অসমাপ্ত আত্মজীবনী সারমর্ম। বঙ্গবন্ধু। বই রিভিউ

আসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান বই রিভিউ

অসমাপ্ত আত্মজীবনী সারমর্ম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘ বইটির নাম শুনলেই বুঝতে পারি আত্মজীবনী মূলক বই। বইটি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে, রাজনৈতিক, পারিবারিকসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে৷ ‘আত্নজীবনী’ বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসেই লিখেছেন। জীবনীতে বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রী কে ‘রেণু ‘নামে উল্লেখ করেছেন। রেণুই মূলত বঙ্গবন্ধু কে আত্মজীবনী লিখার ধারণা দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর জীবনে তার স্ত্রী রেণুর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। বলা হয়ে থাকে প্রত্যেক বীরপুরুষের জীবনে একজন নারী থাকে। রেণুই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সেই নারী। রেণুর সাংসারিক জীবনের আত্নত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা বরাবরই বঙ্গবন্ধুকে সাহস জুগিয়েছে।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘তে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবন

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘তে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবন দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বিষয় জানতে পারি বইটি পড়ে।একসময় উনার বংশের অনেক নামডাক ছিলো। অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন তারা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁকে জেলে থাকতে হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে বারবার গ্রেফতার হতে হয়েছে তাকে। পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রভাব তাঁর সন্তানদের উপর পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর লিখনিতে ফুটে উঠেছে, একদিন সকালে বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রীর সাথে গল্প করছিলো।হাচু(হাসিনা) আর কামাল খেলছিলো। তখন কামাল শেখ হাসিনাকে বলতেছিলো, হাচু আপা, হাচু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি? । নিজের ছেলেও অনেক দিন না দেখলে ভুলে যায়!” এই লেখনির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের জন্য কতো ত্যাগ, কতো কষ্ট, কতো তীতীক্ষা। আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়ে চিরকৃতজ্ঞ বঙ্গবন্ধুর উপর। কিন্তু আফসোস আমরা তাঁকে বাচিয়ে রাখতে পারি নি৷আমরা হারিয়েছি আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে।

বঙ্গবন্ধুর খুব ছোট বয়সে বিয়ে হয়

তখন তিনি বুঝতেই পারেন নি, কি হচ্ছে!! ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক ছিলো। প্রচুর খেলাধুলা করতেন তিনি। তাঁর বাবার ফুটবল ক্লাব ছিল।একসময় রাজনীতি তে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় খেলাধুলার মোহ ছাড়তে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর বাবা সবসময় চাইতেন বঙ্গবন্ধু যেনো পড়াশোনা টা ভালো করে করেন। তিনি বলতেন “বাবা, আর যাই করো, পড়াশোনা টা ছেড়ো না “। ছোটবেলায় চোখের অসুখের জন্য চারবছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ছোট বেলা থেকেই উনার মধ্যে একটা প্রতিবাদী, তেজি ভাব ফুটে উঠেছিল।সব মানুষকে সমান চোখে দেখতেন তিনি। গরীবের কষ্টে তার কষ্ট হতো, গরীবের অধিকারের জন্য তিনি সংগ্রাম করে গেছেন আমৃত্যু। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আস্তে আস্তে পরিচিত হতে থাকেন বঙ্গবন্ধু ছাত্রজীবন থেকে।

বঙ্গবন্ধুর পিতা মাতার সাহায্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উপর। বঙ্গবন্ধু চাইতেন স্বাধীনতা। ভারতবর্ষের ব্রিটিশ উপনিবেশ এর শোষণ থেকে মুক্তি চাইতেন তিনি। নানা রকম অসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করতো সর্বত্র। হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা লেগে থাকতো। হিন্দু জমিদার দ্বারা মুসলিম প্রজারা সর্বত্র শোষিত হতো। এর ইন্ধন জোগাতো ব্রিটিশরা। তাই মুসলমানরা ইংরেজদের সাথে অসহযোগ করেছিল। তাদের ভাষা, চাকরি নেবে না ভেবে মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ছিলো। অন্যদিকে হিন্দুরা ইংরেজি ভাষা শিখে, ইংরেজদের তোষামোদ করে অনেকটা উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো।

রাজনৈতিক কাজে বঙ্গবন্ধু একবার ভারত এ গিয়েছিলো

ভারতের আজমীর শরিফ দর্শন করেন তিনি। অনেক দিনের শখ তাজমহল দেখবেন। সেই শখ ও পূরণ করেন তিনি তাজমহল দর্শন করে। রাতের জোৎস্নায় তাজমহল আরো অপূর্ব। বঙ্গবন্ধুর চীন ভ্রমণ কাহিনি তে আমরা চীন সম্পর্কে জানতে পারি যা “আমার দেখা নয়াচীন” বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে ভাষা আন্দোলন এর সময় বঙ্গবন্ধুর কার্যক্রাম, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও তুলে ধরা হয়েছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘বইটিতে আমরা কিশোর মুজিব কে জেনে যুবক মুজিবকে দেখতে পারবো। কিভাবে সাধারণ থেকে জনমানবের নেতা হয়ে উঠলেন জানতে পারবো ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘বইটিতে। বইটির সূচিপত্র সাজানো হয়েছে ভূমিকা, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী,টীকা, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন, সর্বশেষে জীবনবৃত্তান্তমূলক টীকা।বইটিতে বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন কিছু ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখা ডায়েরির কিছু পৃষ্ঠাও দেখতে পারবো আমরা। বইটির ভূমিকা লিখেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বইটির সর্বমোট পৃষ্ঠা ৩২৯

মূল্য – ২২০ টাকা মাত্র

Sadia Afrin

Hi, I am Sadia, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

About Sadia Afrin

Hi, I am Sadia, I have been writing on Jibhai for about 1 year, this is my site, and I am a part of Jibhai. Thanks

View all posts by Sadia Afrin →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *