আপেল সিডার ভিনেগার এর উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, সতর্কতা।

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার: শারীরিক সমস্যায় শুধু ডাক্তার কিংবা ওষুধের উপর নির্ভর না করে, প্রকৃতির উপরও নির্ভরশীল হওয়া উচিত। এতে যেমন ওষুধের খরচ কমে যায়,পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুকি থাকে না।

প্রচলিত একটি কথা বলো “প্রতিদিন একটি ‍আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে। আপেল দিয়ে তৈরি আপেল সিডার ভিনেগারের রয়েছে আরও অনেক বেশি উপকারিতা। 

অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে আপেল সিডার ভিনেগার কম জনপ্রিয় নাম। অনেকে এর সাথে পরিচিত, আবার অনেকে এর গুণগান সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখেন না। খাবার বানানো, রূপচর্চা,চুলের উপকারিতা, ওজন কমানো, শরীরে উদ্যম পাওয়া সহ বিভিন্ন উপকারিতার জন্য ব্যবহৃত হয় এই আপেল সাইডার ভিনেগার। এটা দিয়ে বাসন পত্রে দাগ, বাথরুমে লেগে থাকা কঠিন দাগও তুলে ফেলা সম্ভব। এটি এখন সব ধরণের সুপার মার্কেট সহ বাজারে সহজেই কিনতে পাওয়া যায়।

সূচিপত্র hide

আপেল সিডার ভিনেগার কি?

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার কি

আপেল সিডার ভিনেগার পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক পণ্য। এটি তৈরি করা হয় আপেল দিয়ে। আপেলকে দুবার প্রোসেসিং এর মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়। আমরা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া আপেল সিডার ভিনেগার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারি।

পুষ্টিমান (আপেল সিডার ভিনেগার)

১০০ গ্রাম ভিনিগার এর মধ্যে আমরা পাই
ক্যালরি 18%
মোট ফ্যাট 0 গ্রাম
কোলেস্টেরল 0 মিলিগ্রাম
সোডিয়াম 2 মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম 2 মিলিগ্রাম
মোট কার্বোহাইড্রেট 0 গ্রাম
প্রোটিন 0 গ্রাম।
আপেল সিডার ভিনেগার এর পুষ্টিমান চার্ট

আপেল সিডার ভিনেগার উপকারিতা

অনেকেই এই ভিনেগারের উপকারিতা সম্পর্কে না জানায় এটি ব্যবহারে তেমন আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু এর উপকারিতা জেনে ব্যবহার করলে অনেক সুফল পাওয়া যায়। উপকারি দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে-

আপেল সিডার ভিনেগার  উপকারিতা
আপেল সিডার ভিনেগার

১. দাতের যত্নে

অনেকের দাতেই দাগ দেখা যায়। যে দাগের কারণে জনসম্মুখে দাত বের করে হাসতেও লজ্জা পায়। আপেল সিডার ভিনেগারের মাধ্যমে মুখে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দুর করার পাশাপাশি, দাতের দাগ দূর করে। এছাড়া মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।

২. পেডিকিওর বা পায়ের যত্নে

যাদের ত্বকের পিএইচ মাত্রা কম থাকে এরা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারে না। এতে টানা জুতো পড়ে থাকলে পায়ে দুর্গন্ধ হয়। এই দুর্গন্ধ কম করতে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা যায়। এটি সব বয়সের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। পানির মধ্যে এই ভিনেগার মিশিয়ে পেডিকিওর করা যায়। এতে পা পরিষ্কার হয়, পায়ের ত্বক উজ্জ্বল হয়, পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। পা দেখতেও বেশ পরিষ্কার মনেহয়।

