আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ইতিকথা জে. এম. সাখাওয়াত হোসেন (অব.)

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ইতিকথা

আফগানিস্তান হতে আমেরিকা

লেখকঃ  বিগ্রে. জে. এম. সাখাওয়াত হোসেন (অব.)

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ইতিকথা; আফগানিস্তান হতে আমেরিকা


লেখকঃ  বিগ্রে. জে. এম. সাখাওয়াত হোসেন (অব.)
পৃষ্ঠাঃ ৩০০
ব্যক্তিগত_রেটিংঃ ১০০/১০০

“ক্যালভিসনের ঘড়িতে তখন সময় সকাল আটটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট,নিউইয়র্ক টাইম। ঐ সময়েই বোস্টনের লোগান বিমানবন্দর থেকে ছিনতাইকৃত  আমেরিকান এয়ার লাইন্স  ফ্লাইট-১১ একটি সুপরিসর বিমান ৭৬৭; বিমান মাত্র ৮১জন যাত্রী নিয়ে টাওয়ারের উত্তর অংশে আঘাত হানে।৭ঃ৪৯ মিনিটে বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করে এবং এটি গন্তব্য ছিলো লসএঞ্জেলসে। ফ্লাইট-১১ বিমান উড্ডয়ন এবং এ ছিনতাইয়ের ঠিক এক মিনিট পূর্বেই ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-১৭৫ বোয়িং ৭৬৭; মাত্র ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে একই বিমানবন্দর থেকে একই গন্তব্য পথের দিকে রওয়ানা হলে পথে অনুরূপভাবে ছিনতাই হয়ে এটি নিউইয়র্কের দিকে গতি পরিবর্তন করে।এটি উত্তরের টাওয়ারের অনুরূপ দক্ষিণের টাওয়ারে সকাল নয়টা ছয় মিনিটে আত্মঘাতী হামলা চালায়।

 একই বিমানবন্দর হতে দুটি বিমান ছিনতাই হওয়ার পর আরো দুটি বিমান ছিনতাই হয়।

এর একটি সকাল আটটা বেজে ১মিনিটে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩, একটি বোয়িং-৭৫৭ যেটি সানফ্রান্সিসকোর পথে যাচ্ছিলো। এর অল্প একটু পরেই আমেরিকান এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট-৭৭,বোয়িং-৭৫৭ বিমান ৫৮ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু নিয়ে ওয়াশিংটন থেকে লসএঞ্জেল্সে ছিনতাই হয়। ওয়াশিংটন থেকে ছিনতাইকৃত বিমানটি ঐদিন সকালে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সদর পেন্টাগনের পশ্চিম দিকে আত্মঘাতী আঘাত হানে। চতুর্থ ছিনতাইকৃত বিমানটি সকাল ১০ঃ৩৭ মিনিটে পিটসবার্গ থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণ পথ সানক্সভিল নামক জায়গায় ভুপাতিত হয়ে বিধ্বংস হয়।  অনুমান  করা হয় এ বিমানটি ছিনতাইকারীরা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ভবনে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলো। আর প্রতিটি বিমানে মধ্য প্রাচ্যের লোক ছিলো, যাদের নাম পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়।”

বলতেছিলাম, একসময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বানিজ্যিক ভবন আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামলার ঘটনা,

যেটা নিয়ে আমেরিকার অহংকার আর প্রতাপের শেষ ছিলো না!  তারা চেয়েছিলো সারা পৃথিবীকে শাসন করতে..বর্তমানেও সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং চলতেছে। ঘটনা সংক্ষেপ করি,   টুইন টাওয়ার হামলার একদিনের মধ্যেই হামলাকারী হিসেবে যাদের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তাতে সবাইকে মধ্যপ্রাচের ধরেই নেয়। শুধু তাই নয় এ সন্ত্রাসের সুত্র ধরে বর্তমান বিশ্বের একনাম্বার সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত ওসামা বিন লাদেন এবং তার একমাত্র উগ্রবাদী সংঘঠন আল-কায়দা দায়ী বলে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ পৃথিবীকে জানিয়ে দেন।  এর প্রক্ষিতে আফগানিস্তানে  বিন লাদেনের বিরূদ্ধে সামরিক হামলা চালানে হয়। লেখক তার বইতে ওসামা বিন লাদেনের সাথে টুইন টাওয়ার হামলার সম্পৃক্ততা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সহায়তা ছিলো কি ছিলো না এটা খুজে বেড়িয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বুশের সন্ত্রাস নির্মুলের যে অঙ্গিকার তা মধ্যপ্রাচ্যের ভু-রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব পড়ছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন

এমনকি আফগানিস্তানের অতীতের পটভুমিতে ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়দার বিশ্বব্যাপি তৎপরতা তুলে ধরেছন এবং সোভিয়েত বিরোধী আফগানিস্তানের সশস্ত্র প্রতিরোধ, সে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রেক্ষাপট  এবং সে যুদ্ধে বিভিন্ন শক্তি বিশেষ করে আমেরিকা আর সোভিয়েত রাশিয়ার মত দুটি পরাশক্তির শক্তি পরিক্ষার ঘটনা বর্ননা করেছেন।  আরো তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বিশ্বের পরাশক্তি আমেরিকা এবং CIA-এর ভুমিকা।  সে সাথে পাকিস্তানের ISI এবং সরকারের সমর্থন। এ সামরিক হামলার মাধম্যে আরেকটি ক্রসেড যেন বিশ্ব অবলোকন করতে যাচ্ছে।

