কবুতর পালন পদ্ধতি: কবুতরের জাত, সিরাজি, গিরিবাজ কবুতর।

By Hossain Rakib

কবুতর আমাদের সবার পরিচিত পোষা পাখি। পৃথিবীর বুকে পোষা প্রাণী হিসেবে কবুতরের রয়েছে স্বর্ণে খচিত ইতিহাস। কখনো শান্তির প্রতীক হিসেবে, কখনো-বা গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বহনকারী দূর্ধর্ষ গোয়েন্দা আবার কখনো প্রেমিকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বার্তাবহনকারী। ঐতিহাসিক নথি পত্রে দেখা যায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ কবুতর পালন করে আসছে।

ইতিহাস থেকে এটি জানা যায় যে মেসোপটেমিয়ার লোকেরা,মেসোপোটেমিয়া অর্থ হলো দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমি। নদীগুলি হল টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস, যা আধুনিক দিনের ইরাক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সভ্যতার দোলনা হিসাবে বিবেচিত।সে সময় কাল থেকে মানুষ কবুতর পালন করে আসছে।

গ্রীক এবং রোমান সময়ের প্রথম দিকে শান্তি ও যুদ্ধে বার্তাবাহক হিসাবে কবুতরের ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঐতিহ্যটি মধ্যযুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল বলে মনে হয়।১৪ শতকে লিখতে গিয়ে ইংরেজ স্যার জন ম্যান্ডেভিল লিপিবদ্ধ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় পাখিদের ব্যবহার করা হতো। এই দেশগুলির লোকদের যুদ্ধ এবং অবরোধের সময় একটি অদ্ভুত রীতি প্রচলিত ছিলো যখন তারা সাহায্যের জন্য চিঠি বার্তাবাহকদের দিয়ে পাঠাতে সাহস করে না তখনতারা তাদের চিঠি লিখে একটি কবুতরের গলায় বেঁধে দেয় এবং কবুতরটিকে উড়ে যেতে দেয়।কবুতরটি অবিলম্বে সেই জায়গাটি সন্ধান করে যেখানে তারা লালিত-পালিত হয়েছে এবং তাদের মালিকদের দ্বারা তাদের বার্তা থেকে মুক্তি পায় এবং অবরুদ্ধদের জন্য কাঙ্খিত সাহায্য পায়।

কবুতর ছবি
কবুতর ছবি ১

পরবর্তী সময়ে দেখা যায় যে কবুতর পশ্চিম ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষ করে উভয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসে তারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শত্রু-অধিকৃত অঞ্চলে সহানুভূতিশীল এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার একটি পদ্ধতি হিসাবে কবুতর ব্যবহার করেছিলো।

আমাদের শখের অনেকেই শখের বশে কবুতর পালন করেন। এখনস বাণিজ্যিকভাবেও কবুতর পালন করছেন অনেকে। বেকারত্ব দূর করতে কবুতর পালন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। অল্প জায়গা এবং স্বল্প খরচে কবুতর পালন করা যায়। অল্প সময়ে বাচ্চা পাওয়া যায়, বাজারে দামও বেশি।

কবুতর পালনের জন্য বাড়তি শ্রম ও শিক্ষার প্রয়োজনও হয় না। সামান্য নজরদারি আর সতর্ক হলেই কবুতর পালন করে বেকারত্ব দূর করা যায়। অন্যান্য পাখির মতো কবুতর খাদ্যের অপচয় বেশি করে না।

কবুতরের জাত

আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে কবুতরের বিভিন্ন জাত রয়েছে। পৃথিবীতে আনুমানিক ৬-৭শ জাতের কবুতর রয়েছে। আমাদের দেশে জালালি কবুতর উন্নত জাতের দেশি কবুতর হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও মাংস উৎপাদনের জন্য হোমার,কিং, গোলা, ডাউকা,সহ বিভিন্ন জাতের কবুতর রয়েছে।

১. গিরিবাজ কবুতর

অন্যান্য কবুতরের জাতের মতো, এই জাতটিও রক কবুতর থেকে তৈরি হয়েছে। রক জাতটি ভূমধ্যসাগর এবং চীনের মধ্যবর্তী অঞ্চলের স্থানীয় জাত। ১৮৪৫ সালে ইংল্যান্ডে গিরবাজ কবুতর প্রথম সনাক্ত করা ও গবেষণা শুরু হয়।

