এনজিওগ্রাফি, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি, কি, কেন, কিভাবে করা হয় ?

By Tarin Khan

এনজিওগ্রাফি

এনজিওগ্রাফি মূলত ব্যবহার করা হয় এক্স-রে এর মাধ্যমে শরীরের রক্তনালগুলো দেখার জন্য। সাধারণত এক্স-রে করে রক্তনালীগুলোর নিখুতভাবে দেখা যায়না। তাই রক্তনালীর ভেতর ভালভাবে পরিক্ষা করার জন্য এনজিওগ্রাফি করা হয়।

সাধারণত রক্তনালীগুলো খুবই সরু হয়। এগুলো কেটে অপারেশন করা খুবই সময় স্বাপেক্ষ এবং একই সাথে কষ্টেরও বটে। তাই অপারেশনের ঝামেলা থেকে বাচার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই এনজিওগ্রাম ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য যে, এনিজওগ্রাফি হল একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং এনজিওগ্রাম হল চিকিৎসার ফলাফলের নাম। অর্থাৎ এনজিওগ্রাফি করে যে ফলাফল পাওয়া যাত তাকেই বলে এনজিওগ্রাম।

এনজিওগ্রাফি কাকে বলে ?

এনজিওগ্রাফি
এনজিওগ্রাফি

রক্তনালীর কোনো অংশের পরিক্ষা করতে রক্তনালীর ভেতরে একধরনের কন্ট্রাস্ট মেটারিয়াল(Contrast Material) বা বৈসাদৃশ্য তরল ডাই ঢুকিয়ে রক্তনালীগুলোর ভালভাবে দেখার বা নিখুত ভাবে পরিক্ষা করার পদ্ধতিকে এনজিওগ্রাফি বলে।

এনজিওগ্রাফি কিভাবে করা হয়?

এনজিওগ্রাফি কিভাবে করা হয়
এনজিওগ্রাফি

এনজিওগ্রাফি করার সময় রক্তনালীতে বিশেষ কন্ট্রাস্ট ম্যাটারিয়াল বা বৈসাদৃশ্য তরল বা ডাই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। রক্তিনালীর যে অংশটুকু পরিক্ষা করতে হবে সেখানে ডাই দেওয়া হয় একটি সরু এবং নমনীয় নল একটি আর্টারি এর মাধ্যমে শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই সরু এবং নমনীয় নলটিকে ক্যাথিটার বলা হয়। ক্যাথিটার দিয়ে রক্তনালীর নির্দিষ্ট জায়গায় ডাই দেওয়ার পর সেই স্থানের এক্স-রে নেওয়া হয়। ডাই থাকার কারণে এক্স-রে তে রক্তনালীগুলোকে স্পষ্ট দেখা যায়। ডাইগুলো পরে কিডনির সাহয্যে ছেকে আলাদা করা হয় এবং পস্রাবের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 

এনজিওপ্লাস্টি কাকে বলে? 

এনজিওপ্লাস্টি
এনজিওপ্লাস্টি

এনজিওগ্রাফির মাধ্যমে কোনোরকম সার্জারি না করেই তাৎক্ষণিক ভাবে রক্তনালী ব্লকের চিকিৎসা করা সম্ভব। যে প্রক্রিয়ায় এনজিওগ্রাম করার সময় ধমনির ব্লক মুক্ত করা হয় তাকে এনজিওপ্লাস্টি বলা হয়।

এনজিওপ্লাস্টি কিভাবে করা হয়?

এনজিওপ্লাস্টি কিভাবে করা হয়
এনজিওপ্লাস্টি

এনজিও প্লাস্টি করার ক্ষেত্রে ক্যাথিটার দিয়ে ছোট একটি বেলুন পাঠিয়ে সেটি ফুলিয়ে রক্তনালীকে প্রসারিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে রিং প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয় যেন সংকুচিত ধমনিটি প্রসারিত থাকে এবং প্রয়োজনীত রক্তের প্রবাহ হতে পারে।

এনজিওগ্রাফি কেন করা হয়?

সাধারণত যেসব সমস্যা পরিক্ষা করার জন্য ডাক্তারগণ এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন সেগুলো হচ্ছে:

  1. হৃৎপিন্ডের বাইরের ধমনিতে ব্লকেজ হলে এনজিওগ্রাম করা হয়। রক্তনালী ব্লক হলে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাঘাত ঘটে। হৃৎপিন্ডে যথেষ্ট রক্ত সরবরাহ করা না হলে সেটি ঠিক ভাবে কাজ করতে পারেনা এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
  2. ধমনি প্রসারিত হলে।
  3. কিডনির ধমনির অবস্থাগুলো বোঝার জন্য।
  4. শিরার কোনো ধরনের সমস্যা হলে।

হৃৎপিণ্ডের এনজিওগ্রাফি

হৃৎপিন্ডের এনজিওগ্রাফি
হৃৎপিন্ডের এনজিওগ্রাফি

হৃদপিন্ডের রক্তনালিতে কোনো ধরনের ব্লক আছে নাকি সেটা বুঝার জন্য হৃদপিন্ডের এনজিওগ্রাম বা হৃৎপিন্ডের এনজিওগ্রাফি করা হয়। হৃদপিন্ডের ব্লক গুলো নির্নয়ের জন্য বিশেষ ধরণের এনজিওগ্রাম বা পরিক্ষা করা হয়, যার নাম করোনারি এনজিওগ্রাম।

এনজিওগ্রাম করতে খরচ কত ?

বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাফি করতে সাধারণত ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এবং সরকারিভাবে এনজিওগ্রাম করলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

আরো পড়ুন

Leave a Comment