৩. ওজন কমাতে

আপেল সিডার ভিনেগার ওজন কমাতে সাহায্য করে। শর্করা সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর ভিনেগার খেলে দিনের পরবর্তী সময়ে সহজে ক্ষুধা লাগে না। ওবেসিটি বা অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া রোগে আক্রান্ত ১৭৫ জনকে নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, রোজ আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার অভ্যাস ওজন কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পেটের মেদ কমে। তবে অবশ্যই খাবার গ্রহণের পরিমাণও কমাতে হবে, শুধু ভিনেগারই ওজন কমাবে না।  আপেল সাইডার ভিনিগারকে যদি প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না ডাক্তারের পরামর্শ মতো। এই পানীয় দেহে প্রবেশ করলে খিদে কমে যেতে শুরু করে

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে

আপেল শরীরের অনেক উপকারে আসে। তেমনি আপেল সিডার ভিনেগারে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধী শক্তি। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এ ভিনেগার ক্যানসার কোষ নির্মূল ও টিউমার সারাতে ভূমিকা রাখে। তবে এটি এখনো সর্বব্যাপী স্বীকৃত নয়। এ নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।

৫. পা ফাটা দূর করতে

সাধারণত শীতের দিনে পা ফাটে। অনেকের আবার সারাবছর কমবেশি পা ফাটার সমস্যা চলতেই থাকে। অতিরিক্ত পা ফাটার কারণে, ফাটা জায়গা দিয়ে রক্ত বের হয়। ভিনেগারের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা যায়।

৬. দাঁদ হাজা কমাতে

এই  সমস্যাগুলো শরীরের কোন অংশে দেখা দিলে তা ক্রমে বাড়তে থাকে এবং এতে এক ধরনের চুলকানি সৃষ্টি হয়। চুলকাতে থাকলে তা দিন দিন বাড়তে থাকে। ভিনেগারের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান গুলি দাদ হাজার সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

৭. হৃদপিন্ড সুস্থ রাখতে

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে , ভিনেগার হৃদযন্ত্রের সমস্যা কমায়। এর পাশাপাশি শরীরের কোলেস্টেরল লেভেল কমাতে সহায়তা করে।

বিভিন্ন প্রাণীর ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এটি রক্ত থেকে ট্রাই গ্লিসারিন এবং কোলেস্টেরল কম করে। এর পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

৮. ঠান্ডা ও কাশিতে

যে কোন সিজনাল ঠাণ্ডা, কাশি বা গলা ব্যাথা দূর করতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করা যায়। যেহেতু ভিনেগার ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারে, তাই এটা ব্যবহারে ঠাণ্ডা, কাশিতে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

৯. গোসলের কাজে

পরিমাণমতো ভিনেগার সারা শরীরে মাখলে, রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। তাছাড়া গোসলের পানিতে দিয়ে ব্যবহার করলে, মন প্রফুল্লও হয়, রোদে পোড়া দাগও কমে যায়।

১০. চুলের যত্নে

খুশকি, চুল পড়া, চুলের ডগা ফাটার মত চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ভিনেগার ব্যবহার করা যায়। এতে করে চুলে কন্ডিশনিং হয়, তাছাড়া চুলের খুশকি যায় এবং চুল নতুন করে গজায়। এছাড়াও মাথার ত্বকে চুলকানি ও এ সমস্ত ক্ষেত্রে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।

১১. ত্বকের যত্নে

প্রতিদিনের দূষণ, মেকআপের ব্যবহার, রোদের তাপ, এসবের কারণে বয়স না বাড়লেও, ত্বকের বয়স যত বাড়তে থাকে ত্বকের মধ্যে তত রিংকেল দেখা দিতে থাকে।তাই ফলে মুখ দেখে বয়স্ক মনে হয়।

ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে এক ধরনের হাইড্রোক্সি এসিড রয়েছে যা ত্বকের মৃত কোষ গুলোকে কম করে বার্ধক্যজনিত দাগকে হালকা করতে সহায়তা করে। এছাড়া নিয়মিত  অল্প পরিমাণে ভিনেগার নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে, ত্বকে বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখার মতো সমস্যাগুলি দূর হয়।