গিরিবাজ কবুতর ছবি
গিরিবাজ কবুতর ছবি

গিরিবাজ কবুতর আকাশের অনেক উপরে উঠতে পারে এবং অনেক দুর পর্যন্ত যেয়ে আবার ফিরে আসতে পারে।এরা অনেক উড়তে পারে। গিরিবাজ কবুতরকে উড়তে উড়তে আকাশে ডিগবাজি দিতে দেখা যায়। অনেক সময় দুই হাত দিয়ে তালি দিলে তারা আকাসে অনেকগুরো ডিগবাজি দেয় যা বিশ্বয়কর ও আন্দদায়ক।

গিরিবাজ কবুতরের এই বিশেষ বৈশিষ্ট বিশ্বজুরে পাখি প্রেমিদের কাছে পেয়েছে অনন্য মাত্রা।গিরিবাজ কবুতর সারাবিশ্ব অন্যতম রেসার কবুতর হিসেবে পরিচিত গিরিবাজ কবুতরের অনেক জাত রয়েছে।এদের মাঝে অনেক জাতের গিরিবাজ অনেক লম্বা সময় ধরে উড়তে পারে।বিভিন্ন রেস প্রতিযোগিতায় গিরিবাজ কবুতরের ব্যবহার দেখা যায়।

২. লক্ষা কবুতর

লক্ষা কবুতর ছবি
লক্ষা কবুতর ছবি

এ কবুতর বাংলাদেশে ময়ূরপঙ্খি নামে পরিচিত। এর উৎপত্তি স্থল পাকিস্তান, ভারত, স্পেন ও চীন। ময়ূরের মত পেখম মেলে এরা চলাফেরা করে। এই কবুতর নানা রকমের হতে পারে। তবে সাদা ময়ূরপঙ্খি বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক লক্ষা কবুতরের মূল্য ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এই কবুতর পালন করে আয় করতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য আর সঠিকভাবে যত্ন নেয়া।

৩. সিরাজি কবুতর

সিরাজি কবুতরের উৎপত্তি স্থল পাকিস্তানের লাহরে। এজন্য অনেকে একে লাহরি সিরাজিও বলে। এই কবুতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এরা আমাদের দেশের আবহাওয়াইয় খুবই মানানসই। এদের বাচ্চা উৎপাদন হার বছরে ১১ জোড়া। এরা ডিমে তা দেওয়া ও বাচ্চার যত্ন নিতে পারদর্শী।

এই কবুতর বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে, কালো, সিল্ভার ও বাদামি বর্ণের হতে পারে।এই কবুতর আকারে বড় দেখতে আকর্ষনীয়। এদেরকে ফেন্সি জাতের কবুতর বলা হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক সিরাজী কবুতরের মূল্য ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

৪. জালালি কবুতর

এ কবুতরকে ইংরেজিতে Rock Dove বলা হয়ে থাকে।

জালালি কবুতরকে সব রকমের রেসিং কবুতর,ফ্যান্সি কবুতর ও বুনো কবুতরের পূর্বপুরুষ মনে করা হয়।

বাংলাদেশ শতবছরের ঐতিহ্য নিয়ে জালালি কবুতরের ডানার ঝাপটানিতে মুখরিত হয়ে আছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র)-এর মাজার।এই মাঝারে প্রচুর জালালি কবুতরের বসবাস দেখা যায়।এই কবুতর শাহজালাল (র) বাংলাদেশে আসার সময় নিয়ে এসেছেন বলে ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশ্বাস করে।

১৩০৩ ‍ সালে একজোড়া কবুতর দিল্লি থেকে নিয়ে এসেছিলেন হযরত শাহজালাল (র.)। সিলেট ও এর আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলেরই বংশধর। এগুলোই জালালি কবুতর বলে পরিচিত।

ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসকরে এই কবুতর হারিয়ে যেতে পারে না। প্রায় ৭০০ বছর ধরে জালালি কবুতরের ডানার ঝাপটানিতে মুখরিত শাহজালাল (র) মাজার।

এই কবুতর সারা দিন যেখানে থাকুকনা কেন সন্ধ্যায় ফিরে আসে মাজারে।

৫. জ্যাকোবিন কবুতর

পৃথিবীতে আকর্ষনীত যত কবুতরের প্রজাতি রয়েছে তার মাঝে জ্যাকোবিন অন্যতম।এই কবুতরের মাথার পালক ঘাড় অবধি ছড়ানো থাকে যা বিশেষ ধরনের মস্তকাবরণের মত দেখায়। জ্যাকোবিনের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা যায় নি। তবে এদের আদি জন্মস্থান ভারত বলেই ধারণা করা হয়। এই কবুতর নানা বর্নের হয়ে থাকে।এদের দেহ বেশ লম্বাটে। চোখ মুক্তার মত সাদা হয়।মাথার দিকে ঝুটির মত থাকে।তাই এদের আকর্ষনীয় দেখায়

