অপেক্ষা বুক রিভিউ। হুমায়ূন আহমেদ। উপন্যাস

By Sadia Afrin

অপেক্ষা উপন্যাস রিভিউ

উপন্যাস নাম অপেক্ষা
লেখকহুমায়ূন আহমেদ
অপেক্ষা বুক ইনফো

অপেক্ষা হুমায়ূন আহমেদ

মানবজীবন বড়ই বিচিত্র। এই জীবনে কতো কিছু ঘটে। জীবনের অর্থ একেক জনের কাছে একেক রকম। সবটুকুই নির্ভর করে একটা মানুষ কিভাবে তার জীবনকে দেখছে।

‘হুমায়ুন আহমেদ’ এর ‘অপেক্ষা’গল্পের এমনি এক চরিত্র সুরাইয়া। যার জীবনের অর্থ হচ্ছে শুধুই অপেক্ষা করা। প্রিয় স্বামীর জন্য তার অপেক্ষার কোন শেষ নেই। সুরাইয়ার বিশ্বাস একদিন ঠিক তার স্বামী ফিরে আসবে।

অপেক্ষা বুক রিভিউ

সুরাইয়া মনে করে তার ছেলে ইমনের বিয়ের দিন তার স্বামী ফিরে আসবে।

সুরাইয়া মনে মনে ঠিক করে রেখেছে তার স্বামী ফিরে আসলে অনেক কথা শুনাবে। বলবে “দেখো ইমন কতো বড় হয়ে গেছে। যেই ছোট্ট ইমনকে রেখে গিয়েছিলে, আজ তার বিয়ে দিয়েছি। তোমাকে কি চা করে দিবো?” আপন মনে এভাবেই বকতে থাকে সুরাইয়া। সুরাইয়ার এক মেয়েও আছে যাকে তার বাবা গর্ভে রেখেই নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। সুরাইয়া তার নাম রাখে সুপ্রভা। সুপ্রভা নাম টা ইমনের বাবাই রেখেছিল। যখন ইমন সুরাইয়ার গর্ভে তখন ইমনের বাবা বলেছিল “যদি আমাদের মেয়ে হয় তার নাম হবে সুপ্রভা”। সুপ্রভা কে সুরাইয়া বাঁচিয়ে রাখতে পারে নি। কোন এক অভিমানে বাড়ির ছাঁদ থেকে ঝাপিয়ে বেচারি টা মারাই গেলো।

অবশ্য সুপ্রভার মা সুরাইয়াই বলেছিল, “ছাঁদ থেকে ঝাপ দিয়ে মরতে পারিস না “

সুপ্রভা মারা যাওয়ার পরে আমার সুরাইয়ার প্রতি ভিষণ রাগ হয়। কেনো সুপ্রভা কে মরার কথা বললো সুরাইয়া। সুরাইয়া এমন কথা না বললে হয়তো সুপ্রভা এমন টা করতো না। সুরাইয়া তার স্বামীর নিরুদ্দেশের পর তার বড় ভাই এর কাছে থাকেন। বড় ভাইয়ের দুই ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে মিতুর ইমনের প্রতি দুর্বলতা ভীষণ। শুধু মিতু না, আরো কতিপয় মেয়েদের দুর্বলতা ইমন। কিন্তু ইমন নিতান্ত ভিন্ন রকমের মানুষ। এমন দুর্বলতা সে পাত্তাই দেয় না। ইমনের মা সুরাইয়া একসময় তার ভাইয়ের বাসা ত্যাগ করে ভাড়া বাসায় উঠে। সুরাইয়ার ইচ্ছে হয়, যে বাসায় থাকাকালীন ইমনের বাবা নিরুদ্দেশ হন ঐ বাসায় আবার ভাড়া থাকবেন। যাতে ইমনের বাবা ফিরে এসে দেখে সব আগের মতো ঠিকঠাক।

ইমনের এক চাচাও ছিল যিনি বিদেশ পাড়ি দেন

তবে ইমনের চাচা খুবই আদর করতেন ইমনকে, সুপ্রভা কে। চিঠি দিতেন ইমনকে, খোঁজ নিতেন। ইমন কল্পনায় তার চাচাকে দেখতে পায়। আমরা প্রিয়জন কে হয়তো এভাবেই কল্পনায় দেখতে পাই যখন তারা দূরে থাকেন। সুরাইয়া তার স্বামী কে দেখতে পায় কল্পনায়। সুপ্রভা কে দেখতে পায়। সুপ্রভা কে দেখে সুরাইয়া ভয় পায় কারণ সুপ্রভা তো মৃত। মৃত মানুষকে সবাই ভয় পায়। অথচ মৃত মানুষ তো মানুষের কোন ক্ষতি করে না। সুরাইয়ার সব অপেক্ষা তার স্বামীর জন্য। কারণ জীবিত মানুষের জন্যই তো মানুষের সব অপেক্ষা। সুরাইয়ার এখনো বিশ্বাস তার ছেলে ইমনের বিয়ের দিনই তার স্বামী ফিরে আসবে।

ইমনের বিয়ে হয় মিতুর সাথে

মিতু যে কিনা ভালোবাসতো ইমনকে। মিতু ইমনের বাসর রাত উপস্থিত। সুরাইয়া চিন্তিত তার স্বামী কি ফিরবে? এমন চিন্তা ভাবনা তার মাথায় ঘুর্ণিয়মান।মিতু বের হয়েছে ঘর থেকে চা বানানোর জন্য। সুরাইয়ার মনে হয়ে যায়, সুরাইয়ার বাসররাতেও সে চা বানাতে গিয়েছিল। তবে কি ইমন ও এমন হারিয়ে যাবে? সুরাইয়ার কাছে সব চক্রের মতো লাগে। যেনো পুরো দুনিয়া একটা চক্র। এই চক্র ঘুরছে তো ঘুরছে। হঠাৎ বেজে উঠলো কলিং বেল। তবে কি ইমনের বাবা সত্যি সত্যিই ফিরে আসলো??

চমৎকার এক কাহিনী অপেক্ষা, দেড়ি না করে আজই পড়ে ফেলুন

হুমায়ুন আহমেদ এর “অপেক্ষা ”

মূল্য মাত্র -৩০০ টাকা।

কারাগারের রোজ নামচা বই রিভিউ

অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই রিভিউ

Leave a Comment