১২. ডায়াবেটিস নিরাময়ে

মূলত টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগে যারা ভুগছেন তারা আপেল সিডার ভিনিগার গ্রহণ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে আপেল সিডার ভিনিগার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে কম করতে সহায়তা করে। টাইপ টু ডায়াবেটিস এর অন্যতম কারণ হতে পারে স্থূলতা। আপেল সিডার ভিনিগার শরীরের ওজন কম করতেও সহায়তা করে থাকে। তবে কখনই এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত নয় এবং এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই জলে মিশিয়ে খাওয়া উচিত।

১৩. অ্যালজাইমার রোগ নিরাময়ে

অ্যালজাইমার রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সরাসরি আপেল সিডার ভিনেগার এর কোনো ভূমিকা না রাখলেও থাকলেও আংশিকভাবে কার্যকরী।

১৪. কিডনির সমস্যা দূর করতে

মূলত যখন পাকস্থলীতে অ্যাসিডের সমস্যা বৃদ্ধি পায় তখনই কিডনির পাথরের সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আপেল সিডার ভিনিগার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শরীরের খাদ্যকে যথাযথভাবে হজম করতে সহায়তা করে এবং কিডনির সমস্যা দূর করে।

এছাড়াও কিডনি স্টোনের কারণে হওয়া যন্ত্রণা কম করতে এবং কিডনির মধ্যে হওয়া ক্ষত নিরাময় করতেও সহায়তা করে, শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে এবং শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে।

১৫. শরীরের গন্ধ দূর করতে

শরীরে ঘামের সমস্যা অত্যধিক হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, যার ফলস্বরূপ গায়ের থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। ভিনেগারে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যগুলো, গন্ধ জনিত ব্যাকটেরিয়াগুলো বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের গন্ধ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত গোসল করার সময় পানিতে ভিনেগার ব্যবহার করা যায়।

১৬.মেচতা দূর করতে

আমরা পিগমেন্টেশন নামক শব্দের সাথে বিশেষ পরিচিত। বয়স বাড়ার সাথে চামড়ায় মেচতার দাগ দেখা যায়।

ভিনেগারে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য গুলি ত্বককে ঠান্ডা ভাব প্রদান করে। এছাড়াও এসিডের মধ্যে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড ত্বককে নরম করে এবং ত্বকের ভেতর থেকে যেকোন দাগ কমাতে সহায়তা করে।

আপেল সিডার ভিনেগারের খাওয়ার নিয়ম

আপেল সিডার ভিনেগারের খাওয়ার নিয়ম
আপেল সিডার ভিনেগার

সঠিক ব্যবহার বিধি এবং খাওয়ার নিয়ম না জানায় অনেকে ভিনেগারের সুফল পান না। তাই ভাল করে এর ব্যবহারবিধি জেনে নেওয়া উচিত।

১. দাতের যত্নে আপেল সিডার ভিনেগার নিয়ম

দাতের যত্নে ভিনেগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এটির পরিমাণ যদি বেশি হলে, দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি দাঁতে ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে। সরাসরি আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার না করে পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা নিরাপদ। সরাসরি কখনোই পান করা যাবে না। এটি মুখের স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

২. পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহারের নিয়ম

একটি তোয়ালে অথবা মোটা মুখ মোছার তুলো  ভিনেগার ভিজিয়ে একটা ফ্রিজে মুখ বন্ধ করা ব্যাগে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। ঘরে ফিরে প্রতিদিন এই তুলো দিয়ে পা ভালো করে মুুছে নিতে হবে। এতে পায়ের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দূর হবে এবং পায়ের গন্ধ দূর হবে। ভিনেগার পায়ের ত্বকের পিএইচ মাত্রার পরিবর্তন করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কে রোধ করে।