লেখক বইতে আফগানিস্তানের ভূ-প্রকৃতি, আফগান পশতু জাতির এবং আফগানদের সহজ সরল জীবিকা নির্বাহ করা, আফগানরা পরিবেশের সাথে কিভাবে সংগ্রাম করে চলে,

বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে আফগান মানুষদের কি চিন্তা এমনকি টুইনটাওয়ার হামলার জন্য আফগানিস্তানে যে সামরিক হামলা চালানে হবে আফগানদের মধ্যে এর কি প্রতিক্রিয়া, যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগান জাতি এরপরেও কেন এত শক্তিশালী এবং তাদের সামাজিক অবস্থার বর্ননা  এক কথায় অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। পাঠকদের পড়ার পর আফগানদের প্রতি মায়া জম্মাতে এবং আফগানিস্তানের প্রতি এক অদৃশ্য ভালবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ দেখাতে বাধ্য করবে।লেখক, ওসামা বিন লাদেনের জীবনি, কেন বিন লাদেন পশ্চিমাদের চোখে সন্ত্রাস হয়েছিলো, লাদেনের কি এমন ছিলো? লাদেনের কি লক্ষ্য ছিলো সন্ত্রাস হওয়ার? এতো বিত্তশালী বিন লাদেন কেন সন্ত্রাস হতে গেলো? আসলে মধ্য প্রাচের মানুষের চোখে লাদেন কি সন্ত্রাস নাকি আধ্যাত্মিক ধর্মীয় নেতা? সৌদি আরবের সাথে  লাদেনের কি সম্পর্ক ছিলো?

মুসলিমদের প্রবিত্র দুটি স্হানমক্কা মদীনা সংস্কারের কাজসহ সৌদি সরকারের বড় বড় কনস্ট্রাকশন কাজ কেন বিন লাদেন কোম্পানিকে দেয়া হত?

লাদেন গ্রুফ কিভাবে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান হয়েছিলো? এসব প্রশ্বের সমাধান লেখক তথ্য প্রমান সহ বর্ননা করেছেন।লাদেনের মৃত্যুর পর আফগানিস্তানে কেন সন্ত্রাস বিরোধী সামরিক হামলা চালানো বন্ধ হয়নি?কেন তালেবান সরকারকে জঙ্গি আখ্যা দেয়া হয়েছে তালেবান সরকারের সাথে আলকায়দার কি সম্পর্ক ?  আমেরিকা, রাশিয়ায় আফগানিস্তানে কি চায়… লেখক তা বর্ননা করেছেন।

 লেখক, আমেরিকার প্রভাব আর মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কেমন হবে মধ্যপ্রাচ্য কি তাদের প্রভাব ধরে রাখতে পারবে

এসব লেখক বর্ননা করার চেষ্টা করেছেন। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার আলোচনা হলো, যা একজন পাঠককে… আফগানদের প্রতি আকৃষ্ট করবে সেটি হলো আফগানদের সাহসীকতা আর তাদের সরলতা…. তারা যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাওকে ভয় করেনা, পৃথিবীর কেনো বোমা তাদের ভিতরের ঈমানি শক্তিকে বিনষ্ট করতে পারবে না…! যেটি পাঠককে আফগান জাতিকে সেলুট জানাতে বাধ্য করবে। (সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার করার ঘটনা সেটি প্রমান করে যে,রাশিয়া শুধু একমাত্র পরাশক্তি দেশ নয় যে আফগানিস্তানের সামনে মাথানত করেছে। )

সেপ্টেম্বর ১১, ২০০০ : বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রে হামলা              

 ‘এর পর পৃথিবী বদলে যাবে’                 

সত্যিই পৃথিবী বদলে গেছে(বিশ্ব রাজনীতি আর ইতিহাস জানার জন্য সহজ সুন্দর ও তথ্যবহুল আলোচনা রয়েছে)।      (ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)


কোয়ারেন্টাইন কাজে লাগাতে অবশ্যই পড়তে পারেন বই টি ।
বইটি নিকটস্থ ব‌ইয়ের মার্কেট অথবা আমাদের দেশের বিখ্যাত অনলাইন বুকশপ “রকমারি ডট কম” থেকে সংগ্রহ করতে পারেন ।
সাধারণত দাম পড়বে :২০০-২৫০ টাকা”রকমারিডটকম” থেকে দাম পড়বে:৩০০-৩৫০ টাকা (চার্জ প্রযোজ্য)

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ইতিকথা

মোঃ আরমান হোসাইন

লোকপ্রশাসন বিভাগ, চবি।

আরো পড়ুন

গাভী বিত্তান্ত আহমেদ ছফা

বাদশাহ নামদার বই রিভিউ

বরফ গলা নদী বইটির রিভিউ

Leave a Comment