙ্কালের মাইক্রোটিউবিউল দিয়ে তৈরি। এই তন্তুগুলো এক মেরু থেকে অপর মের পর্যন্ত বিস্তৃত। এরাই মূলত স্পিন্ডল তন্তু। একধরনের তন্তু রয়েছে যা ক্রোমোজোমের স্পিন্ডল যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই তন্তুগুলোকে আকর্ষন তন্তু বা ক্রোমোজোম তন্তু বলা হয়। এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হয়। কোষের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে। প্রাণীকোষে স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি হয় এবং বিভক্ত সেন্ট্রিওল দুটি দুই মেরুতে অবস্থান করে । এবং সেন্ট্রিওল দুটির চারদিক থেকে রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। লেই বিচ্ছুরিত রশ্নিগুলোকে এস্টার-রে বলে।

মেটাফেজ কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিবাজনের তৃতীয় পর্যায়কে মেটাফেজ বলে। মেটাফেজ পর্যায়ে কোষ বিভাজনের সময় প্রথমেই সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। প্রতিটি ক্রোমোজোম এর সেন্ট্রোমিয়ার গুলো বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুর দিকে অবস্থান করে। মেটাফেজ ধাপে ক্রমোজম গুলো সর্বাধিক মোটা এবং খাটো হয়। এপর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দুটির আকর্ষণ কমে যায় এবং বিকর্ষণ শুরু হয়। এই ধাপের শেষদিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয় এবং সেই সাথে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিয়াসের সম্পূর্ণ বিলপ্তি ঘটে। সুতরাং মাইটোসিস কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয় এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিল্পতি ঘটে তাকে মেটাফেজ বলে।

অ্যানাফেজ কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের চতুর্থ দশা যা মেটাফেজ দশার পরে এবং টেলোফেজ দশার পূর্বে শুরু হয় তাকে অ্যানাফেজ বলে। এই ধাপে ক্রোমোজোমগুলোর বিলপ্তি ঘটে ফলে ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে পরে। বিভক্ত ক্রোমোজোমগুলোকে অপত্য ক্রোমোজোম বলা হয়। ক্রোমাটিড গুলোতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। এ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে বিপরিত দিকে সরে যেতে থাকে এবং ক্রোমোজোমগুলোর অর্ধেক এক মেরুর দিকে এবং বাকি অর্ধেক অন্য মেরু দিকে অগ্রসর হয়। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমাল V, L, J বা I এর মতো আকার ধারন করে। এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। প্রত্যেকটিকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাব-মেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক বলা হয়। এই অ্যানাফেজ পর্যায়ের শেষে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরু প্রান্তে অবস্থান করে এবং ক্রোমোজোম এর দৈর্ঘ বৃদ্ধি পায়। অ্যানাফেজ মূলত একটি গ্রিক শব্দ ‘ava’ থেকে এসেছে।

টেলোফেজ কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের নিউক্লিয়াস অর্থাৎ ক্যারিওকাইনেসিস পর্যায়ের শেষ ধাপকে টেলোফেজ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ক্যারিওকাইনেসিস এর সময় যে দশায় একটি মাতৃ নিউক্লিয়াস দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে টেলোফেজ বলে। এ ধাপে প্রোফেজ এর ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিপরীতভাবে ঘটে। ক্রোমোজোম গুলোতে পানি যোজন ঘটে এবং সরু লম্বা আকার ধারন করে। সর্বশেষে ক্রোমোজোম গুলো নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে। এ পর্যায়ে নিউক্লিওলাসে পূণরাবির্ভাব ঘটে এবং নিউক্লিয়ার রেটিকুলামকে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের সৃষ্টি হয়। দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রগুলো ভেঙে যায় এবং ধীরে ধীরে তন্তুগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

২। সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনে সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে। মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হওয়াড় পর কোষের সাইটোপ্লাজমটিও দুভাগে বিভক্ত হয় এবং দুটি কোষের সৃষ্টি করে, এই পদ্ধতিকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

উদ্ভিদ কোষে, কোষ পাত বা কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়।

টেলোফেজ ধাপের শেষ পর্যায়ে বিষুবীয় তলে এন্ডুপ্লাজমিক জালিকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয়ে এবং এরা একত্রে মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে। কোষপ্লেটটি পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে কোষ প্রাচীর গঠন করে এবং মাতৃকোষ থেকে অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিস ক্লিভেজ বা ফারোয়িং পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। প্রাণী কোষে নিউক্লিয়াসের বিভাজনের পাশাপাশি কোষের মাঝামাঝি অংশের কোষ পর্দার উভয় পাশ থেকে দুটি খাজ সৃষ্টি হয়। এই কাজগুলো কোষের ভেতরের দিকে গিয়ে নিরক্ষীয় তল বরাবরে বিস্তৃত হয় এবং মিলিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে?