৩. ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম

জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। যেমন, এক গ্লাস জলে ১/২ টেবিলচামচ (৫-১০ মিলিলিটার)  ভিনেগার মিশিয়ে পান করা যায়।
এটি নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে, পেটের মেদ কমার পাশাপাশি শরীরের অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস পাবে।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে আপেল সিডার ভিনেগার যেভাবে খাবেন

ক্যান্সার রোগীর রান্নায় ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা শাক সবজি দিয়ে তৈরি স্যালাড কিংবা ফল দিয়ে তৈরি স্যালাডে এর ব্যবহার করা যায়। উষ্ণ গরম পানিতে ১ থেকে ২ টেবিল-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে খাওয়া যায়।

৫. পা ফাটা দূর করতে যেভাবে ব্যবহার করবেন

হালকা গরম জলে সাদা ভিনেগার ভালো করে মিশিয়ে, তাতে বিশ-পঁচিশ মিনিট এর জন্য পা ভিজিয়ে রেখে তারপর পিউমিক স্টোন দিয়ে পায়ের মৃত কোষ গুলোকে তুলে ফেলতে হবে।

অন্যভাবে এক কাপ দই এর সাথে সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এটি পায়ের ফাটা অংশে লাগিয়ে রাখতে হবে। কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিয়ে তারপর সেই জায়গাটা পিউমিক স্টোন দিয়ে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। দিনে দুবার এটি করার পর পা ধুয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখতে হবে।

৬. দাঁদ হাজা কমাতে যেভাবে ব্যবহার করেবন আপেল সিডার

ভিনেগারেত ভেতর অল্প পানি মিশিয়ে মিশ্রনটিকে পাতলা করে নিতে হবে। যেখানে দাঁদ হাজার সমস্যাগুলি হয়েছে, সেখানে তুলো দিয়ে আলতো করে এটি লাগিয়ে রাখতে হবে।

৭. হৃদপিন্ড সুস্থ রাখতে

এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে খেয়ে নিতে হবে। এটি হৃদরোগের সমস্যার পাশাপাশি শরীরের অনেক সমস্যা কম করতে সহায়তা করবে। তবে অবশ্যই এটি ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিতে হবে।

৮. ঠাণ্ডা-কাশি দূর করতে

ঠাণ্ডা বা কাশির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিনেগার কুসুম গরম পানিতে মেশাতে হবে। এরপর সেই পানি দিয়ে গর্গল করতে হবে।

৯. গোসলের কাজে

গোসলের আগে পানিতে পরিমাণমত ভিনেগার মেশাতে হবে। সেই পানি দিয়ে গোসল করতে হবে।

১০. চুলের যত্নে

একটি বাটিতে জল এবং ভিনেগার মিশিয়ে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করে, ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর হালকা গরম জলে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এটি ব্যবহার করতে হবে।

১১. ত্বকের যত্নে

ভিনেগার এবং পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি স্প্রে বোতলে নিয়ে যেসব জায়গায় বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেখানে স্প্রে করতে হবে। তুলোয় করে নিয়ে সেই জায়গাতে তুলনা লাগিয়ে রাখলেও হবে। এরপর ১০-১৫ মিনিট রেখে সাধারণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

১২. ডায়াবেটিস নিরাময়ে

উষ্ণ গরম পানিতে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এটি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অথবা দুপুরে খাবার একঘন্টা পরে খেয়ে নিতে হবে । এটি প্রত্যেকদিনও খাওয়া যা। তবে মনে রাখতে হবে, যদি এটি খাওয়ার পরে গলা জ্বালা, বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে এর পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে অথবা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

১৩. অ্যালযাইমা রোগ নিরাময়ে

রোগীর খাদ্যতালিকায় ভিনেগারকে রান্নায় ব্যবহার করা যায়।
রান্নায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাদা রঙের সাধারণ ভিনেগার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও সালাড কিংবা শরবতে স্বল্প পরিমাণে আপেল সিডার ভিনিগার ব্যবহার করা যায়।।

