আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন সমন্ধে কিছু অবাক করা তথ্য।

By Sourav Das

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (Internatioal Space Station) হল আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার সহযোগী পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সমন্বিত প্রকল্প। এটি মূলত বসবাসের জন্য একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এই পাঁচটি সংস্থা হলোঃ

1.মার্কিন মহাকাশ প্রশাসন-নাসা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট)

2. রুশ মহাকাশ সংস্থা-রসকসমস (রাশিয়া)

3 .কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (কানাডা)

4. জাপানি মহাকাশ অনুসন্ধান সংস্থা (জাপান)

5. ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) (ইউরোপীয় ইউনিয়ন); উল্লেখ্য যে এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তরভূক্ত মোট ১১ টা দেশ আছে। নিচে অন্তরভূক্ত দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হলো-

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ছবি
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ছবি-১
  1. যুক্তরাজ্য;
  2. ডেনমার্ক;
  3. ইতালি ;
  4. স্পেন;
  5. জার্মানি;
  6. নরওয়ে;
  7. সুইডেন;
  8. ফ্রান্স;
  9. বেলজিয়াম;
  10. নেদারল্যান্ডস;
  11. সুইজারল্যান্ড।

দুইটি দেশ ইতালি ও ব্রাজিল একটু ব্যাতিক্রম ভাবে কাজ করে থাকে। ইতালি প্রধানত সকল চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে।তারা সরাসরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাথে কাজ করে না। অপরদিকে ব্রাজিল নাসার সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে আওন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাথে কাজ করে।

আমরা পৃথীবীতে অবস্থান করে মহাকাশ সম্পর্কে হালকা জ্ঞান অর্জন করতে পারলেও আমাদের মহাকাশ সম্পর্কিত কোন কাজ করতে হলে পৃথীবীতে বসে সম্ভব নয়। তাই এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা  করা হয়, এখান থেকে সকল বৈজ্ঞানিক কাজ করা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের ফলে মহাকাশ বিষয়ক সকল কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে এবং পৃথীবীর অনেক দেশ একই সাথে একটি কেন্দ্রে মাধ্যমে মহাকাশ গভেষণায় কাজ করতে পারতেছে।

আইএসএস ট্রেইনিং মডিউল ছবি
আইএসএস ট্রেইনিং মডিউল ছবি

এই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য হল মহাকাশ বিষয়ক কাজগুলোকে আরো দ্রুত ও সহজে করা। ১৬ টি দেশের সহযোগীতায় ১৯৯৮ সালের ২০ নভেম্বর কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম লঞ্চের একটি লঞ্চ প্যাড থেকে “প্রোটন-কে” নামের রাশিয়ান রকেট উৎক্ষপনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের।

এটি আকারে একটি ফুটবল মাঠের সমান। ওজন প্রায় ৩৫০ টন। প্রায় ১২ বছর সময়ে লেগেছে এই স্টেশনকে তাঁর কক্ষপথে পাঠতে। কারণ দুই একদিনে এই বৃহৎ আকারের স্টেসনকে কক্ষপথে পাঠানো সম্ভব নয়। ৩০টি ভিন্ন ভিন্ন মিশন পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্টিত হয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র এবং একগুচ্ছ ইতিহাস রয়েছে এর পূর্ণতা পাওয়ার পেছনে।

একটা সময় ছিল যখন মহাকাশ স্টেশনের কথা বিজ্ঞান বইগুলাতে পাওয়া যেত, কমিক সিরিজে পাওয়া যেত, আর সব থেকে বেশি দেখা যেত টিভি কার্টুন গুলুতে কিন্তু বাস্তবে এর কল্পনা কেউ করতেই পারত না।

এখন এটা বাস্তবেই আছে। কিন্তু এই বাস্তবে রূপ নিতে পারি দিতে হয়েছে এক বন্ধুর পথ। যার জন্য লেগেছে অজস্র সময়, মেধা ও পরিশ্রম। আর যখনই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের  কথা মনে পড়ে ,অবদানের কথা মনে পড়ে ঠিক তখনইন আরো একটা নাম মনে পড়ে, রোনাল্ড রিগান। হ্যা আমরা আমেরিকার ৪০ তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের কথা বলছি। তিনিই সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কথা চিন্তা করেন। তিনি চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সহোযোগীতা ও বিভিন্ন দেশের সহযোগীতায় একটি স্পেস স্টেশন তৈরী করার জন্য, যাতে মহাকাশ বিষয়ক কৌতুহলে সকলে অংশগ্রহন করতে পারে ও মহাকাশের গবেষণাগুলো আরো সুন্দর ভাবে করা যায়। তাই তিনি ১৯৮৪ সালের ২৫ জানুযারী নাসাকে একটি আদেশ দেন যাতে উল্লেখ ছিল অন্য সকল দেশের সহোযোগীতা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন করার। নাসা শুরু করে স্টেশন তৈরীর ,দুই বছর পড়ে যোগ দেয় কানাডা ও জাপান এবং ইউরোপ সেই সাথে ১৯৮৭ সালে প্রনয়ণ করা হয় নকশাত, পরের বছর রিগান এর নাম দেয় “ফ্রিডম”।

বিভিন্ন সমস্যার কারনে রিগান তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই কাজ শেষ করতে পারে না। ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটন ক্ষমতায় আসে এবং তিনি আবার নকশা করার আদেশ দেন। পূর্বে যেহেতু খরচ বেশি হয়ে যাওয়ার কারনে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছিল তাই এবার নকশা করার সময় খরচের দিকটা মাথায় রাখা হয়। আর তিনি আরো কিছু সহযোগী দেশ নেওয়ার আদেশ দেন।

আইএসএস সোলার মডিউল ছবি
আইএসএস সোলার মডিউল

“ফ্রিডম” থেকে উন্নত ও সাশ্রয়ী একটি মডেল তৈরী করা হয় এবার। খরচটা মূলত কমে আসে এই প্রকল্পের সাথে রাশিয়া যুক্ত হওয়ার কারনে। রাশিয়া তাদের মিরা-২ নামে একটি স্পেস স্টেশনের কাজ স্থগিত রেখেছিল, এখান থেকে সকল যন্ত্রপাতি ও মডিউল ব্যাবহার করা হয় নতুন প্রকল্পে। এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয় “আলফা”।

পৃথীবীকে প্রতি ৯০ মিনিটে ১ বার প্রদক্ষিণ করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৮০০০ কিঃমি বেগ নিয়ে ঘুরে এটি। একদিনে প্রায় ১৬ বার পৃথীবীকে প্রদক্ষিণ করে।

১৫০ বিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয় এই প্রকল্পে। যা মানব ইতিহাসে সব থেকে ব্যয় বহুল বস্তু।যুক্তরাষ্ট্র,রাশিয়া,কানাডা,ব্রাজিল,জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১১ টি দেশ একসাথে ‘স্পেস স্টেশন ইন্টার গভর্নমেন্টাল অ্যাগ্রিমেন্ট’ চুক্তি স্বক্ষর করে এক সাথে কাজ করার এক বিশ্ব নজির স্থাপন করেন।

Leave a Comment