খুসখুসে কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায়

কাশি বিরক্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যা থেকে প্রতিকার আমরা সকলেই চাই।

‘খক’ ‘খক’ শব্দ করে ক্লাসে বা অফিসে কাশছেন অনবরত। আপনার কাশি শব্দে তাকিয়ে তাকে সবাই হা করে।এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কম বেশি সবাই পড়ে থাকে।বিশেষ করে শীত ও বসন্তের সময়টাতে এই খুসখুসে কাশি হয়ে হয়ে থাকে বেশি।কৃত্রিম উপাদানে তৈরি ঔষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব খুসখুসে কাশি।আসুন আমরা জেনে নেই কীভাবে ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে খুসখুসে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবঃ-

(১). আদা

আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লামেটরী উপাদান। যা অস্বস্তিকর খুসখুসে কাশি দূর করতে সাহায্য করবে। আদা টুকরো টুকরো করে তাতে লবণ ছিটিয়ে নেন তারপর ভাল করে চিবিয়ে রস খান। এছাড়াও পরিমানমতো পানিতে আদা কুচি কুচি করে সেটা সেদ্ধ নেন।তারপর পানিটা ছেঁকে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে চায়ের মতো খেয়ে ফেলুন।এভাবে দিনে ৩-৪ বার পান করুন এতে খুসখুসে কাশি অনেকটা কমে যাবে।

(২). মধু

যাতে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা কাশি প্রতিরোধে খুবেই কার্যকরী।তাই হালকা গরম পানি কিংবা চায়ের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এছাড়াও দিনে ৩-৪ বার এক টেবিল চামচ শুধু মধু খেতে পারেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট স্কুল অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধু খাওয়ার পর রাতের মধ্যেই যন্ত্রণাদায়ক কাশি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঘুমও ভালো হয়েছে।তাই কাশি হলেই মধু খেয়ে ফেলুন।

(৩). রসুন

রসুনে থাকা এক্সপেকটোরেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোরিয়ান উপাদান যা খুসখুসে কাশি সরাতে সাহায্য করে।কয়েক কোয়া রসুনকে থেঁতলে করে সামান্য ঘিয়ে মধ্যে ভেজে খেয়ে ফেলুন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারে গবেষণায় দেখা যায়, সর্দি ও কাশি সারাতে রসুনের কার্যকরীতা।

(৪). লেবু

কাশি হলেই আধখানা লেবুর উপর লবণ ছিটিয়ে খেয়ে ফেলুন। কাশি কবে যাবে।

(৫). হলুদ

প্রাচীনকাল অনেকধরনের রোগের ঔষুধ হিসেবে হলুদ ব্যবহার করে আসছে।এক গ্লাস দুধের সঙ্গে আধ চা চামচ হলুদ গুড়ো মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এছাড়াও গার্গাল করতে পারেন। সেক্ষেত্রে গরম পানিতে আধ চামচ হলুদ গুড়ো ও অল্প লবণ মিশিয়ে গার্গল করতে পারেন। এতে খুসখুসে কাশি অনেকটা কমে যাবে।

(৬). পেঁয়াজ

পেঁয়াজের ঝাঁজও খুসখুসে কাশি সারতে সাহায্য করে। হাফ চা চামচ পেঁয়াজের রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এভাবে দিনে দুইবার খেতে পারেন। কাশি কমে যাবে।

(৭). তুলসি পাতা

তুলসি পাতা থেকে রস বের করে নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এভাবে দৈনিক ২-৩ বার খান কাশি ভালো হয়ে যাবে।

(৮). গরম পানির ভাপ

এক বোল পানি নিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নেন।এই ফুটন্ত গরম পানিতে মেন্থেল মিশিয়ে নেন।তারপর মাথার উপর একটি টাওয়েল দিয়ে বড় করে দম নিতে থাকুন। এভাবে ১০-১৫ মিনিট করে ২-৩ বার করুন। গরম পানির ভাপ নিলে সহজেই কফ বের হয়ে আসবে। এবং খুসখুসে কাশিও কমে যাবে।

(৯). পানি পান করুনঃ

সবসময় একটি পানির বোতল হাতের কাছে রাখুন।গলা শুকিয়ে আসলেই পানি পান করুন। কারণ গলা শুকনো থাকলেই কাশি উদ্রেক করে।পানি পান করলে আর কাশি আসবে না।

আরো জানুন করোনাভাইরাসের এই সময়ে সাধারণ সর্দি-কাশি আর গলাব্যথা হলে কী করবেন? এখানে

শুকনো কাশির ওষুধের ব্যপারে জানুন এখানে

শীতে এই যা করবেন না জেনে রাখা উচিত

Hi, I am Mitu,  I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is our site, and I am a part of Jibhai. Thanks

Leave a Comment