উষ্ণ গরম জলে ভিনেগার মিশিয়ে খাদ্য তালিকায় রেখে, দুপুরে খাওয়ার পরে কিংবা রাতে খাবার পরে গ্রহণ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষেরই শারীরিক চাহিদা আলাদা থাকে, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করার আগে এবং আপনি কি কি ওষুধ খাচ্ছেন সেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে আপেল সিডার ভিনিগার গ্রহণ করা উচিত।

১৪. কিডনির সমস্যা দূর করতে

কিডনিতে পাথরের সমস্যা দেখা দিলে নিয়মিত ভিনেগার পান করার অভ্যাস করতে হবে। তবে সেটা পরিমিত মাত্রায়।
এটি শরীরের ভেতর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। সরাসরি কখনোই গ্রহণ করা যাবে না। একগ্লাস পানিতে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে গ্রহণ করতে হবে।

১৫. শরীরের গন্ধ দূর করতে

এক বালতি পানিতে অর্ধেক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে নিয়ে গোসল করতে হবে। দিনের শুরুতে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যায়।

১৬. মেচতা দূর করতে

ভিনেগারের সাথে জল মিশিয়ে যেখানে মেচেতার দাগ পড়েছে সেই অংশ তুলো দিয়ে লাগিয়ে রাখতে হবে। দিনে দুইবার এটি ব্যবহার করতে হবে। যতদিন না দাগটি সম্পূর্ণরূপে কমে যাচ্ছে প্রত্যেকদিন দুবার করে ব্যবহার করতে হবে।

সতর্কতা: যে ভুলগুলো করা যাবে না

আপেল সিডার খাওয়ার সতর্কতা
আপেল সিডার খাওয়ার সতর্কতা

১. গন্ধ না শুঁকা

যদি শ্বাসযন্ত্রে কোনও সমস্যা থাকে তাহলে গন্ধ শুঁকা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এতে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। ফুসফুস ড্যামেজও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. ঘুমাতে যাওয়ার আগে না খাওয়া

অনেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভিনেগার খায়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভিনেগার খাওয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে খেলে ইসোফেগাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে ভিনেগার খেলে এরপর ৩০ মিনিট শরীরকে বিশ্রাম দিতেই হবে। খাওয়া, ঘুম কোনওটাই চলবে না।

৩. পানি মিশিয়ে খাওয়া

ভিনেগার কখনো সরাসরি খাওয়া যাবে না। অবশ্যই পানি মিশিয়ে খেতে হবে।
সরাসরি খেলে দাতের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
এনামেল নষ্ট হতে পারে। তাই ইষদুষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে খেতে হবে। সেই সঙ্গে মেশাতে পারেন দারচিনির গুঁড়োও।

৪. খালি পেটে না খাওয়া

অনেকে সকালে উঠেই খালি পেটে ভিনেগার খায় ওজন কমানোর জন্য। এতে এনার্জি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিন খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। ঠিক খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট আগে খেলে ভাল। এতে হজমও হবে। শরীর ভালো থাকবে।

৫. অতিরিক্ত না খাওয়া

অনেকে অধিক ওজন কমানোর আশায় অতিরিক্ত ভিনেগার খায়। এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মারাত্বক ক্ষতি হয়।

পরিশেষে বলা যায় অতিরিক্ত ব্যবহারে উপকারি জিনিসেও ক্ষতি হতে পারে। তাই ভিনেগার পরিমাণমত ব্যবহার করতে হবে। যে কোন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার পরামর্শ নিতে হবে।

Jubaer Hasan Rabby

পাঠক, লেখক, ইতিবাচক চিন্তাবিদ, আশাবাদী, সংগঠক, দেশপ্রেমিক।

এই পোস্ট শেয়ার করুন

3 thoughts on “আপেল সিডার ভিনেগার এর উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, সতর্কতা।”

Leave a Comment