মিয়োসিস কোষ বিভাজন
মিয়োসিস কোষ বিভাজন

কোষ বিভাজনের যে অবস্থায় একটি জনন মাতৃকোষ পর পর দুধাপে বিভাজিত হয় তাকে মিয়সিস কোষ বিভাজন বলে। প্রথম বিভাজনের সময় সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃ কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয় এবং দ্বিতীয় বিভাজনটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অনুরূপ অর্থাৎ সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষের জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান হয়। যেহেতু মিয়োসিস কোষ বিভাজন একটি মাত্র মাতৃ কোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ পাওয়া যায়, যার প্রতিটি মাতৃকোষের অর্ধেক সংখ্যক ত্রোমোজোম ধারন করে তাই মিয়োসি কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কেন হয়?

আমরা জানি মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। বৃদ্ধি এবং অযৌন জননের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বিকল্প নেই। কিন্তু যৌন জননে পুং ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনের প্রয়োজন হয়। মূলত মিয়োসিস কোষ বিভাজন যৌন জননের একটি প্রক্রিয়া। যদি জনন কোষগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা দেহ কোষের সমান হয় তাহলে জাইগোট কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা একটি জীবের দেহ কোষের দিগুণ হবে। যদি একটি জীবের দেহ কোষ এবং জনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার পুং ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা দিগুন হয় তাহলে বংশধরদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। যেহেতু পুং ও স্ত্রী জনন কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যার অর্ধেক থাকে। তাই জীবের যৌন জননে পুং ও স্ত্রী জনন কোষে মিলন হয়ে জাইগোটে পূর্ণসংখ্যক ক্রোমোজোম পাওয়া যায়। যার ফলে জীবের বংশ পরম্পরায় ত্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে। জনন কোষ সৃষ্টির সময় কোষগুলোর ত্রোমোজোম সংখ্যা যখন অর্ধেক থাকে তখন তাকে হ্যাপ্লয়েড(n) বলে। আর যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষের মিলন ঘটে তখন সে অবস্থাকে ডিপ্লয়েড(2n) বলে। প্রতিটি প্রজাতির বৈশিষ্ট বংশ পরম্পরায় টিকে থাকে মিউসিস কোষ বিভাজনের ফলে। বাস্তবে মাঝেমাঝে কোনো জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যা বেড়ে গিয়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে। ব্যাঙ এর একটি প্রজাতি Xenopus Tropicalis এর ক্রোমোজোম সেট দিগুণ হয়ে Xenopus Laevis প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে।

ক্রোমোজোম বা জেনেটিক বস্তুর সমতা রক্ষা করার এবং জীনগত বৈচিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কোনো প্রজাতি টিকে থাকা বা না থাকা এই মিয়োসিস কোষ বিভাজনের উপর নির্ভর করে। জীবের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয় বলেই মিয়োসিস বিভাজন বিবর্তিত হয়ে জীব জগতে নিজের স্থান করে নিয়েছে।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কোথায় হয়?

মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রধানত জীবের জনন কোষের বা গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে ঘটে। মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের ডিপ্লয়ড মাতৃকোষ থেকে যখন হ্যাপ্লয়ড রেনু উৎপন্ন হয়, তখন জাইগোটে এ বিভাজন ঘটে। সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এবং উন্নত প্রাণীর শুক্রাশয়ে ও ডিম্বাশয়ের মধ্যে মিয়োসিস ঘটে।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে?

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন
অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন

কোষ বিভাজনের যে অবস্থায় এককোষী জীবগুলো বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে তাকেই অ্যামিটোসিস কোষ বিভাজন বলে। এ ধরনের কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াসটি ডাম্বেলের আকার ধারন করে, মাঝখান বরারবর সংকুচিত হয় এবং একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। কোষের নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সাথে সাথে সাইটোপ্লাজমও মাঝ বরাবর সংকুচিত হয়ে দুটি আলাদা কোষে পরিণত হয়। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। তাই অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্য কোষ বিভাজন বলে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক ও অ্যামিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে।

আরো পড়ুন

বিজ্ঞানী নিউটন এর জীবন কাহিনী মজার সব গল্প ১০০% অবাক হবেন

যে নাসা আজ মঙ্গল গ্রহে রাজত্ব করে তার সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল জানে কি!

Leave a Comment