৬. গোলা কবুতর

গোলা জাতের কবুতরের উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ। গোলা কবুতর আমাদের দেশে প্রচুর দেখা যায়। মাংসের জন্য এটার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঘরের আশেপাশে খোপ নির্মাণ করে এদের পালন করা যায়। এদের বর্ণ বিভিন্ন সেডযুক্ত ধূসর এবং বারড-ব্লু রংয়ের। এদের চোখের আইরিস গাঢ় লাল বর্ণের এবং পায়ের রং লাল বর্ণের হয়।

৭. টাম্বলার কবুতর

এসব জাতের কবুতর আকাশে ডিগবাজী খাওয়ার জন্য বিখ্যাত।এই কবুতর আকাশে ডিগবাজি খায় বলেই এরা এই নামে পরিচিত।টাম্বলার আমাদের বাংলাদেশে গিরিবাজ নামে পরিচিত। এই কবুতরের উৎপত্তিস্থল ভারতীয় উপমহাদেশ।

৮. কিং কবুতর

কিং জাতের কবুতরের মধ্যে হোয়াইট কিং এবং সিলভার কিং আমেরিকা মহাদেশ ইউরোপের অন্যান্য এলাকাগুলোতে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিং জাতের কবুতর দেখতে মুরগির মত।এদের লেজ বেশি বড় হয় না।এদের লেজ মুরগির মত তাই এই কবুতর দেখতে খুব আকর্ষনীয়। এই জাতের কবুতর মূলত প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হয়।

কবুতর পালন পদ্ধতি

কবুতর ছবি
কবুতর ছবি ২

গৃহপালিত যত পাখি আছে তার মাঝে কবুতর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। গ্রামে,মফস্বলে এমনকি শহরের বাসা-বাড়িতে অনেকে কবুতর পালন করে থাকে। কম পরিশ্রম ও অল্প খরচে কবুতর পালন করে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। পরিবারের গৃহকর্ত্রী ও স্কুল কলেজ যাওয়া ছেলে-মেয়েরা কবুতর পালনের কাজ করে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঠের বাক্সে পুরনো পদ্ধতিতে কবুতর পালন করতে দেখা যায়। তবে ইদানিং উন্নত পদ্ধতিতে কবুতর পালন হচ্ছে। অনেকে খাঁচায় ফেন্সি কবুতর পালন করছে।ফেন্সি কবুতরের বাজার মূল্য ভালো থাকায় মানুষের এই কবুতর পালনের আগ্রহ বাড়ছে। স্বাভাবিক ভাবে কবুতর পালন করলে কাঠের বাক্স বাড়ির কার্নিশে টিনের চালের নিচে বাক্স বেঁধে বা বাঁশের মাচার কবুতর পালন করা যায়।কবুতর পালনে কবুতরের খাদ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।কি কি খাবার খাওয়ালে কবুতর সুস্থ থাকবে,বেশি পুষ্টি পাবে খামারিদের সেসব দিকে নজর দেয়া জরুরি।

খাঁচায় কবুতর পালন

কবুতর ছবি
কবুতর ছবি ৩

কবুতর দুই ভাবে পালা যায় ১মুক্ত অবস্থায় ২.খাঁচার মধ্যে।

খাঁচার মাপ

খাঁচার আকার কি হবে তা নির্ভর করে আপনি কি ধরনের কবুতর পালতে চাচ্ছেন তার উপর। যদি আপনি শুধু গিরিবাজ পালতে চান তাহলে। ১৪×১৪×১৬ ইঞ্চি হলে ভাল। আর যদি সৌখিন বড় আকারের কবুতর পালতে চান তাহলে সাধারণত আদর্শ মাপ হল। ২৪×২৪×১৮ ইঞ্চি বা ২৪×২৪×২০ ইঞ্চি হলে আর ভাল। তবে খামারে সব খাঁচা একই মাপের হলে ভাল। এতে খামারের জাইগার ব্যাবস্থাপনা করাটা ভাল হয়।

কবুতরের খাবার

কবুতর ছবি
কবুতর ছবি ৪

কবুতর সাধারণত বিভিন্ন প্রকার শস্যদানা যেমন- মটর,গম খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কলাই, ধান, চাল,কাউন, জোয়ার ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তাই কবুতরকে দানাদার খাদ্য দেয়া জরুজি। এছাড়া কবুতরের খাবারে ১৫%-১৬% আমিষ থাকা প্রয়োজন। তাই কবুতরকে বুটের ডাল খাওয়ানো যেতে পারে এটি কবুতরের অত্যন্ত প্রিয় খাবার কবুতরের বাচ্চার দ্রুত বৃদ্ধি, হাড় শক্ত ও পুষ্টি এবং বয়স্ক কবুতরের সুস্বাস্থ্য ও ডিমের খোসা শক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের খোসার গুঁড়া, চুনাপাথর, শক্ত কাঠ কয়লা গুঁড়া, হাড়ের গুঁড়া, লবণ এসব মিশিয়ে ‘গ্রিট মিকচার’ তৈরি করে খাওয়াতে হবে।সাধারণত মুক্ত ভাবে পালন করা কবুতরের জন্য তেমন গ্রিটের প্রয়োজন নেই কবুতর সেগুলো তার চারপাশের পরিবেশ থেকে গ্রহন করে।তবে সুস্থ বাচ্চার জন্য গ্রিট মিকচার খাওয়ালে ভালো সুফল পাওয়া যাবে।তবে খাঁচায় পালন করা কবুতরকে অবশ্যই গ্রিট দিতে হবে। প্রতিটি কবুতর প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে। এছাড়াও প্রতিদিন কিছু কিছু কাঁচা শাক-সবজি কবুতরকে খেতে দিলে ভাল হয়।

খাবার ও পানির পাত্র টিনের না হয়ে যদি প্লাস্টিক এর হল তাহকে ভাল হয় যাতে আপনি কিছুদিন পর পর ধুতে পারেন আর এটা জং ধরার ভয়ও থাকবে না। আর পাত্র গুলো একটু বড় ও গভির হলে ভাল কারন তাতে কবুতর খাবার গুলো নষ্ট করবে কম ও ফেলতেও পারবেন না।

খাঁচায় কবুতর পালন করলে নিয়মিত কবুতরের ট্রে পানি ও খাবারের পাত্র পরিষ্কার করা উচিত।কবুতরের নিয়মিত ভিটামিন পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো উচিত।শুষ্ক আলোবাতাস পূর্ণ স্থানে খাঁচা স্থাপন করা উচিত।

কবুতরের রোগ ও ঔষধের নাম : চিকিৎসা পদ্ধতি

কবুতরের কবুতরের খুব বেশি রোগ দেখা যায় না। কবুতরের যেসব রোগ হয় সেগুলোর মধ্যে বসন্ত, কলেরা নানা প্রকারের কৃমির আক্রমণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কবুতর ছবি
কবুতর ছবি ৫

বসন্ত রোগে হলে মাথায় ডানার নিচে মুখে ইত্যাদি অংশে ফোস্কা পড়ে।বসন্তে আক্রান্ত কবুতরকে অন্য কবুতর থেকে আলাদা করে রাখা জরুরি কারণ এটি ছোঁয়াচে রোগ আক্রান্ত স্থানে আয়োডিনের পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

কবুতরের রোগের মাঝে অতিপরিচিত রোগ চুনাহাগা এ রোগ হলে কবুতর ঝিমিয়ে থাকে খাবার বন্ধ করে দেয় একসময় দূর্বল হয়ে মারা যায়।এ রোগের অতিপ্রচলিত ঔষধ রেনামাইসিন।

কবুতর যাতে রোগাক্রান্ত না হয় সেজন্য কবুতরকে বাচ্চা থাকাকালীন কিছু টিকা দেয়া প্রয়োজন। কবুতরের ক্যালসিয়ামের অভাব হলে ডিম বাচ্চা করা কমিয়ে দেয়,ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করতে স্কয়ারের ক্যালপ্লেস সিরাপ অতিকার্যকরী।

কবুতর সাধারণত দানাদার খাবার গ্রহণ করে তাদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকেনা।এ ভিটামিনের অভাবে ঘাড় বাঁকা রোগ হয়।তাই এ রোগ থেকে কবুতর কে বাঁচাতে স্কয়ারের বি-কম ভিট সিরাপটি কার্যকরী।

কবুতরকে নিয়মিত কৃৃমির কোর্স করানো জরুরি।কবুতরের কৃমি হলে কবুতর দিন দিন শুকিয়ে যেতে থাকে।যতই খাবার গ্রহন করুকনা কেন কৃমির আক্রমণে কবুতর শুকিয়ে যায় এক সময় মারা যায়।তাই রেজিস্ট্রার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কবুতরকে নিদিষ্ট সময় পর পর কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো প্রয়োজন।

কবুতরকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত কবুতরের ঘর পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন বর্ষায় বৃষ্টি থেকে ও শীতের বৈরী আবহাওয়া থেকে কবুতরকে রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহন করা জরুরি।

আপনার জন্য আরেকটি উপকারী পোস্ট পড়ুন বাজিগর পাখি পরিচিত ও সঠিক দিকনির্দেশনা

Leave a Comment